আমার প্রিয় পোস্ট

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা দেখান - যুদ্ধাপরাধীদের ভোট দানে বিরত থাকুন।

একটি খবরের ব্যবচ্ছেদ এবং কয়েকজন সাংবাদিক(!) ব্লগার....

২৩ শে জুলাই, ২০০৭ রাত ১:৩৯

শেয়ার করুন:                   Facebook

কয়েকদিন আগে হাসিনার ছেলে জয় দেশে রেমিটেন্স পাঠানো বন্ধ রাখতে আহ্বান জানিয়েছেন বলে একটা খবর কিছু কিছু সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। মনে মনে ভাবলাম - হু কেয়ারস। কে রেমিটেন্স পাঠাবে কে পাঠাবে না এটা তাদের নিজেদের বিষয়। কারো আহ্বানের ধারধারি কি আমরা!

পরে দৈনিক আমাদের সময়ে একটা খবর ছাপলো গত ২১ তারিখে :
খালেদা জিয়া, সজীব ওয়াজেদ জয় এবং ফয়েজী নিয়ে প্রতিবেদনে ভুল...



"শেখ হাসিনার গ্রেফতারের প্রতিবাদে গত ১৬ জুলাই নিউইয়র্কের ব্র“কলিনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা শেখ হাসিনার মুক্তি না দেয়া পর্যন্ত প্রতিবাদের অংশ হিসেবে প্রবাসীদের প্রতি ‘সোনালী এক্সচেঞ্জের’ মাধ্যমে রেমিটেন্স না পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তারা কেউই রেমিটেন্স পাঠাতে নিষেধ করেননি।
এই সমাবেশে শেখ হাসিনা পুত্র জয় বক্তব্য রেখেছিলেন। কিš' তিনি রেমিটেন্স প্রসঙ্গে কিছু বলেছেন বলে প্রতিবেদনের ভেতর কোথাও কিছু নেই। কিš' দৈনিক আমাদের সময়সহ কয়েকটি জাতীয় দৈনিকের শিরোনাম কীভাবে যেন হয়ে গেল, জয় প্রবাসীদের দেশে রেমিটেন্স না পাঠাতে আহ্বান জানিয়েছেন।
এই শিরোনাম সত্যের অন্তত দুইধাপ দূরে। প্রথমত, জয় রেমিটেন্স প্রসঙ্গে কিছু বলেছেন বলেই প্রতিবেদনে কিছু নেই। দ্বিতীয়ত, অন্য বক্তারা রেমিটেন্স পাঠাতে নিষেধ করেননি। তারা হাসিনার মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত ‘সোনালী এক্সচেঞ্জের’ মাধ্যমে রেমিটেন্স না পাঠাতে প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।"


এটা হলো দৈনিক আমাদের সময়ের খবর। বলা হচ্ছে জয় এই বিষয়ে কিছুই বলেননি। কোন বক্তা “সোনালী একচেঞ্জ” ব্যবহার না করতে আহ্বান জানিয়েছেন। এই জন্যে অন্য কোন সাংবাদিককে দু:খ প্রকাশ করা বা বিষয়টা নিয়ে সংশোধনী দিতে দেখা যায়নি।

আজ আরো অবাক হলাম ব্লগের দুইজন সাংবাদিকের বক্তব্য। থার্ড আইর একটা আবেদময়ী পোষ্ট দিয়ে একটা কঠিন সেন্টিমেন্ট প্রকাশ করেছেন। মজার বিষয় হলো একজন সাংবাদিক চিলের পিছনে কিভাবে দৌড়ালেন নিজের কানে হাত না দিয়েই।

মা , রাগ করোনা শেখ হাসিনা মুক্ত নাওয়া পর্যন্ত তুমি না খেয়ে থেকো....

থার্ড আই বলছেন -
"তাই সজিব ওয়াজেদ জয়ের বাংলাদেশে রেমিটেন্স পাঠানো বন্ধ করতে বলা অবান্তর কিছু নয়, কিন্তু যে মা অপেক্ষায় থাকেন তার সন্তান অর্থ পাঠালে তার খাবার কেনা হবে,ঔষধ যোগার হবে, তার ছোট ভাইয়ের স্কুলের পরীক্ষার ফি কিংবা তার বোনের একথানা নতুন জামা জুটবে ..."


