আমার প্রিয় পোস্ট

[জামায়াত-শিবির বাংলাদেশ ও ইসলামের শত্রু --- এদের প্রতিহত করুন।]

বঙ্গবন্ধুর ক্ষমা, জামাতের রাজনীতির অধিকার এবং অন্যান্য প্রসংগ -

২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ৯:৪৮

                       

মুক্তিযুদ্ধের ফসল বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী রাজনৈতিক দল জামাতের রাজনীতি করার অধিকার নেই! পোস্টে বিভিন্ন জনের আলোচনা পোস্টকে সমৃদ্ধ করেছে। ধন্যবাদ জানাই সবাইকে। বিশেষ করে রাগ ইমন, ভ্রুক্ষেপিত জ্ঞান, সারোয়ারচৌধূরী এবং তীরন্দাজকে।

তাদের আলোচনার প্রেক্ষিতে কিছু প্রশ্ন উঠে এসেছে - সেই বিষয়ে একটা পরিষ্কার ধারনা থাকা দরকার। যে প্রশ্নসমূহ আলোচিত পোস্টে উঠে এসেছে তাতে মূলত তিনটা শিরোনামে ভাগ করা যায়:

১) বঙ্গবন্ধুর ক্ষমার প্রেক্ষিতে জামাত নামক একটা "বাংলাদেশের জন্মের বিরোধীতাকারী দল" কি রাজনৈতিক অধিকার পেয়ে গিয়েছিলো?
২) বাংলাদেশে চলমান গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার আলোকে জামাত কি গনতান্ত্রিক শক্তি হিসাবে কাজ করছে?
৩) একটা দেশে কোন অগনতান্ত্রিক সংগঠন নিষিদ্ধ করা কি গনতান্ত্রিক রীতিনীতির পরিপন্থী?

উপরের বিষয়গুলো নীচে ব্যাখ্যার চেষ্টা করা হয়েছে:-

১) ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ যখন পাকহানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মরনপণ সংগ্রামে লিপ্ত - তখন “ জামাত” একটা সংগঠন হিসাবে নীতিগতকারনে সেই মুক্তির সংগ্রামের শুধু বিরোধীতিই করেনি - রাজাকার, আল-বদর, আলশাসম বাহিনী তৈরী করে সক্রিয় ভাবে পাকহানাদারদের সহায়তা করেছে। দেশের মানুষ যখন মুক্তি আশায় অসহনীয় কঠিন সময় পাড়ি দিচ্ছিল - তখন জামাত একটা সংগঠন হিসাবে তাবেদার মন্ত্রী সভায় গিয়েছে, পাতানো নির্বাচনের অংশগ্রহন করেছে। এর সবই প্রমান মিলে তাদের পত্রিকা “দৈনিক সংগ্রাম”এর ১৮৭১ সালের সংখ্যাগুলোতে।

এরই প্রেক্ষিতে স্বাধীনতার পর জামাতসহ স্বাধীনতা বিরোধী দলগুলোর রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়। স্বাধীনতার পরপরই জামাতের অনেক নেতাকর্মী জেলে যায়, অনেকে পালিয়ে বিদেশে অবস্থান নেয়। বিদেশে থাকা জামাত নেতারা সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। যতদিন না দেশে তাদের জন্যে অনুকূল পরিবেশ তৈরী হয় - ততদিন তারা বিদেশে বসে বাংলাদেশ বিরোধী কার্যক্রম চালাতে থাকে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ ১৯৭৫ সালের হত্যাকান্ড পর্যন্ত বাংলাদেশকে স্মীকৃতি দেওয়া থেকে বিরত থাকে।

তারপর সামরিক শাসক মে: জে: জিয়াউর রহমানের সাথে আঁতাত করে এরা দেশে ফিরে আসে। তখন থেকেই প্রচার শুরু হয় বঙ্গবন্ধু এদের ক্ষমা করে দিয়েছে। এটা একটা বিরাট ভুল ও প্রপাগান্ডা। সাধারন ক্ষমার আওতায় মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী সাধারন কর্মীদের ক্ষমা করা হয় - যাতে এরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে। কিন্তু সাধারন ক্ষমার আওতায় সেই ৩৪ হাজার ৬০০ রাজাকার, মুসলিমলীগ কর্মী, জামাত কর্মীদের ক্ষমা করা হলেও তাদের পুরানো বিশ্বাসের রাজনীতি করা অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি। তাদের সেই অধিকার ফিরে পাবার জন্যে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে।

