somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জারাহ কাজেমী: এক লাঞ্ছিত নারীর গল্প

২১ শে জুন, ২০০৭ সকাল ৮:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইরানী-ক্যানাডিয়ান ফটোজর্নালিষ্ট জারাহ কাজেমী ১১ই জুলাই ২০০৩ সালে ইরানে আটাবস্থায় নিহত হয়েছেন। নিহত হওয়ার এক সপ্তাহ আগে একটি জেলখানার বাহির থেকে ছবি তোলার অপরাধে তাকে আটক করা হয়। সেই সময় ইরাকে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ চলছিলো।

তার মৃত্যুর দুই দিন পর সরকারী ভাবে জানানো হয় যে, কাজেমী জিজ্ঞাসাবাদের সময় হৃদ রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে মারা গেছেন। কিন্তু ১৬ই জুলাই ২০০৩ এ ইরানী ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আলী আবতাহি স্বীকার করেন যে, কাজেমীর মৃত্যুর কারন হলো প্রহার।


পরে ইরানের সরকার নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের জারাহ কাজেমীর মৃত্যুর জন্যে দোষী সাব্যস্থ করে মামলা করে। কিন্তু কোর্টে বলা হয় যে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে মাথার পিছনে তা ছিল একটা “দূর্ঘটনা” । সুতরাং তাদের সবাইকে মুক্তি দেয় কোর্ট।

এর পর ২০০৫ সালের ৩১শে মার্চ ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ের সাবেক স্টাফ ফিজিশিয়ান শাহরাম আজম প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করেন। উনি কাজেমী যখন নির্যাতিত হয়ে হাসপাতালে ছিল - তখন তাকে পরীক্ষা করেছিলেন -

আজমের ভাষ্য মতে কাজেমীর শরীরে অত্যাচারের চিহ্ন ছিল সুষ্পষ্ঠ -

১) কাজেমীর শরীরে ছিল ধর্ষনের সুস্পষ্ঠ চিহ্ন।
২) খুলি ভাঙ্গা, দুই আঙ্গুল ভাঙ্গা, আংগুলের নখ হারানো, পায়ের আংগুল থেতলানো, নাক ভাংগা ছিল।
৩) ঘাড়ে ক্ষতচিহ্ন, তলপেটে আঘাত, মাথা ফুলে যাওয়া।
৪) গলায় গভীর ক্ষত, পায়ে আঘাতের চিহ্ন।

উল্লেখ্য যে, আজম ২০০৪ সালের আগস্টে চিকিতসার নাম করে দেশ ত্যাগ করে ফিনল্যান্ড গেলে সেখানে কাজেমীর ছেলে স্টিফেন হাসেমীর সাথে দেখা হয় এবং পরে আজম ক্যানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয় লাভ করেন।

ক্যানাডা প্রবাসী হাসেমী তার মায়ের দেহ ক্যানাডাতে আনার লক্ষ্যে একক প্রচেষ্টায় আন্দোলন গড়ে তুলেছে। এ ছাড়া একটা আন্তর্জাতিক তদন্তেরও দাবী তার।

বিভিন্ন মহল থেকে ইরানী সরকারে উপর চাপ বাড়ায় তারা মামলাটি পুনরায় কোর্টে পাঠানোর সিন্ধান্ত নিয়েছে বলে আপীল কোর্ট থেকে জানানো হয়েছে গত ১৫ই নভেম্বর ২০০৫। ইতোমধ্যে কানাডা ইরানের সাথে তাদের কুটনৈতিক সম্পর্ক সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে এনেছে।

বিস্তারিত জানার জন্য :
[wjsK= Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুন, ২০০৭ সকাল ৮:২৪
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকাল

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৫১



আজকাল আমার মনে হয় -
আমাকে কেউ পছন্দ করে না,
কারো কাছে গেলে, সে বিরক্ত হয়।
পোশাক অগোছালো, এলোমেলো চুল,
চোখের দৃষ্টি কেমন ঘোলাটে!
বীরত্ব দেখানোর কিছু নেই।
চতুর পুরুষ স্ত্রীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে ৯টি বছরঃ একজন লিলিপুটিয়ান থেকে সত্যিকার ব্লগার হয়ে উঠার গল্প

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২৮

আজ আমার ৩য় বইয়ের জন্য চুক্তি করতে প্রকাশক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। প্রকাশনা সংস্থা 'উত্তরণ'-এর মাসুদ ভাইয়ের বাংলাবাজারের অফিসে ঘণ্টাখানেক ছিলাম। তাঁর সাথে কথা বলতে বলতেই আমার মনে একটি বোধোদয় আসে! আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×