somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইভটিজিং ও ধর্ষণ প্রতিরোধে ইসলামী লেবাস……

১৫ ই মে, ২০১১ বিকাল ৪:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আজকাল সংবাদ পত্রের পাতা উল্টালেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠে কিছু করুন মুখচ্ছবি। কিছু ক্ষতবিক্ষত, আহত, মর্মাহত মানুষের হৃদয়ের নিংরানো রক্তক্ষরণ। কানে বেজে উঠে বাতাসের মর্মর ধ্বনিতে তাদের আর্তনাদ যা গুমরে গুমরে প্রতিকারের প্রতীক্ষায় মানব সমাজের দ্বারে দ্বারে বার বার কেঁদে আসছে। ফিরে আসছে বিচারের বাণীর নিভৃত ক্রন্দনে। কাঁদে নির্যাতনের ইতিহাস, মানব সমাজে সংঘটিত ইভটিজিং ও ধর্ষনের ইতিহাস। সে ইতিহাসের প্রতিউত্তর দিতে পারেনি আজকের তথাকথিত সভ্য সমাজ। বরং আরো বাড়িয়ে তুলেছে। আরো বাজারজাত করেছে। আরো কারণে অকারণে মানুষকে পণ্য করে ইভটিজিং ও ধর্ষণের পথকে প্রশস্ত করেছে।

লোক লজ্জায় ও সামাজিক কারণে অধিকাংশ ধর্ষিতা ও ইভটিজিং এর শিকার নারীর মুখ পত্রিকার পাতায় আসে না। ঘরের চার দেয়ালের বাইরে তাদের আর্তনাদ পৌঁছে না। যা পৌঁছে তারও বিচার হয় না।

আর বিচার হলেও রাষ্ট্রে, সমাজে ও আদালতে ইভটিজিংয়ে শিকার ও ধর্ষিতাকেই প্রমাণ করতে হয় তার করুন বৃত্তান্ত। এ যেন আরেকবার ইভটিজিং ও ধর্ষনের শামিল। এর পরেও দু’একজন দুঃসাহসিক নারীর পদক্ষেপে মাঝে মধ্যে দু’একটার শাস্তির রায় পত্রিকার পাতায় পুণরায় আসে। কিন্তু বাকী গুলোর মৃত্যু আতুর ঘরেই হয়ে যায়।

ইভটিজিং ও ধর্ষণের ফলে নারীর নারীত্ব নষ্ট হয়। সামাজিক মর্যাদা ভুলুণ্ঠিত হয়। কুলুষিত হয় সমাজ। ভাঙ্গে সংসার, ভাঙ্গে মন, ভাঙ্গে প্রেম প্রীতি ভালবাসা। ইভটিজিং আর ধর্ষনের শিকার নারী বাঁচতে চায় না। লজ্জা, ভয়, ক্ষোভে মুখ দেখাতে চায় না। তাই অনেকে আবার নিজেই নিজেকে ধ্বংস করে। পৃথিবী থেকে আরো কলংক মাথায় নিয়ে বিদায় নেয়।

দিন দিন মানুষ যত সভ্য হচ্ছে, শিক্ষিতের হার যত বাড়ছে, প্রগতিশীল চিন্তার প্রসারতা লাভ করছে। ততই সামাজিক জীবনের মস্তিঙ্কে শয়তানে খরগ হস্ত চেপে বসছে। ততই বাড়ছে ইভটিজিংয়ের ব্যাপকতা। ততই বাড়ছে ধর্ষিতার সংখ্যা। ততই বাড়ছে বিকৃত রুচি। ফলে আজ পাঁচ কিংবা সাত বছরের শিশুও ধর্ষনকারী নামক পাশন্ডের হাত থেকে রেহায় পাচ্ছে না। তারাও বিকৃত কামনার বলি হয়। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা রাস্তা-ঘাট এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ইভটিজিং এর মুখোমুখি হয়। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠে ধর্ষনের সেঞ্চুরী উৎসব পালিত হয়।

অথচ সমাজ আছে, রাষ্ট্র আছে, আইন আছে, আদালত আছে, আছে আইন তৈরীর কারখানা সংসদ, আছে আইন তৈরীর লোকবল সাংসদরা, আইন তৈরী হচ্ছে, ঢাক ঢোল পেটানো হচ্ছে কিন্তু এসব কিছুর গালে চপেটাঘাত করে ইভটিজিং, নারী ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের হার দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। কিন্তু কেউ কি এর মুল রহস্য নিয়ে ভাবছে? ভেবে দেখছে এর মুল রোগটি কি এবং কোথায়? সত্য কথা বলতে গেলে কেউ তা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না। মাঝে মধ্যে সচেতন মহলের পক্ষ থেকে ইভটিজিং, নারী ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ব্যাপারে যে সমস্ত পদক্ষেপ নেয়া হয় তা যেন ভিতরে ঘা রেখে উপরে ব্যান্ডেজ করে চাপা দিয়ে রাখার মত হাস্যকর কর্মকান্ডেরই পুনরাবৃত্তি ।

