somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এখনও কি রয়ে গেছি অন্ধকারেই - নাকি রঙ বদলিয়েছি শুধু?

২৫ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১০:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মনটা ভীষন খারাপ হয়ে গেল। একটা ডুকমেন্টারী দেখেতে গিয়ে মনটা এতো খারাপ হয়ে যাবে ভাবতেও পারিনি। বলে কি লোকজন - বিশ্বে এখনও দাসপ্রথা চালু আছে। বর্তমানে বিশ্বে দাসের সংখ্যা সর্বকালের সর্বোচ্চ সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে।

একসময় দাসপ্রথাই ছিলো উতপাদনের উপায়। দাসপ্রথাকে অর্থনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে বিবেচনা করতে হতো। তারপর সমাজ পরিবর্তন হয়ে গেছে। অর্থনীতি কৃষির উপরনির্ভশীরতা কমিয়ে শিল্পের উপর নির্ভরশীল হয়েছে।

আইন করে দাস প্রথা বন্ধ করা হয়েছে। মজার বিষয় হলো ভারতবর্ষ আমেরিকার আগেই দাস বিরোধী আইন পাশ করেছিলো।

কিন্তু, দাস প্রথা কি উঠে গেছে?

মোটেও না। আমেরিকা ভিত্তিক দাসপ্রথা বিরোধী একটা সংগঠন ভারতে গিয়ে একটা পুরো গ্রাম দেখতে পায় যারা তিন পুরুষ যাবত দাসত্বের বন্ধনে আবদ্ধ। তাদের পূর্বপুরুষরা মাথাপিছু ৬৭ সেন্টের বিনিময়ে দাসত্ব গ্রহন করেছিলো। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে অবশেষে সেই গ্রামকে দাসত্বমুক্ত করে সংগঠনটি।

একটা পরিসংখ্যান দেখা যায় - সমগ্র বিশ্বে দাসের সংখ্যা ২৭ মিলিয়ন। কারো কারো মতে এই সংখ্যা ২০০ মিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে। যাদের সিংহভাগ এশিয়াতে বসবাস করে।

এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা যায় - শিশু আর নারী দাসদের - যাদের যৌনব্যবসার জন্যে এক মহাদেশ থেকে আরেক মহাদেশে পাচার করা হয়।

ডকুমেন্টারীতে একটা দৃশ্য ছিল - আমেরিকান এক সংবাদকর্মী কিভাবে হাইতি থেকে ৫০ ডলারের বিনিময়ে একটা অল্প বয়সের মেয়েকে কেনার জন্যে দাম দর করছে। কঠিন একটা দৃশ্য। সেখানে শুরুতে দালাল জানতে চাইলো - মেয়েটাকে দিয়ে কি কি কাজ করাতে চায়। যদি যৌনদাসী হিসাবে ব্যবহার করতে চায়, তবে মূল্য একটু বেশী পড়বে। হায়, মানবিকতা!

সিডরের পর কিছু খবরে দেখা গেছে বাংলাদেশে দাস প্রথা এখনও সক্রিয়ভাবে চালু আছে। গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার জন্যে শ্রমিকদের দাস হিসাবে নিজেকে মালিকের হাতে তুলে দিতে হয়। জানি না বাংলাদেশের কোন সংগঠন, সরকার বা সচেতন মানুষ সুন্দরবন এলাকায় সক্রিয় দাস ব্যবসার বিষয়ে কোন কার্যকরী চিন্তাভাবনা করছে কিনা।

বাংলাদেশ থেকে নারী শ্রমিকের নামে পাচার হওয়া মহিলা ও শিশুরাও দাস হিসাবেই বিক্রি হয়। সবচেয়ে নোংরা আর অমানবিক দাস ব্যবসার কথা জানা যায় - যার মাধ্যমে বাংলাদেশসহ তৃতীয় বিশ্বের শিশুদের উটের জকি হিসাবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বিক্রি করা হয় - যাদের একটা বড় অংশই আর জীবিত ফিরে আসে না।

দাস প্রথা নিয়ে বর্তমানে বিশ্বের রাজনীতিবিদদের মধ্যেও চলছে নোংর খেলা। এরা "হিউম্যান ট্রাফিকিং" বা "সেক্স ট্রেড" ইত্যাদি নামে এই বিষয়টাকে অবিহিত করলেও - দাস ব্যবসা হিসাবে স্বীকৃতি দিতে নারাজ।

নামকরনের আড়ালে আদিম এই পাশবিক প্রথাকে বিশ্ব থেকে পরিপূর্ন ভাবে উচ্ছেদ করা জরুরী। না হলে পশুর মতো একজন মানুষকে যখন কেনাবেচার হাটে উঠানো হয় - একজন মানুষ হিসাবে আমরা খুবই ছোট হয়ে যাই।

(ছবি সূত্র: উইকিপিডিয়া)
১৬টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাসূলের (সা.) অনুসারি হবেন শুধুমাত্র সাহাবা (রা.), অন্যরা এবং ওলামা ওলামার অনুসারি হবেন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৪০




সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ২৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮। এভাবে রং বেরং- এর মানুষ, জন্তু ও আন’আম রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে (ওলামা) আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।নিশ্চয়্ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল।

সূরা:... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×