বিষয়টা যেহেতু শেখ পরিবারের সাথে সম্পর্কিত - স্বাভাবিক ভাবেই আশরাফ রহমান বিশেষ মাছির মতো গন্ধ পেয়েই হাজির। দিলেন একটা মন্তব্য। দেখন নীচে:

আশরাফ রহমান বলেছেন :
২০০৭-০৭-২৩ ০০:২৮:০০
জয় ইদানিং তার নানার অনুকরণে বক্তৃতা বিবৃতি এবং নির্দেশ দিতে শুরু করেছে। শেখ মুজিব পাকিস্তানীদের ভাতে ও পানিতে মারা ঘোষণা দিয়েছিলেন, কিন্তু জয় নিজ দেশের মানুষদের ভাতে মারার নির্দেশ দিয়েছেন। শেখ মুজিব ব্যাংক-বীমা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে কোন টাকা পয়সা পাকিস্তানে যেতে না পারে তবে জনগণের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে কর্মচারীদের মাইনে প্রদানের ব্যবস্থা রেখেছিলেন। কিন্তু জয় তার মাকে মুক্তি না দেয়া পর্যন্ত রেমিটেন্স পাঠানো বন্ধের নির্দেশ জারী করেছেন। শেখ মুজিবের ঘোষণা ছিল পাকিদের বিরুদ্ধে কিন্তু জয়ের ঘোষণা দেশের মানুষদের বিরুদ্ধে। তার এ ঘোষণায় তারাই সাড়া দিতে পারে যারা দেশের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে জমা রেখেছে। কোন অভাবী পরিবারের সন্তানরা তার আত্মঘাতি ঘোষণায় সাড়া দেবে বলে মনে হয় না।

বিষয়টি ব্লগে তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ। সেই সাথে ৫।



একটু লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে - এই আশরাফ রহমান নিজেকে একজন সাংবাদিক হিসাবে পরিচয় দেন উনিও খবরের সত্যতা যাচাইএর ধারে কাছে না গিয়েই শেখ পরিবারের উপর নিজের মনে ঝাল মিটালেন।

এই যদি হয় আমাদের সাংবাদিকতা - তা হলে সাধারন মানুষের গন্তব্য কোথায়। এই বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী সাংবাদিকরাই হলেন আমাদের সংবাদের সূত্র। এদের লেখা খবর আর ফিকশান আমাদের পড়তে হয়। কি আর করা।

 

 

  • ১৪ টি মন্তব্য
  • ২৬৮ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৫ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ২৩ শে জুলাই, ২০০৭ রাত ১:৪৩
comment by: প্রকৃতি প্রেমিক বলেছেন: হুমম..
২. ২৩ শে জুলাই, ২০০৭ রাত ১:৫৬
comment by: এহহামিদা বলেছেন: এই সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা যদি সব ক্ষেত্রে করতেন, আরো ভালো হত!
৩. ২৩ শে জুলাই, ২০০৭ রাত ২:১১
comment by: রাহা বলেছেন: নাইমুল ইসলাম খানের লেখাটা সেদিন দেখেছিলাম আর মনে মনে হাসলাম । খুব বেশী এদিক সেদিক কিন্তু নিউজ গুলো করেনি কিন্তু তাতেই যে একটা নিউজের বারোটা বাজে তা বোঝা গেল ।
কিছু মানুষ (আশরাফদের মতন) সেটা বুঝেও না বোঝার ভান করে লাফায় ... তাকে বোঝাবে কে ??
যেমন মুজিবের সাধারণ ক্ষমা নিয়ে বিতর্ক । যারা এমন বিতর্কের অবতারণা করে বুঝতে হবে তারা বুঝেও না বোঝার ভান করে স্বাথৃ হাসিলের উদ্দেশ্যে ।
৪. ২৩ শে জুলাই, ২০০৭ রাত ২:১১
comment by: এস্কিমো বলেছেন: কোনটা বললেন ...এহহামিদা?
৫. ২৩ শে জুলাই, ২০০৭ রাত ২:২১
comment by: এস্কিমো বলেছেন: রাহা - কথা ঠিক না। আশরাফ যা করে অত্যন্ত সজ্ঞানেই করেন। এটা আমি বাজী ধরে বলতে পারি।

