somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গাজায় কি হচ্ছে।

০৭ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইসরায়েল ২০০৬ এ লেবাননে যে পরাজয় বরন করেছে - তাতে ইসরায়েল নামক কৃত্রিম রাস্ট্রের নিরাপত্তা বিষয়টা দারুন হুমকীর সন্মুখীন।

ইসরায়েলের নাগরিকদের অধিকাংশেরই একাধিক দেশের নাগরিকত্ব আছে। এদের ধর্ম আর আর্থিক নিরাপত্তার প্রলোভন দেখিয়ে সমগ্র বিশ্ব থেকে আনা হয়েছে। বিশেষ করে অধিকৃত ভূমিতে যারা বিশেষ ব্যবস্থায় বসবাস করছে - এরা কোন ভাবেই দ্বিতীয় দেশের সাথে তাদের সম্পর্ক ছেদ করে না।

হেজবুল্লার কাছে পরাজয়ের পর ইসরায়েরের অধিবাসীদের মধ্যে অনেকেই ফিরে যাচ্ছে তাদের আদিবাসে। ইসরায়েরের জন্যে এই নেতিবাচক মাইগ্রেশন একটা ভয়াবহ বিষয়। বিশেষ করে প্রতি বছর ২ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সাহায্য আর কুটনৈতিক সমর্থন পেয়েও ইসরায়েলী রাজনীতিকরা তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে। এদের একটা বড় অংশই দূর্নীতিতে ডুবে গেছে।

ইসরায়েল ইহুদীদের অভিবাসন বাড়ানোর চেষ্টা করার পরও গত বছর এই অভিবাসনের পরিমান কমেছে ৮%। আরেকটা তথ্য বেশ গুরুত্বপূর্ন তা হলো -

ইসরায়েলের ইহুদী অধিবাসী ৭৬% আর আরব ২৪%। ইহুদীদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.৩% অন্যদিকে আরবদের বৃদ্ধির হার ২.৪%।

এই বিষয়টি দেখরে বুঝা যাবে - ইসরায়েল রাষ্ট হিসাবে টিকে থাকার জন্যে অভিবাসনের উপর কতটা নির্ভরশীল।

এখন দেখা যাচ্ছে - প্রতিবেশী দেশগুলোর উপর শক্তি প্রয়োগ করে টিকে থাকা একটা দেশের জনগোস্ঠী সেই দেশের সামরিক শক্তির উপর তাদের নিরাপত্তার জন্যে পরিপূর্ন নির্ভরশীল। বলা হয় পৃথিবীর সব দেশের একটা সেনাবাহিনী আছে - কিন্তু বিশ্বের একটা সেনাবাহিনীর একটা দেশ আছে - নাম ইসরায়েল।

ইসরায়েলের সেনাসদস্যের একটা বিরাট অংশই দেশের বাইরে বসবাসকারী পার্টটাইম সৈন্য - যা আবার অভিবাসের উপর নির্ভরশীল। ইসরায়েলের নাগরিকত্ব নিতে চাইলে একজন কানাডিয়ান বা আমেরিকান ইহুদীর অবশ্যই সেনাবাহিনীতে নাম লিখাতে হবে।


এখন দেখা যাক দেশের ভিতরের রাজনীতির বিষয়গুলো। আরিয়াল শ্যারনের প্রস্তানের পর মুলত দেশে নেতৃত্বের সংকট চলছে। কাদিমা পার্টির নেতা লিপ্পি যদি্ও প্রধান মন্ত্রী হওয়ার কথা কিন্তু কোয়ালিশনের শরিকরা তাকে যথেস্ঠ " টাফ" বিবেচনা না করায় কয়েকমাস পরে নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে যেন লেবাননের পরাজয় বিষয়টা মুল হিস্যু না হয়ে - তাই ক্ষমতাশীন কাদিমা পার্টি নিজেদেরকে বিজয়ী দেখানোর জন্যেই এই মুহূর্তে গাজার উপর এই বিপর্যয় তৈরী করেছে।

গত একবছর যাবত সম্পূর্ন অবরুদ্ধ এই ছোট্ট ভূখন্ডের ১৫ লক্ষ অধিবাসীর অপরাধ হলো দূর্নীতিগ্রস্ত পিএলওকে ভোট না দিয়ে হামাসকে ভোট দিয়েছে।

পৃথিবীতে যত মানবাধিকারের সংজ্ঞা তৈরী হয়েছে - তার সবগুলোই লংঘনকরা ইসরায়েলের কর্মকান্ডের মৌখিক নিন্দা জানাতে ব্যর্থ বিশ্বের একমাত্র পরাশক্তি আমেরিকার ক্ষমতার নাটাইয়ের সুতা যে ইহুদী লবীর হাতে এই বিষয়টি সবার জানা। কিন্তু এরা যে খুব দ্রুততার সাথে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ওবামার মুখে একটা কুলুপ এটে দিতে পেরেছে - তা দেখে সত্যই অবাক হলাম। দূর্ভাগ্যের কথা হলো গাজায় এই বিপর্যয়ের জন্যে কনজারভেটিভ কানাডার সরকার হামাসকে দায়ী করেছে। কি আর বলবো।

মনে হচ্ছে জন্মই প‌্যালেস্টাইনীদের আজন্ম পাপ। পাশের দেশ মিসর - যেখানে এক দালাল বসে আছে ক্ষমতায়। আর মধ্যপ্রাচ্যের রাজাবাদশাদের কথা বলার প্রয়োজন নেই। অন্যদিকে ইউরোপীয়ানরা ইহুদীদের কৌশলে ইসরায়েলে পাঠিয়ে দিয়ে হাত ধুঁয়ে বসে আছে।

এজন সাধারন মানুষ হিসাবে টিভির পর্দায়ে ভেসে উঠা ভয়অবহ দৃশ্যগুলো দেখি আর নিজের অক্ষমতায় কাতর হই। একজন প‌্যালেস্টাইনী বৃদ্ধ এই বিপর্যয়ের ভিতরেও বলছিলো -আমেরিকা বা ইসরায়েল সর্বশক্তিমান নয় - সর্বশক্তিমান হলো আল্লাহ।

ভাবছি - আল্লাহ ছাড়া কি আর কেউ প‌্যালেস্টাইনীদের রক্ষা করতে পারে - বিজয়ী করতে পারে।

আল্লাহ প‌্যালেস্টাইনীদের সহায় হউন।

সুত্র: Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১১:৩৭
৫৭টি মন্তব্য ২০টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×