এখানে উল্লেখ্য যে, সাধারন ক্ষমা ঘোষনায় সুস্পষ্ঠ ভাবে উল্লেখ ছিল যে, “এই আদেশ বলে দন্ডবিধির ৩০২ ধারা (হত্যা), ৩০৪ ধারা (হত্যার চেষ্টা), ৩৭৬ ধারা (ধর্ষন), ৪৩৫ ধারা (অগ্নিসংযোগ অথবা বিস্ফোরক দ্বারা ক্ষতি সাধন) ৪৩৬ ধারা (বাড়িঘর ধ্বংসের অভিপ্রায়ে অগ্নিসংযোগ বা বিস্ফোরক দ্রব্য দ্বারা অপকর্মের চেষ্টা) মোতাবেক অভিযুক্ত বা দন্ডিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ১নং অনুচ্ছেদ মোতাবেক ক্ষমা প্রদর্শন প্রযোজ্য হইবে না”

এখানে যেমন ঢালাও ভাবে ক্ষমা করা হযনি - তেমনি বঙ্গবন্ধুর নিহত হবার সময়েও অনেক অপরাধীর বিচার চলছিলো। পরে সামরিক আদেশে সেই বিচার কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

সুতরাং জামাতের পুর্নবাসন এবং বাংলাদেশে বসে বাংলাদেশ বিরোধী রাজনীতির চলানোর সাথে কোন ভাবেই বঙ্গবন্ধুকে জড়িয়ে বক্তব্য প্রদান করা সত্যের অপলাপ মাত্র।

২) নানান ঘাত প্রতিঘাত, সামরিক শাসন আর পাল্টা সামরিক শাসনের মধ্যে দিয়ে যখন দেশ অতিক্রম করছিলো - তখন জামাত তাদের মধ্যপ্রাচ্যের খুঁটির জোরে সেই সকল গনবিরোধী সরকার গুলোর কাছ থেকে গোপন ইমিউনিটি পেতে থাকে। এরা শুধু যে রাজনৈতিক ভাবেই প্রভাবশালী হবার চেষ্টা করেছে তা নয় - ধর্মের লেবাসে বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকান্ড শুরু করেছে। একটু গভীর দৃষ্টিতে দেখলে দেখা যাবে - গনতান্ত্রিক পরিবেশে জামাত আসলে একটা অগনতান্ত্রিক দল। জামাত তাদের দলের গঠনতন্ত্রের কোথাও বাংলাদেশকে একটা গনতান্দ্রকি দেশ হিসাবে গড়ে তোলার কথা বলেনি। বরঞ্চ জনগনের ক্ষমতার বিপরিতে এরা সুচতুর ভাবে “আল্লার সার্বোভৌমত্বের” কথা বলেছে। এরা ক্ষমতায় আরোহনের সর্বশেষ পথ হিসাবে ইসলামী বিপ্লবের কথা বলেছে। কিন্তু কার্যত দেখা যায় - এরা গনতান্ত্রিক সংগ্রামে অংশগ্রহন করে সাধারন মানুষকে ধোকা দিচ্ছে। এরা একদিকে সতলোকের শাসনের কথা বললেও - নিজেরা দূর্নীতি করেছে এবং একটা দূর্নীতিবাজ সরকারকে সমর্থন করেছে। জামাতের বিগত ১৫ বছরের কর্মকান্ড এবং তাদের গঠনতন্ত্রের কোথাও তাদের অতীত অপকর্মকে নিয়ে লজ্জা বা দু:খ প্রকাশের নজির দেখা যায়নি। বরঞ্চ এরা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জনগুলোকে বিতর্কিত করে তাদের অপকর্মকে বৈধতা দেবার চেষ্টা করছে। মূলত জামাত গনতন্ত্রের ছদ্মবেশ ধারন করে গনতন্ত্র বিরোধী একটা সাম্প্রদায়িক সংগঠন হিসাবে বাংলাদেশে কর্মকান্ড চালাচ্ছে। কোন সংগঠনের এহেন কর্মকান্ড বাংলাদেশের সংবিধানের পরিপন্থী এবং অবৈধ।

