একটা দেশের মানুষ প্রায় ৫০০০ কোটি টাকা ঘুষ দেয় আর যারা ঘুষ নেয় এরা সবাই প্যান্ট শার্ট উদ্দি আর টাই পড়ে ভদ্রলোকের চেহারা ওয়ালা মানুষ। এদের অনেকে তাদের জী্বন যাত্রার মান এতো উঁচুতে উঠেছে যে - দূর্নীতি ছাড়া মুক্তি নেই। একজন দারগার ছেলে যখন কানাডার কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্ডার গ্রেডে নিজ খরচে পড়তে আসে - অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকি - এর বাবা কত কামায়। পৃথিবীর কোন সরকার সেই ছেলের বাবাকে দূর্নীতি থেকে বিরত রাখতে পারবে না।
সারা জীবনের বেতনের টাকা এক সাথে করলেও বাড়ীর দামের সমান হবে না - এমন বাড়ীর মালিকের সংখ্যা কত হবে? সমাজ জীবনে - বিশেষ করে মধ্যবিত্তের মাঝে দূর্নীতির শিকড় এতো গভীরে চলে গেছে - তাতে দুই/চার বছরে কোন হেরফের হবে না।
গত দুইদিন যাবত ইন্টারনেট সার্ফ করে বাংলাদেশের প্রকৌশল খাতে সবচেয়ে বড় ব্যয়কারী সংস্থা এলজিইডির কিছু কর্মকান্ড দেখছিলাম। যেখানে ব্রীজ দরকার সেখানে ব্রীজ নেই আর সেখানে দরকার নেই সেখানে ব্রীজের মনুমেন্ট বানিয়ে রেখেছে। চার বছর পড়াশুনা করে একজন মেধাবী ছাত্র পুরকৌশল বিদ্যায় পারদর্শী হয়ে যখন বিলের উপর মনুমেন্ট বানায় - তখন কি ওর মনে একটুও সংকোচ হয় না? মনে হয় না। কারন দোষারোপ করার জন্যে আরো অনেকে আছে - সবশেষে আছে খালেদা বা হাসিনা বা ফকরুদ্দীন। কিন্তু প্রকৌশলী হিসাবে যাকে জনগনের পয়সায় পালন করা হচ্ছে - তার কি কোন দায় দায়িত্ব নেই? তার কাজ কি শুধু ঠিকাদারের কাছ থেকে কমিশন বুঝে নেওয়া আর অফিসে বসে দেশে গেল বলে গুলতানি মারা?
দেখে শুনে মনে হচ্ছে - পঁচন লেগে সারা গায়ে - মলের ব্যবহার অর্থহীন।
এবারে রিপোর্টের একটা বিশেষ বৈশিস্ট হলো - দূর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্টানে মধ্যে যৌথ বাহিনীর নামটা এসেছে সর্বাগ্রে - বেড়া দিলাম খেত বাঁচাতে - এখন দেখি বেড়ায়ই ফসল খায়!
এবার আসেন সবাই মিলে ফকরুদ্দীন আর মইন ইউ আহমেদকে দোষারোপ করি। নেতানেত্রীকে মুক্ত করার এতো ভাল সুযোগ হয়তো নাও আসে পারে। আর মনে মনে বলি - দেখি কোন শালা পারে আমাদের ঠেকাতে। দূর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ - দেখি কোন শালা পারে!
ছবি ১) একজন প্রকৌশলী ঋনের অর্থ দিয়ে তার প্রকৌশল বিদ্যা ব্যয় করে একটা স্থাপত্য তৈরী করেছে - যার পাশ দিয়ে মানুষ নৌকায় যাতায়াত করে।
২) পার্বত্য চট্রগ্রামের একটা স্থানে ব্রীজের অভাবে ছাত্ররা হেটে নদী পার হয়।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুন, ২০০৮ সকাল ১১:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


