তিনি জনপ্রিয় হওয়ার জন্য বা পর্নোগ্রাফি প্রচারের জন্য কাজটি করেননি, করেছেন ইরানে--- যে ইরান গত শতাব্দীর ৭০এর দশকে লাভ করে আয়াতোল্লাহ রুহুল্লাহ খোমিনীর নেতৃত্বে একটি ইসলামি বিপ্লবের অভিজ্ঞতা এবং এখন পর্যন্ত যা একটি ইসলামিক রিপাবলিক --- নারীদের যে বিভিন্ন ধরণের ও বিচিত্র ধরণের বিধিনিষেধের মধ্যে থাকতে হয় তার একটি প্রতিকী প্রতিবাদ হিসেবে।
তাঁর এই প্রতিবাদের ধরণ অনেকের অস্বস্তির কারণ হতে পারে, কিন্তু একটু গভীরভাবে ভাবনা চিন্তা করে দেখলে বোঝা যায় এই ছবিটি সেই রাষ্ট্র-কে (এবং একই চিন্তা-কাঠামোর অন্য সব রাষ্ট্রকে) রিডিকিউল করছে যা নারীদের সকল মানবীয় বৈশিষ্ট্য অবলীলায় অবহেলা করে এবং একজন নারীকে মানুষ হিসেবে না দেখে, দ্যাখে নিছক যৌনবস্তু হিসেবে।
ছবিটি যে শুধু কতিপয় রাষ্ট্র-কেই রিডিকিউল করছে তা নয়, বরং সেইসব মানুষকেও (নারী ও পুরুষ উভয় লিঙ্গ থেকেই) রিডিকিউল করছে যাঁরা একই চিন্তা-কাঠামোর।
আমি জানি না এভাবে প্রতিবাদ করতে হয় কিনা (এভাবে যদি করতে না হয় তবে কিভাবে করতে হয়?); কিন্তু আমি ফারাহানির এই পদক্ষেপটির পক্ষে, তবে তার অর্থ আবার এই না যে তিনি জীবনে যা করেছেন ও যা করবেন তার সবই আমি সমর্থন করি ও করব। আমি শুধু এই মুহূর্তে তাঁর পক্ষে।
"আপনি নারীজাতি-কে সম্মান করেন না" জাতীয় ফালতু মন্তব্য আশা করি এই পোস্টে আসবে না (আসলে, আমি কোনো প্রতিক্রিয়ায় যাবো না)। আর আমি "নারীজাতি"-কে সম্মান করি কি করি না, সেটা যেইসব "নারীজাতি" আমাকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন তাঁরা খুব ভালোমতন জানেন; সুতরাং যাঁরা আমাকে চেনেন না তাঁদের ভাবনার ব্যাপারে বিচলিত নই আমি।
আর আমি শুধু "নারীজাতি" হওয়ার কারণে কাউকে সম্মান করতে হবে এই কনসেপ্টে যেমন বিশ্বাস করি না (উদাহরণঃ অনেক নাজি নারী অফিসার যারা ঠান্ডা মাথায় ইহুদিদের হত্যা করেছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়); তেমনি "নারীজাতি" না হলেই একজনকে অসম্মান করতে হবে এই কনসেপ্টেও বিশ্বাস করি না (উদাহরণঃ স্টিফেন হকিং)।
যিনি মানবতাসম্পন্ন বা সৃষ্টিশীল বা পরিশ্রমী বা এই তিনের সমষ্টি মানুষ তিনি নারীই হন আর পুরুষই হন আমি তাঁকে সম্মান করব, আর যিনি মানবতাহীন বা সৃষ্টিবিরোধী বা অলস বা এই তিনের সমষ্টি আমি তাকে সম্মান করব না।
"ইউ মে সে আই এম আ ড্রিমার, বাট আই এম নট দি অনলি ওয়ান" ...
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১২:৪৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