৩) গনতন্ত্র যদিও অবাধ মতপ্রকাশের অধিকার দেয় - তথাপি স্থান-কাল-পাত্র ভেদে তারও কিছু সীমারেখা নির্ধারন প্রযোজন হয়ে পড়ে। তাই দেখা যায় - পৃথিবীর সকল গনতান্ত্রিক দেশে কিছু সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশের উদাহরন হিসাবে পূর্ব-বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি, হরকতুল জেহাদ বা জেএমবির কথা বলা যায়। কর্মকান্ড গনতান্ত্রিক রীতিনীতির সাথে সামজ্ঞস্যপূর্ন না হওয়ায় তাদের কাজকর্ম অবৈধ। তেমনি বিশ্বের সব দেশে যুদ্ধে পরাজিত শক্তির রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকে - এরা করা দরকার হয় সামনে আগানোর জন্যে। যারা পরাজিত - যদি ওদের রাজনৈতিক অধিকার দেওয়া হয় তবে তারা তাদের অপকর্মগুলোকে বৈধ হিসাবে বিবেচনার জন্যে জনগনকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে। এতে দেশ বিভক্ত হয়ে পড়বে। যা সামগ্রিক ভাবে একটা দেশের উন্নয়ন এবং অগ্রগতির পক্ষে অন্তরায়। গত ৩৫ বছর যাবত এই কাজটাই করছে জামাত। জামাত ১) বাংলাদেশের প্রচলিত গনতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা, ২) প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা, ৩) প্রচলিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, ৪) মুক্ত সামাজিক ব্যবস্থা, ৫) নারীর অধিকার আর ৬) প্রচলিত বিচার ব্যবস্থার বিরোধী। যা এক কথায় বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের বিরোধী। এরা প্রবল প্রচারকার্য চালায় এই সকল ব্যবস্থার বিরুদ্ধে। প্রকৃত অর্থে একাত্তরের পরাজয়ে যা তারা হারিয়েছে - গনতান্ত্রিক ব্যবস্থার সুযোগে তার সবটুকু ফিরে পাওয়া এদের লক্ষ্র - এবং সেই লক্ষ্যেই তাদের সকল কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে। সুতরাং গনতন্ত্রের নামে - একটা রাষ্ট্রবিরোধী সংগঠনকে অবাধ কর্মকান্ড চালানোর বৈধতা দানের মাধ্যমে কি বাংলাদেশ তার ভবিষ্যতে একটা কঠিন সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে না?


উপরে তিনটা প্রশ্নের উত্তরে বিস্তারিত আলাপ করা হলো। আশা করা এতে সবার কাছে পরিস্কার হবে কেন - "মুক্তিযুদ্ধের ফসল বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী রাজনৈতিক দল জামাতের রাজনীতি করার অধিকার নেই!"

আসুন - দেশে বিদেশে সবাই মিলে সোচ্চার হই - বাংলাদেশের একটা সুন্দর ভবিষ্যতের জন্যে - বাংলাদেশে জামাত নামক সংগঠনকে অবৈধ সংগঠন হিসাবে ঘোষনা করে তাদের কর্মকান্ড বন্ধ করা হউক।

 

 

  • ৪৮ টি মন্তব্য
  • ১০০৫বার পঠিত
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৬৬ জনের ভাল লেগেছে, ৯ জনের ভাল লাগেনি
১. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ৯:৫০
comment by: রাশেদ বলেছেন: ৫
২. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ৯:৫০
comment by: আমি সাগর বলেছেন: আসুন - দেশে বিদেশে সবাই মিলে সোচ্চার হই - একটা সুন্দর ভবিষ্যতের জন্যে - বাংলাদেশ জামাত নামক সংগঠনকে অবৈধ সংগঠন হিসাবে ঘোষনা করে তাদের কর্মকান্ড কন্ধ করুক।
৩. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ৯:৫২
comment by: এস্কিমো বলেছেন: ধন্যবাদ রাশেদ আর আমি সাগর।

বিশেষ ভাবে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি কার্টুটটার জন্যে, আপনার পোস্ট থেকে সেইভ করেছি@আমি সাগর
৪. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ৯:৫৫
comment by: আমি সাগর বলেছেন: @এস্কিমো-এ নিয়ে আমিও পোস্ট তৈরি করছি। আপনাকেও ধন্যবাদ যুদ্ধ চালিয়ে নেওয়ার জন্য।
৫. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ৯:৫৯
comment by: এস্কিমো বলেছেন: এটা তো সবার কাজ এবং হবেও একদিন। আমাদের চেষ্টা হবে যাতে দেরীটা বেশী না হয়। তাতে অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে।

