কিন্তু বিরোধীদলগুলো দাবী দাওয়া নিয়ে - আলটিমেটাম দিয়ে নির্বাচনে যাবো না বা যাবে ধরনের কোন নাটক না করে - দ্রত নির্বাচনী কর্মকান্ড শুরু করে।
ফলাফল হলো - কনজারভেটিব তাদে সিট বাড়িয়ে নেয় আর নির্বাচনে খারাপ ফলাফলের জন্যে বিরোধী দলীয় নেতা পদত্যাগ করে। এইটা একটা নিয়মের মতো দাড়িয়েছে - নির্বাচনে খারাপ ফলাফলের দায় দলের সর্বোচ্চ নেতা কাঁধে নিয়ে বিদায় নেয় - নতুন নেতা নির্বাচনের জন্যে সেই দল নিজেদের নীতি নির্ধারনের বিষয়টাকে আবার আলোচনায় নিয়ে আসে।
অন্যদিকে আমার আরেকটা দেশ - বাংলাদেশ। নির্বাচন ঘোষনা হলে একটা দল না একটা দল তা নিয়ে বিতর্ক তৈরী করবে। এরা সবচেয়ে বুদ্ধিমত্তার সাথে যা করে তা হলো "কনস্পিরেসী থিয়োরী" তৈরী করে প্রচার শুরু করে। তার মধ্যে থাকবে পাঁতানো নির্বাচন, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ না। পর্দার আড়ালে কিছু একটা হচ্ছে ধরনের একটা থিয়োরী তৈরী রাখে যাতে নিজেদের পরাজয়ের দায় অন্য কোথাও চাপানো যায়। যদি অগ্রীম থিয়োরী না থাকে তবে বলা হবে "সুক্ষ্বা স্থুল" কারচুপির কথা।
মোদ্দা কথা হলো - বিজয়ী হলে ঠিক আছে - নাইলে রেফারী খারাপ।
সাধারন নির্বাচকদের মতামতের প্রতি সামান্য সসন্মান না দেখিয়ে এরা শুরু করে নির্বাচন কমিশনের দোষ. সরকারের দোষ - না হলে জনগনের দোষ।
আবার আসি কানাডার নির্বাচন প্রসংগে - যখন বিরোধীদলের মতামত উপেক্ষা করে নির্বাচন ঘোষিত হলো - তখন নিউ ডেমোক্রেট পার্টির নেতা জ্যাক লেইটন প্রথম টিভির সামনে আসেন। ওর ভাষনটা ছিলো খুবই চমৎকার।
জেক লেইটন বলে - কানাডিয়ানস, আমাদের প্রধানমন্ত্রী নিজের দায়িত্ব পালনে অনীহ - তাই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদ শুন্য হয়ে গেছে। আমি নিউ ডেমোক্রেট নেতা হিসাবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদের জন্য আবেদনপত্র জমা দিলাম। আশা করি আমার যোগ্যতা আর অভিজ্ঞতার দিকটা দেখে আমাকে সেই পদে নিয়োগ দেবেন আপনারা।
একটা দলের নেতা রাষ্ট্রের একটা পদের জন্যে আবেদন করছেন ভোটারদের কাছে, শুনতে কেমন লাগে।
অন্যদিকে আমাদের দেশের দুই নেত্রী নিজেদের দলের সর্বোচ্চ আসনে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে আছে। নিজেরা নিজেদেকে জনগনের স্বঘোষিত ত্রানকর্তা হিসাবে বিবেচনা করে জনগনের সকল চিন্তা নিজেরে কাঁধে নিয়ে নিয়েছেন।
একজন মোটামুটি নিজেকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে কথা বলা শুরু করেছেন। আরেকজন জনস্বার্থে শত ষড়যন্ত্ররের মধ্যেও নির্বাচনে গিয়ে জনগনের সাথে থেকে মানুষের অধিকারের জন্যে কাজ (!) করতে চান - যদি নির্বাচন পিছানোসহ অন্তত দুইটা দাবী মানা হয়।
শুনে আমাদের মিডিয়া ধন্য - আমরা ধন্য - উনারা শেষ পর্যণ্ত রাজী হয়েছেন নির্বাচনে যাবেন। জনগন কৃতার্থ হলেন উনার মুখ-নিসৃত বানী শ্রবন করে।
(২)
আমি একজন মানুষ - দুই দেশের নাগরিক - দুইটা সফটওয়্যার চালাতে হয় মগজের ভিতরে। দিনে দিনে মনে হয় সফটওয়্যার দুইটার ভার্সানের তফাৎটা অনেক বেড়ে যাচ্ছে। এখন হয়তো একটা বাদ দিতে হবে। গত দুই বছরের মনে হচ্ছিলো বাংলাদেশের অপরেটিং সিস্টেমটা কিছুটা আপগ্রেড হয়েছে। কিন্তু এখন দেখছি তা হয়নি। আমাদের জ্ঞানী লোকজন দুই বছরের সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে - যেখানে তাদের সাফল্যগুলো নিয়েই কথা বলার কথা। যে নির্বাচনে গিয়ে নির্বাচকদের সামনে দাড়াতে চায় তাকে বাদ দিয়ে যে যেতে না চায় তাকে নিয়ে আমাদের বেশী আগ্রহ। আর অতীতের অপর্কম নিয়ে তো এদের কোন অনুশোচনা তো দুর কি বাত - সামান্য লজ্জিত ভাবও নেই। এতো নেতীবাচক চিন্তা আর কর্মকান্ড হয়তো পৃথিবীর আর কোথাও চাষ হবে না।
জন্মসত্রে আমি বাংলাদেশের নাগরিক হলেও ভোটার না। কোটি কোটি টাকার রেমিটেন্স পাঠিয়ে দেশের বৈদেশিক মু্দ্রার বিজার্ভকে মোটাতাজা করার পরও আমার মতো প্রবাসীদের মতামতের বা ভোটের অধিকার নিয়ে স্বঘোষিত ত্রানকর্তারা চিন্তিত নয় - অবশ্য যদি হজ্জযাত্রী হতাম তাইলে ভিন্ন কথা ছিলো।
যাই হোক - রাজনৈতিক দলের আড়ালে দুইটা মাফিয়া চক্রের সক্রিয়তার শুরু হলো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আর জনগন ধন্য হবে যদি উনারা নির্বাচনটা শেষ ফলাফলটাকে মেনে সংসদে গিয়ে কিছু সময় ব্যয় করে দেশের জন্যে কিছু কার্যকরী আইন প্রনয়ন করে।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


