somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

:D আহা!!! :D

২৫ শে জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১২:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১.
আমাদের একটা সেমিস্টারে এ.এম রেডিও বানাতে হয়েছিল। মোটামুটি সহজ জিনিস। সময় দিলে আর একটু কষ্ট করলে নিজেরাই ডিজাইন করা যায় সার্কিট টা। কিন্তু কে এত কষ্ট করে? বেশিরভাগই হয় নেট থেকে সার্কিট ডাউনলোড করছে অথবা সিনিয়রদেরটা কপি মারছে। এর জন্য যে সমস্যাটা হয় তা হচ্ছে সার্কিট কাজ না করলে সহজে বুঝা যায়না সমস্যাটা ঠিক কোথায় হচ্ছে। তো আমরা এক ছুটির দিনে হলে বসে ২ গ্রুপ একসাথে ২টা রেডিও বানাচ্ছি। আমাদেরটা মোটামুটি ভালই আগালেও পাশের গ্রুপেরটা কিছুতেই কাজ করছেনা। গ্রুপ লিডারের তো মাথা গরম! এক পর্যায়ে ওরা ঠিক করল এই সার্কিট নিয়েই আর কাজ করবেনা, নতুন আরেকটা ডিজাইন বের করল আরেকজন, এবার ঐটাকে বানাবে।এর জন্য নতুন আই.সি. কিনতে হবে। মাথা গরম অবস্হায় লিডার আরেকজনকে নিয়ে আই.সি. কিনতে বের হল। সামনে দিয়ে একটা খালি রিকশা যাচ্ছিল, তো সে রিকশা ডাকছে
"এ্যাই খালি তুমি কি খালি? " :P

২.
আমার এক বন্ধু ক্যাডেট কলেজে পড়েছে। তো ওর কাছে প্রায়ই ওদের কলেজের আজব আজব পানিশমেন্টের কাহিনী শুনতাম। একদিন ও বলছিল ওদের এক স্পেশাল এ্যাডজুটেন্টের কাহিনী:
একদিন পি.টি'র সময় ৪ জন ঝামেলা করেছে। তো সে তাদেরকে মাঠের মধ্যে একটা গাছে উঠিয়েছে। ৪ জন আতংকিত যে কি করতে বলবে, আর বাকিরা সমানে আকাশ কুসুম কল্পনা করছে যে কি হতে পারে এবার। তো এ্যাডজুটেন্ট ৪ জনকে গাছের মোটামুটি উপরের দিকে উঠাল, ৪জনকে ৪ দিকে মুখ করে দাঁড়া করালো। তারপর বলল:
"এবার এক ঘন্টা টানা কা কা কর (কাকের মতন):-*। আমি যেন নিচ থেকে কা কা শব্দ শুনতে পাই।" (:D:D:D)
[চিন্তা করেন একবার দৃশ্যটা, ৪ টা ছেলে গলা কাঁপায়ে কা কা করছে!! হিহিহি...]