আমাদের একটু তলিয়ে দেখতে হবে যে, সমাজ বিধ্বংসী, সমাজকে কলুষিত ও সমাজের মানুষের চরিত্র ধ্বংসের উৎপত্তি কোথায় এবং এর পিছনে কে বা কারা মদদ যোগাচ্ছে? সঠিক ব্যাপারটি চিহ্নিত করতে পারলেই আমাদের সমাজের এ কঠিন সমস্যার মুলৎপাটন সম্ভব।

নারী নির্যাতন, নারীর অবমূল্যায়ন, নারীর প্রতি অবিচার, ইভটিজিং, নারী ও শিশু ধর্ষণের মত কুৎসিত কাজে উদ্ধুদ্ধ করে বর্তমান সমাজের এমন কিছু ভয়াবহ চিত্র আজ চোখে পড়ে যা একজন সাধারণ বিবেক বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষকে চরম ভাবে আহত করে।

অশ্লীল চলচ্চিত্র, টিভি, ভিসিআর, ব্লু-ফ্লিম সহ হাজারও চরিত্র বিধ্বংসী উপকরণ সমূহের ব্যাপক ছড়াছড়ি মানুষের নীতি নৈতিকতার মূলে কুঠারাঘাত হানছে। প্রকাশ্য যৌন উন্মাদনার যে নগ্ন চিত্র টিভি, ভিসিআর এ প্রচার করা হচ্ছে, তা দেখে যুবক-যুবতীদের যৌন উন্মত্ততার বিকাশ ঘটছে।

রেডিও, টেলিভিশনে অশ্লীল ছায়াছবি ও বিভিন্ন যৌন আবেদনমূলক যে সব গান প্রচার করা হয়, নারী পুুরুষের অবৈধ সম্পর্কের যেসব চিত্র সেখানে প্রকাশ করা হয় তাও আমাদের সামাজিক আদর্শগত দিক থেকে ধ্বংসের ব্যাপারেই সহায়তা করছে। এর বাস্তব চিত্র আমাদের কচিকাঁচা শিশুদের জীবনেই লক্ষ্য করা যায়। শিশুদের স্বভাব হল, তারা যা শুনবে, দেখবে এবং শিখবে তাই বাস্তবে রুপ দিতে চেষ্ট করবে।

আজকের অশ্লীলতার ব্যাপকতার ফলে শিশুদের মুখ থেকে আমরা যে বাক্য গুলি শুনতে পাই তা যে কত ভয়ানক কল্পনাই করা যায়না। যে শিশুদের মুখ থেকে ‘ফুলের মত গড়বো মোদের জীবন’ শোনার কথা , এর পরিবর্তে ‘তোমাকে চাই শুধু তোমাকে চাই’, ‘তোমাকে বলার আরো কথা আছে’, ‘সজনী গো ভালবেসে এত জ্বালা কেন বলনা’ ইত্যাদি বাক্য সমূহ উচ্চারণ করতে শোনা যায়।

এ শিশুরা যুবকে পদার্পন করলে তাদের চরিত্র কিরুপ হবে তা কি একবার কল্পনা করা যায়? তারা যদি চরিত্র বিধ্বংসি কোন কাজে অংশ গ্রহণ করে তাতে আর আশ্চর্যের কি থাকতে পারে? তাদের দ্বারা আমাদের মা বোনেরা লাঞ্ছিত, অপমানিতা, নির্যাতিতা, ইভটিজিংয়ের শিকার ও ধর্ষিতা হবে এটা খুবই অস্বাভাবিক নয় কি?

আজকাল রাস্তায় হাটার সময় প্রায়ই বিভিন্ন দেয়ালে দেখা যায় ইংরেজী সিনেমার বিজ্ঞাপনের বড় বড় অশ্লীল পোষ্টার। রঙ্গীন এই পোষ্টার গুলোর কোন কোনটাতে প্রায় সম্পূর্ণ নগ্ন বস্ত্রহীন নর-নারীর স্থির চিত্র দেখা যায়। আলিঙ্গন, চুম্বন থেকে যত রকমের বেহায়াপনা থাকতে পারে তার সবই দেখা যায়। এসব দৃশ্য গুলো স্কুল কলেজে পড়–য়া কিশোর-কিশোরী, তরুন-তরুনী ও যুবক-যুবতী সহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ অবলোকন করে। ফলে সমাজে একশ্রেণীর অসুস্থ চিন্তার মানুষ তৈরী হয়। পরবর্তীতে তারা সমাজ ধ্বংসের কারণ হয়ে দাড়ায়।

