somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কুৎসিত দৃশ্যগুলো দেখার আগেই টিভির চ্যানেলটা ঘুরিয়ে দেই।

২৮ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ১০:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশের টিভি দেখার সুযোগ হয়নি অনেকদিন আর খবরও পড়তাম না - কারন একজন যুদ্ধাপরাধীর গাড়ীতে যখন জাতীয় পতাকা উড়ে - সেই দৃশ্য দেখে সমস্ত দিনটাই হয়ে যায় বিষাদময়। কাজকর্মে ঠিকমতো মন লাগানো যায়না। নিজের স্বার্থেই বাংলাদেশের খবর দেখতাম না।

তারপর এলো ১/১১। যদিও জানতাম সামরিক সরকার - তারপরও কৌতুহলী হয়ে উঠে। নিয়মিত টিভির খবর দেখা শুরু করি। বাংলাদেশের পত্রিকাগুলোর অনলাইন ভার্সান পড়া শুরু করি। কিছুটা আশার আলো দেখি। হয়তো আইনের শাসন চালু হবে - হয়তো চেপে বসা দূর্নীতির পাহাড়ের নীচ থেকে মুক্তি পাবে ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের ভুখন্ডটি। যেই দেশটার মুক্তির জন্যে জীবন দিয়েছে ত্রিশ লক্ষ মানুষ - সেই ভুখন্ডটি কেন অন্ধকারের দিকে হাঁটবে - আলোকিত পথের যাবার জন্যে কি করেনি সেই দেশের সাধারন মানুষ।

কিন্তু ধীরে ধীরে হতাশ হয়ে যাচ্ছি। দেশে আবার শুরু হয়ে মন্দের প্রতিযোগীতা। এখন প্রমান করতে হবে কে কার চেয়ে বড় শয়তান। আমরা "ভাল" না বলে এখন বলা হবে "তুমি খারাপ" - আর জনগন বিতর্কে মশগুল হবে - কে কম খারাপ আর বেশী খারাপ তা প্রমান করতে। বিগত দেড় বছরে মানুষ জানলো কত বড় বড় দূর্নীতির সাথে জড়িত রাজনৈতিক দলগুলো শীর্ষ নেতারা। কিন্তু কোথায় তাদের আত্নগ্লানী - কোথা তাদের আত্নজিজ্ঞাসা! এখন বরঞ্চ চোর পুলিশকে দৌড়াবে। সৎ মানুষরা লজ্জায় মুখ লুকাবে অসৎদের দাপটে।

দলে দলে জেল থেকে বেড়িয়ে আসছে দূর্নীতিবাজরা। এরা রাজনীতিতে বংবেরঙএর পোষাক পড়ে - মিউজিক্যাল চেয়ার খেলে সব সময়ই দই-মাখনটা খেয়েছে আবারও খাবে। এর সাথে সাথে হয়তো দেখবো ৩রা নভেম্বর আর ১৫ই আগস্টের জল্লাদরা খন্ডিত বিচারের ফাঁক ফোকর দিয়ে বেড়িয়ে এসে দাঁতাল হাসি ছুড়ে দেবে সমাজের দিকে। অসহায় বিবেক বসে বসে হিসাব মেলাবে - মূল্যবোধের অবক্ষয়ের নিম্নসীমানাটা কোথায়!

এই জঘন্য দৃশ্যগুলো টিভিতে দেখানো হয়। সংবাদপাঠক আর সংবাদদাতা তাজিমের সাথে উচ্চারন করে - আজ কতজন ভিআইপি বন্দির জামিন হলো। অপরাধীদেরও ভিআইপি মর্যাদা আছে তাহলে! অপরাধীরা সমাজের বা দেশের কতটুকু ক্ষতি করলে তাকে ভিআইপি অপরাধী বলা হয় - তা যদিও পরিষ্কার না তবে ধারনা করি - দেশের সম্পদের শতকোটি লুটপাট করলে এরা ভিআইপি মর্যাদা পাওয় যায়। দেশের সম্পদলুট করে বিদেশে বিনিয়োগ আর ছেলেমেয়ের জন্যে নিশ্চিত ভবিষ্যত তৈরী করে যারা দেশটাকে দূর্নীতির শীর্ষ সূচকে পৌছে দিয়েছে - এরা ভিআইপি বটে!

টিভিতে ইদানিং দেখানো সবচেয়ে কুৎতিস দৃশ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে চাঁদাবাজ রাজাকার, টেন্ডারবাজ ছাত্রনেতা আর শেয়ারমার্কেটের বড় চোরের গলায় মালাসহ জেলগেটে সমর্থক পরিবেষ্টিত হয়ে সহাস্য ছবি। এরা শুধু জামিন পেয়েই বিজয়ী হাসি হাসছে - কারন এরা জানে আইনকে কিভাবে নিজেদের পকেটে ঢুকাতে হয়।

অচিরেই হয়তো দেখবো - বিগত সরকারের আমলে সমান্তরাল সরকার চালানোর জন্যে প্রতিষ্ঠিত হাওয়া ভবনের যু্বরাজ কোরবানীর গরুর মতো ফুলের মালা গলায় দিয়ে জেল থেকে বেড়িয়ে আসছ একদল মানুষরুপী দুইপায়ে দাড়ানো ভেড়া একই সুরে চিৎকার করছে। এই নোংরা দৃশ্যটা বোধহয় সহ্য করা কঠিন। তাই এখন এখন টিভি দেখার সময় রিমোট কন্ট্রোলটা হাতের কাছে রাখি - প্রয়োজনে দ্রুত চ্যানেল বদলানো যায়।

কথ হলো আমি না হয় নিজের রক্তচাপ ঠিক রাখার জন্যে চ্যানেল বদলালাম - কিন্তু আমার অসহায় জন্মভুমিটা এতো অনাচার সইবে কিভাবে? এই কথা ভাবতেই একটা দীর্ঘশ্বাস বেড়িয়ে আসে বুকের গভীর থেকে - আর মুখে বলি "ঈশ্বর বাংলাদেশকে রক্ষা করুন"।


ছবিঃ দূর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত এই ধর্মব্যাপরী জামিন পেয়ে 'ভি' চিহ্ন দেখাচ্ছে - এর অথ কি?
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ১০:৫১
২৯টি মন্তব্য ২৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×