somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যুদ্ধাপরাধী নির্বাচনে নিষিদ্ধকরন ও বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদীদের সমমনার ঐক্যের আহ্বান!

১২ ই মে, ২০০৮ রাত ২:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যুদ্ধাপরাদীদের নির্বাচনে নিষিদ্ধ করতে নির্বাচন কমিশন বিধি প্রনয়ন করছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ড. এ টি এম শামসুল হুদা মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডারদের দাবির সঙ্গে একমত প্রকাশ করে বলেছেন, দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার বিধান নির্বাচনী আইনের খসড়ায় রাখা হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে কমিশনও রয়েছে। এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করবে তারা।

এ টি এম শামসুল হুদা ফোরাম নেতাদের বলেন, "যুদ্ধাপরাধীদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা এবং তাদের বিচারের দাবি অনেক রাজনৈতিক দলও করেছে। আমরাও মনে করি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হওয়া দরকার। সরকারের কাছে এ বিষয়ে আমরা সুপারিশ রাখব।"

দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার বিধান নির্বাচনী আইনের খসড়ায় (গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ, ২০০৮) রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, "আদালত দণ্ড দিলেই তাদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা হবে। গঠনতন্ত্র সংবিধানের চেতনার পরিপন্থী হলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধনও দেওয়া হবে না।"

বৈঠকে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঁচ দফা বাস্তবায়নের দাবি জানায়। দাবিগুলো হচ্ছেঃ

১) মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী ও যুদ্ধাপরাধী ব্যক্তি, সংগঠন ও দলকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা,
২) নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের মুক্তিযুদ্ধকালীন অবস্থান ঘোষণা ও পলাতকদের মামলার বিবরণ প্রকাশের বাধ্যবাধকতা তৈরি,
৩) দালাল আইনে দণ্ডিত ও বিচারাধীনদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা,
৪) স্বাধীনতাবিরোধী দল নিবন্ধন না করা।
৫) কোনো দলের গঠনতন্ত্র সংবিধানের মূল চেতনা পরিপন্থী হলে তাদের নিবন্ধন না করা।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম যুদ্ধাপরাধীদের বিষয়ে কোন একটা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। খুবই আশার কথা। যদি সঠিকভাবে আইন কার্যকর হয় তবে ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত দন্ডিত ও অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা যাবে। এরা আর ধর্মের আড়ালে রাজনীতির নামে মানুষকে ধোকা দিতে পারবেন না।

যদিও সার্বিক ভাবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও বাংলাদেশের নীতিনির্ধারন ও রাজনীতি থেকে এদের আলাদা করার ক্ষেত্রে এইটা একটা ক্ষুদ্র পদক্ষেপ - তবে ভবিষ্যতের জন্যে রাস্তা খুলে দেবে বলে আশাবাদী।

(২)

দেশী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে আর দেশে-বিদেশে আত্নগোপন করে থাকা দালালদের পূর্নবাসন ও রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হবার যুগোক করে দিয়ে নিজের রাজনীতি শুরু করেছিলেন সামরিক শাসক মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি মুসলীম লীগের মুলত রূপান্তর ঘঠিয়েছিলেন বিএনপির মাধ্যমে। যেখানে মুসলিমলীগের সকল বড় বড় নেতা বিএনপির সামনে আসন পেয়েছিলো। জিয়াউর রহমানের অন্তর্ধানের পরও বিএনপি সেই পথ থেকে সরে যায়নি। নিজের দলের ভেতরে যুদ্ধাপরাধীদের স্থান দেওয়া ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশ বিরোধী সবচেয়ে বড় সংগঠিত শক্তি জামায়াততে ইসলামকে ক্ষমতায় নিয়ে গিয়ে সরকারী প্রশাসনের ভিতরেও তাদের প্রভাব প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ করে দিয়েছে।

এখন বিএনপি নিজেই সংকট কাল অতিক্রম করছে। এই সংকটকালেও ওদের যুদ্ধাপরাধীদের বিষয়ে মনোভাব পরিবর্তন হয়নি। জামাতকে যেন কোন বিপাকে না পড়তে হয় সেই দিকে লক্ষ্য রেখে সংস্কারবাদী মহাসচিব মুক্তিযুদ্ধ হাফিজ বিবৃতি দেন। অন্যদিকে দেলওয়ার সাহেবও মিত্র হিসাবে জামাতের সাথে বন্ধুত্ব বজায় রাখতে সচেষ্ট।

মজার খবর পড়লাম আজকে - বিএনপির বিপ্লবী নেতা বিগ্রেডিয়ার (অবঃ) হান্নান শাহ গিয়েছিলেন হিজবুত তাহরীরের আলোচনা সভায়। সেখানে গিয়ে উনি সমমনাদের ঐক্যের ডাক দিয়ে এসেছেন।

রোববার হিযবুত তাহরীর আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আসম হান্নান শাহবলেন, "সঙ্কট উত্তরণে সমমনাদের সঙ্গে আমরা ঐক্য চাই। ঐক্য হলে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের রায় নিয়ে আমরা ক্ষমতায় যেতে পারব।"

ক্ষমতায় যেতে হিজবুত তাহরিরকে এখন শুধু বিএনপির সাথে ঐক্য করতে হবে! হিজবুত তাহরীরের মতো মৌলবাদী উগ্র সংগঠনেরও নিরাপদ আশ্রয়ের নিশ্চয়তা পাওয়া গেল ক্ষমতালোভী রাজনীতিকদের কাছ থেকে। দারুন এই ক্ষমতার খেলা - জামাত আর হিজবুত তাহরির - যেই হোক - ঐক্যচাই - ক্ষমতায় যেতে হবে!

বিএনপি আর হিজবুত তাহরির তা হলে সমমনা দল হিসাবে বিবেচনা করবে তাদের সমর্থক গোস্ঠী?

২৬টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৪




একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×