ধন্যবাদ - আমি সাগর।
৬. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:০১
comment by: হমপগ্র বলেছেন: আমি জামায়াতের মৃত্যু দেখতে চাই, বাংলার মাটিতে। আল্লাহ আমার দোয়া কবুল করবেন, ইনশাল্লাহ!
৭. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:০৪
comment by: সংস্থাপক বলেছেন: ১মত
৮. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:০৭
comment by: নগর বাউল বলেছেন: এস্কিমো ভাইয়ার সাথে একমত। ৫
৯. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:১০
comment by: ভ্রুক্ষেপিত জ্ঞান বলেছেন: আমরা কি জানতে পারি আমাদের কোন নেতারা সেদিন তাদের ক্ষমা করে দিল।এবং কেন দিল।কে তাদের সেই ক্ষমতা দিয়েছে,ক্ষমা করার জন্য।।আমাদের জানতে হবে।
১০. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:১৫
comment by: রাজ-চিকিতসক বলেছেন: ভ্রুক্ষেপিত জ্ঞান = ত্রিভুজ
১১. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:১৮
comment by: সফদর আলী বলেছেন: যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই
১২. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:১৯
comment by: ভ্রুক্ষেপিত জ্ঞান বলেছেন: @রাজ-চিকিতসক
ভালই বললেন।
ধন্যবাদ।
১৩. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:২০
comment by: হমপগ্র বলেছেন: @ভ্রুক্ষেপিত জ্ঞান
ক্ষমা করে দেওয়া কোন অপরাধ নয়। বুঝতে চেষ্টা করুন। উনি ক্ষমা করে দিয়েছেন, কিন্তু রাজনিতী করার সুযোগ দেননি।

যদি মেরে ফেলতেন তাহলে ভাল হত আমি মনে করলেও সেটা অমানবিক হত না কি? একজন মানুষকে অস্ত্রহীন করে মারা কি ঠিক?

আর মহানবী (সঃ) কিন্তু কাফেরদের কখনই মারেন নাই, তিনি তাদের ক্ষমা করে দিয়েছিলেন যাতে তারা ভাল হয়ে যায়। এই সুযোগটা দেওয়া কি অন্যায় কিছু?
১৪. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:২১
comment by: এস্কিমো বলেছেন: ভ্রুক্ষেপিত জ্ঞান,

এটা একটা বিরাট ইতিহাস। ১৯৭১ সাল ১৬ই ডিসেম্বরে যদিও মুক্তিযুদ্ধারা যুদ্ধ শেষ করেছিল - পরাজিত শক্তি তাদের যুদ্ধ শেষ করেনি।

শুধু একটা তথ্য দেই। ১৯৭১ সালে স্বরাষ্ট্র সচিব ছিল তসলিম আহমদ -যে ইয়াহিয়ার আমলেও কাজ করছে - যুদ্ধকালীন সময়েও কাজ করছে। তার দায়িত্ব ছিল মুক্তিযুদ্ধাদের সদনপত্র তৈরী করা। সুতরাং গোড়ায় গলদ। একটা যুদ্ধ বিধ্বস্থ দেশে দালালদের বিচার করাটা কঠিন । আর সেখানে মানবাধিকারের প্রশ্ন আসলে আরো কঠিন হয়ে যায়। দেশে দেশে দালালদের বিচারের বিষয়টা লক্ষ্য করলে দেখা যাবে বিজয়ী পক্ষ মানবাধিকার বিবেচনা না করেই দালাল নির্মূল করেছে - সেখানে বাংলাদেশের তখনকার সরকারের উপর প্রবল বিদেশী প্রভাব বিষয়টাকে সাধারন বিচার ব্যবস্থার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। থানার দারোগাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল দালালদের বিষয়ে এফআইআর করতে - আর দূর্নীতির এই মোক্ষোম সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিষয়টা আরো কঠিন করেছে পুলিশ কর্তারা - যাদের বেশীরভাগ ৭১ এ পাকিসরকারের অধীনে কাজ চালিয়ে গিয়েছিল।

