somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

১৫ আগস্টের হত্যাকান্ড - কিছু মীথ ও বাস্তবতা!

১৫ ই আগস্ট, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৫ ই আগস্ট ১৯৭৫ সাল।

ভোরে ঢাকার সোবাহান বাগ এবং ধানমন্ডির অধিবাসীরা জানলো কিছু একটা হয়েছে..গোলাগুলি আর সামরিক যানের হুংকারে তাদের ঘুম ভেঙেছে।

তারপর রেডিওতে ঘোষনা...আমি মেজর ডালিম বলছি...

মানুষ জানলো জাতির পিতা এবং তার পরিবারবর্গ সেনাবাহিনীর সদস্যদের দ্বারা নির্মম ভাবে নিহত হয়েছে।

শেখ মুজিবুর রহমান একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসাবে অনেক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কিন্তু তার চেয়েও অনেক বেশী রাষ্ট্রবিরোধী কাজ করেছে এরশাদ - কিন্তু শেখ মুজিবকে কে মরতে হলো।

শেখ মুজিবের প্রধান এবং সবচেয়ে বড় অপরাধ ছিল পাকিষ্তান ভেঙে বাঙালী জাতির একটা ঠিকানা তৈরী করা।

১৯৭২ সাল থেকেই প্রতিবিপ্লবী এবং পরাজিত শত্রুরা ধীরে ধীরে সংগটিত হচ্ছিল। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পালিয়ে থাকা ঘাতক/দালালরা ধর্মের নামে তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সফল হয়েছে। যার একটা উদাহরন হলো - ৭৫ এর নির্মম হত্যাকান্ডের আগে অনেক মুসলিম দেশ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি। অন্যদিকে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের নামে একটা যুদ্ধবিধ্বস্থ দেশকে পুর্নগঠনে বাধা সুষ্টি করতে সফল ভাবে সংগঠিত হয়েছে জাসদ। দেশে এরা আর বিদেশে পরাজিত শক্তি বাংলাদেশকে সম্পূর্ন বিপর্যস্থ করে তুলেছিলো। সেই সময় শেখ মুজিবের অনেক পদক্ষেপ ভুল ভাবে ব্যাখ্যা করে যারা জনমত বিষিয়ে তুলেছিলো তাদের অনেককে পরে আমরা জিয়া এবং এরশাদের মন্ত্রীসভায় দেখি।

যা হোক। সেই দিন থেকে তিন দিন পর্যণ্ত সারাদেশে কারফিউ জারি করে শেখ মুজিবের মৃতদেহকে গোপালগঞ্জে পাঠানো হয়। অন্যদিকে দেখেছি জিয়ার মৃতদেহকে ৪০ দিনের শোকসহ ঢাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন স্থানে মাজার বানানো হয়।

১৯৭৫ সাল থেকে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত বেতার টিভিতে শেখ মুজিব ছিল সম্পূর্ন নিষিদ্ধ। ১৯৯১ সাল থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শেখ মুজিবকে নিয়ে কিছু আলোচনা শুরু হলেও ১৯৯৬ সালে টিভিতে শেখ মুজিব রেডিও টিভিতে প্রচারিত হতে শুরু করে।

আজ রাজাকারাও বলছে শেখ মুজিব বাংলাদেশের স্থপতি!
দীর্ঘ ২৫ বছরের নিষেধাজ্ঞার সময় যে কথাগুলো প্রচারিত হয় - তা হলো -
১) শেখ মুজিব মরার পর কেহ ইন্নালিল্লাহ পড়েনি ( এখন একজন বললো কুকুর বিড়ালও কাদেনি)।
২) শেখ মুজিবের ছেলেরা ব্যাঙ্ক ডাকাতি করেছে।
৩) শেখ মুজিবের ছেলেরা বিশ্বদ্যালয়ের মেয়েদের উঠিয়ে এনেছে।

ইত্যাদি...

