somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঢাবি ছাত্রলীগের সংঘর্ষ আধিপত্য প্রতিষ্ঠাই কারণ

২৬ শে এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৫:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন হলে সরকার সমর্থক ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও গোলাগুলির কারণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠাই বলে মনে করছে পুলিশ।

মঙ্গলবার ভোরে হলের মধ্যেই এ সংঘাত হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শী ছাত্ররা জানিয়েছে। সংঘর্ষের সময় বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ও অন্তত ৩৫টি হাতবোমার বিস্ফোরণের শব্দও পাওয়া গেছে। ভাংচুর হয়েছে ১৩টি কক্ষ। আহত হয়েছে অর্ধশতাধিক।

সংঘর্ষের পর হলে তল্লাশি চালিয়ে একটি পিস্তল এবং কয়েকটি রামদা, রড ও লাঠিসোঁটা উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি করেছে হল কর্তৃপক্ষ।

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে ৬৫ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে এক জন ভর্তি হয়েছেন বলে ঢামেক ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মোজাম্মেল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান। তিন জনকে পাঠানো হয়েছে পঙ্গু হাসপাতালে।

কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে ছাত্ররা দাবি করলেন পুলিশ কর্মকর্তা মোজাম্মেল বলেন, কারো দেহেই গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. জামিল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "৭০ জনের মতো ছাত্র এখানে চিকিৎসা নিয়েছে। আহত বেশ কয়েকজনের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।"

আহতদের মধ্যে মাহি, হাসান ও আশিকের অবস্থা গুরুতর। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আহতের একটি তালিকা দিয়েছে, যার এক-তৃতীয়াংশই প্রথম বর্ষের ছাত্র।

শাহবাগ থানার ওসি রেজাউল করিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "মূলত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই হলের সভাপতির অনুসারী দুটি পক্ষের নেতা-কর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।"

তিনি বলেন, "মুহসীন হলের অবস্থান বেশ গুরুত্ব্পূর্ণ। এখান থেকে প্রশাসনিক ভবন খুব কাছে। ফলে বিভিন্ন টেন্ডারের কাজে প্রভাব রাখা যায় এ হল থেকে। আর সেই সব কারণে হলে নিয়ন্ত্রণ রাখতেই এ সংঘর্ষ।"

ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হল শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন মাহীর সমর্থকদের সঙ্গে হল শাখার যুগ্ম-সম্পাদক সোহাগ ও হল শাখার সহ-সম্পাদক রাহাতের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ বাধে। পরে পুলিশ গিয়ে কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে দুই পক্ষকে হটিয়ে দেয়।

সংঘর্ষের সময় হলের টিভি কক্ষ এবং অন্য ১২টি কক্ষ ভাংচুর হয় বলে হলের ছাত্ররা জানায়।

ছাত্ররা বলছে, সোমবার রাত ১২টার দিকে ছাত্রলীগের দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। এর পর রাত আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কেএম সাইফুল ইসলাম খান, মুহসীন হলের প্রাধ্যক্ষ আক্কাস আলী ও শাহবাগ থানার ওসি রেজাউল করিম তাদের মধ্যস্থতায় মিটমাট হয়।

সমঝোতার পর আপাত শান্ত হলেও ভোররাতে সোহাগ ও রাহাতের নেতৃত্বে ছাত্রলীগকর্মীরা মাহী গ্র"পের কর্মীদের কক্ষে কক্ষে গিয়ে হামলা চালায় বলে ছাত্ররা জানায়। ওই সময় মাহীর অনুসারীরা হলের টিভি কক্ষে অবস্থান নেয়। তখন ওই কক্ষের দরজা ভেঙে তাদের বের করে পেটানো হয়।

মুহসীন হল শাখা ছাত্রলীগের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "মাহী হল শাখা সভাপতি শেখ মুহাম্মদ আলী গ্র"পের নেতা। মাহী দলবলে ভারী হওয়ায় হলের অন্য গ্র"পের নেতা-কর্মীদের ওপর আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করতো। অন্য গ্র"পের কর্মীদের ছাত্রদল আখ্যা দিয়ে পিটিয়ে হল বের করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।"

"এসব কারণে অন্যান্য গ্র"পের কর্মীরা তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলো। এ ক্ষোভের কারণে তারা একযোগে মাহী গ্র"পের কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।"

সংঘর্ষের বিষয়ে প্রক্টর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "আমরা সমঝোতা করার পরও ছাত্ররা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও হলের কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।"

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় হলের আবাসিক শিক্ষক আবু তালেবকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আলী আক্কাস।

তিনি বলেন, "এই কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।"

সংঘর্ষের বিষয়ে ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ সোহেল রানা টিপু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "যারা এ ধরনের নৃশংস ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে"।

জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।



Click This Link
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×