অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছেন আশুলিয়া বেড়িবাঁধসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা। গতকাল তারা ৯টি নৌকা পুড়িয়ে ফেলেছেন। ওই সব নৌকায় নদীতে ভ্রমণের নামে দীর্ঘদিন দিন ধরে আশুলিয়াসংলগ্ন তুরাগ নদীতে অসামাজিক কার্যকলাপ চলে আসছিল। এ অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ঘিরে প্রায়ই ধর্ষণের ঘটনাও ঘটে আসছে ওই এলাকায়। বেড়ে গেছে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইসহ অন্যান্য অপরাধও। স্খানীয় বাসিন্দারা বলেছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকার অসামাজিক কার্যকলাপের ব্যাপারে পুলিশকে অবহিত করে আসছিলেন। কিন্তু পুলিশ কর্ণপাত করেনি। তাদের অভিযোগ, এ অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ঘিরে ওই এলাকায় একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যাদের কাছ থেকে পুলিশ নিয়মিত বখরা নেয়।
বেড়িবাঁধসংলগ্ন বাসিন্দা আলী আশরাফ নয়া দিগন্তকে বলেছেন, বেড়িবাঁধসংলগ্ন এলাকায় বসবাস অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এক সময় ওই এলাকার মানুষ দারুণ স্বাচ্ছন্দ্যে দিন যাপন করতেন। এখন অপরাধীদের হাতে তারা জিম্মি। এর মূলে রয়েছে অসামাজিক কার্যকলাপ। বেড়িবাঁধসংলগ্ন তুরাগ নদী এবং দুই পাশের জমি বৃষ্টির দিনে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। আর এ সময়ই অনৈতিক কর্মকাণ্ড বেড়ে যায়। বেড়িবাঁধের পাশে বাঁধা থাকে শত শত নৌকা। ছইওয়ালা ওই সব নৌকার ভেতরেই ঘটে অনৈতিক কর্মকাণ্ড। নৌকা ভ্রমণের নামে তরুণ-তরুণীরা ওই সব নৌকা ভাড়া করে নদীর ওপারে চলে যায়, যার আশপাশে শুধু থৈ-থৈ পানি। মাঝি সেখানে নৌকা বেঁধে রেখে অন্য কোনো নৌকা দিয়ে সে আবারো বেড়িবাঁধে চলে আসে। আর ওই তরুণ-তরুণীরা তখন লিপ্ত হয় অনৈতিক কর্মকাণ্ডে। স্খানীয় সূত্র জানায়, এখানে যেমন নৌকা ভাড়া পাওয়া যায়; তেমনি টাকার বিনিময়ে তরুণীও পাওয়া যায়। অনেকে সেখান থেকে টাকার বিনিময়ে তরুণী নিয়ে নৌকায় ওঠে। সময় শেষ হয়ে গেলে মাঝি গিয়ে তাদেরকে কিনারে নিয়ে আসে। ঘন্টা চুক্তিতে তরুণ-তরুণীরা নৌকায় ওঠে।
এ দিকে এ অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ঘিরে প্রায়ই ঘটছে জঘন্য অপরাধ। মাঝিরা যখন তরুণ-তরুণীদের নদীর ওপাড়ে দূরে কোথাও রেখে আসে তখন অপর কোনো নৌকায় করে দুর্বৃত্তরা সেখানে গিয়ে তরুণীদের ধর্ষণ করে। স্খানীয় সূত্র জানায়, প্রায়ই এরূপ ঘটনা ঘটে আসছে। এ ছাড়াও নৌকাগুলোতে ছিনতাইয়ের ঘটনাও প্রায়ই ঘটছে। এ অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ঘিরে বেড়িবাঁধসংলগ্ন এলাকাগুলো অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে গড়ে উঠছে। বখাটে ও মাস্তানদের ভিড় দিন দিন বাড়ছে। সূত্র জানায়, নৌকা ছাড়াও বিনোদন স্পটের নামে বেড়িবাঁধের দুই পাশে টঙ রেস্তরাঁ গড়ে উঠেছে। পানির মধ্যে গড়ে ওঠা ওই সব রেস্তরাঁয় খুপরি ঘর রয়েছে। যেসব ঘরের মধ্যে কী হচ্ছে তা বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই। ওই সব টঙ রেস্তরাঁয়ও অসামাজিক কার্যকলাপ হচ্ছে।
স্খানীয় সূত্র জানায়, এসব অপরাধের ব্যাপারে স্খানীয়ভাবে দীর্ঘদিন ধরে থানা পুলিশ ও র্যাবকে অবহিত করে আসছেন তারা। কিন্তু কোনো প্রতিকার মিলছে না। সঙ্ঘবদ্ধ সিন্ডিকেট সবাইকে ম্যানেজ করেই এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। স্খানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুলিশ ওই সিন্ডিকেটের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোয়ারা নিচ্ছে। এ কারণেই তাদের বিরুদ্ধে কোনো অ্যাকশন নেয় না পুলিশ। ওই লোকজন জানান, বাধ্য হয়েই তারা অনৈতিক কাজে ব্যবহৃত নৌকাগুলোতে গতকাল শনিবার সকালে আগুন লাগিয়ে দিয়েছেন। তারা মোট ৯টি নৌকায় আগুন লাগিয়েছেন বলে স্খানীয় সূত্র জানায়।
এ দিকে পুলিশ জানিয়েছে, এর আগে তাদের স্খানীয় লোকজন অভিযোগ করেননি। পুলিশের বক্তব্য, ক্ষতিগ্রস্ত নৌকার মাঝিরা থানায় মামলা করলে তারা মামলা গ্রহণ করবেন। স্খানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় পুলিশ ক্ষেপে গেছে। তাদের ব্যবসা বìধ হওয়ার আশঙ্কায় তারা স্খানীয় লোকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের কথা বলছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই অক্টোবর, ২০১০ সকাল ৯:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



