শিরোনামটির উত্স আমি নই। এটি নেয়া হয়েছে ৭ আগস্ট ২০১০, চ্যানেল আইতে প্রচারিত তৃতীয় মাত্রায় অংশগ্রহণকারী আলোচক অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি গোলাম রাব্বানীর বক্তব্য থেকে। সংবিধান সংশোধন ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে আলোচনার একপর্যায়ে হঠাত্ করেই অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি গোলাম রাব্বানী বললেন, ‘জাতীয় ঈদগাহ করাটা অধর্মের কাজ হয়েছে।’ বিষয়টি ওই দিনের দর্শক-শ্রোতারা ছাড়াও যে কারো কাছে বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো মনে হওয়া খুবই স্বভাবিক। আসলে, ইদানীং টিভি টকশোগুলোসহ তিনকোনা, চারকোনা, ডিম্বাকৃতি এবং গোলটেবিলে অনুষ্ঠিত আলোচনায় গাদা গাদা জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিদের মধ্যে কিছু কিছু মুখচেনা সরব বক্তা হঠাত্-হঠাত্ করেই কী সব যে বলে ফেলেন তা ভেবে ভেবে কূল-কিনারা করতে আমরা তথাকথিত ক্ষমতার উত্স জনগণ গলদঘর্ম হয়ে যাই। নাকানি-চুবানি খেতে থাকি দিনের পর দিন। বিচারপতি গোলাম রাব্বানী সাহেবের এহেন বক্তব্যটিও ঠিক সেরকমই একটা কিছু।
আসলে তিনি কথাগুলো সত্যিকার অর্থেই বুঝে বলেছেন কি না, তাত্ক্ষণিকভাবে তা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি গোলাম রাব্বানীর মতো দায়িত্ববান একজন ব্যক্তি কর্তৃক ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় কথার কথা (Passing remarks) বা মুখ ফসকে (Slip of tongue) কিছু একটা বলা কখনও কি আশা করা যায়? তাও আবার ধর্ম-অধর্মের মতো স্পর্শকাতর গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় নিয়ে? তাই তিনি আসলে বুঝে-শুনেই এহেন মন্তব্য করেছেন তা মোটামুটিভাবে ধরে নেয়া যায়। তবে আমার এ ধারণা ভুল প্রমাণিত হলে আমি সবচেয়ে বেশি খুশি হবো।
রাজধানী ঢাকায় জাতীয় ঈদগাহ হলো একটি জায়গা, যেখানে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় দুটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের দিন সমবেতভাবে ঈদের নামাজ আদায় করা হয়। এটিকে ঢাকা মহানগরীর কেন্দ্রীয় ঈদের জামাতও বলা হয়। আর ডজনে ডজনে ঈদগাহ তো রয়েছে খোদ ঢাকা শহরেই। তাই জাতীয় ঈদগাহ করা কীভাবে অধর্মের কাজ তা কোনোভাবেই অন্তত আমার কাছে বোধগম্য নয়। আর ঈদগাহে নামাজ আদায় করার বিষয়টি মুসলমানদের ধর্মীয় বাধ্যবাধকতাও (ওয়াজেব) বটে। মজার ব্যাপার হলো, জাতীয় ঈদগাহ সরকার কর্তৃক নির্দিষ্টকৃত ও নামকরণকৃত। তার পরও ইসলামী শরিয়াহ্র কিছু বিধি-বিধান তো আছেই। এখানে ঈদগাহ সম্পর্কিত অন্য সবকিছু খুঁটিনাটি বাদ দিয়ে হলেও আমার জানতে ইচ্ছা করে যে, ইসলাম ধর্মসহ অন্য সব ধর্মের কোন্ কোন্ ধারা-উপধারা মোতাবেক জাতীয় ঈদগাহ করাটা অধর্মের কাজ? বিষয়টি কি কোনোভাবেই সংবিধান সংশোধন ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পর্কিত?
