শিরোনাম দেখে অনেকে হয়তো অবাক হবেন - সমাজের শ্রেনী নির্ধারনের বা বহিঃপ্রকাশের তোয়ালের মতো একটা জিনিস কিভাবে ভুমিকা রাখে। তোয়ালে মুলত একটা রাথরুমের অপরিহার্য উপাদান হিসাবে বিবেচিত হবে- যা গামছা নামক একট দেশী বস্ত্রেনর উন্নতমানের সংস্কারন বটে।
তোয়ালের মাধ্যমে সামাজিক মর্যাদা প্রদর্শনের বিষয়টা প্রথম নজরে আসে যখন চাকুরীতে ঢুকি। অফিসে বসার প্রথম সপ্তাহই দফরের প্রধান কেরানী এসে একটা তালিকা দেখালো - তাতে অফিসে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্যে চায়ের কাপ, পানির গ্লাস, ড্রয়ারে তালার সাথে তোয়ালে দেখে অবাক হয়েছিলাম। জানতে চাইলাম তোয়ালে কেন? উত্তরে ভদ্রলোক জানালেন - তোয়ালে অফিসের অবিচ্ছেদ্য অংশ বটে।
উনি তোয়লে বিষয়ক একটা নাতিদীর্ঘ বত্তৃতা দিলেন। জানলাম তোয়ালের জন্যে বাৎসরিক বাজেট বরাদ্ধ আছে। এই অর্থের পরিমান নির্ভর করে পদের গুরুত্ব ও জোষ্ঠ্যোতার উপর। যেমন কেরানীদের মধ্যে প্রধান কেরানী শুধু তোয়ালে পাবে - এবং তার সাইজ আর দাম হবে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে দফতর প্রধান পাবেন সবচেয়ে দামী আর বিদেশী তোয়ালে। সেগুলো চেয়ারের পিছনে থাকবে।
আমার জন্যে যখন তোয়ালে কেনা হলো - রশিদ দেখে একটু হাসতেই হলো। পঞ্চাশ টাকা দামের তোয়ালে কেনা হয়েছে একশত বিশটাকা দামে - অর্থাৎ ১৪০% চুরি হয়েছে একটা জিনিস কেনার জন্যে। আইনতগ ভাবে আমি তখন ১৫০ টাকা পেতে পারতাম তোয়ালে কেনার জন্যে।
প্রশ্নটা আজও মাথায় ঘুরছে - একজন কর্তাকে কেন তোয়ালে পেতে বসে থাকতে হবে? কোথা থেকে এই ধারনার প্রবর্তন হলো? বছরে কতটাকা সরকারী তহবিল থেকে ব্যয় হয় বাথরুমের একটা সরঞ্জামকে দফতরের কর্তাদের চেয়ারে পেছনে পাতার জন্যে? এই বিষয়গুলো গবেষনা যোগ্য বটে।
মজার বিষয় হলো - দেশ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে - কিন্তু আজও যখন দেখি প্রচন্ড গরমের মধ্যে স্যুটেট-বুটেট হয়ে তোয়ালে পেতে বসে থাকতে - নিশ্চিন্ত হয়ে বলে দিতে পারি এরা সরকারী চাকুরীজীবি। আর তোয়ালের সাইজ দেখে বলা যায় তুলনামুলক ভাবে উনি কতটা উপরে বা নীচে পদায়িত আছেন।
তবে শ্রেনী বিভক্ত সমাজে অভিজাত্য প্রকাশের এই হাস্যকর প্রয়াসের মাধ্যমে বছরে যে বিপুল পরিমান অর্থব্যয় হয় - তা কিন্তু উপেক্ষা করা যায় না।
(কৃতজ্ঞতা - আমার ব্লগে প্রকাশিত পোস্টে সাঈদ সরকারী খাত থেকে বছরে ১২ কোটি টাকা খরচ করে সরকারী কর্তাদের চেয়ারে পাতার জন্যে তোয়ালে কেনা হয় - এই তথ্যটা দিয়েছেন।)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

