কেন্দ্রীয় ক্ষমতার থেকে বঞ্চিত হয়ে জামাত ‘পূর্ব পাকিস্থান’র ক্ষমতার স্বাদ গ্রহনের জন্যে তাদের কর্মকান্ড জোরদার করে। তাদের এই দৃশ্যমান কর্মকান্ডের অংশ হিসাবে রাজাকার বাহিনীর পাশাপাশি ‘আল-বদর’ বাহিনী গঠন করে এবং প্রচারনার মাধ্যমে তার কার্যক্রম শুরু করে। এরই বাইরেও এরা বিশেষ কর্মসূচী হিসাবে সমগ্র ‘পূর্ব পাকিস্থান’এ “আজাদী দিবস” পালন করে। এই উপলক্ষ্যে কার্জণ হলে আয়োজিত এক সিম্পোজিয়ামে গোলাম আজম বলে -
“এবার প্রান চাঞ্চল্যের সংগে আজাদী দিবস উদযাপিত হয়েছে। কারন যারা পাকিস্থানকে সত্যিকার ভাবে ভালবাসেন, তারা এবার আন্তরিকতা ও জাঁকজমকের সংগে আজাদী দিবস পালন করেছেন।। শত্রু ও মিত্রের মানদন্ডে পাকিস্থান যেন নতুন করে জন্ম নিয়েছে”।
জিন্নাহর উদ্ধৃতি দিয়ে গোলাম আযম বলে -“পাকিস্থান টিকে থাকার জন্যে এসেছে। তবে পাকিস্থান টিকে থাকতে হলে এর আদর্শিকে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হবে”। (দৈনিক পাকিস্থান, ১৬ই আগস্ট ১৯৭১)
ওদিকে জাতিসংঘের আসন্ন সাধারন অধিবেশনের আগে ‘পূর্ব পাকিস্থান’এর পরিবেশ স্বাভাবিক দেখানোর প্রচেষ্টা হিসাবে পাকিস্থানী সামরিক জান্তা একটা বেসামরিক (দালাল) পুতুল সরকার প্রতিষ্টা করে।
ডা: আব্দুল মালেককে ‘পূর্ব পাকিস্থান’ এর বেসামরিক গভর্ণর হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তার অধীনে একটা মন্ত্রীসভা শপথ নেয় ১৭ ই সেপ্টেম্বর ১৯৭১।
সেই দালাল মন্ত্রীসভায় জামাত থেকে দুইজন মন্ত্রী নিয়োগ পায়। এরা হলো:
১) আব্বাস আলী খান - শিক্ষা মন্ত্রী
২) মওলানা এ কে এম ইউসুফ - রাজস্বমন্ত্রী
এই অগনতান্ত্রিক মন্ত্রীপরিষদ নিয়োগের পক্ষে যুক্তি দিয়ে গোলাম আযম হোটেল এম্পায়ারে জামাতের দুই মন্ত্রীর সম্বর্ধনা সভায় বলে -
“বর্তমানে প্রদেশের জনসংখ্যার ২০ ভাগ লোক সক্রিয় রয়েছে তারা দুই ভাগে বিভক্ত। একদল পাকিস্থানকে ধ্বংশ করতে চায়, আর একদল পাকিস্থানকে রক্ষার জন্যে প্রান দিতে প্রস্তুত। জামাতে ইসলামী শেষোক্ত দলভুক্ত”। (২৫ শে সেপ্টেম্বর ১৯৭১)
পাকিস্থান রক্ষার ‘জেহাদে’ জামাতের কয়েক হাজার কর্মীর শাহাদাত বরনের কথা উল্লেখ করে গোলাম আযম বলে - “যে উদ্দেশ্য নিয়ে জামাত রাজাকার বাহিনীতে লোক পাঠিয়েছে, শান্তি কমিটিতে যোগ দিয়েছে, সে উদ্দেশ্যই মন্ত্রী সভায় লোক পাঠিয়েছে”। (দৈনিক পাকিস্থান, ২৬ শে সেপ্টেম্বর ১৯৭১)
চলবে....
ফিরে দেখা ৭১: মুক্তিযুদ্ধকালীন জামাতের রাজনৈতিক ভুমিকা (২): পূর্ব পাকিস্থানের দালালী মন্ত্রীসভায় জামাতের মন্ত্রী।
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
==========================
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি ও বাঙালির মুক্তির অগ্রদূত। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শেখ লুৎফর রহমান ও... ...বাকিটুকু পড়ুন
এপস্টেইনের এলিট: ইসরায়েলের মিডিয়া নিয়ন্ত্রন এবং প্রপাগাণ্ডা

ইতিহাসবিদ ইলান পাপে বলেছেন, "ইসরায়েল অবৈধ বসতি স্থাপনকারী, ঔপনিবেশিক শক্তির একটি প্রজেক্ট। এটি ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় গড়ে ওঠা স্বাভাবিক রাষ্ট্র নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তির দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যবস্থা"। এ... ...বাকিটুকু পড়ুন
কবিতাঃ পিতা তোমার জন্মদিনে জানাই শুভেচ্ছা

কার ডাকেতে টগবগিয়ে ফুটলো বাংলাদেশ
কার ডাকেতে বিজয় ছিনিয়ে মুক্ত হলো স্বদেশ?
কার ডাকেতে সমবেত হয়েছিলো দীপ্ত তরুণেরা,
কার ডাকেতে দ্বিধা ভূলে একত্রিত তারা?
কার ডাকেতে অসাম্প্রদায়িক হলো আমার প্রিয় দেশ
কার ডাকেতে স্বপ্ন... ...বাকিটুকু পড়ুন
রাস্তার ডাক ও স্মৃতির চাকা: দু-চাকার ঈদযাত্রা যখন আবেগের নাম
প্রতি বছর ঈদের ছুটি কাছে এলেই শহরের চেনা রাজপথগুলো এক অন্যরকম রূপ নেয়। চারদিকে এক অস্থির অথচ আনন্দময় ব্যস্ততা। আজ সকালে অফিসের উদ্দেশ্যে বের হয়েই চোখে পড়ল সেই চিরচেনা দৃশ্য—সারি... ...বাকিটুকু পড়ুন
তিনি বাংলাদেশী জাতির জনক

বঙ্গবন্ধৃ শেখ মজিবুর রহমানকে জাতির পিতা মানে বাংলাদেশী নাগরিকগণের একাংশ। ১৯৭১ সালের পূর্বে বাংলাদেশী নামে কোন জাতি ছিল না। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের নাগরিকগণের একাংশ পশ্চিম... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।