somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

৮৬'র নির্বাচন ও একজন নেত্রী আপোষহীন হয়ে উঠা

১৮ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ৮:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজকের আমাদের সময়ের মোজাম্মেল বাবুর একটা ছোট্ট লেখা পড়ে ১৯৮৬ সালের নির্বাচনের সময়কার কিছু স্মৃতি মনে পড়ে গেল। খুব কাছের থেকে দেখা কিছু ঘটনা আর কিছু অজানা ঘটনার সন্মিলনে সেই স্মৃতির সাথে বেগম খালেদা জিয়ার "আপোষহীন নেত্রী" হয়ে উঠার কিছু সমসাময়িক ঘটনা জড়িত।

এরশাদ ক্ষমতার কলকাঠি দখল করে জিয়া হত্যার পরপরই। তারই ইশারায় তখন চলতো দেশ। একপর্যায়ে রাষ্ট্রপতির শুন্য আসনে নির্বাচনের জন্যে সংবিধান সংশোধন করে বিএনপি সংখ্যা গরিষ্ঠ সংসদ। সেই সংসদটিও গঠিত হয় জিয়াউর রহমানের সামরিক শাসনের কঠিন বেড়াজালের মধ্য দিয়ে। মুলত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের একক ক্ষমতায় দেশ চালানোর আদেশ নির্দেশকে স্টাম্পিং করাই ছিলো সংসদের কাজ।

সংবিধান সংশোধনের পর বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ ছাত্তারকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনিত করে নির্বাচন করানো পিছনে এরশাদের যে অবদান ছিলো - তা বলাই বাহুল্য। এরশাদ কিছুদিন পর নানান নাটকের পর সামরিক শাসন জারি করে।

এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্ররা প্রথম আন্দোলন শুরু করে। ছাত্রদল তখনও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শক্তিশালী না। তখন জাসদ-বাসদের যুগ। এরশাদের শিক্ষমন্ত্রী মজিদ খানের শিক্ষানীতির প্রতিবাদে ১৪ই ফেব্রুয়ারী ১৯৮৩ সালে কঠোর সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে মিছিলে গুলি চলে। মারা যায় কাঞ্চন আর দিপালী সাহাসহ কয়েকজন টোকাই। সেই আন্দোলনের রেশ ধরে রাজনৈতিক দলগুলো সংঘঠিত হতে থাকে। কিন্তু বিএনপির বড়্বড় নেতারা শুরুতেই এরশাদের ক্যাম্পে যোগ দেয়। পরে আওয়ামীলীগের অনেক নেতা সেই পথ অনুসরন করে। সবচেয়ে চমক দেয় বাসদের ডাকসু ভিপি জিয়াউদ্দিন বাবলু আর ছাত্রদলের গোলাম সারোয়ার মিলন।

সেই ভঙ্গুর বিএনপির নেত্রীত্ব নিয়ে খালেদা জিয়া কঠোর পরিশ্রম করে শুধু মাত্র জিয়াউর রহমানের সৎ ইমেজকে কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে বিএনপিকে দাড় করান। আজকের যারা বিএনপির বড় নেতা তাদের বেশীর ভাগই তখন এরশাদের সেবায় ব্যস্ত ছিলেন।

এক পর্যায়ে এরশাদ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করে। সেই নির্বাচন সকল রাজনৈতিক দল বর্জন করলেও বঙ্গবন্ধুর খুনী ফারুককে এরশাদ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দাড় করিয়ে ২য় স্থানে উঠায়। আর নির্বাচন করেন হাফেজ্জী হুজুর। রাজনৈতিক দলগুলো তখন দু্ইটি শিবিরে বিভক্ত ছিলো্। আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন ১৫ দল ( যা মুলত বামপন্থীদের নিয়ে গঠিত) আর বিএনপির নেতৃত্বাধীন ৭ দল ( যেখানে বিএনপি ছাড়া অন্যদলগুলো মধ্যে উল্লেখ্য ছিলো কাজী জাফরের নেতৃত্বে ইউপিপি - পরে অবশ্য কাজী জাফর দলবল নিয়ে এরশাদের দলে যোগ দিয়ে চিনি চোর হিসাবে কুখ্যাত হন)