এই হলো সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।

তবে মনে রাখবেন - দালালদের মুক্তিনাই। এই প্রজন্ম না পারলেও পরে প্রজন্ম ওদের বিচার করবে। করতেই হবে। একটা সভ্য সমাজে দালালরা বিচারের বাইরে থাকতে পারে না।
১৫. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:২২
comment by: নাভদ বলেছেন: ৫....আবারো একটি ক্লাসিক পোস্ট....আবারো সেই এস্কিমো....
১৬. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:২৫
comment by: আরশাদ রহমান বলেছেন: যথার্থ বলেছেন। ধন্যবাদ এস্কিমো ভাই।
১৭. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:২৮
comment by: রামারাও সিদ্ধা বলেছেন: ৫ কুলাইতেছে না
১৮. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:৩৫
comment by: তুষারমানব বলেছেন: ৫
১৯. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:৪২
comment by: ভ্রুক্ষেপিত জ্ঞান বলেছেন: @হমপগ্র
"যদি মেরে ফেলতেন তাহলে ভাল হত আমি মনে করলেও সেটা অমানবিক হত না কি? একজন মানুষকে অস্ত্রহীন করে মারা কি ঠিক?
তারা যে যুদ্বাপরাধীদের ক্ষমা করে দিল,তাদের সেই অধিকার কে দিল।যদি আপনি ইসলামি আইন দেখেন
দেখবেন যে কোন অপরাধীকে রাষ্টপ্রদান ক্ষমা করতে পারেন না।যতক্ষন না পর্যন্ত যাকে মারা হল, তার পরিবারবর্গ তাকে ক্ষমা না করে।এটাই ইসলামের আইন।কিন্তু এখন মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামীকে রাষ্টপ্রধান
ক্ষমা করে। লক্ষ লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের মুল্য কিভাবে বুঝবে রাষ্টপ্রধানরা।কিভাবে বুঝবে ৩০ লক্ষ শহীদের পিতার দুঃখ,শহীদের সন্তানের দুঃখ।তার স্ত্রীর দুঃখ। বলুন।জবাব দিন।


২০. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:৪২
comment by: রাশেদ বলেছেন: না কইয়া কমায় কেডা?
২১. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:৫০
comment by: মুকুল বলেছেন: সহমত
২২. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:৫৫
comment by: রাশেদ বলেছেন: @ ভ্রুক্ষেপিত জ্ঞান...আপনার কথামত যদি মুজিব ভুল কইরাও থাকে, তা কি আপনি শোধরাবেন না? যদি মনে করেন মুজিব ভুল করছেন, তা জানান সবাইরে। তাই বইলা কি আপনি জামাত রাজাকারদের রাজনীতি করা সাপোর্ট করবেন? তাদের বিচার করাবেন না? মুজিবের ভুল মুজিবের ভুল বইলা চিল্লাবেন আর রাজাকার দালাল্গুলারে আরামে থাকতে দিবেন! আজব!