থার্ড আই আবেগের কাছে দূর্বল - আগেও দেখা গেছে।
৬. ২৩ শে জুলাই, ২০০৭ রাত ২:৪৭
comment by: রাহা বলেছেন: এস্কিমো আমিও তো সে কথাই বললাম , স্বজ্ঞানে বুঝেও না বোঝার ভানে ...
৭. ২৩ শে জুলাই, ২০০৭ ভোর ৫:১৯
comment by: এস্কিমো বলেছেন: হ..সেইটাই।
৮. ২৩ শে জুলাই, ২০০৭ সকাল ৯:১২
comment by: অঃরঃপিঃ বলেছেন: এদের লেখা খবর আর ফিকশান আমাদের পড়তে হয়। কি আর করা।
৯. ২৩ শে জুলাই, ২০০৭ সকাল ৯:২৬
comment by: ডাক্তার আইজউদ্দিন বলেছেন: ফিকসন না পড়লে আসল খবর জানবেন কেমনে?
১০. ২৩ শে জুলাই, ২০০৭ সকাল ১০:৪৪
comment by: বইপাগল বলেছেন: সুন্দর ব্যবচ্ছেদের জন্য ধন্যবাদ এস্কিমো। ৫
১১. ২৩ শে জুলাই, ২০০৭ রাত ৯:৩৪
comment by: মুখেমারি বলেছেন: রেমিটেন্স নিয়ে কি হয়েছে জয়ের সাক্ষাৎকারে শুনেছি, এত মিথ্যা বলেন কেমনে।

একটাই মন্তব্য: দালাল!
১২. ২৩ শে জুলাই, ২০০৭ রাত ৯:৪২
comment by: মুখেমারি বলেছেন: আসুন ধরি আপনার কথা সত্য। তাহলে ব্যাপারটি কি দাড়ায়। অনেকটা কি এরকম নয় যে -
উদাহরণ:
১। না না, আমি তো খুন করতে বলি নাই, বলছি খুন করলে পিস্তল দিয়া করতে।

২। বন্যার ত্রাণ পাঠাতে তো মানা করি নাই, বলেছি নদীপথে না পাঠাতে।

৩। খাবার দিতে তো মানা করিনাই বলেছি ভাত রুটি না দিতে।

আগের মন্তব্যখানি মুছে দিলে খুশি হব, শেষের কথাটি ছিল অতিরিক্ত আবেগের বহিপ্রকাশ।

১৩. ২৪ শে জুলাই, ২০০৭ সকাল ৯:২৩
comment by: এস্কিমো বলেছেন: অসুবিধা নেই...@মুখেমারি
১৪. ২৫ শে জুলাই, ২০০৭ দুপুর ১২:৩৭
comment by: ফজলে এলাহি বলেছেন: অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য-
(এস্কিমোর সভ্যতা(?) প্রশ্নেই এখানে দিতে হলো, দুঃখিত ব্লগার বৃন্দ।)
------------------------------------
এস্কিমো,
ধর্মের কথা শোনানোর জন্য আল্লাহর এই পৃথিবীর সবটুকু জায়গাই প্রযোজ্য। কিন্তু মুশকিল হলো আপনারা শুধু সেই বিশালতাকে মসজিদের ভেতর ঢুকিয়ে তালা মেরে দিতে চান। থাক সে প্রসঙ্গ।
আপনার সভ্যতা(?)র প্রসঙ্গেই আসা যাক-

রাগ ইমন এমন একটা কমেন্ট করে সেই হাঙ্গামার সূত্রপাত ঘটায়, যা আমার আদর্শের বিপরীত। সে ক্ষেত্রে যদি আমি তার মতের সাপোর্ট করার পন্থা অবলম্বন করতাম, তবে অর্থ দাঁড়াতো নিজের আদর্শের ক্ষেত্রেই আমি পরস্পরবিরোধী।

তাই পুরো ব্যাপারটিতে আমি কোনভাবেই নিজেকে জড়াইনি। বরং ত্রিভূজের পোষ্টে এ নিয়ে বাড়াবাড়ি না করে ভাল কিছু লেখার আহ্বান করেছিলাম।

তদুপরি রাগ ইমনের ব্যাপারে আমার মনোভাব এই পোষ্টে আমি জানিয়েছি সুস্পষ্টভাবেই। এবং রাগ ইমন পোষ্ট পড়েছেন এটা নিশ্চিত হবার পরই অন্য কেউ যেন সেখানে আর মন্তব্য না বাড়িয়ে এটাকে সামনে নিয়ে না আসে, সে ব্যাপারে আবেদন করেছি

এবং পরবর্তীতে সে সময়ে সংঘটিত ঘটনা প্রবাহের প্রেক্ষিতেই আমি আমার নারীকে সম্মানিত করেছে ইসলাম বিষয়ক ধারাবাহিক লেখা শুরু করেছি।

