somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মানবিক বোধ সম্পন্ন গাড়ী বিষয়ক জটিলতা ( কল্পগল্প)

০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৮ ভোর ৫:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গাড়ীটা ভালই চলছিলো। কেনার তিন বছরের মধ্যে তেমন কোন সমস্যা হয়নি। আমিও খুশী - এমন গাড়ীইতো চাই। তেল ভরবো - আর স্টার্ট দেব। কোন ধানাই পানাই নেই - কোন মিস্ত্রী সংক্রান্ত ঝামেলাও নেই।

সমস্যা হলো একদিন। চালাচ্ছিলাম একটা লোকাল রোডের উপর দিয়ে - হঠাৎ করে গাড়ীটা দেখি রাস্তার পাশে ঘাসের দিকে চলে যাচ্ছে। মহা বিপদ! কোন ভাবেই গাড়ীটাকে রাস্তার উপর রাখতে পারলাম না। রাস্তার পাশে জঙ্গলমতো এক জায়গায় গিয়ে থেমে গেল গাড়ীটা। আমিতো অবাক - আবার কিছুটা ভয় পেলাম। ঘটনাটা কি? গাড়ীটা কি, গাড়ীটাকে কি ভুতে পেল নাকি?

দাড়ানো গাড়ীটা থেকে বাইরে এসে দেখি গাড়ীটার একজস্ট পাইপ দিয়ে সেমিসলিড ধরনে কালো পদার্থ বেড়িয়ে আসছে - দেখে মনে হলো গাড়ীটা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিচ্ছে - গাড়ীর ইঞ্জিন থেকেও এক ধরনের আওয়াজ বেড়িয়ে আসছে - যা কিনা নিয়মিত ইসুবগুলের ভুসি খাওয়া কোন একজন যখন তা খেতে ভুলে যায় তার যে অবস্থা হয় তেমনি।

সেই বাহ্য শেষ হতেই ঝরঝর করে পানি বেড়িয়ে এলো - মনে হলো গাড়িটা মুত্রত্যাগ করছে। তারপর হঠাত গাড়ীটা স্টার্ট হয়ে হালকা একটা হর্ন বেজে উঠলো। মনে হলো আমাকে গাড়ীতে উঠতে বলছে। ভয়ে ভয়ে উঠলাম গাড়ীতে - কিন্তু উঠার পর সবই মনে হলো স্বাভাবিক।

পরিস্থিতি বিবেচনা করে গন্তব্য বদলে ফেললাম। চলে এলাম একটা মেকানিক শপে। এই গাড়ীর আবার ঝামেলা আছে - আগের দিনের মেকানিকরা যেমন বনেট খুলে - উঁকিঝুকি মেরে বা শব্দশুনে গাড়ীর সমস্যা বুঝার চেষ্টা করতো - এখন আর তা হয়না। গাড়ীর মধ্যে একটা ব্লাকবক্স ধরনের কি একটা আছে - যার সাথে একটা ডিকোডার লাগিয়ে গাড়ীর আদ্যপান্ত ইতিহাস বের করা যায়।

ভিতর থেকে হন্তদন্ত হয়ে দুইজন মেকানিক বের হয়ে এলো। এদের হাতে বিরাট এক রিপোর্ট। রিপোর্টটা টেবিলের উপর ফেলে হতাশ কন্ঠে একজন বলে উঠলো - হোয়াট দ্যা হেল ইজ দ্যাট।

আমি রিপোর্টটা হাতে নিয়ে চোখ বুলাতেই দেখলাম -

৯:৩০ সকাল - প্রচন্ত বেগ হচ্ছে - আমার পক্ষে আগানো সম্ভব নয়
৯:৩১ সকাল - নিজে নিজে ঝোপের দিকে চরলাম
৯:৪৫ সকাল - আহ! কি আরাম - এবার চলা যাবে।

আমি তো হতবাক। বলে কি? গাড়ীতো দেখি মানুষের মতো ভাবছে। রিপোর্টের নীচে ইঞ্জিনিয়ারিং ভার্সান কলামে লেখা পড়ে বুঝা গেল আসলে ঘটনা কি হয়েছে।

সেখানে লেখা আছে - জ্ঞানী মানুষের আলোচনা ইন্টারসেপ্ট করে গাড়ীকুল জানতে পারে যে - মানুষ ভাত খায় আর গাড়ী তেল খায়। সেখান থেকেই গাড়ীদের বিবর্তন শুরু হয়েছে। যেহেতু মানুষ ভাত খেয়ে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয় - তেমনি গাড়ীও তেল খেয়ে সেই কাজ শুরু করেছে।

এই পর্যণ্ত পড়ে চোখ ছানাবড়া করে বসে থাকা মেকানিক দুইজনের দিকে তাকিয়ে বললাম - ডোন্ট ও্যারি, আই কে হ্যান্ডেল ইট।

তারপর থেকে প্রতিদিন সকালে কাজে যাওয়ার আগে রাস্তার পাশে একটা জঙ্গল দেখে গাড়ীটা থামাই - পাঁচ মিনিটের ব্রেকেই কাজটা শেষ হয়ে যায়। তারপর সারাদিন ভাবনা মুক্ত।

পাঠক, ঘটনা এখানে শেষ হরে হয়তো এই গল্পটা আপনাদের বলতাম না। এরা কিভাবে যে বিবর্তন বাদের সকল সূত্রগুলো জেনে ফেলেছে তাই ধীরে ধীরে মানুষের মতো আচরন করছে।

পাঠক চাইলে পরের পর্বে বিবর্তিত গাড়ীর বিস্তারিত জানানো হবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৮ ভোর ৬:৩৯
১৮টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×