ট্যাকা পয়সার দিক দিয়ে আমার মত ক্ষ্যত না থাকলেও থাকতে পারে , তবে আমি এইরকম ক্ষ্যাত থাকতে চাই।
ক্লাস সেভেনে থাকতে সবার সুপরামর্শে ব্যাংকে একাউন্ট খুলেছিলাম বৃত্তির টাকা দিয়ে , যদিও সেই টাকায় একটা ক্যারাম বোর্ড ছাড়া কেনা ছাড়া টাকা খরচ করার হক আমার গার্জিয়ান রা দেন নাই। এর পিছনে বড় কারন হল -- বৃত্তির দুই কিস্তির টাকা জমাতে পারলেই আমি একটা নরমাল হিরো বাইসাইকেল কিনতে পারতাম। সাইকেল কিনে আমার এক কাজিনের মত এক্সিডেন্ট করে 'পটল তুলতে' পারি এই আশংকায় আমাকে সুকৌশলে কখনই টাকা জমাতে দেয়া হত না। ব্যাংক এর একাউন্ট খুললেও চেক বই থাকত গার্জিয়ানদের কাছে। সো......
আবার সিগনেচার না মেলার মত হ্যাপাও পোহাতে হয়েছে। এই কারনেই আমি ব্যাংক দেখলেই ভয় পাই, এই মনে হয় আমার টাকা কেউ নিয়ে সাইজ করল...!!!!
ভার্সিটি উঠার পর বাসা থেকে টাকা পাঠানোর সুবিধার জন্য অবশ্য একটা একাউন্ট খুলেছিলাম। ২০০৫ সালের দিকে ৩০০টাকার নিচে মোবাইল এর কার্ড পাওয়া যেত না। একবার টাকা মোবাইল ফোনে টাকা ভরার জন্য ১০০ টাকা শর্ট পরল। ভাবলাম ব্যাংক থেকে তুলি। চেকে ১০০ টাকা লেখা দেখার পর ক্যাশ এর মহিলা যেই বিরক্তি -র সাথে বলল যে - '১০০ টাকা-র জন্য আবার টাকা তোলা লাগে' --- এটা শুনে ব্যাংক সম্পর্কে আমার ভরসা আরো কমেছে। সেই কারনেই আমার একাউন্টে কখনই হাজার টাকার উপর থাকত না। টাকা জমাতাম আমার পড়ার টেবিলের ড্রয়ারে।
ভার্সিটি থাকতেই আরেকটা ঘটনা। ব্র্যাক বাংক স্টুডেন্ট একাউন্ট খোলার জন্য প্রোমোশন নিয়ে ভার্সিটি তে এসেছে। আমি খুব আগ্রহ আগ্রহ ভাব নিয়ে গেলাম। আমাকে 'বকরি' মনে করে একটার পর একটা কাঠাল পাতা সামনে দিতে থাকল, আমি-ও খাওয়ার ভান করতে থাকলাম। সব শেষে আমি শুধু একটাই প্রশ্ন জিগ্গাস করলাম-- বাৎসরিক একাউন্ট চার্জ কত ?- উত্তর শুনে , মনে মনে হিসাব করলাম আমার একাউন্টে থাকেই হাজারের নিচে টাকা। সেখান থেকে ৪৬০টাকা কাটলে ২ বছর পর একাউন্টে কাঠাল পাতাই শুধু থাকবে... অতএব ব্যাটার হাসি হাসি মুখে ছাই দিয়ে আমার ক্লাসের দিকে গমন...
চাকরিতে ঢুকেছি ক'মাস হল। অফিসে একেক জনের ওমুক ব্যান্ক তমুক ট্যান্ক এর ক্রেডিট -ডেবিট কার্ড দেখি আর নিজেকে ক্ষ্যাত হিসেবে গর্ব করি। আমার শুধু স্যালারি একাউন্টের জন্য ডাচ বাংলার একটা ডেবিট কার্ড আছে। সেটা এখন শুধু মাসে একবার ইউজ করি। কারন হল - একবার টাকার দরকারে এ বুথ সেই বুথ দৌড়াদৌড়ি করে আমার শরীর থেকে ঘাম ডেবিট হলেই টাকা তুলতে পারিনি, কারন ঐ '' আউট অফ সার্ভিস'। আমার টাকা তারচে আমার কাছেই থাক, দরকারে ২সেকেন্ডও লাগবে না- তাই সেই পড়ার টেবিলের ড্রয়ারেই থাক...।

আমেরিকান এক্সপ্রেস কার্ড করার জন্য সিটি ব্যাংক থেকে সেলস কনসালটেন্ট আসার পর মনে হল অফিসে সবাই কার্ড করার জন্য পাগল হয়ে গেল। কলিগরা লাফাতে লাফাতে আমারে ছিচড়ে টেনে নিয়ে গেল কার্ড করার জন্য । কিন্তু ক্ষ্যাতের জয়গান সারা দুনিয়ায়। এত সহজে গলব নাকি ।
সুবিধা ভালই , দেড় লাখ টাকা লিমিটের একটা ফাঁস-ও বানানো আছে। যখন তখন গলায় পরে নেয়া যায়- হাবিজাবি শর্তের আড়ালে বিভিন্ন সুবিধার অসুবিধার প্যাচ বুঝতেও সময় লাগল না। ঐসব লোভনীয় কাঠাল পাতা এবারও আমাকে গিলাতে ব্যার্থ...
না ভাই আমি ক্ষ্যাত - খুলব না...যাদের দরকার তারা খুলুক।
আমি ভাই আদা কিনি নগদ টাকা দিয়ে , বাকিতে জাহাজ কিনে কি করব???

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


