somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যথেষ্ঠ হয়েছে - এবার থামুন!

০৩ রা মার্চ, ২০০৯ ভোর ৬:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

২৫ ই ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশে একটা ঘটনা ঘটেছে। যাকে অনেকে বিডিআর বনাম আর্মি দ্বন্দ হিসাবে দেখাতে চাইলেও প্রকৃত পক্ষে এইটা আর্মির আভ্যন্তরীন দ্বন্দ হিসাবে দেখা যৌক্তিক। কৌশলগত কারনে বর্ডারে আর্মি যেতে পারে না - তাই বিডিআরের সৈন্যদের ভিন্ন ভাবে দেখানো হয় - দেখানো হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের অর্ধীনে। কিন্তু জন্মলগ্ন থেকেই এই বাহিনী আর্মির অধীনে কাজ করছে। এর সকল কর্তা আর্মির অফিসার। এদের ট্রেনিং আর কর্মপরিচালনা আর্মির নিয়মানুষারে হয়ে থাকে। সুতরাং আর্মির আরো দশটা ইউনিটের মতোই এই।

কিন্তু বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধার বিষয়ে সিপাহীরা পিছিয়ে থাকলেও বিডিআর কর্তারা কিন্তু আর্মির মতোই সযোগ সুবিধা ভোগ করে। তাই একটা বৈষম্য চলে আসছে শুরু থেকেই। তার উপর আর্মি কর্তাদের আচরন তাদেরকে সাধারন সৈনিক থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিলো। এই কথা সর্বজন বিদিত যে - আর্মি অফিসাররা বিডিআরকে ব্যবহার করেছে তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্যে। তাই একটা বিভক্তির খাল কাটা হয়ে আছে দীর্ঘ দিন যাবত। বেঁচে আসা অফিসাররা সবাই স্বীকার করেছে সৈনিকদের অষন্তোষের কথা। কিন্তু শুধু জানতো না গোয়েন্দারা। নাকি জেনেও বিষয়টা কুমির আসার জন্যে উন্মুক্ত করে রেখেছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পুরোপরুরি ব্যর্থ হয়েছে নিজেদের মধ্যে শৃংখলা বজায় রাখতে।অতীতে অনেকবার নিজেরা নিজেদের খুন করে তাদের উপর অর্পিত মুল দায়িত্ব রাষ্ট্রের নিরাপত্তাকে হুমকীর সন্তুখীন করেছে। বিপুল অংকের বাজেট পেয়েও একটা কার্যকর গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক সক্রিয় করতে ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু এই গোয়েন্দা সংস্থা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকান্ডের বিষয়টি আবিষ্কার করেছে।

অভ্যন্তরিন শৃংখলা ও নিজেদের গন্ডগোলের খেশারত দিতে হয়েছে জাতিকে। আর্মি অফিসার, বিডিআর সৈনিক আর সাধারন মানুষসহ অনেকে প্রান হারালো - দেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বন্ধ থাকলো।

বিনিময়ে আর্মিরা প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে ৪২ দফা দাবী আদায় করে নিলো। সেই দাবী গুলো কি - সেগুলো কেন সংসদে আলোচিত হবে না - এই বিষয়ে বিরোধীদল নিশ্চুপ থেকে টিভিতে ছবি দেখানো হয়নি বলে ওয়অক আউট করেছে।

বলে রাখা ভাল - একটা নির্বঅচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী সংঘাতের পথ এড়িয়ে আলোচনার পথে সমাধানের সিদ্ধান্ত অবশ্যই সঠিক ছিলো। বিশেষ করে আনসার বিদ্রোহ দমনের নামে সেনাবাহিনী যে হত্যাকান্ড চালিয়ে ছিলো - সেই বিবেচনায় বলা যায় - আজ হয়তো মৃতের তালিকায় আরো কযেকশত মানুষের নাম যুক্ত করতো। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ফলে ঘটনার সংগে ইচ্ছা বিরুদ্ধে জড়িয়ে পড়া বিডিআর সৈনিকরা বেঁচে গেছে আর বেঁচে গেছে অফিসারদের পরিবারও।

কিন্তু এই ইস্যুটি নিয়ে বিরোধী দল রাজনীতি করতে ছাড়েনি। অবাক হইনি - কারন জোট সরকারের মানুষ মারার প্রকল্প হিসাবে কুখ্যাত অপারেশ ক্লিনহার্ট আর ক্রশ ফায়ার সবার জানা। আইনের শাসনের বিষয়ে ওদের যে কোন শ্রদ্ধা নেই তা বলাই বাহুল্য।

