শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনা সভায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী শিক্ষক সিন্ডিকেট সদস্য, বাংলা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক চৌধুরী জুলফিকার মতিন মওলানা ভাসানী সম্পর্কে ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মওলানা ভাসানী ছিলেন মানসিক ভারসাম্যহীন। তার মাথা ঠিক ছিল না। তিনি সবসময় পাগলের প্রলাপ বকতেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধকালীন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গুপ্তচর ছিলেন।
গতকাল শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনা সভায় রাবির ওই অধ্যাপক মওলানা ভাসানী সম্পর্কে এ ধৃষ্টতাপূর্ণ মন্তব্য করেন। সকাল সাড়ে ১০টায় রাবি প্রশাসনের উদ্যোগে সিনেট ভবনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। রাবি ভিসি অধ্যাপক
এম আবদুস সোবহানের সভাপতিত্বে এবং জনসংযোগ দফতরের প্রশাসক প্রফেসর চিত্তরঞ্জন মিশ্রর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন রাবির ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রফেসর ইমেরিটাস এবিএম হোসেন। এছাড়া আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন রাবির প্রো-ভিসি প্রফেসর মুহম্মদ নুরুল্লাহ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।
রাবির ওই অধ্যাপক আরও বলেন, ভাসানী মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। ১৪ ডিসেম্বরের ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা ছিল। তিনি বেঁচে থাকলে হয়তোবা তাকেও বিচারের সম্মুখীন হতে হতো। অধ্যাপক জুলফিকার ’৭১ সালের বুদ্ধিজীবী ও আধুনিককালের বুদ্ধিজীবীদের তুলনাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. এমাজউদ্দীন সম্পর্কেও কটূক্তিপূর্ণ মন্তব্য করেন।
এদিকে মওলানা ভাসানী সম্পর্কে রাবি অধ্যাপক ধৃষ্টতাপূর্ণ মন্তব্য করায় এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট। ছাত্রদল রাবি শাখা আহ্বায়ক আরাফাত রেজা আশিক অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। ছাত্রফ্রন্ট সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় কোনো ব্যক্তি মওলানা ভাসানীর অবদানকে অস্বীকার করতে পারেন না। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন উপাচার্যের উপস্থিতিতে রাবি প্রফেসরের এমন ধৃষ্টতাপূর্ণ উক্তি বাঙালি জাতির কাছে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




