আমার প্রিয় পোস্ট

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা দেখান - যুদ্ধাপরাধীদের ভোট দানে বিরত থাকুন।

জামায়াতের এই ধরনের পিছলামী দেখে বিভ্রান্ত হবার সুযোগ নেই।

২১ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৭:৫২

শেয়ার করুন:                   Facebook

আজকের খবরের কাগজগুলো মুল খবর ছিলো জামায়াতে ইসলামী একটু পিছলিয়েছে - তারা দলের নামের আগে বাংলাদেশ লেখে কয়টা কাগজ জমা দিয়েছে নির্বাচন কমিশনের কাছে। অনেকে এর মধ্যে জামাতের মুক্তিযুদ্ধের স্বীকৃতির বিষয়টাও দেখতে পেয়েছেন।

ভুল, বিরাট ভুল।

জামায়াত এর আগেও এই ধরনের পিছলামী করেছে। দলের নামের যে ভুলটা ওরা সংশোধন করেনি - তা হলো - জামায়াতে ইসলামী'র পরিবর্তে জামায়াতে পিছলামী দিলে নামকর পরিপূর্ন সার্থক হতো। কারন এরা যকন পিছলাম পুরো দল জামাত করেই পিছলায়। গঠনতন্ত্ররে মলাট থেকে আল্লার নাম বাদ দিলেও এদের কোন একজন সদস্যও প্রতিবাদ করে না। কারন জামাত করে পিছলানোই এই দলের মুল আদর্শ। সুতরাং সাধু সাবধান।

আসুন সংক্ষেপে একটু আলোচনা করা যাক জামাত সর্বশেষ কি কি বিষয়ে পিছলালো।


১) গঠনতন্ত্রের মলাট পরিবর্তন -

মলাটের উপর "আল্লাহ" আর "আক্বিমুদ্দীন" (আল্লাহ তোমার দ্বীন প্রতিষ্টা করো) শব্দদ্বয় বাদ দিয়েছে। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না - এরা জন্মলগ্ন থেকেই এই নীতিতে বিশ্বাসী। শুধুমাত্র রেজিস্টেশনের ঝামেলা এড়ানোর জন্যেই তাদের মলাটের একটা খসড়া তৈরী করেছে। কোন ভাবেই মনে করার সুযোগ নেই - এরা স্বজ্ঞানে আল্লাহর নাম বাদ দিয়েছে।

২) গঠনতন্ত্রে আল্লাহর আইন ও সৎ লো্কের শাসন বাদ:-<br />
আল্লাহ আইনের কথা বলে কাদিয়ানীদের উপর গনহত্যা আর ৭১ এর গনহত্যার দোসরদের সাধারন মুসলমানরা বিশ্বাস করেনি। ২৫ বছর ধরে বাংলাদেশে রাজনীতি করে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেও ভোটের সংখ্যায় এর তৈলাক্ত বাঁশে উঠার মতো এক ফুট উঠে আর দুই ফুট নামে। সুতরাং আল্লাহর আইনের কথা ওদের মুখে মানায় না - এইটা ওরা ভাল বঅবে বুঝতে পেড়েছে। তা ছাড়া সৎলোকের কথা বলার মতো ওদের মুক কোথায়। যে দলের দুই মাথা সহ নির্বাচিত প্রতিনিধির ৬৭% দূর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত - তাদের মুখে কি সৎলোকের শাসন কথাটা চরম কৌতুকের মতো শুনাতো না? তাই ওরা নীরবেই কাজটা করতে চাইতো।

৩) নারী নেতৃত্ব -

জামায়াতের পিছলামীর সবচেয়ে বড় নিদর্শন হলো নারী নেতৃত্ব নিয়ে। মউদুদি নারী নেতৃত্ব হারাম ফতোয়া জারীর কিছু দিন পরই ফাতেমা জিন্নাহকে সমর্থন দেয় - কারন কাদীয়ানীদের গনহত্যার মামলায় ফাঁসির আদেশ হয় আয়ুবের সময়ে - তাই আয়ুবের বিরুদ্ধে নারী নেতৃত্বকে সমর্থন দিয়ে মউদুদি প্রথম নিজের থুথু নিজে গিলেছে। পরে এরশাদের সময় বাংলাদেশের জামাতীরওনারী নেতৃত্ব হারাম বলে প্রচার শুরু করে - কিন্তু পরবর্তীতে বাংলাদেশের দুই নারী নেতৃত্বকে নেতা মেনেছে। সুতরাং - এই বিষয়ে যত পিছলামীই করুক - এরা আসলেই নারী বিদ্বেষী একটা গোষ্ঠী।

৪) অমুসলিম সহযোগী সদস্য -

বাংলাদেশের কোন অমুসলিম একদল রাজাকারের অধীনে সহযোগী হতে যাবে? তারচেয়ে বড় কথা হলো সংবিধানের যে ধারায় কোন রাজনৈতিক দল ধর্ম-বর্ণেরবিভেদ করতে পারবে না - এইটা হলো তার সুস্পষ্ঠ লংঘন। নির্বাচন কমিশনের এই বিষয়ে ভাবতে হবে - তালেবান শাসকদের মতো একটা বিশেষ ধর্মগোষ্ঠীর অধীনে অন্য ধর্মগোষ্ঠীর সহযোগী অবস্থান তৈরীকে তারা অনুমোদন দেবে কিনা!