আজকাল উদ্বেগজনকভাবে লক্ষণীয় যে, একটি বিশেষ মহল ধর্ম-অধর্ম বলতে শুধুই ইসলাম ধর্মকেই বোঝে। তাদের কথাবার্তা, যুক্তিতর্ক ও আচার-আচরণে মনে হয় বাংলাদেশসহ পৃথিবীতে ইসলাম ধর্ম ছাড়া অন্য কোনো ধর্মের অস্তিত্বই নেই। অথচ বিশ্বের বুকে আজও বাংলাদেশই একমাত্র দেশ, যেখানে নানামুখী উসকানি সত্ত্বেও যুগের পর যুগ ধরে সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সুবিদিত ও ঈর্ষণীয়ভাবে লক্ষণীয়, যা আন্তর্জাতিকভাবে উচ্চকিতও বটে। তবে এমন একটি অহেতুক হীন ধারণা ক্ষুদ্র স্বার্থান্বেষী মহলের থাকতেই পারে। কারণ, বাংলাদেশের শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ মানুষই ইসলাম ধর্মের অনুসারী। তাই অনুসারীদের আধিক্যের কারণে বাংলাদেশে ঐতিহ্যগত ইসলামী আচার-অনুষ্ঠান স্বাভাবিকভাবে বেশি বেশি করে লক্ষণীয় হওয়াই স্বাভাবিক।
যেমন একটু লক্ষ্য করুন পাঠকরা, আপনি যদি আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের রাস্তায় বের হন, তাহলে আশপাশে একক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে কী বেশি দেখতে পাবেন? নিশ্চয়ই, খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয় গির্জা। আবার ভারতের রাস্তায় নিশ্চিতভাবে হিন্দুদের উপাসনালয় মন্দির। আর বাংলাদেশে সন্দেহাতীতভাবেই মসজিদ হতেই হবে। এতে দোষের কী আছে, বলুন তো? রাজধানী শহর ঢাকাতে তো অগুনতি মসজিদ থাকার কারণে ঢাকা শহর মসজিদের শহর নামেও বহুল পরিচিত। তাহলে ঢাকা শহরকে মসজিদের শহর বলাও কি অধর্মের কাজ? যুক্তরাষ্ট্রে গির্জা বেশি আছে বলে কি অন্য ধর্মের অনুসারীরা সেখানে ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি পালন করে না? ভারতে মন্দির বেশি আছে বলে কি অন্য ধর্মের অনুসারীরা সেখানে ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি পালন করে না? বাংলাদেশের বেলায় কি এখনও এ ব্যাপারে ধর্তব্যের মতো কোনো ব্যত্যয় পরিলক্ষিত হয়েছে?
তাই এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যদি কোনোটিকে জাতীয় কিংবা কেন্দ্রীয় নামকরণ করা হয় তাতে কি মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে? চারদিকে ছিঃ ছিঃ রব উঠতে হবে? আসলে এহেন চিন্তাভাবনা একটি ক্ষুদ্র প্রভাবশালী স্বার্থান্বেষী মহলের ধর্মীয় বিষয়ে নিজেদের আলস্য, অনীহা, অক্ষমতা ও অদক্ষতাকে আড়াল করার সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা ও এক ধরনের হীনম্মন্যতা ছাড়া আর কিছুই নয়। এরা মূলত পাশ্চাত্যের সহজলভ্য ভোগসুখবাদ/প্রেয়বাদে (Hedonism) গা ভাসিয়েই জীবনের সব স্থূল পাওয়া নিশ্চিত জানতে/করতে চায়।
