বেশ কিছুদিন ধরে সামহোয়ারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কিছু ব্লগার সাইবার আইন প্রণযনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের যুক্তি যে এ্ আইনের মাধ্যমে ইনটারনেটের অপব্যবহার বন্ধ/কমানো যাবে। আপাতদৃষ্টিতে বেশ ভাল উদ্যোগ। যদিও উদ্যোগটির সমালোচকেরও অভাব নেই।
যে ব্লগসাইট কে প্লাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করে এ ব্লগের ঘনিষ্ঠরা সাইবার আইন প্রণয়নের চেষ্টা চালাচ্ছেন যখন সে ব্লগ সাইটটির বিরুদ্ধে কোন বিতর্কিত কর্মে জড়িত হ্ওয়ার অভিযোগ আসে তখন আমরা বিভ্রান্ত না হয়ে পারিনা। এ বিভ্রান্তির মূল কারণ হচ্ছে আজকে দৈনিক কালের কন্ঠে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট (Click This Link)। প্রকাশিত সংবাদটিতে সাম্প্রতিক সেনা অভ্যূত্থান প্রচেষ্টার সাথে সামহোয়ারের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে সন্দেহ করা হয়েছে। এ সন্দেহের মূল কারণ এ ব্লগ সাইটটিতে অভ্যূত্থান প্রচেষ্টা-কে সমর্থন করে কিছু পোস্টকে প্রণোদনা দেয়া। তবে সবচেয়ে অনুতাপের বিষয় হচ্ছে সংবাদটিতে সামহোয়ারকে জামায়াতের ওয়েব হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
সামহোয়ার বাংলাভাষার একেবারে প্রথম দিককার ব্লগ। অনেক বিখ্যাত ব্লগারই এ ব্লগ দিয়ে তাদের ব্লগজীবন শুরু করেছেন। অন্তত ব্লগারের সংখ্যা/ব্যবহারকারী বিবেচনায় এটি এখন্ও বাংলাভাষার সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্লগসাইট। দেশে যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকার্য চলছে ঠিক এমন সময়ে একটি বহুল পরিচিত ব্লগসাইটের বিরুদ্ধে যখন এমন অভিযোগ উত্থাপিত হয় তখন তা সত্যিই অনুতাপের বিষয়। আমি আন্তরিকভাবেই বিশ্বাস করতে চাই অভ্যূথানের এই ঘৃণ্য প্রচেষ্টাটির সাথে সামহোয়ারের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। এর সাথে আরো আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করতে চাই এটি জামায়াতের কোন ওয়েব নয়। সে বিশ্বাস-কে আরো পোক্ত করার প্রয়াসেই প্রকাশিত সংবাদটির বিষয়ে সামহোয়ার কর্তৃপক্ষের নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা সম্বলিত একটি বিবৃতি আশা করি। বিবৃতিটি সামহোয়ারের মালিকপক্ষের কারো কাছ থেকে আসলেই ভাল হয়, ব্লগসাইটটির ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কোন ব্লগারের কাছ থেকে নয়।
পাদটিকাঃ বিভিন্ন সময়ে জামায়াত/শিবির/হিযবুতের প্রচারধর্মী পোস্ট এখানে অহরহ দেখা যায়। অবগত/প্রতিবাদ সত্ত্বেও এ পোস্টগুলোর বিরুদ্ধে তেমন একটা ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়না। এর কারণ সম্ভবতো কর্তৃপক্ষ সবাইকে সন্তুষ্ট রাখতে চায় বা ব্লগার সংখ্যার আধিপত্য খোয়াতে চায় না। আশংকা করি এই সস্তা জনপ্রিয়তা খোজাই ব্লগসাইটটির বিরুদ্ধে এমন সন্দেহ জাগার মূল কারণ কিনা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