একটা দেশের রাষ্ট্রপতিকে হত্যা করার পর তিনদিন কারফিউ দিয়ে প‌্যানিক তৈরী করে যদি কেহ বলে কই মানিষতো কাঁদরো না..এর চেয়ে নির্বোধের মতো প্রশ্ন করা মনে হয় সম্ভব নয়। দীর্ঘ ২০ বছরের নিষেধাজ্ঞার পরও আজ শেখ মুজির তার ভুমিকায় ভাস্বর। বাংলাদেশের ইতিহাসের মহানায়ক হিসাবে তার ভুমিকায় একফোঁটা কালিমা লেপন সম্ভব হয়নি বলেই আজ রাষ্ট্রপ্রধান টুঙ্গীপাড়া যাচ্ছেন..রাজাকাররা তার গুনরর্কীতন শুরু করেছে। এটা হলো বাস্তবতা।

শেখ মুজিব মারা যাওয়া পর যারা ক্ষমতায় এসেছে এবং ধারাবাহিকভাবে থেকে সবাই ধীরে ধীরে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অর্জনকে নষ্ট করেছে। তারা যখন শেখ মুজিবের বাড়ি ফিরিয়ে দিলো তখন তার ব্যাংক একাউন্ড ফেরত চাওয়া হরে তার হদিস সরকার দিতে পারেনি। শেখ মুজিবের ছেলেদের ডাকাতির একটা প্রমান ২০ বছরের কেহ দিতে পারেনি।

সুতরাং এখনও যারা ইতিহাস নিয়ে দ্বিধান্বিত...যারা মনে করছেন শেখ মুজিবকে হত্যা করাটা ছিল ..তারা আসলে বাস্তবতার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একটা কাল্পনিক জগতে বাস করেছেন।

সেই জগতটা যারা তৈরী করেছিল তাদের দিন শেষ। গত ১২ বছর যাবত একটা বিচারের সুরাহার করতে যারা বাধা সৃষ্টি করেছে তারা শুধু নিজেদের পাপের বোঝাটাই বাড়িয়েছে।

আশা করি দ্রুতই বাংলাদেশ খুনীদের বিচারের শেষ দেখবে এবং ৩২ বছরের টেনে নেওয়া পাপের বোঝা টানা থেকে মুক্তিপাবে।

(বি: দ্র: যারা জানতে চায় তাদের জন্য ইতিহাস আর যারা বিভ্রান্ত থাকতে চায় তাদের জন্যে প্রপাগান্ডা - দুইটাই যথেষ্ঠ পরিমানে ছড়িয়ে আছে - এখন যার যা পছন্দ)
৩০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৩ এ ওয়াকআউট করেছিলেন, ২০২৬ এ তিনিই ঢাবির ভিসি ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২


২০২৩ সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভা চলছে। একজন শিক্ষক দাঁড়িয়ে বললেন, হলগুলোতে ছাত্রলীগের গেস্টরুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। কথাটা শেষ হতে না হতেই তৎকালীন ভিসি জবাব দিলেন, "গেস্টরুম কালচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ ভোর ৪:২১

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
==========================
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি ও বাঙালির মুক্তির অগ্রদূত। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শেখ লুৎফর রহমান ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

এপস্টেইনের এলিট: ইসরায়েলের মিডিয়া নিয়ন্ত্রন এবং প্রপাগাণ্ডা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ ভোর ৬:৩৮


ইতিহাসবিদ ইলান পাপে বলেছেন, "ইসরায়েল অবৈধ বসতি স্থাপনকারী, ঔপনিবেশিক শক্তির একটি প্রজেক্ট। এটি ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় গড়ে ওঠা স্বাভাবিক রাষ্ট্র নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তির দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যবস্থা"। এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পিতা তোমার জন্মদিনে জানাই শুভেচ্ছা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:৩৬


কার ডাকেতে টগবগিয়ে ফুটলো বাংলাদেশ
কার ডাকেতে বিজয় ছিনিয়ে  মুক্ত হলো স্বদেশ?

কার ডাকেতে সমবেত হয়েছিলো দীপ্ত তরুণেরা,
কার ডাকেতে দ্বিধা ভূলে একত্রিত  তারা?

কার ডাকেতে অসাম্প্রদায়িক হলো আমার প্রিয় দেশ
কার ডাকেতে স্বপ্ন... ...বাকিটুকু পড়ুন

তিনি বাংলাদেশী জাতির জনক

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



বঙ্গবন্ধৃ শেখ মজিবুর রহমানকে জাতির পিতা মানে বাংলাদেশী নাগরিকগণের একাংশ। ১৯৭১ সালের পূর্বে বাংলাদেশী নামে কোন জাতি ছিল না। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের নাগরিকগণের একাংশ পশ্চিম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×