মূল কথা হলো, যারা দৈনন্দিন জীবনের রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারসহ সব কর্মকাণ্ডে ধর্মকে বাদ দিয়ে সবকিছু পাওয়ার আশা করে, তারা নিশ্চিতভাবে যেকোনো দেশের যেকোনো সমৃদ্ধ সমাজের পতিত অংশ— তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে। অধুনা সারা বিশ্বসহ বাংলাদেশের আশঙ্কাজনক সামাজিক দ্রুত অবক্ষয় ও উদ্বেগ/উত্কণ্ঠিত সামাজিক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তাই প্রমাণ করে। অদ্যাবধি ইতিহাসও তাই সাক্ষ্য দেয়। তবে অতীব দুঃখের ব্যাপার হলো, বিষয়টি নিয়ে এই দলে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি গোলাম রাব্বানীকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা ভাবতে আমার খুবই কষ্ট হয়। যেকোনো ভাবেই হোক, তিনি আমার অত্যন্ত কাছের জন হেতু বিষয়টি আমার জন্য খুবই বেদনাদায়ক ও লজ্জাকর।
উল্লিখিত টকশোতে আরও চটুল ও মুখরোচক যে বিষয়ের ঝড় উঠেছিল তা হলো, তথাকথিত সামপ্রদায়িক-অসামপ্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষতা-ধর্মহীনতা নিয়ে। আসলে বাংলা অভিধানে এগুলোর শাব্দিক অর্থ ও বিশ্লেষণ যাই থাকুক না কেন, এখানেও এই শব্দগুলো উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীজুড়ে তথা বিশেষ করে বাংলাদেশে শুধুই ইসলাম ও মুসলমানদের বিশেষ বিশেষ মহলের চোখে পড়ে। কারণ আগেই বলেছি, বাংলাদেশে শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ মানুষই ধর্মপ্রাণ মুসলমান। আর পৃথিবীজুড়ে ইদানীংকালে ইসলামই হলো একমাত্র দ্রুত বিস্তার লাভকারী ধর্ম। এই হলো ওদের মর্ম যাতনার একমাত্র কারণ। তবে অপ্রিয় হলেও সত্য যে, খোদ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপীয় দেশগুলোতে ইসলামের দ্রুত বিস্তার ঈর্ষণীয়ভাবে লক্ষণীয়। যুক্তরাষ্ট্রের এই তো সেদিনের পরিসংখ্যানে জানা যায়, আমেরিকার প্রতি পাঁচজনের একজন আমেরিকানের বদ্ধমূল ধারণা যে, তাদের প্রেসিডেন্ট বারাক হুসেইন ওবামা আসলেই একজন মুসলমান। আরও মজার ব্যাপার হলো, এসব দেশে ইসলাম গ্রহণকারীদের মধ্যে মহিলাদের সংখ্যাই বেশি। পশ্চিমা দেশগুলোর পরিসংখ্যানেও তাই বলে। অথচ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অভিযোগ করা হয় যে, ইসলামী অনুশাসনে নাকি নারী জাতিকে নিগৃহীত ও নির্যাতন করা হয়।
একটা কথা আমার খুবই জানতে ইচ্ছে করে! তা হলো, ইসলাম ও মুসলমান বলতেই সামপ্রদায়িক (Communal) ও মৌলবাদী (Fundamentalist) প্রশ্নটি বারংবার আসে কেন? তাও আবার যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশের মতো নজিরবিহীন ধর্মীয় সমপ্রীতির সমাজে, তথা দেশে। প্রেসিডেন্ট বারাক হুসেইন ওবামারা বাইবেল স্পর্শ করে শপথ নিয়েও কিন্তু সামপ্রদায়িক (ঈড়সসঁহধষ) ও মৌলবাদীর (ঋঁহফধসবহঃধষরংঃ) দোষে দূষিত হন না। অথচ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী তো কোরআন স্পর্শ করে শপথ নেন না। তার পরও আমাদের দৈনন্দিন ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ইসলামী অনুশাসন কঠোরভাবে মানতে ও ইসলামের সর্বজনীন ধর্মীয় মূল্যবোধের সুন্দর সুন্দর সহজ-সরল কথাগুলো বলতে গিয়ে সর্বক্ষণ সামপ্রদায়িক (Communal) ও মৌলবাদী (Fundamentalist) হওয়ার জুজুর ভয়ে থাকতে হবে কেন?
