আমার প্রিয় পোস্ট

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা দেখান - যুদ্ধাপরাধীদের ভোট দানে বিরত থাকুন।

মুক্তিযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা -

২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১:০৩

শেয়ার করুন:                   Facebook

এখন প্রশ্ন আসে ত্রিশ লক্ষ কি আসলে শহীদ হয়েছিলেন? এই প্রশ্ন অনেকেই উত্থাপন করে বেশ আনন্দ পান আবার কেহ স্বার্থ সিদ্ধির জন্যও এই প্রশ্নটি করেন। প্রশ্নের উত্তর হলো একটাই - হ্যাঁ, অবশ্য সংখ্যাটা বেশীও হতে পারে। যারা নদীর ধারে বাস করতেন - যারা পিতার লাশ সনাক্ত করার জন্যে নদীর স্রোতে ভেসে যাওয়া অগনিত লাশের মিছিল দেখেছে - তাদের কাছে ৩০ লক্ষ সংখ্যাটা অনেক কম মনে হতে পারে।

আরো একটা প্রশ্ন আসে - কেন আমাদের জানতে হবে একটা নিদিষ্ট সংখ্যা। কেন কিছু মানুষ প্রকৃত সংখ্যা জানার জন্য অধীর। যদি আমরা বিস্তর শুমারী বা পরিসংখ্যানের পর জানতে পারি যে - প্রকৃত শহীদের সংখ্যা ৩০ লক্ষের থেকে ১ লক্ষ কম বা এক লক্ষ বেশী তাতে কি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস ভিন্ন ভাবে লিখা হবে? শহীদের সংখ্যা কমলে কি দালাল-রাজাকারদের অপকর্মের দায় কমে যাবে, নাকি বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামের গুরুত্ব কমে যাবে? আসলে শুরুতে যা বলেছিলাম - যে দুই দল এই বিতর্কটা সৃষ্টির চেষ্টা করে তাদের মধ্যে অগ্রগামী হলো - ১৯৭১ সালের পরাজিত দালাল শ্রেনী এবং তাদের অনুসারীরা । তারা একটা পরিকল্পনার অংশ হিসাবেই এটা করে। এরা ইদানিং এতোটা সাহসী হয়ে প্রকাশ্য বলার সাহস পায় এই বলে যে, আমাদের পুরোনো কথা ভুলে যেতে হবে। কেন ভুলে যেতে হবে - একদল লুটেরা দালালকে খুশী করার জন্য? প্রকৃত অবস্থা হলো এরা বিভিন্ন ভাবে বিতর্ক তুলে মানুষকে প্রকৃত ঘটনার থেকে আড়ালে নিযে যেতে চায়। বাংলাদেশের মানুষ যত বেশী স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদের সংখ্যা, দালালদের ক্ষমা করে দেওয়ার বিষয়ে বিতর্ক করে বিভক্তিতে পড়বে - দালাল-রাজাকারদের তত সুবিধা হবে - ততই তারা নিরাপদ অবস্থানে থেকে তাদের অবস্থান সুদৃঢ় করার সুযোগ পাবে।

যেখানে স্বাধীনতার ৩৫ বছর পর কিছু মহল বিভিন্ন বিতর্ক সৃষ্টির মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে আত্নত্যাগকারীদের অবদানতে হেয় করার প্রয়াস সেখানে পাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির জন্যে কিছু অবশ্য করনীয় আছে। যেমন -

১) যারা বিতর্ক সৃষ্টি করে তাদের চিহ্নিত করা। যদি তারা রাজাকারদের মতাদর্শের হয় - ওদের চিহ্নিত সুষ্পষ্ঠ ভাবে করা এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে ওদের সাথে যুদ্ধ শুরু করা। ওদের সাথে কুটতর্কে না জড়িয়ে ওদের পরিচয় মানুষের কাছে পরিষ্কার ভাবে উপস্থাপন করা এবং এদের সামাজিক ভাবে কোনঠাসা করা। আর যদি বিতর্ক সৃষ্টিকারী কোন নতুন প্রজন্মের কোন একজন হয় - তবে ওদের কথা মনযোগ সহকারে শুনতে হবে। চিহ্নিত করতে হবে ওদের বিভ্রান্তির কারন। যুক্তি এবং প্রমানসহ আন্তরিকভাবে ওদের সাথে বিতর্ক এবং আলোচনা করে তাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা বুঝতে সাহায্য করা।

২) মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস নিয়ে সবসময় সতর্ক থাকতে হবে এবং এর বিকৃতির বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার হতে হবে।

৩) আমাদের মনে রাখতে হবে আত্নত্যাগকারী মুক্তিযোদ্ধারা তাদের জীবন দিয়ে যুদ্ধে বিজয়ী হয়ে আমাদের জন্যে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। সেই মহামূল্যবান সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব আমরাদের সবার। তাই মুক্তিযুদ্ধ আর বাংলাদেশ নিয়ে যতরকমের বিভ্রান্তিকর প্রচারনা তার বিরুদ্ধে আমাদের সোজা হয়ে দাঁড়ানো কর্তব্য।

আসুন, স্বাধীনতা দিবসে আমাদের শপথ হোক, মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের মর্যাদা রক্ষায় সকল বিভ্রান্তিকর প্রচারনার বিরুদ্ধে আমাদের সকল মেধা আর শক্তি দিয়ে সংগ্রামই হবে আমাদের প্রধান কাজ।


 

 

  • ১০ টি মন্তব্য
  • ২৭৮ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ১৫ জনের ভাল লেগেছে, ৩ জনের ভাল লাগেনি
১. ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১:০৮
comment by: আতরাফ রহমান বলেছেন: কয়েকদিন ুটকি রেস্টে থাকলে উনাদের চুলকানি শুরু হয়। এইজন্য বারবার একই পোস্ট দেয় রাজাকারের বাচ্চা গুলা। এইটা শুরু করছিলো লুতু রাজাকারের ভাস্তি আর সাদেক সুফি আলম। এখনও চলছে।
২. ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১:১০
comment by: মুকুল বলেছেন: সর্ষের মধ্যে ভূত থাকলে হাজার যুক্তি দিলেও বুঝানো যাবে না। শালার এই ব্লগে আর থাকতে ইচ্ছা করে না!!!
৩. ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১:১০
comment by: সামী মিয়াদাদ বলেছেন: ফাউলামি করুকনা, ফাউলেরা ফাউলামিই তো করবো...হেগো কাছ থাইক্যা ভালা কিছু আশার করেন কি করে আপনারা?
৪. ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১:১১
comment by: রাগিব বলেছেন: ব্লগের তথাকথিত নতুন নীতিমালা


৩.নিম্নলিখিত কারণে আমরা পোস্ট কিংবা ছবি মুছে দিতে পারি:

ঞ. বাংলাদেশ অথবা যে কোন স্বীকৃত জাতি বা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ইতিহাস, ধর্ম বিষয়ক সত্যকে অস্বীকার করে, বিরুদ্ধাচারণ করে, অসম্মান করে অথবা সত্যের অপলাপ বা অর্থহীন পোস্ট মুছে ফেলা হতে পারে এবং ব্লগারের ব্লগিং সুবিধা সাময়িক অথবা স্থায়ীভাবে স্থগিত কিংবা বাতিল করা হতে পারে ।


ব্লগারদের সুবিধার্থে নীতিমালার এই সংযোজন একই সাথে ইংরেজিতেও দেয়া হলো...

under point 3, for deletion of post or picture:

3j. "posts which are denying, opposing, ridiculing or twisting facts about the freedom and sovereignty, history or religion of bangladesh or any other recognized nation may be deleted and the privileges of the blogger withdrawn temporarily or permanently."
৫. ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১:১৩
comment by: রাতুল" বলেছেন: পেলাচ !!
একমত !!
৬. ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১:২৭
comment by: প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব বলেছেন: এস্কিমোর পুরোনো একটা লেখায় এই ব্যপারে বিস্তারিত বলা আছে...
Click This Link
৭. ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:১৯
comment by: অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: ত্যক্ত হয়ে গেছি বলতে বলতে
৮. ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৮:১৪
comment by: রাশেদ বলেছেন: আবার এই বিষয়!
৯. ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:০৮
comment by: নাভদ বলেছেন: +
১০. ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১১:৫১
comment by: স্বাক্ষর শতাব্দ বলেছেন: +

 



 


এস্কিমো এখনও প্রথম আলো ব্লগে যায় নাই।

[এস্কিমো ব্লগের সতর্কীকরন: রাজাকার, আল বদর, আল শামস্, শান্তি কমিটি, ও '৭১ এর...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ২০৩৮৮৭