৩.
নটরডেমে আমাদের এক বাংলার আজাইরা টিচার ছিল, নাম সোহেল আহমেদ। কেউ কেউ হয়তো চিনবেন আজাইরাটাকে X(। সে প্রথম যেদিন ক্লাসে এল, তার ডায়লগ ছিল:
"আমার নাম চুহেল আহ্‌মেদ, আমি বাংলা পুড়িয়ে খাই...." যার উচ্চারণের এই অবস্হা সে নাকি বাংলার টিচার :-/ যাই হোক আমরা বুঝে গেলাম যে একটা ভাল জিনিস পাওয়া গেছে B-) তাকে জ্বালানোর জন্য আমরা কি করিনাই? হাহাহা :D কিছু উদাহরন দেই:
ক) গ্রুপ ১,২,৭ ছিল সবচেয়ে ভয়ংকর ;) গ্রুপ ৭ এর ঘটনা। ক্লাসে ছাত্র বসে অনেক প্রায় ১৭০/১৮০ জন করে। তো বিরাট হলরুমের মতন ক্লাস রুম। স্যার পড়াচ্ছে, এসময় এক কোনায় একজন টুং করে মেঝেতে পয়সা ফেলেছে। স্যার "কে করল কে করল" করে দৌড়ে গেল ঐদিকে আন্দাজ করে, ততক্ষনে ঐ ছেলে পয়সা উঠিয়ে পকেটে ভরে ফেলেছে:)। এবার ঐ মাথায় আরেকজন, স্যার যেতে যেতে সেও ভালমানুষ। এই যে শুরু হল, সারা ক্লাসে পয়সা পড়ছে আর স্যার দৌড়াচ্ছে এই মাথা থেকে ঐ মাথা!! :D:D
খ) স্যার একদিন আমাদের ক্লাসে এসেছে, খুবই মেজাজ খারাপ। আমরা আগেই খবর পেয়েছি যে গ্রুপ ২ স্যারকে আজকে "ডলেছে"।যাই হোক স্যার হঠাৎ বলল
"গ্রুপ ২ এর ছেলেরা এত অসভ্য যে ওদেরকে নগ্ন করে অন্ধকার ঘরে ছেড়ে দিলে ওরা যন্ত্র নেড়ে উল্লাস করবে!! " :P
গ) ২য় বর্ষে স্যার আর টিকতে না পেরে ঠিক করল যে গ্রুপ ৭ এর সাথে সন্ধি করবে। শাসন করে পারেনাই, আদর করে উদ্দেশ্য হাসিল করবে। তো একদিন ৭ এর পোলাপান মাঠে ক্রিকেট খেলছে, সেও খেলতে গেছে
"এ্যাই আমি একটু তোমাদের সাথে খেলব। বোলিং তো পারিনা, একটু ব্যাটিং করি হ্যাঁ?"
-"হ্যাঁ স্যার করেন ;)", শয়তানেরা তো খুবই খুশি B-)
বল দেয়া হল সবচেয়ে জোরে যে বল করে তার হাতে। সে প্রচন্ড জোরে দৌড়ে এসে বল করল ঠিক স্যারের তলপেট বরাবর, এবং বুলস্‌ আই!! :P
স্যার পুরো ব্যাঁকা হয়ে গেল। বলল,
"চেলেটা খুব ভাল বল করে, ওর হাতে আর বল দিসনে! :(("

৪.
কলেজে মাঝে এক নতুন স্যার আসলেন, আরিফ আল কাসেম স্যার। খুবই ভাল মানুষ, নিরীহ মানুষ। আসেন, হাসিমুখে অংক করান। কিন্তু জাউরা পোলাপানের তো শান্তি ভাল লাগেনা ;) স্যার একদিন ক্লাসে অংক করাচ্ছেন, মোটামুটি হাউকাউ হচ্ছে। হঠাৎ পেছন থেকে শোনা গেল এক নারী কণ্ঠের আর্ত চিৎকার "বাঁচাও বাঁচাও, আমার ইজ্জত লুটে নিল!! ;)" তার পরপরই এক বিশাল হুংকার "তোকে আজ কেউ বাঁচাতে পারবেনা সুন্দরী... তোর সব ধনসম্পদ আজ আমার...হাহাহাহাহা"
স্যার কিছুক্ষন তাকিয়ে রইলেন, বললেন তোমরা একটু দেখ মনোযোগ দিয়ে, অংকগুলা ইমপরট্যান্ট। বলে আবার বোর্ডে অংক করা শুরু করলেন। একটু পর পিছনে দেখা গেল বেশ কয়েকজন মাথায় টুপি পরে দুলে দুলে "ইয়া নবী সালাম আলাইকা, ইয়া রাসূল সালাম আলাইকা..." বলে উচ্চস্বরে মিলাদ পড়া শুরু করেছে, ২/১ জনকে দেখে মনে হচ্ছে যেন আল্লাহ রাসূল ছাড়া দুনিয়াতে তাদের আর কিছু নাই :P। স্যার হতবাক, কিছু বলার চেষ্টা করছিলেন, সামনে থেকে আরেকজন বলল
"স্যার আস্তে বলেন, পিছনে মিলাদ হচ্ছে..."
স্যার হা... :-*। এই স্যারের ক্লাসে আরেকটা কমন প্র্যাকটিস ছিল, বলা নাই কওয়া নাই সবাই একসাথে দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীত গাওয়া :|:|

