somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাজনীতি কি এমনই হওয়া কথা?

২০ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কানাডার ক্ষমতাশীন সংখ্যালঘু রক্ষনশীল সরকার হিসাব করে দেখলো - আমেরিকার নির্বাচনে ডেমোক্রেটরা জিতে যাবে। ডেমোক্রেকটেদর বিজয়ে কানাডার নির্বাচনে একটা প্রভাব পড়বে অবশ্যই। তাতে হয়তো বুশের সমর্থক কনজারভেটিবদের বিজয়ের সম্ভাবনা কমে যাবে। তাই হঠাৎ করে নির্বাচন ঘোষনা করে। বিরোধীদলগুলোও তা পরিষ্কার বুঝতে পারে।

কিন্তু বিরোধীদলগুলো দাবী দাওয়া নিয়ে - আলটিমেটাম দিয়ে নির্বাচনে যাবো না বা যাবে ধরনের কোন নাটক না করে - দ্রত নির্বাচনী কর্মকান্ড শুরু করে।

ফলাফল হলো - কনজারভেটিব তাদে সিট বাড়িয়ে নেয় আর নির্বাচনে খারাপ ফলাফলের জন্যে বিরোধী দলীয় নেতা পদত্যাগ করে। এইটা একটা নিয়মের মতো দাড়িয়েছে - নির্বাচনে খারাপ ফলাফলের দায় দলের সর্বোচ্চ নেতা কাঁধে নিয়ে বিদায় নেয় - নতুন নেতা নির্বাচনের জন্যে সেই দল নিজেদের নীতি নির্ধারনের বিষয়টাকে আবার আলোচনায় নিয়ে আসে।

অন্যদিকে আমার আরেকটা দেশ - বাংলাদেশ। নির্বাচন ঘোষনা হলে একটা দল না একটা দল তা নিয়ে বিতর্ক তৈরী করবে। এরা সবচেয়ে বুদ্ধিমত্তার সাথে যা করে তা হলো "কনস্পিরেসী থিয়োরী" তৈরী করে প্রচার শুরু করে। তার মধ্যে থাকবে পাঁতানো নির্বাচন, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ না। পর্দার আড়ালে কিছু একটা হচ্ছে ধরনের একটা থিয়োরী তৈরী রাখে যাতে নিজেদের পরাজয়ের দায় অন্য কোথাও চাপানো যায়। যদি অগ্রীম থিয়োরী না থাকে তবে বলা হবে "সুক্ষ্বা স্থুল" কারচুপির কথা।

মোদ্দা কথা হলো - বিজয়ী হলে ঠিক আছে - নাইলে রেফারী খারাপ।

সাধারন নির্বাচকদের মতামতের প্রতি সামান্য সসন্মান না দেখিয়ে এরা শুরু করে নির্বাচন কমিশনের দোষ. সরকারের দোষ - না হলে জনগনের দোষ।


আবার আসি কানাডার নির্বাচন প্রসংগে - যখন বিরোধীদলের মতামত উপেক্ষা করে নির্বাচন ঘোষিত হলো - তখন নিউ ডেমোক্রেট পার্টির নেতা জ্যাক লেইটন প্রথম টিভির সামনে আসেন। ওর ভাষনটা ছিলো খুবই চমৎকার।

জেক লেইটন বলে - কানাডিয়ানস, আমাদের প্রধানমন্ত্রী নিজের দায়িত্ব পালনে অনীহ - তাই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদ শুন্য হয়ে গেছে। আমি নিউ ডেমোক্রেট নেতা হিসাবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদের জন্য আবেদনপত্র জমা দিলাম। আশা করি আমার যোগ্যতা আর অভিজ্ঞতার দিকটা দেখে আমাকে সেই পদে নিয়োগ দেবেন আপনারা।

একটা দলের নেতা রাষ্ট্রের একটা পদের জন্যে আবেদন করছেন ভোটারদের কাছে, শুনতে কেমন লাগে।

অন্যদিকে আমাদের দেশের দুই নেত্রী নিজেদের দলের সর্বোচ্চ আসনে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে আছে। নিজেরা নিজেদেকে জনগনের স্বঘোষিত ত্রানকর্তা হিসাবে বিবেচনা করে জনগনের সকল চিন্তা নিজেরে কাঁধে নিয়ে নিয়েছেন।

একজন মোটামুটি নিজেকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে কথা বলা শুরু করেছেন। আরেকজন জনস্বার্থে শত ষড়যন্ত্ররের মধ্যেও নির্বাচনে গিয়ে জনগনের সাথে থেকে মানুষের অধিকারের জন্যে কাজ (!) করতে চান - যদি নির্বাচন পিছানোসহ অন্তত দুইটা দাবী মানা হয়।

শুনে আমাদের মিডিয়া ধন্য - আমরা ধন্য - উনারা শেষ পর্যণ্ত রাজী হয়েছেন নির্বাচনে যাবেন। জনগন কৃতার্থ হলেন উনার মুখ-নিসৃত বানী শ্রবন করে।

(২)

আমি একজন মানুষ - দুই দেশের নাগরিক - দুইটা সফটওয়্যার চালাতে হয় মগজের ভিতরে। দিনে দিনে মনে হয় সফটওয়্যার দুইটার ভার্সানের তফাৎটা অনেক বেড়ে যাচ্ছে। এখন হয়তো একটা বাদ দিতে হবে। গত দুই বছরের মনে হচ্ছিলো বাংলাদেশের অপরেটিং সিস্টেমটা কিছুটা আপগ্রেড হয়েছে। কিন্তু এখন দেখছি তা হয়নি। আমাদের জ্ঞানী লোকজন দুই বছরের সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে - যেখানে তাদের সাফল্যগুলো নিয়েই কথা বলার কথা। যে নির্বাচনে গিয়ে নির্বাচকদের সামনে দাড়াতে চায় তাকে বাদ দিয়ে যে যেতে না চায় তাকে নিয়ে আমাদের বেশী আগ্রহ। আর অতীতের অপর্কম নিয়ে তো এদের কোন অনুশোচনা তো দুর কি বাত - সামান্য লজ্জিত ভাবও নেই। এতো নেতীবাচক চিন্তা আর কর্মকান্ড হয়তো পৃথিবীর আর কোথাও চাষ হবে না।

জন্মসত্রে আমি বাংলাদেশের নাগরিক হলেও ভোটার না। কোটি কোটি টাকার রেমিটেন্স পাঠিয়ে দেশের বৈদেশিক মু্দ্রার বিজার্ভকে মোটাতাজা করার পরও আমার মতো প্রবাসীদের মতামতের বা ভোটের অধিকার নিয়ে স্বঘোষিত ত্রানকর্তারা চিন্তিত নয় - অবশ্য যদি হজ্জযাত্রী হতাম তাইলে ভিন্ন কথা ছিলো।


যাই হোক - রাজনৈতিক দলের আড়ালে দুইটা মাফিয়া চক্রের সক্রিয়তার শুরু হলো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আর জনগন ধন্য হবে যদি উনারা নির্বাচনটা শেষ ফলাফলটাকে মেনে সংসদে গিয়ে কিছু সময় ব্যয় করে দেশের জন্যে কিছু কার্যকরী আইন প্রনয়ন করে।

সর্বশেষ এডিট : ২০ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:১২
১৪টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×