আর আমাদের দেশে ইসলামি শাষন তো নাই বইলা জানতাম।
২৩. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:০৯
comment by: সরলরেখা বলেছেন: "আমি জামায়াতের মৃত্যু দেখতে চাই, বাংলার মাটিতে। আল্লাহ আমার দোয়া কবুল করবেন, ইনশাল্লাহ!"
@হমপগ্র:
আপনার এ কথাটি পড়ে ইতিহাসের একটি ঘটনা মনে পড়ে গেল। আবু জাহেল বদর যুদ্ধে অংশগ্রহন করার পূর্বে কাবা শরীফের গিলাফ ধরে বলেছিল: "হে কাবার মালিক তোমার বিরুদ্ধে যারা যুদ্ধ করছে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেত যাচ্ছি। এ ঘরের মালিক তুমি সত্যকে বিজয় দান করো।" সত্যি সত্যের বিজয় হয়েছে।
২৪. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:১০
comment by: জামাতে পিছলামি বলেছেন: এস্কিমো ভায়
আপনার লেখার ধার আছে, আমি আপনার লেখা গলো মনযোগ দিয়ে পড়ি ।
এটাও পড়লাম । কিন্তু ঐ ব্যাটার( কাটূন )হাতে তলোয়ার আমার মনে হয় আপনার লেখার ধারটা আরো বেশী হবে । বঙ্গবন্ধুর সাধারন ক্ষমা ছিল যারা পরিস্হিতিতে পরে পাক বাহিনীর সহযোগী হতে বাধ্য হয়েছে এবং ছোটখাট অপরাধী ছিল তাদের । প্রকৃত রাজাকারদের বঙ্গবন্ধু ক্ষমা করেননি । দালাল আইন বাতিল করে জিয়াউর রহমান যুদ্ধাপরাধীদের পুনবাসন করেছে এ সত্যটা বেশী বেশী তুলে ধরতে হবে ।
ধন্যবাদের সহিত এস্কিমোকে ৫ ।
২৫. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:১৫
comment by: শাহীন বলেছেন: এস্কিমো ভাইয়ের সাথে একমত সকলকে ধন্যবাদ। আমিও সকলে সাথে আছি। জয় হবে!!!
২৬. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:১৫
comment by: রাজ-চিকিতসক বলেছেন: ভ্রুক্ষেপিত জ্ঞান = ত্রিভুজ
২৭. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:৪০
comment by: ভ্রুক্ষেপিত জ্ঞান বলেছেন: @রাশেদ।
"আপনার কথামত যদি মুজিব ভুল কইরাও থাকে, তা কি আপনি শোধরাবেন না? যদি মনে করেন মুজিব ভুল করছেন, তা জানান সবাইরে। তাই বইলা কি আপনি জামাত রাজাকারদের রাজনীতি করা সাপোর্ট করবেন? তাদের বিচার করাবেন না? মুজিবের ভুল মুজিবের ভুল বইলা চিল্লাবেন আর রাজাকার দালাল্গুলারে আরামে থাকতে দিবেন! আজব!"
আমিতো বলিনি তাদের রাজনিতি করাকে সমর্থন করবো।তাদের বিচার করবোনা।
কিন্তু কারা করবে তাদের বিচার।বিএনপি বা আওয়ামিলীগ।বিএনপি তাদের সরকার বানিয়েছে।আওয়ামিলীগ তাদের নিয়ে বিএনপি বিরুধী আন্দোলন করেছে। মানে সবাই স্বার্থের জন্য তাদের সাথে মিশে,তাদের টেনে নেয়। বিএনপির সাথে যদি জামাতের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়,তখন দেখবেন বিএনপি ও বলবে রাজাকারদের বিচার চাই।
তাদের রাজনীতি করতে দেওয়া হবেনা।
হাসিনা ও গোলাম আজম ও নিজামীতো এক সাথে রাজনীতি করেছেন।আর বাম পন্থী দলগুলো ও আওয়ামিলীগের সাথে জোট বেধেছে।
তাদের বিচারের জন্য সবাই কম বেশী দোষী।
তাই তো ৩৬ বছর পরও তাদের বিচার হ্য়না।


২৮. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:৪৯
comment by: এস্কিমো বলেছেন: @ভ্রুক্ষেপিত জ্ঞান
আওয়ামী লীগ বা বিএনপি যে ভুল করেছে তাতে কি কোন সন্দেহ আছে? আমাদের কথা হলো আর কেহ যেন আর ভুল না করে। ভুল করা ফলতো দেখছেন?

পুরানো ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েই সুন্দর ভবিষ্যত তৈরী করার পদক্ষেপ নিতে হয়।
২৯. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:৫২
comment by: রাজ-চিকিতসক বলেছেন: ভ্রুক্ষেপিত জ্ঞান = ত্রিভুজ

৩০. ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১২:০২
comment by: বিষাক্ত মানুষ বলেছেন: জয় হবেই।
৩১. ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১২:০৭
comment by: অশ্রু বলেছেন: ১মতনা, তাই ১
৩২. ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১২:১০
comment by: অশ্রু বলেছেন: এখন রাগইমন একটি পোস্ট দিবেন এইটাকে সবাই ৫ দিতে অনুরোদ করে, তার একটা পোস্ট বাড়াতে
৩৩. ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১২:২১
comment by: আরশাদ রহমান বলেছেন: Click This Link

রাজাকার মানে পাকিস্তানি হানাদারের ভক্ত,
রাজাকার মানে আমাদের খেয়ে ঝরায় মোদেরি রক্ত।
রাজাকার হলো বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে,
পাকিদের হয়ে লড়েছিলো যারা আমাদেরি বিরুদ্ধে।

৭১ এ ধর্ষিতা ঐ আমার বোনের কান্না,
শুনিতে সাবই আজো পায় শুধু রাজাকাররা পাননা।
পাকিদের হয়ে মোদের মারিতো দেশদ্রোহী তাঁহারা,
ইজ্জত কভু নিজেরা লুটিতো কভু দিতো তাঁরা পাহারা।
হারিবে জানিয়া তাঁহারাইতো বুদ্ধিজীবি মারিলো,
নিষ্ঠুর ভাবে কাতিল করিয়া মার বুক খালি করিলো।