নির্বাচন বর্জন ও প্রতিরোধের পক্ষে কাজ করলেও এরশাদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসাবে ঘোষনা করে। রাজনৈতিক দলগুলো কাছে পরিষ্কার হয়ে যে প্রেসিডেন্টশিয়াল পদ্ধতিতে এরশাদকে বিদায় করা কঠিন হবে। আর মুজিব আর জিয়ার মৃত্যুও তাদের সংসদীয় গনতন্ত্রের দাবীতে নিয়ে যায়। প্রথম দিকে খালেদা জিয়া সংসদীয় পদ্ধতির পক্ষে না থাকলেও পরবর্তীতে একমত হন। শুরু হয় সংসদ নির্বাচনের দাবীতে আন্দোলন।

সেই আন্দোলন কোন কোন সময় চরম ভাবে বেগবান হয় আর মুক থুবড়ে পড়ে। বিম্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ করে - সংবাদপত্রের উপর কঠোর নিয়ন্ত্রন আরোপ আর শ্রমিকদের মধ্যে দালাল তৈরী করে এরশাদ আন্দোলনকে নিয়ন্ত্রনের কৌশল প্রয়োগ করে আর সফলও হয়। সেই আন্দোলনে উল্লেখযোগ্য যারা শহীদ হয়েছিলেন তারা হলে কালিগঞ্জের আওয়ামীলীগ নেতা ময়েজউদ্দিন, আদমজী জুট মিলের শ্রমিক নেতা কমিউনিস্ট পার্টির তাজুল ইসলাম আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বাকশালের ছাত্রগ্রুপ জাতীয় ছাত্রলীগের নেতা বসুনিয়া।

এরশাদ যখন সংসদ নির্বাচন দিতে বাধ্য হলো - তখন শুরু হলো নানান ঝামেলা। এরশাদকে ক্ষমতায় রেখে নির্বাচনে যাওয়া হবে - নাকি এরশাদকে বিদায় করে যাওয়া হবে। সেই সময়কালে বাংলাদেশের রাজনীতি সবচেয়ে আলোচিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন কমিউনিস্ট পার্টির কমরেড ফরহাদ। কমরেড ফরহাদ দুই নেত্রীকে ১৫০ করে আসনে দাড়িয়ে নির্বাচন করে এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন বেগবান করার প্রস্তাব দিলে নেই প্রস্তাবে ব্যাপক জনসমর্থন লাভ করে। কিন্তু এরশাদ নির্বাচনী আইন পরিবর্তন করে ৫ টি আসনে নির্বাচন করার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারন করে।

(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ৮:৫৪
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৩ এ ওয়াকআউট করেছিলেন, ২০২৬ এ তিনিই ঢাবির ভিসি ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২


২০২৩ সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভা চলছে। একজন শিক্ষক দাঁড়িয়ে বললেন, হলগুলোতে ছাত্রলীগের গেস্টরুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। কথাটা শেষ হতে না হতেই তৎকালীন ভিসি জবাব দিলেন, "গেস্টরুম কালচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ ভোর ৪:২১

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
==========================
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি ও বাঙালির মুক্তির অগ্রদূত। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শেখ লুৎফর রহমান ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

এপস্টেইনের এলিট: ইসরায়েলের মিডিয়া নিয়ন্ত্রন এবং প্রপাগাণ্ডা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ ভোর ৬:৩৮


ইতিহাসবিদ ইলান পাপে বলেছেন, "ইসরায়েল অবৈধ বসতি স্থাপনকারী, ঔপনিবেশিক শক্তির একটি প্রজেক্ট। এটি ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় গড়ে ওঠা স্বাভাবিক রাষ্ট্র নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তির দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যবস্থা"। এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পিতা তোমার জন্মদিনে জানাই শুভেচ্ছা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:৩৬


কার ডাকেতে টগবগিয়ে ফুটলো বাংলাদেশ
কার ডাকেতে বিজয় ছিনিয়ে  মুক্ত হলো স্বদেশ?

কার ডাকেতে সমবেত হয়েছিলো দীপ্ত তরুণেরা,
কার ডাকেতে দ্বিধা ভূলে একত্রিত  তারা?

কার ডাকেতে অসাম্প্রদায়িক হলো আমার প্রিয় দেশ
কার ডাকেতে স্বপ্ন... ...বাকিটুকু পড়ুন

তিনি বাংলাদেশী জাতির জনক

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



বঙ্গবন্ধৃ শেখ মজিবুর রহমানকে জাতির পিতা মানে বাংলাদেশী নাগরিকগণের একাংশ। ১৯৭১ সালের পূর্বে বাংলাদেশী নামে কোন জাতি ছিল না। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের নাগরিকগণের একাংশ পশ্চিম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×