somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ক্ষ্যাত আমার ব্যাংক অভিগ্গতা ও আমেরিকান এক্সপ্রেস কার্ড

১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ট্যাকা পয়সার দিক দিয়ে আমার মত ক্ষ্যত না থাকলেও থাকতে পারে , তবে আমি এইরকম ক্ষ্যাত থাকতে চাই।
ক্লাস সেভেনে থাকতে সবার সুপরামর্শে ব্যাংকে একাউন্ট খুলেছিলাম বৃত্তির টাকা দিয়ে , যদিও সেই টাকায় একটা ক্যারাম বোর্ড ছাড়া কেনা ছাড়া টাকা খরচ করার হক আমার গার্জিয়ান রা দেন নাই। এর পিছনে বড় কারন হল -- বৃত্তির দুই কিস্তির টাকা জমাতে পারলেই আমি একটা নরমাল হিরো বাইসাইকেল কিনতে পারতাম। সাইকেল কিনে আমার এক কাজিনের মত এক্সিডেন্ট করে 'পটল তুলতে' পারি এই আশংকায় আমাকে সুকৌশলে কখনই টাকা জমাতে দেয়া হত না। ব্যাংক এর একাউন্ট খুললেও চেক বই থাকত গার্জিয়ানদের কাছে। সো......
আবার সিগনেচার না মেলার মত হ্যাপাও পোহাতে হয়েছে। এই কারনেই আমি ব্যাংক দেখলেই ভয় পাই, এই মনে হয় আমার টাকা কেউ নিয়ে সাইজ করল...!!!!

ভার্সিটি উঠার পর বাসা থেকে টাকা পাঠানোর সুবিধার জন্য অবশ্য একটা একাউন্ট খুলেছিলাম। ২০০৫ সালের দিকে ৩০০টাকার নিচে মোবাইল এর কার্ড পাওয়া যেত না। একবার টাকা মোবাইল ফোনে টাকা ভরার জন্য ১০০ টাকা শর্ট পরল। ভাবলাম ব্যাংক থেকে তুলি। চেকে ১০০ টাকা লেখা দেখার পর ক্যাশ এর মহিলা যেই বিরক্তি -র সাথে বলল যে - '১০০ টাকা-র জন্য আবার টাকা তোলা লাগে' --- এটা শুনে ব্যাংক সম্পর্কে আমার ভরসা আরো কমেছে। সেই কারনেই আমার একাউন্টে কখনই হাজার টাকার উপর থাকত না। টাকা জমাতাম আমার পড়ার টেবিলের ড্রয়ারে।

ভার্সিটি থাকতেই আরেকটা ঘটনা। ব্র্যাক বাংক স্টুডেন্ট একাউন্ট খোলার জন্য প্রোমোশন নিয়ে ভার্সিটি তে এসেছে। আমি খুব আগ্রহ আগ্রহ ভাব নিয়ে গেলাম। আমাকে 'বকরি' মনে করে একটার পর একটা কাঠাল পাতা সামনে দিতে থাকল, আমি-ও খাওয়ার ভান করতে থাকলাম। সব শেষে আমি শুধু একটাই প্রশ্ন জিগ্গাস করলাম-- বাৎসরিক একাউন্ট চার্জ কত ?- উত্তর শুনে , মনে মনে হিসাব করলাম আমার একাউন্টে থাকেই হাজারের নিচে টাকা। সেখান থেকে ৪৬০টাকা কাটলে ২ বছর পর একাউন্টে কাঠাল পাতাই শুধু থাকবে... অতএব ব্যাটার হাসি হাসি মুখে ছাই দিয়ে আমার ক্লাসের দিকে গমন...

চাকরিতে ঢুকেছি ক'মাস হল। অফিসে একেক জনের ওমুক ব্যান্ক তমুক ট্যান্ক এর ক্রেডিট -ডেবিট কার্ড দেখি আর নিজেকে ক্ষ্যাত হিসেবে গর্ব করি। আমার শুধু স্যালারি একাউন্টের জন্য ডাচ বাংলার একটা ডেবিট কার্ড আছে। সেটা এখন শুধু মাসে একবার ইউজ করি। কারন হল - একবার টাকার দরকারে এ বুথ সেই বুথ দৌড়াদৌড়ি করে আমার শরীর থেকে ঘাম ডেবিট হলেই টাকা তুলতে পারিনি, কারন ঐ '' আউট অফ সার্ভিস'। আমার টাকা তারচে আমার কাছেই থাক, দরকারে ২সেকেন্ডও লাগবে না- তাই সেই পড়ার টেবিলের ড্রয়ারেই থাক...।


আমেরিকান এক্সপ্রেস কার্ড করার জন্য সিটি ব্যাংক থেকে সেলস কনসালটেন্ট আসার পর মনে হল অফিসে সবাই কার্ড করার জন্য পাগল হয়ে গেল। কলিগরা লাফাতে লাফাতে আমারে ছিচড়ে টেনে নিয়ে গেল কার্ড করার জন্য । কিন্তু ক্ষ্যাতের জয়গান সারা দুনিয়ায়। এত সহজে গলব নাকি ।
সুবিধা ভালই , দেড় লাখ টাকা লিমিটের একটা ফাঁস-ও বানানো আছে। যখন তখন গলায় পরে নেয়া যায়- হাবিজাবি শর্তের আড়ালে বিভিন্ন সুবিধার অসুবিধার প্যাচ বুঝতেও সময় লাগল না। ঐসব লোভনীয় কাঠাল পাতা এবারও আমাকে গিলাতে ব্যার্থ...
না ভাই আমি ক্ষ্যাত - খুলব না...যাদের দরকার তারা খুলুক।
আমি ভাই আদা কিনি নগদ টাকা দিয়ে , বাকিতে জাহাজ কিনে কি করব???
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:২৯
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধূসর ওয়ালেট

লিখেছেন মোহাম্মদ সজল রহমান, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪৭

একটা ধূসর রংয়ের ওয়ালেট
সবুজাভ ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে বের হলো নীরবে
তার শান্ত হাতের উপর চেপে ধরতেই প্রশ্ন -
এটা আমার জন্য ?
ঘাড় নেড়ে সম্মতি দেখেই চঞ্চলতা ছুঁয়ে গেলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১

কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×