তাঁহাদের পাপে যাহারা আজিকে পাপের কিছুই দেখেনা,
লিখিতে পড়িতে জানিয়াও তবু সত্য কি তা জানেনা।
বয়স তাঁদের যতই হোক কিশোর কিংবা কিশোরী,
তাঁরাও রাজাকার সমান পাপী, সমান ঘৃনা করি।
৩৪. ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১২:২৮
comment by: বিষাক্ত মানুষ বলেছেন: "তুই রাজাকার"
৩৫. ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১:০৬
comment by: সন্ধ্যাপ্রদীপ বলেছেন: ধন্যবাদ সুন্দর লিখা পোস্ট করার জন্য । জামাত বেচে থাকা মানে বাংগালীর অসাম্প্রদায়ীক জাতীয়তাবোধের মৃত্যু । আমাদের বেচে থাকতে হবে জামাতীদের পরাজিত করেই , আসুন জামাতীদের ঘৃণা করি, এড়িয়ে চলি, প্রতিরোধ করি, ধ্বংস করি ওদের আস্তানা একে একে চিরতরে.....
৩৬. ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১:৫৬
comment by: অমিত বলেছেন: ৫
৩৭. ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ৩:০০
comment by: রাহা বলেছেন: এস্কিমো , যারা সত্যকে মিথ্যে বানিয়ে যেদেশের স্বাধীনতা বিরোধীতা করে সেই দেশেরই দিব্বি মন্ত্রী হয় তারা কোন ভাবেই আর যাই হোক সৎ মানুষ হতে পারেনা ।
যারা আল্লাহ র নাম বেচেঁ জীবনধারণ করে তাদের কাছে দিনকে রাত বানাতে কয়েক মুহুর্তের ব্যাপার ।
এরা কখনওই ক্ষমা পেতে পারেনা । কেউ তাদের ক্ষমা করেনি । ক্ষমা তাদের করা হবেনা । হয়তো সঠিক সময়ে হচ্ছেনা তবে অবশ্যই হবে ।
৩৮. ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ৩:০২
comment by: রাহা বলেছেন: অবশ্যই তাদের বিচার হবে ।
৩৯. ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ৩:১৭
comment by: জল রঙ বলেছেন: ৫দিলাম । বলার কিছুই নেই । সবই বলে দিয়েছেন ।
৪০. ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ৩:১৮
comment by: ইকারুস বলেছেন: ধন্যবাদ এস্কিমো
আরও একটি সুন্দর পোস্টের জন্য।
পোস্টের বিষয় বস্তুতে যুক্তি দিয়ে আপনি সুস্পষ্ট করেছেন আপনার মতামত। কিন্ত আমি মর্মাহত হলাম................
জামাতের রাজনীতির অধিকার নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য গুলো নিছক আবেগের বহি:প্রকাশ ছাড়া আর কোন গভীরতা লক্ষ করা যায়নি।আবেগ নিয়ে কেবল আলোচনা সম্ভব, অন্যকিছু নয়।

যাই হোক, জামাত নিষিদ্ধ করার মাধ্যমেই ওদের নির্মূল করা সম্ভব হবে মনে করাও কি একটা অযৌক্তিক ধারনা নয়???

কারণ, ৭১ এর মুক্তি যুদ্ধের পর বহু বছর নিষিদ্ধ থাকার পর আবার তারা যেভাবে ফুলেফেঁপে উঠেছে, তেমনটি যে আবার হবেনা তার নিশ্চয়তা কি?

তার উপর তারা যদি "অন্য নামে, অন্য প্রতিক নিয়ে" নিবার্চন করে ---- সে সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কি?
আশা করি জানাবেন।

ধন্যবাদ।
৪১. ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সকাল ১০:০৩
comment by: মনিটর বলেছেন: ৫।
জামাত শিবির রাজাকার এবং তাদের সমর্থকদের জন্য আকন্ঠ ঘৃণার বমি।
৪২. ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ২:১৮
comment by: ধ্রূপদী বলেছেন: জামাত শিবির রাজাকার এবং তাদের সমর্থকদের জন্য আকন্ঠ ঘৃণার বমি।
৪৩. ০১ লা অক্টোবর, ২০০৭ ভোর ৪:০৭