গতবছর মার্চের ৩০ তারিখে ঢাকায় পুলিশ হিজবুত তাহিরীর ২২ জন সদস্যকে গ্রেফতার করে। তাদের কাছে আফগান যুদ্ধের সিডিসহ অনেক পোস্টার পাওয়া যায়। সেই পোস্টারগুলো মুলত ভারত আর আমেরিকাকে বিশ্ব অস্তিরতার জন্যে দায়ী করা হয়েছে। কিন্তু গ্রেফতারকৃতরা বলে যে তারা ঈদে মিলাদুন্নবী পালনের প্রস্তুতি সভা করছিলো। কিন্তু সেখানে রাজনৈতিক পোস্টার আর জেহাদের ভিডিও দেখার কারন সম্পর্কে জানা যায়নি।
বিষয়টা সেখানেই চাপা পড়ে যায়। ছবিতে দেখা গিয়েছিলো - একদল উঠতি বয়সের মোটামুটি সম্পন্ন পরিবারের জিন্স পড়া ছেলেরা সেই দলের প্রতি আসক্ত।
পরবর্তীতে প্রথম আলোর এক কার্টুনকে কেন্দ্র করে জরুরী আইনের বিধান ভংগ করে পুরো রমজান মাস মাঠ গরম করে রেখেছিলো এই হিজবুত তাহিরীর কর্মীরা। এদের সংগঠন মুলত বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক। একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এই সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
হিজবুত তাহিরী আসলে কি?
হিজবুত তাহিরি অর্থ হলো পার্টি অব লিবারেশন - যারা সমগ্র বিশ্বে ইসলামি শাসন চালু করাকে লিবারেশন হিসাবে চিহ্নিত করেছে।
সংক্ষেপে হিজবুত তাহিরীর ইতিহাস হলোঃ
তারিকুদ্দীন আল নাবহানি নামক একজন জেরুজালেম কোর্টের বিচারক এই সংগঠন তৈরী করে ১৯৫৩ সালে। এইপর্যণ্ত ৪০টি দেশে আনুমানিক ১০ লক্ষ সদস্য আছে এই সংগঠনের। জার্মানী, পাকিস্থানসহ অনেক আর দেশ এই সংগঠনকে নিষিদ্ধ করেছে। ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে ইংল্যান্ডে এর কার্যক্রম সবচেয়ে ব্যাপক।
এই সংগঠনটি মনে করেঃ
১) গনতান্ত্রিক ব্যবস্থা অনৈসলামিক
২) ব্যক্তিস্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না।
৩) মিশ্র অর্থ নীতিতে বিশ্বাস করে।
৪) পশ্চিমা সংস্কৃতির ঘোর বিরোধী
সাম্প্রতিক হিজবুত তাহিরীর এক কর্মী দল থেকে বেড়িয়ে এসে বিবিসি আর সিবিসির সাথে কথা বলেছে। যার মুক্ত বক্তব্যে হিজবুত তারহিরী সম্পর্কে নতুন বিতর্কের সৃস্টি করেছে।
বিবিসির প্যারোমায় এক দীর্ঘ সাক্ষাতারে হিজবুত তাহিরির সাবেক সদস্য সিরাজ মেহার তার সেই দলে যোগদান, তার কার্যক্রম আর দল ত্যাগের বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।
সিবিসির কারেন্ট (Current) নামের একটা রেডিও প্রোগ্রামের সাথে কথা বলার সময় সে হিজবুত তাহিরির কে আল-কায়দার রাজনৈতিক উইং হিসাবে চিহ্নিত করেন। মেহারের মতে - আল-কায়দার সাথে যদিও পদ্ধতিগত বিষয়ে কোন মিল নেই। কিন্তু উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের দিক দিয়ে দুইটি সংগঠন সবচেয়ে কাছের।
বাংলাদেশের হিজবুত তাহিরির কার্যক্রম দেখে মনে হচ্ছে এরা দ্রুতই একটা মৌলবাদী সংগঠন হিসাবে সকল বিশ্ববিদ্যালয় আর কলেজে প্রবেশ করবে।
এই ধরনের মৌলবাদী সংগঠনের কার্যকলাপ চালাতে দেওয়ার মতো নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাংলাদেশের নেই। নিয়মিত পর্যবেক্ষনের অধীনে না থাকলে এরাও একসময় হরকাতুল জেহাদ বা জেএমবির মতো জঙ্গীবাদের দিকে ঝুকে যাবে। তখন সরকারের সময়ের বিরাট একটা অংশ ব্যয় করতে হবে এদের দমন করার কাজে।
তাই "প্রিভেনসান ইজ বেটার দ্যান কিউর" কথাটা মনে রাখা জরুরী।
১) বিবিসি প্যানারোমার লিংক
২)
প্যানারোমার ট্রান্সক্রিপ্ট

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

