somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইতিহাসের আলোকে দেখা একটি জাতির বিজয় (পর্ব - ৩) -স্বপ্নভঙ্গের প্রেক্ষিতে বাঙালির রাজনৈতিক স্বকীয়তা অর্জনের চিন্তাধারা, আওয়ামী মুসলিম লীগের জন্ম এবং তার একাধিক ধারা (আওয়ামী লীগ ও ন্যাপের জন্ম)

০৭ ই মার্চ, ২০০৮ সকাল ১০:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে যখন পাকিস্তানের জন্ম হয় তখন মুসলিম লীগ নামের একটা দল পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সমর্থন পায়। কিন্তু উপরের বর্নিত কারনসহ পূর্ব পশ্চিমের অর্থনৈতিক বৈষম্য আর জাতি হিসাবে বাঙালিদের উপর বঞ্চনার বিষয়টা দ্রুত উপলদ্ধি করতে সমর্থ হয় প্রগতিশীল যুবসমাজ। এরা দ্রুতই দ্বিজাতি তত্ত্বের অসারতা ধরে ফেলতে সমর্থ হয়। তাদের উদ্যেগেই মুসলিমলীগের জমিদার আর ভু-স্বামীদের নেতৃত্বকে অস্বীকার করে মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে গঠিত হয় আওয়ামী মুসলিম লীগ। কিন্তু বাঙালী জাতির দীর্ঘ ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের বহিপ্রকাশ ঘটে তরুন নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সংগঠিত হয় আওয়ামীলীগ। অন্যদিকে মাওলানা ভাসানীর দলও তাদের নামের থেকে মুসলিম শব্দটা বাদ দিয়ে ন্যাশানাল আওয়ামী লীগ (ন্যাপ) হিসাবে রূপান্তরিত করেন। প্রকৃত পক্ষে আওয়ামী লীগের জন্মের মাধ্যমেই দ্বিজাতি তত্ত্বের কবর রচিত হয়। জন্মের পর থেকেই তরুন নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামীলীগের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়তে থাকে। এদের প্রনীত ১১ দফা পর ৬ দফা জনমনের কাছে দারুন ভাবে গ্রহনযোগ্যতা পায়। এর ফলশ্রুতিতে পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইউব খানের ১০ বছরের শাসনামলের প্রায় সবটুকু সময়ই শেখ মুজিব এবং আওয়ামীলীগের নেতাদের জেলেই থাকতে হয়। কিন্তু ছাত্র জনতার প্রবল প্রতিরোধের মুখে একসময় আইউব খানের বিদায় নিতে হয়েছে। আর বাঙালিদের স্বাধিকারের দিকে একধাপ অগ্রগতি হয়।

৬ দফা ও ১১ দফার আন্দোলনের সূত্রপাত, ৭০ এর নির্বাচনের প্রেক্ষিতঃ -

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে আইউব খানের বিদায়ের আগে শেখ মুজিবুর রহমানসহ আরো অনেক নেতার রিরুদ্ধে একটা ষড়যন্ত্রমূলক মামলা করে - যা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নামে পরিচিত - এবং তা তার পতনকে ত্বরান্বিত করে। এই সময়ের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানে জনতা একের পর এক অন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধিকার আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যায়। সেই আন্দোলনগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল -

• আইউব খানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন
• ১৯৬২ সালের শরিফ শিক্ষা কমিশন বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলন - যেখানে বাংলা লেখার ক্ষেত্রে বাংলা বর্ণমালার পরিবর্তে রোমান হরফ ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছিল
• ১৯৬৬ সালের হামদুর রহমান শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট বিরোধী আন্দোলন

