‘রাজাকাররা খুবই ভাল কাজ করেছে’ - নিহত রাজাকার রশীদ মিনহাজের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে গোলাম আজম বলে -‘এই আত্নত্যাগের নিদর্শন থেকে তরুনরা উপকৃত হতে পারবে’।' [দৈনিক পাকিস্থান, ২ সেপ্টেম্বর ১৯৭১]
রাজাকার বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা নেতা মাওলানা এ কে এম ইউসুফ ১১ অক্টোবর খুলনা স্কুলে এক রাজাকার সমাবেশে “দুষ্কৃতকারী ও ভারতীয় সশস্ত্র অনুপ্রবেশকারীদের কার্যকলাপ দমনের জন্যে’ রাজাকারদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। বিপুল করতালির মধ্যে মাওলানা ইউসুফ ঘোষনা করে -“দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর হামলার যে কোন অপচেষ্টা নস্যাত করে দেওয়ার জন্যে সেনাবাহিনী ও রাজাকারদের পিছনে আমাদের সাহসী জনগন ঐক্যবদ্ধ থাকবে”।" [দৈনিক পাকিস্থান, ১৩ অক্টোবর ১৯৭১]
২৭ ই নভেম্বর ১৯৭১ তারিখে সাভারে রাজাকার বাহিনীর কমান্ডারদের প্রথম দলের ট্রেনিং শেষে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন শেষে পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ডের অধিনায়ক জেনারেল নিয়াজী বলে -“রাজাকারদের প্রসন্ন বদন, আত্নপ্রত্যয় ও উচ্চ মনোবল দেখে আমি বিশেষ ভাবে মুগ্ধ”। রাজাকারদের ভুমিকা সম্পর্কে নিয়াজী বলে -“একদিকে তাদের একদিকে তাদের ভারতীয় চরদের সকল চিহ্ন মুছে ফেলতে হবে এবং অপরদিকে বিপথগামী যুবকদের সঠিক পথে আনার চেষ্টা করতে হবে’।' [দৈনিক পাকিস্থান, ২৮ নভেম্বর ১৯৭১]
জামাতে ইসলামীর রাজাকার বাহিনী সাধারনভাবে পাকিস্থানপন্থী সকল রাজনৈতিক দলের সমর্থন পেয়েছিল। পিডিপি প্রধান নূরল আমীন (ভাষা আন্দোলনে গুলিবর্ষনের আদেশদানকারী) প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে এক সাক্ষাতকালে ৬ নভেম্বর পূর্ব পাকিস্থানে রাজাকারদের সংখ্যা বৃদ্ধি করার ও তাদের আরো অস্ত্র দেবার সুপারিশ করেন। কারন, ‘সেখানে রাজাকাররা খুব ভাল কাজ করছে’।' [দৈনিক পাকিস্থান, ৭ নভেম্বর ১৯৭১]
(সূত্র: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে জামাতে ইসলামীর ভুমিকা - শাহ আহমদ রেজা)
(ছবি সুত্র: বাংলা পিডিয়া ডট কম)
ফিরে দেখা ‘৭১ : রাজাকার ও জামাত (১)
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই আগস্ট, ২০০৭ ভোর ৪:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