যেহেতু রাগ ইমনের সাথে আমার আদর্শিক পার্থক্য সুস্পষ্ট, পরন্তু সে আমার বিপরীতে অবস্থানকারীদের শক্তি যোগান দিচ্ছিল, সেহেতু আদর্শিক প্রশ্নে করা তার বিপরীত মন্তব্যকে আমি কোনভাবেই সাপোর্ট করতে পারি না। তাই এতে নিজেকেও জড়াইনি এবং যারা জড়িয়েছে, তাদেরকেও বিভিন্নভাবে থামানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু যা কিছু ঘটে গেছে, তাতে আমি সত্যিই আহত। আমি অনেক মন্তব্যে বলেছিও যে, অন্যায় যেই করুক না কেন, তার শাস্তি বিধান হোক। তা যে পক্ষেরই হোক। আমার অবস্থান থেকে চিন্তা করলে এটাকেই সঠিক মনে করবেন চিন্তাশীলগণ।
====
মেঘ প্রসঙ্গ, মেঘের পোষ্টটাতে যাবার আগে পথহারার প্রতি দারুন ক্ষিপ্ত হলাম। পরে গিয়ে দেখলাম যে, মেঘ যে ভাষায় কোন তৃতীয় পক্ষকে সম্বোধন করেছে, পথহারাও ঠিক সেভাবেই মেঘকে সম্বোধন করেছে। স্থূল দৃষ্টিতে দেখলে এটা কোনভাবেই পথহারার উচিত হয়নি। আবার অন্যদিকে বলতে হয় যে, যেমন=তেমন।

কিন্তু একটু ভালভাবে বিবেচনা করলে দেখা যায় যে, মেঘ যাদেরকে ......... ভাষায় সম্বোধন করেছে, হতে পারে তেমন কেউ পথহারার নিকটজন। সো, তার লাগতেই পারে। সেও পাল্টা বলতে পারে।
=মনে করার কোন কারণ নাই যে, আমি পথহারাকে সমর্থন দিচ্ছি।
=আমি তেলাপোকার গালাগালকেও সমর্থন দেইনি; বরং বলেছি যে, ইসলামের সৌন্দর্য নষ্ট করে ইসলামের কথা বলা অনুচিত।

অতএব, বুঝতেই পারছেন, এ দু'জনের পেছনে যথেষ্ট কারণ সুস্পষ্ট। তথাপি বিতর্ক করলেও তা সুন্দর ভাষায় করা যায়। এবং এটা প্রত্যেকের নিজস্ব গুণ, নিজস্ব সম্পদ।
=========
অন্যদিকে কি অপরাধ ছিল আস্তমেয়ের? আর কি অপরাধ ছিল দেবরার? তারা কেন অপমানিত হতে হলো? আস্ত মেয়ে তো কাউকে কোনদিন গালি দেয়নি। দেবরা তো ব্লগিংয়েই নাই।

লক্ষ্য করে থাকবেন হয়ত অনেকেই যে, আমি ব্লগিংএর শুরু থেকেই ব্লগকে সুন্দর করার প্রস্তাবনা নিয়ে এবং গালাগাল বিরোধী পোষ্ট দিয়েছিলাম, যেগুলো যথাক্রমে-
-প্রথম লেখাঃ ব্লগ নিয়ে
-থামুন! পড়ুন!! পরিচ্ছন্ন ব্লগের স্বার্থে হাত মেলান !!!
-!! কাপুরুষ আর কাকে বলে? ক্ষমা চাও......।
-হায় '৫২-র ভাষা শহীদ! হায় '৭১-এর শহীদেরা!! এ কোন কাপুরুষ প্রজন্ম রেখে গেলেন?? যারা চেতনার জন্য গালির আশ্রয় নেয় ?

=আরেক বিতণ্ডা বাড়ানোর জন্য নয়, আমার অবস্থান পরিস্কার করার জন্যই এই মন্তব্য। পোষ্ট আকারের হলেও তাই আলাদা পোষ্ট দেইনি। ধন্যবাদ।

 



 


এস্কিমো এখনও প্রথম আলো ব্লগে যায় নাই।

[এস্কিমো ব্লগের সতর্কীকরন: রাজাকার, আল বদর, আল শামস্, শান্তি কমিটি, ও '৭১ এর...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ২০৩৯০৫