৫) মুক্তিযুদ্ধকে স্বীকার করা -

একটা দল ২৫বছর দেশে রাজনীতি করে - মন্ত্রী হয় - এমপি হয় - কিন্তু সেই দেশের জন্মকে স্বীকার করে না - তারা যখন ৩৮ বছর পর একটা বিশেষ কারনে স্বীকার করে - সেখানে তাদের আন্তরিকতা নিয়ে যে কেউ প্রশ্ন তোলতে পারে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়টা যখনই সামনে আসবে - জামাতের বাংলাদেশে অবস্থান তখনই প্রশ্নবিদ্ধ হবে। ওরা কি কখনও প্রকাশ্যে তাদের ৭১ এর ভুমিকা নিয়ে লজ্জিত বা দুঃখিত হয়েছে। মোটেও না। হঠাৎ করে শিয়ালের ফাঁদে পড়ে মন্ত্র আওড়ানো মতো তারা সবকিছুই স্বীকার করছে। তাদের কি বিশ্বাস করা যায়?


জামায়াত নাম ফ্যাসিস্ট সংগঠনের ভিতরে গনতন্ত্র চর্চা হবে - এই ধরনের দিবাস্বপ্ন যারা দেখেছেন - তাদের ভুল ভাঙ্গানোর মতো কিছু পরিবর্তন হয়েছে - যাকে তারা গনতন্ত্রের চর্চা হিসাবে দেখাবে। একটা দল দীর্ঘ পনের বছর কিভাবে গনতন্ত্রের কথা বলে বড় দুই দলকে ধোঁকা দিয়েছে - তা ভেবেও অনেকে অবাক হতে পারেন।

আজকের জামাতের পিছলামী দেখে বিষয়গুলো আরো সুস্পস্ট হলো - বাংলাদেশের জন্মের বিরোধীতাকারী - যারা এই দেশের আলো বাতাসে থেকেও দেশটাকে স্বীকার করতে ৩৮ বছর সময় নেয় - তাদের কি কোন অধিকার আছে বাংলাদেশ নামক ভুখন্ডের ভিতরে অবস্থান করার?


পরিষ্কার কথা হলো - যারা একটাদেশের সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে ৩৮ বছর সময় নিয়েছে - যে দেশের জন্মকে আঁতুরঘরেই শেষ করে দিতে চেয়েছে - তাদের কোন কোন কার্যকলাপ ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তে ভেজা বাংলাদেশে চলতে দেওয়া যাবে না। এই সোজা কথাটা যদি বর্তমান সরকার আর নির্বাচন কমিশন বুঝতে অপারগ হয় - তবে হয়তো আরো বড় কোন উদাহরন তাদের বুঝানোর জন্যে তৈরী হবে।


(ছবি সুত্র - প্রথম আলো)

 

 

  • ২৭ টি মন্তব্য
  • ৩৪৩ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ১৫ জনের ভাল লেগেছে, ৭ জনের ভাল লাগেনি
১. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৭:৫৪
comment by: ণগেন হরিখটকা বলেছেন: ছবিটা প্রথম আলোর সৌজন্যে।


২১ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৭:৫৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ - বলে দিলাম।

২. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৭:৫৪
comment by: আলিফ দেওয়ান বলেছেন:

বলেন দেওয়ান কাগু
জামাতশিবির ছাগু
২১ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৮:০০

লেখক বলেছেন: কাগু মাইনাস দেয় কেঠায়?

৩. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৭:৫৮
comment by: জেনারেল বলেছেন: ওগো ফাঁক-স্থানে পাঠানো হউক
২১ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৮:০১

লেখক বলেছেন: মনে হয় ওদের নেবে না। :)

৪. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৮:০১
comment by: ক্যালী বলেছেন: জামায়াতে ইচলামি ফাঁক-স্থান, বাংলাদেশ ব্রাঞ্চ
৫. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৮:২০
comment by: রন্টি চৌধুরী বলেছেন: স্বাধীন বাংলাদেশে জামাত আবার নিজের নতুন গঠনতন্ত্র করে, তাতে আবার মুক্তিযুদ্ধের স্বীকৃতি দেয় এবং এ বিষয়টি ফলাও করে প্রচার করে।

লজ্জিত হচ্ছি।
২১ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৮:৩১

লেখক বলেছেন: এইটা একটা প্রজন্মের ব্যর্থতার ফল। নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে। এই লজ্জা থেকে আমরা মুক্তি চাই।