৫.
বাংলার আরেক স্যারের কথা বলব এবার, খুবই পছন্দ করতাম আমরা ওনাকে। কিন্তু ওনার কিছু সমস্যা ছিল, কেন উনি এরকম করতেন আমরা ঠিক জানিনা...যেমন মধুসূদন দত্তের কথা আসলেই উনি বলতেন
"তোমরা তো মধুসূদন বানানটা জাননা, অনেকেই মধুসূদনকে মধুচু@@ লিখে ফেল" :-*। কিন্তু আমাদের জানামতে কেউ এরকম ভুল করেছে বলে মনে পড়েনা। তারপর জোদাবাঈয়ের কথা বলার সময়ও 'জ' এর জায়গায় 'চ' উচ্চারণ করতেন :|। তবে অনেক মজাও করতেন, একদিন একজন ক্লাসে ফাজলামি করেছে। তাকে ডেকে কাছে নিয়ে গেলেন, কান ধরতে যাবেন এমন সময় বললেন,
"এহ্‌ হে, ধরা যাবেনা, তোর কানে ময়লা। যা এক টুকরা কাগজ নিয়ে আয়।"
অত:পর বান্দা কাগজ নিয়া আসিল এবং... :)

৬.
আজকে বিকালে খুবই মজার এক প্রপোজালের কথা শুনলাম, এক ছেলে এক মেয়েকে দিয়েছে ;)। ছেলেটা মেয়েটাকে পছন্দ করে, তো ভালবাসার কথা জানাতে গিয়ে সে বলেছে,
"শোন, চলনা আজকে আমরা বিকালে ডেট করে আসি..." (আল্লাহ্‌!!!:-/:-/)

৭.
ভার্সিটিতে ফিজিক্স ল্যাবে এক ম্যাডামকে আমরা হেভি ডরাইতাম :(। ম্যাডাম খুবই কড়া ছিল আর কঠিন ভাইভা নিত। তার নাম ছিল আফিয়া, আমরা ডাকতাম মাফিয়া :D। একদিন ম্যাডাম এক্সপেরিমেন্ট চলাকালে ঘুরে ঘুরে দেখছে। আমাদের একটা গ্রুপ ছিল যারা কাজ না করে খালি একজন আরেকজনের ভুল ধরত আর তুমুল ঝগড়া করত, সবাই মাতব্বর হলে যা হয় আর কি। তো ম্যাডাম ঐদিন গিয়েও দেখে ঐ গ্রুপের একই অবস্হা, এক্সপেরিমেন্টের কিছুই হয়নাই। ম্যাডাম ১ম জনকে বললেন:
"তোমার তো করার ক্ষমতা নাই!!"
২য় জনকে:
"আর তুমি?? তোমার তো একা করার ক্ষমতা নাই!!!"
আমরা হাসতে হাসতে শ্যাষ!!! :((


({[চললেও চলতে পারে
যদি আরো মনে পড়ে]})
-----------------------------------------------------------------------

বি:দ্র: পোস্ট পড়ে কেউ কেউ নিজেদের (সাথে আমাকেও) বান্দরের সাথে তুলনা করার প্রয়াস পাচ্ছেন!!! (নাআআআআআ....!! :((:(( ) তাহলে বলি, বান্দর কিন্তু পেট খারাপ হলে কয়লা খায়,আর আপনি?:P:P
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১:০৭
৩৭টি মন্তব্য ৩৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×