সকালে ঘুম থেকে উঠে অভ্যাসবত ফেইসবুকে লগইন হয়ে দেখি সেখানে চলছে একটা আনন্দ উৎসবের মতো ঘটনা। কয়েকজন দ্রুত আপডেট দিচ্ছে - ভাই, দুইজন ভাই নিহত হয়েছে - দ্রুত শেয়ার করুন। লাইক দিন ইত্যাদি। ফেইসবুকের স্ট্যাটাসগুলো দেখে মনে হচ্ছিলো কিছু মানুষ তাদের "ভাই" বা "সাথী" লাশ পড়ার খবরে ভীষন উল্লসিত। মনে হচ্ছিলো দুইজন শিবির কর্মীর লাশ পড়ার জন্যে শিবিরের সমর্থকরা অপেক্ষা করছিলো।
খবর দেখার জন্যে টিভি অন করে মোটামুটি জানলাম চিটাগাং ইউনির্ভাসিটিতে ছাত্রলীগ- শিবির সংঘর্ষে দুইজন শিবির কর্মী নিহত। মনটা খারাপ লাগলো। সরকারী দল সরকারের ক্ষমতা ব্যয় করে এখন বিড়াল থেকে বাঘে রূপান্তরিত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। চিটাগাং হলো শিবিরের জমিদারী। সেখানে ১৯৭৮ থেকে আর কারো কর্তৃত্ব চলে না - সেখানে শিবির কর্মীকে হত্যা সত্যই ক্ষমতার দরকার। অবশেষে ছাত্রলীগ কি শিবিরের জায়গা নিয়ে সেই ক্ষমতার অধিকারী হচ্ছে!
অবশেষে দেখলাম ডেইলি স্টারের ছবিটি - না, শিবির কর্মীরা রুমে আক্রান্ত হয়নি, পরীক্ষার হলো আক্রান্ত হয়, ক্লাশ রুমে আক্রান্ত হয়নি। উনারা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে জেহাদে নেমেছিলেন। কিন্তু সমস্যা হলো আগে ভিসি থেকে শুরু করে পুরো প্রশাসন এবং পুলিশ সবাই শিবিরের সহযোগী শক্তি ছিলো। এখন যে "দিনকাল বদলাইছে" -কথাটা শিবিরের নেতাদের মনে ছিলো না।
তাই - এখন আর দুঃখ করি না। যারা স্বেচ্ছায় নিজের "আদর্শ"কে রক্ষা করতে সন্সুখ যুদ্ধে যায় - তারা অবশ্যই "খুন কর - না হয় খুন হও" এই নীতি জেনেই সন্মুখ সমরে যায় - সুতরাং কাউকে না খুন হতেই হবে। অবশ্যই শিবিরে সুবিধা হলো - এরা খুন হলে "শহীদ" এবং মগবাজারের বিশেষ সার্টিফিকেটে "বেহেস্তে" চলে যায়। আর ছাত্রলীগ মরলে বড় জোর একটা মিছিল আর কিছু ফুল পেতে পারে। কথাটা মনে রাখা দরকার - নিহত শিবিরের জায়গায় ছাত্রলীগও হতে পারতো - এবং অতীতে হয়েছেও - শিবির চিটাগাং বিশ্ববিদ্যালয়ে কব্জিকাঁটা, রগকাঁটা, খুন, গুম থেকে এমন কিছু নেই যা করেনি। সুতরাং একটা সময় তাদেরও কিছুটা পেতে হবে।
আর যারা সাধারন ছাত্রদের পড়াশুনার পরিবেশ নিয়ে মর্মাহত - তাদের জন্যে বলি - ছাত্ররাজনীতির নামে রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতার সিড়ি হওয়াকে যতদিন পর্যন্ত ছাত্ররা নিজেরা নিজেদের জীবন মরনের আদর্শ হিসাবে দেখবে - ততদিন এই প্রক্রিয়ার অবসান হবে না।
আর যতদিন নেতারা এয়ারকুলারে নীচে বসে বলবে - রাস্তায় নামো - আর ছাত্ররা প্রশ্ন করতে পারবে না - কেন? ততদিন আমাদের দলীয় লেজুরবৃত্তির উপজাত হিসাবে মাঝে মধ্যেই দুইচারটা লাশ দেখতে হবে।
পরিবর্তনের জন্যে যতদিন মানুষের আকাংখাগুলো একটা সন্মিলিত স্রোতে রূপ না নিচ্ছে ততদিন এভাবেই ক্ষমতার পালাবদলে নেতানেত্রীরা লাশ দেখে পুলকিত হবে - তাদের ক্ষমতার যাওয়ার বা ক্ষমতা ধরে রাখার পথে এক একটা পদক্ষেপ হিসাবে সিঁড়ির ধাপ হয়ে থাকবে এই নির্বোধদের লাশগুলো।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সকাল ৮:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