৬. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৮:২৯
comment by: অচেনা আগন্তক বলেছেন: যাদের বাংলাদেশে রাজনীতি করার অধিকার থাকার কথা নয়, তারা আজকে মুক্তিযুদ্ধকে স্বীকৃতি দেয়। দুই দিন পর রাজাকার কামরুজ্জামান মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট দেয়া শুরু করবে। আসলেই লজ্জিত হচ্ছি।
২১ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৮:৩২

লেখক বলেছেন: লজ্জিত আমরা সবাই। তবে বেশী দিন নেই - কামরু রাজাকারকে আরো অনেক কিছু স্বীকার করতে হবে।

৭. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৮:৩৪
comment by: সাঈফ শেরিফ বলেছেন: কাদিয়ানী গণহত্যার ইতিহাস জানতে চাই।
২১ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৯:৪৯

লেখক বলেছেন: ঠিকাছে - জানানো হবে।

৮. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৮:৩৫
comment by: রন্টি চৌধুরী বলেছেন: ৯০ এর কিছু পরে জাসদ কতৃক নিগৃহিত জামাত শিবিরের পোলাপানের দৌড়ের ছবি মনে করে এখনও কেন তৃপ্তির ঢেকুড় আসতে হয়?

আগামীতেও এমন একটা অলআউট প্রকল্প হাতে নেয়া উচিত।

এভরিথিং ইজ ফেয়ার ইন লাভ,ওয়ার এন্ড রিমুভিং জামাতি ক্যানসার।
২১ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৯:৫১

লেখক বলেছেন: যত তাড়াতাড়ি শুরু হয় - দেশের জন্যে ততই মঙ্গল।

৯. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৮:৪৩
comment by: নুশেরা বলেছেন: "জামায়াতে ইসলামী'র পরিবর্তে জামায়াতে পিছলামী দিলে নামকরণ পরিপূর্ন সার্থক হতো।"
:P :) :D B-) ;)
১০. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৮:৪৮
comment by: নূহান বলেছেন: জামাত শিবিরের মুখে থুথু
১১. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৮:৫৬
comment by: কুবের বলেছেন: এই হানে সবাই দেখি বিরোধী দলীয় লোক।
১২. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৯:০২
comment by: রাফা বলেছেন: গিরগিটির মত রং পরিবর্তনের চেষ্টা ,৩৮ বছর খুব কম সময় নয় , এই সময়ে যখন জামাতের কুকির্তী ভুলে নাই বাঙ্গালী তখন আগামি ৩৮হাজার বছরেও ভুলবেনা ইনশা-আল্লাহ।
১৩. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৯:৪৫
comment by: নীলবকুল বলেছেন: নারী নেতৃত্ব বাড়াইছে। মোলবাদিরা আমাকে একটা পুস্ট কি দিবে ?
২১ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৯:৫০

লেখক বলেছেন: চেষ্টা করেন। তবে মনে হয় না। নেতাদের স্ত্রীদের জন্যে মনে হয় সংরক্ষিত আসন আছে।

১৪. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ১০:৩৫
comment by: "মিজানুর রহমান" বলেছেন: গদি বড়ই আরামের জিনিস।
১৫. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ১২:২৩
comment by: অরণ্যচারী বলেছেন: পাওয়ারে যাওয়ার জন্য এমন কিছুই নাই যেটা জামাত করতে পারে না। কবে জানি দেখবো এরা নিজেদের সোশালিস্ট দাবি করে বসে।
২১ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১১:৩৮

লেখক বলেছেন: মুখে যাই বলুক - অন্তরে ওদের পাকিস্থান। গঠনতন্ত্রের মলাটের সবুজ রঙটা দেখুন। এই সবুজ বাংলাদেশের সবুজ না - এইটা পাকি সবুজ! :)

১৬. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১১:৪৩
comment by: শঙ্খচীল বলেছেন: জামাত ই বাংলাদেশের ভবিষ্যত কারন জামাত ই বাংলাদেশের সবচেয়ে দুর্নীতিমুক্ত পার্টি। আর একারনেই দিন দিন জামাতের সমর্থন বাড়ছে। ইনশাল্লাহ একদিন জামাতের নেত্রীত্তেই বাংলাদেশ দুনিয়ার বুকে উন্নত দেশ হিসাবে মাথা উচু করে দাঁড়াবে।
২২ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ১০:১৯

লেখক বলেছেন: দাড়ায়া ঘুমান নাকি ভাইজান?

১৭. ২২ শে অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৫২
comment by: রাশেদ বলেছেন: প্লাস।

 

 


এস্কিমো এখনও প্রথম আলো ব্লগে যায় নাই।

[এস্কিমো ব্লগের সতর্কীকরন: রাজাকার, আল বদর, আল শামস্, শান্তি কমিটি, ও '৭১ এর...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ২২৭৫০৫