এখন দেখছি সেনাবাহিনীও এই বিষয়টি ইস্যু করেছে। এরা বিডিআর সৈনিকদের খুন করতে না পারার ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে ৪২ দফা দাবী মানিয়ে নিয়েছে। এখন চলছে কে কত বড় আর্মির বন্ধ তা প্রমানের উলংগ প্রতিযোগিতা। কিন্তু চেই অফ কমান্ড মানার কথা সেনাবাহিনীর - আর নির্দেশ যদি ভুলও হয় তা নিয়ে প্রতিবাদ করার কোন অধিকার কি থাকে সেনাবাহিনীর। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী যেহেতু সিভিলিয়ান তাই তার নির্দেশ নিয়ে বিতর্ক করা যায় বোধ হয়। বন্দুকে জোরে গনতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দূর্বল করে কাজটা ভাল করছে না সেনাবাহিনী।

এখন সেনাবাহিনী নিজে নেমেছে বিডিআর ধরতে। একটা কথা সবাই স্বীকার করেছে - সকল বিডিআর ঘটনার জন্যে দায়ী নয়। কিন্তু যারা সরকারের নির্দেশে কাজে যোগদানের জন্যে এসে বসে আছে খেলার মাঠে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে - বাকীদের ধরতে সেনা নেমেছে।

বিষয়টা মনে হচ্ছে বাড়াবাড়ির পর্যায় অতিক্রম করেছে।

রেবেল হান্টের নামে যদি আর একটা মানুষ মারা যায় - তার দায় দায়িত্ব সেনাবাহিনীকে নিতে হবে। দেশে আভ্যন্তরীন বিষয়ে দেখাশুনা করার জন্যে আছে পুলিশ। পুলিশের উপর নির্ভর না করে সেনাবাহিনী নিজে নেমে যদি কোন সীমা লংগন করে তবে মানুষের যে সমর্থন এরা পাচ্ছে তা হারাবে।

তাই বলছি - গোয়েন্দার বাহিনীর ব্যর্থতার কানে তাদের কোর্ট মার্শাল না করে - দায়দায়িত্ব বেসামরিক নির্বাচিত সরকারের উপর চাপিয়ে দিয়ে দফা বাস্তবায়ন করে সেনাবাহিনী আবারো পুরোনো রাষ্তা হাটলো।

অনুরোধ করছি - এবার থামুন। স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যণ্ত দুই জন রাষ্ট্রপতি হত্যা, নিজেদের কোন্দলে শত শত সদস্য হত্যা, দুইজন সামরিক শাসককে সমর্থন দিয়ে সেনাবাহিনী এখন মানুষের প্রশ্নের সন্মুখিন। অনেক প্রশ্নের জবাব মানুষ খুখে বেড়ায় - সবাই দূর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হলেও সেনাকর্তারা কেন অভিযুক্ত হননা, কেন সেনাবাহিনীর সদস্য কর্তৃক নির্বিচারে ছাত্র নিগ্রহের বিচার হয়না ইত্যাদি।

বছরে সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে পোষা এই বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তাই এখন সময় এসেছে। আপনারা থামুন। দরজা বন্ধ করে বসে সোল সার্চিং করুন। তারপর অতীতের কর্মকান্ডের জন্যে ক্ষমা চান শ্রমজীবি মানুষের কাছে ক্ষমা চান কৃষকের কাছে। ক্ষমা চান শ্রমিকের কাছে। যাদের হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রমের অর্থ তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবার নামে তাদের উপর প্রভৃ হয়ে লাঠি ঘুড়াচ্ছেন। সাধারন মানুষের রক্ষক হউন।

নতুবা দেখেছে তো - দেওয়ালের লিখন ফুটে উঠেছিলো একদিনে জন্যে। এখন শহুরে সুবিধাবাদীদের চাটুকারীতায় হয়তো কিছুটা গোলাপী রং দেওয়ালের লেখা ঢেকে ফেলেছে। কিন্তু লেখাগুলো দেওয়ালেই আছে। পড়তে চেষ্টা করুন। ৩০% নিরন্ন মানুষের দীর্ঘশ্বাস কিন্তু বড়ই নির্মম। এই অভিশাপ থেকে বাঁচতে হলে - সাধারন মানুষের কাতারে নেমে আসুন।


সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মার্চ, ২০০৯ সকাল ৮:১২
১৯টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:২৫



ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে। এই স্থানটি খুবই নিরিবিলি। দেশের আইন-শৃঙ্খলার অবস্থা খুবই খারাপ। এমন ফাকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×