ধরুন, যদি কোনোদিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট মুসলমান, হিন্দু কিংবা বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী হন, তখন কি তারা তাদের নিজ নিজ ধর্মগ্রন্থ কোরআন, গীতা কিংবা ত্রিপিটক স্পর্শ করে শপথ নিতে পারবেন? ওদিকে কথিত অসাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদবিবর্জিত স্বপ্নের দেশ যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো মানের মুদ্রার ওপর লেখা থাকে, আমরা গডে বিশ্বাস করি (IN GOD WE TRUST)। একই চেতনায় (Spirit) বাংলাদেশি মুদ্রায় যদি আমরা লিখি, আমরা আল্লাহর বিশ্বাস করি (IN ALLAH WE TRUST), তাহলে কী হবে? আমি নিশ্চিত যে, তাহলে তথাকথিত সামপ্রদায়িক (Communal) ও মৌলবাদী (Fundamentalist) নামক ঝড়ের ডিজিটাল সংস্করণ সিডর/হারিকেন তাত্ক্ষণিকভাবে সমগ্র বাংলাদেশকে ওলট-পালট করে ফেলবে। নিশ্চিতভাবে চারদিকে ছিঃ ছিঃ রব উঠবে। আমাদের জাত, মান ও কুল সবই যাবে আর কি! বাংলাদেশ জুড়ে চারদিকে জং-জং ভাব বিরাজ করবে। পরিণামে প্রায় সব বাংলাদেশিকেই তথাকথিত জঙ্গি-জঙ্গি মনে করা হবে।
এখানে আমাদের অতি উত্সাহী তথাকথিত অসামপ্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ গোষ্ঠীর সুশীল জনরা বলবেন, বাংলাদেশে অন্য ধর্মাবলম্বীরাও বসবাস করে। তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতেও কি অন্য ধর্মাবলম্বীরা বসবাস করে না? এহেন বিষয়ে তাদের পরিস্থিতি অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের চেয়ে তুলনামূলক অনেক খারাপ হলেও শুধু আমরাই কেন সামপ্রদায়িক (Communal) ও মৌলবাদী (Fundamentalist) রঙে রঞ্জিত হচ্ছি? সব ধর্মেই তো কম-বেশি দুর্বৃত্ত ও হটকারী রয়েছেই। কিন্তু পশ্চিমা মিডিয়া ও তাদের দোসর দ্বারা কেন শুধুই মুসলমান হটকারীদের ফুলিয়ে-ফাপিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রচার-প্রপাগান্ডা করা হয়?
এই তো সেদিন, নিউইয়র্কের গ্রাউন্ড জিরোর কাছাকাছি ব্যক্তিমালিকানায় ইসলামিক সেন্টারসহ মসজিদ নির্মাণের প্রস্তাব প্রেসিডেন্ট বারাক হুসেইন ওবামাসহ নিউইয়র্কের মেয়র ব্লুমবার্গ সমর্থন করেছে। তাতেই যত ঝড়-টর্নেডো বয়ে যাচ্ছে তথাকথিত অসামপ্রদায়িক ও অমৌলবাদী তত্বের একচ্ছত্র দাবিদার ও ঝাণ্ডাধারী দেশ যুক্তরাষ্ট্রে। কী আহামরি অসাম্প্রদায়িকতার নমুনা? কী আহামরি ধর্মনিরপেক্ষতার উদাহরণ? কী উপভোগ্য ওদের রফতানি পণ্য, আহামরি গণতন্ত্র। প্রশ্ন হচ্ছে, টুইন টাওয়ার ধ্বংসের সঙ্গে ইসলামের সম্পর্ক কী? টুইন টাওয়ার ধ্বংস হওয়ায় কী ইসলাম মহীয়ান-গরিয়ান হয়েছে বা হবে? টুইন টাওয়ার ধ্বংসে যারাই জড়িত তারা দুষ্কৃতকারী। ইসলামের সঙ্গে দুষ্কৃতকারীদের কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে না। টুইন টাওয়ার ধ্বংসে জড়িত হাতেগোনা দুষ্কৃতকারীদের মধ্যে কেউ কেউ অথবা সবাই মুসলমান হলেও বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ মুসলমান কি তার জন্য দায়ী হবে? বিন লাদেন ও তার সহযোগীরা কি ইসলামের ঠিকাদার? দ্বিতীয় বিশ্বের সময় হিটলার ষাট লাখ ইহুদীকে (Jews) হত্যা করেছিল বলে কি বিশ্বের খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের দোষারোপ করতে হবে?