এই সকল প্রতিরোধ আন্দোলনের ফসল হিসাবে বাঙালির স্বাধিকারে প্রশ্নটি আরো সামনে চলে আসে। তাকে পাকাপাকি রাজনৈতিক রূপ দেন শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে লাহোরে বিরোধী দলগুলোর সন্মেলনে ৬ দফা প্রস্তাব উত্থাপনের মাধ্যমে। ৬ দফা ছিলো মুলত বাঙালির স্বাধিকার ও পাকিস্থানের দুই অংশের মধ্যকার সমস্যাবলী সমাধানের আইনানুগ ও সাংবিধানিক পথনির্দেশ। সকল বিরোধী দল এই প্রস্তাব সমর্থন করলে স্বৈরাচারী আইউব খান ক্ষুদ্ধ ও বিচলিত হয়ে পড়েন। গ্রেফতার হন শেখ মুজিব সহ আরো অনেক নেতা। তাদের বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে বিশেষ ট্রাইবুন্যালে বিচার শুরু করা হয়। কিন্তু জনতার প্রবল আন্দোলনের শত শত মানুষের জীবন বিসর্জন - বন্দী আর আহত হওয়ায় প্রবল চাপে শেখ মুজিবুর রহমান ও সঙ্গীদের মুক্তি দেওয়া হয়। এতেও আন্দোলনের তীব্রতা না কমলে ১৯৬৯ এর ২৫ শে মার্চ আরেক জেনারেল ইয়াহিয়া খানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে বিদায় নেন। এদিকে শেখ মুজিবুর রহমান কারামুক্তির পর ১৯৬৯ এর ২৬ থেকে ২৮ শে ফেব্রুয়ারীর রাওয়ালপিন্ডির গোল টেবিল বৈঠকে যোগ দিয়ে সরাসরি দুইটি ভিন্ন দেশের প্রস্তাব উত্থাপনের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের ধারনার গোরাপত্তন করেন। এদিকে ইয়াহিয়া খান পাকিস্থান পিপলস পার্টির প্রধান জুলফিকার আলি ভুট্টো আর অন্যান্য ইসলামপন্থী দলগুলোর গোপন সমযোতা আর সামরিক গোয়েন্দা রিপোর্টে পাকিস্থানপন্থীদের বিজয়ের নিশ্চিত আভাসের প্রেক্ষিতে ১৯৭০ সাধারন নির্বাচন ঘোষনা করে। কয়েকবার নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করে অবশেষে ডিসেম্বর মাসে সেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।


-----------

পরের পর্ব: নির্বাচন পরবর্তী ঘটনা পঞ্জি । ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা । ৭ মার্চের ভাষন ,আলোচনার নামে কালক্ষেপনঃ-
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০০৮ রাত ১২:১৫
১২টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ ভোর ৪:২১

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
==========================
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি ও বাঙালির মুক্তির অগ্রদূত। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শেখ লুৎফর রহমান ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

এপস্টেইনের এলিট: ইসরায়েলের মিডিয়া নিয়ন্ত্রন এবং প্রপাগাণ্ডা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ ভোর ৬:৩৮


ইতিহাসবিদ ইলান পাপে বলেছেন, "ইসরায়েল অবৈধ বসতি স্থাপনকারী, ঔপনিবেশিক শক্তির একটি প্রজেক্ট। এটি ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় গড়ে ওঠা স্বাভাবিক রাষ্ট্র নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তির দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যবস্থা"। এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পিতা তোমার জন্মদিনে জানাই শুভেচ্ছা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:৩৬


কার ডাকেতে টগবগিয়ে ফুটলো বাংলাদেশ
কার ডাকেতে বিজয় ছিনিয়ে  মুক্ত হলো স্বদেশ?

কার ডাকেতে সমবেত হয়েছিলো দীপ্ত তরুণেরা,
কার ডাকেতে দ্বিধা ভূলে একত্রিত  তারা?

কার ডাকেতে অসাম্প্রদায়িক হলো আমার প্রিয় দেশ
কার ডাকেতে স্বপ্ন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাস্তার ডাক ও স্মৃতির চাকা: দু-চাকার ঈদযাত্রা যখন আবেগের নাম

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:৪২

প্রতি বছর ঈদের ছুটি কাছে এলেই শহরের চেনা রাজপথগুলো এক অন্যরকম রূপ নেয়। চারদিকে এক অস্থির অথচ আনন্দময় ব্যস্ততা। আজ সকালে অফিসের উদ্দেশ্যে বের হয়েই চোখে পড়ল সেই চিরচেনা দৃশ্য—সারি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তিনি বাংলাদেশী জাতির জনক

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



বঙ্গবন্ধৃ শেখ মজিবুর রহমানকে জাতির পিতা মানে বাংলাদেশী নাগরিকগণের একাংশ। ১৯৭১ সালের পূর্বে বাংলাদেশী নামে কোন জাতি ছিল না। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের নাগরিকগণের একাংশ পশ্চিম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×