মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাকিস্থানী সরকার বহির্বিশ্বের কাছে ‘সব কিছু স্বাভাবিক’ ভাবমূর্তি তুলে ধরার প্রয়াস হিসাবে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে ‘বেআইনী ঘোষিত’ আওয়ামীলীগের ৭৮টি জাতীয় পরিষদের আসন শূন্য ঘোষনা করে। সেই সকল শূন্য পদে ১২ই ডিসেম্বর নির্বাচনের সময়সূচী ঘোষনা করে। ৭৮টি মূন্য আসনের প্রতিটিতে জামাতে ইসলামীর প্রার্থী দাড়িয়েছিল ‘পাকিস্থান রক্ষার জেহাদের অংশ গ্রহনের’ লক্ষ্য নিয়ে।
সেই নির্বাচনে সমমনা দল মুসলিম লীগ, পিডিপি, কনভেনশন মুসলিম লীগ আর নেজামী ইসলামের সাথে আতাত করে ৫৮ টি আসনেই বিনা প্রতিদ্ধন্ধিতায় নির্বাচিত হয়।
সেই সময় বিজয়ীদের দলগত অবস।তান হয় :
১) জামাতে ইসলামী - ১৫ জন
২) পিডিপি - ১২ জন
৩) কাইউমপন্থী মুসলিম লীগ - ৭ জন
৪) কনভেনশান মুসলিম লীগ - ৭ জন
৫) কাউন্সিল মুসলিম লীগ - ৬ জন
৬) নেজামে ইসলাম - ৬ জন
৭) পাকিস্থান পিপলস পার্টি - ৫ জন
লক্ষ্যনীয় যে, ‘বিনা প্রতিদ্ধন্ধিতায় নির্বাচিত’ এই জনপ্রিয় প্রতিনিধিদের মধ্যে জামাতে ইসলামী প্রাধান্য বিস্তার করেছি। ইতিহাসের কঠিন সময়ে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত জামাতের জনপ্রিয় প্রতিনিধিদের নাম নিচে দেওয়া হরো: -
১) ঢাকার গোলাম আজম - নির্বাচিত হন টাঙ্গাইল থেকে।
২) মওলানা আবদুর রহীম - বাখরগঞ্জ
৩) আব্বাস আলী খান - বগুড়া
৪) এ কে এম ইউসুফ - খুলনা
৫) জবান উদ্দিন আহম্মদ - রংপুর
৬) সা’দ আহম্মেদ - কুষ্টিয়া
৭) আব্দুল মতিন - কুষ্টিয়া
৮) মাওলানা তমিজুদ্দিন - দিনাজপুর
৯) আব্দুলাহ আল কাফি - দিনাজপুর
১০) এস এম ইউসুফ - ময়মনসিংহ
১১) সফিউল্লাহ - নোয়াখালী
১২) আফাজ উদ্দিন আহমদ - রাজশাহী
১৩) মাওলানা আব্দুস সোবহান - পাবনা
১৪) অধ্যাপক আবদুল খালেক - টাঙ্গাইল
১৫) অধ্যাপক ইউসুফ আলী - ঢাকা
(সূত্র:- দৈনিক পাকিস্থান, ২৪ অক্টোবর - ১০ নভেম্বর ১৯৭১)
বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিষয়টা যখন চুড়ান্ত পর্যায়ে চলে আসে তখন ৬ই ডিসেম্বর উপনির্বাচন স্থগিত করে পাকিস্থানী সরকার, না হলে জামাতের সদস্য সংখ্যা আরো বাড়তো। স্থগিত হওয়ার কারনে লাখ শহীদের মৃতদেহের উপর দাড়িয়ে পাকিস্থানের বৃহত্তম দল হিসাবে জামাতে ইসলামীর খোয়াব এভাবেই শেষ হয়ে যায়।
ফিরে দেখা ‘৭১ : মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ের পাতানো নির্বাচনে জামাত
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
৬২টি মন্তব্য ০টি উত্তর
পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন
আলোচিত ব্লগ
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
==========================
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি ও বাঙালির মুক্তির অগ্রদূত। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শেখ লুৎফর রহমান ও... ...বাকিটুকু পড়ুন
এপস্টেইনের এলিট: ইসরায়েলের মিডিয়া নিয়ন্ত্রন এবং প্রপাগাণ্ডা

ইতিহাসবিদ ইলান পাপে বলেছেন, "ইসরায়েল অবৈধ বসতি স্থাপনকারী, ঔপনিবেশিক শক্তির একটি প্রজেক্ট। এটি ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় গড়ে ওঠা স্বাভাবিক রাষ্ট্র নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তির দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যবস্থা"। এ... ...বাকিটুকু পড়ুন
কবিতাঃ পিতা তোমার জন্মদিনে জানাই শুভেচ্ছা

কার ডাকেতে টগবগিয়ে ফুটলো বাংলাদেশ
কার ডাকেতে বিজয় ছিনিয়ে মুক্ত হলো স্বদেশ?
কার ডাকেতে সমবেত হয়েছিলো দীপ্ত তরুণেরা,
কার ডাকেতে দ্বিধা ভূলে একত্রিত তারা?
কার ডাকেতে অসাম্প্রদায়িক হলো আমার প্রিয় দেশ
কার ডাকেতে স্বপ্ন... ...বাকিটুকু পড়ুন
রাস্তার ডাক ও স্মৃতির চাকা: দু-চাকার ঈদযাত্রা যখন আবেগের নাম
প্রতি বছর ঈদের ছুটি কাছে এলেই শহরের চেনা রাজপথগুলো এক অন্যরকম রূপ নেয়। চারদিকে এক অস্থির অথচ আনন্দময় ব্যস্ততা। আজ সকালে অফিসের উদ্দেশ্যে বের হয়েই চোখে পড়ল সেই চিরচেনা দৃশ্য—সারি... ...বাকিটুকু পড়ুন
তিনি বাংলাদেশী জাতির জনক

বঙ্গবন্ধৃ শেখ মজিবুর রহমানকে জাতির পিতা মানে বাংলাদেশী নাগরিকগণের একাংশ। ১৯৭১ সালের পূর্বে বাংলাদেশী নামে কোন জাতি ছিল না। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের নাগরিকগণের একাংশ পশ্চিম... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।