আসল বিষয়টি হলো, ‘যারে দেখতে নারে, তার চলন বাঁকা’। ওদের উদ্দেশ্য হলো, যে কোনো ভাবেই হোক ইসলাম নামক একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বীকে পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন করতে হবে। এই হলো যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পশ্চিমা বিশ্বের একমাত্র এজেন্ডা। আর আমাদের তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের একাংশ হলো এহেন ছাগলের ‘তিন নম্বর বাচ্চা’। আরও দুঃখজনক ব্যাপার হলো, ইরাক, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের বর্তমান অবস্থা দেখেও মধ্যপ্রাচ্যের অনেক মুসলিম প্রধান দেশ শুধু ব্যক্তি, পারিবারিক ও গোষ্ঠী স্বার্থ তথা রাজকীয় অহমিকায় আপাতত এহেন ছাগলের ‘তিন নম্বর বাচ্চা’ হয়ে বেঁচে থাকতেই বেশি নিরাপদ মনে করছে। কী উদ্ভট বাঁচার উপায় তথা অপচেষ্টা, ভাবুন তো পাঠকরা? একবিংশ শতাব্দীতেও এ ধরনের মানুষ নামের জীবগুলোর কী পরিমাণ অধঃপতন হয়েছে, তা ভাবতেই গা শিউরে ওঠে।
মূল কথা হলো, পৃথিবীতে কোনো ধর্মকেই তার অনুসারীদের শুধুই অপকর্ম দিয়ে বিচার করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অবিবেচকের কাজ এবং অগ্রহণযোগ্যও বটে। কোনো অনুসারীই কোনো ধর্মের একচ্ছত্র ঠিকাদার হতে পারে না। যে কোনো ধর্মকে বিচার করতে হবে সেই ধর্মের ঐশী গ্রন্থের নির্দেশনার আলোকে—মূল মন্ত্রের আলোকে। ইসলামের ক্ষেত্রে কোরআন ও হাদিস হলো চূড়ান্ত।
ইসলাম আল্লাহ তায়ালার পছন্দের ধর্ম। কোরআন বিশ্ব মানবতার জন্য সর্বশেষ ঐশী গ্রন্থ। আর রাসুল (সা.) বিশ্ব মানবতার জন্য আল্লাহ প্রেরিত সর্বশেষ নবী ও রাসুল। কোরআনের উদ্ধৃতি অনুযায়ী বাকি সব ঐশী গ্রন্থ ও নবী-রাসুলরা বিশেষ বিশেষ এলাকা, বিশেষ বিশেষ গোষ্ঠী ও সীমিত সময়ের জন্য পৃথিবীতে এসেছিলেন। মজার ব্যাপার হলো কোরআনই একমাত্র ঐশী গ্রন্থ, যাতে বলা হয়েছে, যে মুসলমান আল্লাহ প্রেরিত অন্যান্য ধর্মের ঐশী গ্রন্থ ও অন্যান্য নবী-রাসুলদের মান্য করে না, সে মুসলমানই নয়। এই হলো কোরআন ও ইসলামী বদান্যতার সামান্যতম প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
সবশেষে পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি নিয়ে হলেও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি গোলাম রাব্বানীর কাছে আমার নিবেদন এই যে, পৃথিবীতে আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত সব সত্য সত্যই, সব মিথ্যা মিথ্যাই। সত্যকে মিথ্যা দিয়ে আর মিথ্যাকে সত্য দিয়ে কখনোই ঢাকা যায়নি আর যাবেও না। সত্য বিষয়টি সময়ের ব্যবধানে প্রমাণিত হবেই। এ জন্য কোরআনের সেই চির সত্য বাণীই প্রণিধানযোগ্য। যেখানে বলা হয়েছে, ‘ওয়াক্কল জ্বাআল হাকস্ফকস্ফু ওয়া যাহাকস্ফাল্ বাত্বিল্; ইন্নাল্ বাত্বিলা কানা যাহুকস্ফা’ (সূরা-১৭ : বনী ইসরাইল, আয়াত-৮১)। অর্থাত্, ‘বলুন! সত্য সমাগত, মিথ্যা দূরীভূত। নিশ্চয়ই, মিথ্যা দূরীভূত হবেই।’
সমস্যাসঙ্কুল আজকের এই পৃথিবীতে এটুকুই আমাদের একমাত্র নিশ্চিত ভরসা হয়ে থাক। আল্লাহ তায়ালা তাঁর অপার করুণায় আমাদের সবাইকে হেদায়েত দান করুন। আমাদের সবারই সহায় হোন—আমীন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

