১.
আমাদের একটা সেমিস্টারে এ.এম রেডিও বানাতে হয়েছিল। মোটামুটি সহজ জিনিস। সময় দিলে আর একটু কষ্ট করলে নিজেরাই ডিজাইন করা যায় সার্কিট টা। কিন্তু কে এত কষ্ট করে? বেশিরভাগই হয় নেট থেকে সার্কিট ডাউনলোড করছে অথবা সিনিয়রদেরটা কপি মারছে। এর জন্য যে সমস্যাটা হয় তা হচ্ছে সার্কিট কাজ না করলে সহজে বুঝা যায়না সমস্যাটা ঠিক কোথায় হচ্ছে। তো আমরা এক ছুটির দিনে হলে বসে ২ গ্রুপ একসাথে ২টা রেডিও বানাচ্ছি। আমাদেরটা মোটামুটি ভালই আগালেও পাশের গ্রুপেরটা কিছুতেই কাজ করছেনা। গ্রুপ লিডারের তো মাথা গরম! এক পর্যায়ে ওরা ঠিক করল এই সার্কিট নিয়েই আর কাজ করবেনা, নতুন আরেকটা ডিজাইন বের করল আরেকজন, এবার ঐটাকে বানাবে।এর জন্য নতুন আই.সি. কিনতে হবে। মাথা গরম অবস্হায় লিডার আরেকজনকে নিয়ে আই.সি. কিনতে বের হল। সামনে দিয়ে একটা খালি রিকশা যাচ্ছিল, তো সে রিকশা ডাকছে
"এ্যাই খালি তুমি কি খালি? "
২.
আমার এক বন্ধু ক্যাডেট কলেজে পড়েছে। তো ওর কাছে প্রায়ই ওদের কলেজের আজব আজব পানিশমেন্টের কাহিনী শুনতাম। একদিন ও বলছিল ওদের এক স্পেশাল এ্যাডজুটেন্টের কাহিনী:
একদিন পি.টি'র সময় ৪ জন ঝামেলা করেছে। তো সে তাদেরকে মাঠের মধ্যে একটা গাছে উঠিয়েছে। ৪ জন আতংকিত যে কি করতে বলবে, আর বাকিরা সমানে আকাশ কুসুম কল্পনা করছে যে কি হতে পারে এবার। তো এ্যাডজুটেন্ট ৪ জনকে গাছের মোটামুটি উপরের দিকে উঠাল, ৪জনকে ৪ দিকে মুখ করে দাঁড়া করালো। তারপর বলল:
"এবার এক ঘন্টা টানা কা কা কর (কাকের মতন)
[চিন্তা করেন একবার দৃশ্যটা, ৪ টা ছেলে গলা কাঁপায়ে কা কা করছে!! হিহিহি...]
৩.
নটরডেমে আমাদের এক বাংলার আজাইরা টিচার ছিল, নাম সোহেল আহমেদ। কেউ কেউ হয়তো চিনবেন আজাইরাটাকে
"আমার নাম চুহেল আহ্মেদ, আমি বাংলা পুড়িয়ে খাই...." যার উচ্চারণের এই অবস্হা সে নাকি বাংলার টিচার
ক) গ্রুপ ১,২,৭ ছিল সবচেয়ে ভয়ংকর
খ) স্যার একদিন আমাদের ক্লাসে এসেছে, খুবই মেজাজ খারাপ। আমরা আগেই খবর পেয়েছি যে গ্রুপ ২ স্যারকে আজকে "ডলেছে"।যাই হোক স্যার হঠাৎ বলল
"গ্রুপ ২ এর ছেলেরা এত অসভ্য যে ওদেরকে নগ্ন করে অন্ধকার ঘরে ছেড়ে দিলে ওরা যন্ত্র নেড়ে উল্লাস করবে!! "
গ) ২য় বর্ষে স্যার আর টিকতে না পেরে ঠিক করল যে গ্রুপ ৭ এর সাথে সন্ধি করবে। শাসন করে পারেনাই, আদর করে উদ্দেশ্য হাসিল করবে। তো একদিন ৭ এর পোলাপান মাঠে ক্রিকেট খেলছে, সেও খেলতে গেছে
"এ্যাই আমি একটু তোমাদের সাথে খেলব। বোলিং তো পারিনা, একটু ব্যাটিং করি হ্যাঁ?"
-"হ্যাঁ স্যার করেন
বল দেয়া হল সবচেয়ে জোরে যে বল করে তার হাতে। সে প্রচন্ড জোরে দৌড়ে এসে বল করল ঠিক স্যারের তলপেট বরাবর, এবং বুলস্ আই!!
স্যার পুরো ব্যাঁকা হয়ে গেল। বলল,
"চেলেটা খুব ভাল বল করে, ওর হাতে আর বল দিসনে!
৪.
কলেজে মাঝে এক নতুন স্যার আসলেন, আরিফ আল কাসেম স্যার। খুবই ভাল মানুষ, নিরীহ মানুষ। আসেন, হাসিমুখে অংক করান। কিন্তু জাউরা পোলাপানের তো শান্তি ভাল লাগেনা
স্যার কিছুক্ষন তাকিয়ে রইলেন, বললেন তোমরা একটু দেখ মনোযোগ দিয়ে, অংকগুলা ইমপরট্যান্ট। বলে আবার বোর্ডে অংক করা শুরু করলেন। একটু পর পিছনে দেখা গেল বেশ কয়েকজন মাথায় টুপি পরে দুলে দুলে "ইয়া নবী সালাম আলাইকা, ইয়া রাসূল সালাম আলাইকা..." বলে উচ্চস্বরে মিলাদ পড়া শুরু করেছে, ২/১ জনকে দেখে মনে হচ্ছে যেন আল্লাহ রাসূল ছাড়া দুনিয়াতে তাদের আর কিছু নাই
"স্যার আস্তে বলেন, পিছনে মিলাদ হচ্ছে..."
স্যার হা...
৫.
বাংলার আরেক স্যারের কথা বলব এবার, খুবই পছন্দ করতাম আমরা ওনাকে। কিন্তু ওনার কিছু সমস্যা ছিল, কেন উনি এরকম করতেন আমরা ঠিক জানিনা...যেমন মধুসূদন দত্তের কথা আসলেই উনি বলতেন
"তোমরা তো মধুসূদন বানানটা জাননা, অনেকেই মধুসূদনকে মধুচু@@ লিখে ফেল"
"এহ্ হে, ধরা যাবেনা, তোর কানে ময়লা। যা এক টুকরা কাগজ নিয়ে আয়।"
অত:পর বান্দা কাগজ নিয়া আসিল এবং...
৬.
আজকে বিকালে খুবই মজার এক প্রপোজালের কথা শুনলাম, এক ছেলে এক মেয়েকে দিয়েছে
"শোন, চলনা আজকে আমরা বিকালে ডেট করে আসি..." (আল্লাহ্!!!
৭.
ভার্সিটিতে ফিজিক্স ল্যাবে এক ম্যাডামকে আমরা হেভি ডরাইতাম
"তোমার তো করার ক্ষমতা নাই!!"
২য় জনকে:
"আর তুমি?? তোমার তো একা করার ক্ষমতা নাই!!!"
আমরা হাসতে হাসতে শ্যাষ!!!
({[চললেও চলতে পারে
যদি আরো মনে পড়ে]})
-----------------------------------------------------------------------
বি:দ্র: পোস্ট পড়ে কেউ কেউ নিজেদের (সাথে আমাকেও) বান্দরের সাথে তুলনা করার প্রয়াস পাচ্ছেন!!! (নাআআআআআ....!!
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


