প্রিয় আরিল
আপনার আহ্বান অবশ্যই মহত এবং সময়োপযোগী।
দুস্থ মানুষের পাশে দাড়ানোর চেয়ে মহত কাজ আর কিই বা হতে পারে।
আমিও হতে চাই আপনাদের সাথী:-
কিন্তু একটু ভাল করে ভেবে বলুন তো আপনি কি আমার মতো প্রবাসীদের জন্যে যথেষ্ঠ পথ খোলা রেখেছেন কিনা?
একটু ভাল ভাবে আপনার পোস্টটা দেখি:
১) আপাতত চট্টগ্রামের বিষয়টাই মুখ্য - সামহোয়ার কোন সাহায্য সংস্থা কি? এটা একটা গনমাধ্যম বলতে পারি। আপনারা যে কাজটা ভালভাবে করতে পারতেন তা হলো এই বিষয়ে প্রচুর তথ্যানুসন্ধান করে সবার মধ্যে একটা পরিষ্কার ধারনা দিতে। এতে আমাদের পক্ষে বিদেশে আরো বেশী সচেতনতা সৃষ্টিতে সহায়ক হতো। স্টপ প্রেস জাতিয় একটা কিছু করার চেষ্টা করলেন। কিন্তু আপনারা একটা টিম পাঠাবেন বলে সিন্ধান্ত নিলেন। সেই টিম কি করবে? এরা কি চিকিতসা দিতে যাবে, অর্থ সাহায্য দিতে যাবে, বাড়ি ঘর বানাতে যাবে - পরিষ্কার না।
এই বিষয়ে আরো পরিষ্কার তথ্যাপ্রবাহ হতে পারতো চিটাগাং থেকে।
২) আর আপনাদের সাথী হিসাবে যাওয়ার আহ্বান আমাদের জন্যে গোদের উপর বিষ ফোড়ার মতো হয়েছে। একে তো দেশের জন্যে প্রান ছুটে যায় - তখন এই ধরনের আহ্বান আমাদের জন্যে একটা কঠিন অবস্থার সৃষ্টি করেছে। এটা অবশ্যই ঢাকা আর চিটাগাংএর ব্লগারদের জন্যে, প্রবাসীদের জন্যে নয়।
৩) প্রবাসীরা যা করতে পারে তা হলো দ্রুত অর্থ প্রেরন করে একটা কর্মকান্ডকে বেগবান করতে পারে। কিন্তু সেই সুযোগ আপনারা কি রেখেছেন। অবশেষে কয়েকজন প্রবাসী ব্লগার অর্থ সাহায্যের কথা বলছিলো - সেই বিষয়েও আপনাদের তেমন আগ্রহ পরিলক্ষিত হলো না। আপনারা আপনাদের দফতরের কোন একটা একাউন্ড নাম্বার দিলেই বিষয়টা চুকে বুকে যেত - কিন্তু তেমনটা দেখলাম না।
৪) ব্লগ বস্তুত একটা ভার্চুয়াল জগত। এখানে আমরা সবাই সবাইকে চিনি লেখার মাধ্যমে - ব্যক্তিগত পরিচয়ের সুযোগ কম - বা প্রায় নেইই। যেমন আমি আমার প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ করতে স্বস্তি বোধ করবো না - কিন্তু আমি কি একজন মানুষ হিসাবে আপনাদের সামনে আসবো কিভাবে?
শেষ কথা হলো - এক যুগের উপরে দেশের বাইরে আছি। দেশের যে কোন দূর্যোগে আমাদের হাত সব সময় খোলা। আমরা সবসময় একটা নির্ভরযোগ্য স্থান খুজি যেখানে নিশ্চিত মনে ডোনেট করতে পারবো। সামহোয়ারও হয়তো হতে পারতো সেই স্থান। কিন্তু সেই সুযোগ না করে এবং সুস্পষ্ঠ কোন কর্মসূচী ছাড়া কিছু নন প্রফেশনাল ব্লগারদের টিম পাঠানোর মাধ্যমে আপনার কি অর্জন করবেন আপনারাই জানেন।
আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দূর্যোগ 'ক্যাটরিনা'র সময় বাংলাদেশের নাম খুব শুনা গেছে। নেতিবাচক নয় - ইতিবাচক ভাবে। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ক্লিন্টন বলেছেন - দূর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিষয় আমেরিকা বাংলাদেশ থেকে অনেক কিছু শিখতে পারে। এটা আমিও বিশ্বাস করি।
এই অবস্থায় সরকারে তহবিলে অর্থ দান করে বা কোন প্রফেশনাল এনজিওকে সহায়তা না করে কেন আপনারা এই ধরনের একটা পদক্ষেপ নিয়ে আপনাদের প্রবাসী ব্লগারদের বিব্রত করা হলো কিনা সেটা ভেবে দেখবেন।
আবারো আপনার উদ্যেগকে স্বাগত জানাই এবং আশা করি ভবিষ্যতে এই ধরনের সিন্ধান্ত নেবার সময় প্রবাসী ব্লগারদের কথা আপনাদের বিবেচনায় থাকবে।
ধন্যবাদসহ...
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুন, ২০০৭ সকাল ৮:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


