somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ত্রিভুজের "ছাগু" হয়ে উঠা (সম্ভাব্য শেষ পর্ব - শেষ অংশ)

০৭ ই মে, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ত্রিভুজের "ছাগু" হয়ে উঠা (সম্ভাব্য শেষ পর্ব - প্রথম অংশ) পর...

এবার শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কিছু কথা। যা আগেও বলেছি। ১৯৭৫ সালে নির্মম ভাবে হত্যা করার পর একটা প্রচেষ্টা চলেছে শেখ মুজিবকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার। এই জন্যে আমরা দেখে ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ পর্যণ্ত একমাত্র টিভি চ্যানেল বিটিভিতে একরকম নিষিদ্ধ ছিলো শেখ মুজিব। ৭ই মার্চের ভাষন ছিল একটা নিষিদ্ধ বস্তু - গ্রামফোন রেকর্ডে সংরক্ষিত ভাষনটিকে দেখেছি রাস্তায় ফেলে পা দিয়ে মাড়াতে। কিছু মানুষ সেই ভাষনটাকে লুকিয়ে রেখেছিল বলে আজ আমরা সেটা শুনতে পাচ্ছি। একই কারনে এসেছে স্বাধীনতার্ ঘোষনা সংক্রান্ত বিতর্কটি। সবই শেখ মুজিবকে আড়াল করার জন্যে।

কেন শেখ মুজিবকে আড়াল করা দরকার? কারন শেখ মুজিব এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস একই সুত্রে গাঁথা। শেখ মুজিবকে বিতর্কিত করতে পারলে স্বাধীনতাকে অর্থহীন প্রমান করা অনেক সহজ হবে বলে একদল বিশ্বাস করে। তারা শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে পরিকল্পিত প্রচেষ্টা চালিয়েছে। যেমন - ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের তার কাজ, তার ছেলেদের বিষয়, ১৯৭৪ সালের দূর্ভিক্ষ ইত্যাদি - কিন্তু এগুলোতে কোনটাই দেশের স্বাধীনতার জন্যে যুদ্ধের সাথে সম্পৃক্ত না হওয়ার পরও সেগুলোকে এনে বিতর্কটাকে চালু রাখার প্রচেষ্টা হচ্ছে।

এখন লক্ষ্যনীয়, যদি প্রমান করা যায় - শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা চান নি - তা হলো বলা যাবে গো. আ. স্বাধীনতা চান নি - সুতরাং এরা দুই জনই সমান। সে জন্যে রেন্টুর বইটা এদের জন্যে অতীব গুরুত্বপূর্ন হয়ে উঠেছে।

লেখাটা শেষ করি একজন শিবির কর্মীর পরস্পর বিরোধী বক্তব্য এবং মিথ্যাচারের কিছু নমুনা দিয়ে। ত্রিভূজ এক বার বলছে -

“সত্যি কথা বলতে কি ভাই, মুক্তিযুদ্ধরে আমাদের নেতা নেতৃরা যেভাবে পচাইছে... তাই এই বিষয়ে পড়ার ইন্টারেষ্ট পাইনাই কোন কালে....”।

উপরে বক্তব্য থেকে বুঝা যায়, উনি মুক্তিযুদ্ধের আসল ইতিহাস কোন একটা সূত্র থেকে জেনেছেন এবং কিছু নেতা যে বিতর্কিত বক্তব্য দিচ্ছেন তা দেখার পর উনি কিছুটা হতাশ, সেজন্যে মুক্তিযুদ্ধের লিখিত ইতিহাস পড়েন না বা পড়তে আগ্রহী নন। কষ্ট করে মুক্তিযুদ্ধের যাদুঘরে গেলেও ইতিহাস জানা যায় - উনি সেটাও করেন নি। কারন উনি যা খুঁজছিলেন সেটা সেখানে পাবেন না, নিশ্চিত ছিলেন।

পরের বক্তব্যটা দেখি -

“কিন্তু দেখুন..আমরা ইতিহাস জেনেছি একদল ধান্ধাবাজদের কাছ থেকে... সুতরাং ইতিহাস পুরোপুরি জেনে সিদ্ধান্ত নেবো এদের ব্যপারে। এর যদি অন্যায় ভাবে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করে থাকে, তাহলে একেজন দেশপ্রেমিক হিসেবে অবশ্যই তাদের ঘৃনা করবো... নিশ্চিত থাকুন..!”

কোথা থেকে উনি ইতিহাস জানলেন - সেটা পাঠকরা অনুমান করতে পারবে না - কারন আগের বক্তব্যে উনি বলেছেন ইতিহাস পড়েন না। কে বা কারা ধান্ধাবাজ বা কে তাকে ইতিহাস বলেছে সেটা উনি ছাড়া পাঠকরা জানবে না।

এর পরই ছেলেটার ধান্ধাবাজির মুথোশ খুলে গেল - বলছেন -

"আত্মসমর্পণ করেছেন মুজিব - এমনটা আমি পাইনি কোথাও" ....অনেকেই পায়নি.. কিন্তু ব্যপারটা মিথ্যা নয়..”।

চমৎকার কথা, কোথাও নেই - কিন্তু সত্য, একদম পীরের মতো কথা। ভন্ডপীর ছাড়া আর কোথাও এমন কথা শুনা যায় না।

একজন বিভ্রান্ত এবং একটা মতবাদের প্রতি অনুগত মানুষ হলো ত্রিভূজ। সে এবার এসেছেন আমাদের “ত্রিভূজ লিখিত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস” শুনাতে।

একজন বদ্ধ চিন্তার মানুষ হিসাবে উনি উনার সমালোচকদের সবাইকে ব্যান করে শুধু মাত্র তোষামোদকারিদের নিয়ে একটা নতুন ইতিহাস লিখার মহাপরিক্ল্পনা প্রকাশের মাধ্যমে নিজের দলেই গুরুত্বপূর্ন হয়ে উঠার বিপরীতে আমজনতার চোখে “ছাগু” হয়ে উঠার একটা মজার রূপান্তর উপভোগ করা কিন্তু সহসাই দেখা যায় না। এবার আমরা দেখবো ছাগলের হালচাষের দৃশ্য। মুক্তিযুদ্ধের মতো একটা বিশাল বিষয়ে শুধু মাত্র কিছু তোষামুদকারীর সহায়তায় কিভাবে বির্তকিত করা যায় তারই একটা ভয়াবহ প্রচেষ্টার মতো পর্বতের মূষিকা প্রসব দেখবো বাংলাদেশের ০.২% মানুষের ব্যবহূত ইন্টারনেটে। দেখবো একটা ছাগল কিভাবে ধীরে ধীরে পাগল হয়ে দিগম্বর নৃত্য শুরু করে। দর্শক, দয়া সেই পর্যন্ত আমাদের সাথে থাকুন।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মে, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:০৯
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×