সুন্দরী তন্বী তরুনীর নগ্ন কিংবা অর্ধনগ্ন ছবি যতই মোহময়ী হোক না তা কখনোই সমাজ ও সংস্কৃতির ধারক বাহক হতে পারে না এবং তা সুন্দর, সুস্থ সমাজ ও রাষ্ট্রের কাম্য হতে পারে না। অথচ অধিকাংশ পত্র পত্রিকার কোন না কোন পৃষ্টায় এ রকম অনেক দৃশ্য দেখা যায় এবং বিভিন্ন বিশেষনে বিশেষিত করে এগুলোকে উপস্থাপনও করা হয়। উদ্দেশ্য সমাজে তাদের অশ্লীলতাকে গ্রহনযোগ্য করে তোলা। উর্বশী এই নারীদেহ দোকানে দোকানেও দেখা যায় অথচ এই জঘন্য অশ্লীলতার বিরুদ্ধে জোরালো তেমন কোন প্রতিবাদ বা প্রতিরোধের কোন ব্যবস্থা নেই।

প্রচলিত সহশিক্ষা ব্যবস্থা যা ছাত্র ছাত্রীদেরকে অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, পরস্পরের প্রতি আকৃষ্টকরণ ও সর্বোপরি শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থি কাজে ধাবিত করে। বেপর্দা ও অশ্লীল চাল চলন আজ বেড়ে গেছে। পাশ্চাত্যের জুয়াড়ে ঘা ভাসিয়ে এক শ্রেণীর নারী দেহ প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা মেতে উঠেছে।এছাড়া বিভিন্ন প্রতিযোগিতার নামে নারীকে পণ্য হিসেবে বাজারে বিক্রয়ের পায়তারা চালানো হচ্ছে যা নারীর মান-সম্মান, ইজ্জত- আব্র“র প্রতি এক ভয়ানক পদক্ষেপ।

নারীমুক্তি ও নারী স্বাধীনতা কামীদের লিব টুগেদার, কন্ট্রাক মেরেজ ও নারী পুরুষের অবাধ মেলা মেশাকে উৎসাহ প্রদান। যে সকল নারী স্বাধীনতা ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার নামে, প্রগতি আর উন্নতির নামে অর্ধউলঙ্গ হয়ে মডেলিং করে বাণিজ্য করছে আর মুখরোচক স্লোগান দিচ্ছে “ আমার মন আমার দেহ যাকে খুশি তাকে দেবো” “ দেহ আমার সিদ্ধান্ত আমার ” “স্বামীর কথা মানব না ঘরে বসে থাকবো না” ইত্যাদি।

এসকল নারীবাদীদের আন্দোলনে ক’টি পরিবার ভাঙ্গছে, ক’জন নারী নির্যাতিত হচ্ছে, আর কেনই বা তালাকের পনিমাণ বেড়ে গেছে তার খোঁজ কেউ রাখে না। নারী স্বাধীনতার নামে যারা অসভ্য ও বর্বর কাজে লিপ্ত তাদের এ সকল কাজকে উৎসাহ দিলে মূলত নারী জাতির মেরুদন্ড ভেঙ্গে যাবে। নারী হারাবে তার সতীত্ব ও প্রকৃত নারী অধিকার। পাশ্চাত্যের নারী তার জড়ায়ুর স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে উচ্চকন্ঠ।

এ প্রবণতা যে কত ভয়াবহ তার জলন্ত প্রমাণ এইডস, সিফিলিস, গনোরিয়ার মত ভয়ংকর যৌন ব্যাধি। কিছু কিছু নারী অবাধ যৌন স্বাধীনতা নিয়ে মাতামাতি করলেও সেখানকার অভিজ্ঞ মহল আজ যৌনসংযমের নির্দেশ দিচ্ছে। সমাজে এ শ্রেণীর কিছু সংখ্যক নারীর অযৌক্তিক অধিকার আদায় করতে গিয়ে অনেক সময় বৃহৎ নারী গোষ্ঠির অধিকার ক্ষুন্ন করা হয় এবং নারী অধিকার ভুলুন্ঠিত হয়। আর সমাজের নারীর মর্যাদা বিলিন করে দেয়া হয়।

সম্প্রতি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ বাংলাদেশে এমন এক ঘটনা ঘটল। যে দেশের ৯০ ভাগ মুসলিম নারী। যারা নিজের রুপ লাবণ্য ঢাকতে, নরপশুদের থাবা থেকে বাঁচতে এমনকি আল্লাহর বিধান পালনার্থে পর্দা করে থাকে।

গত ২০ আগস্ট মহামান্য হাইকোর্ট হিজাব সংক্রান্ত রায়ে বলেন, কোন প্রতিষ্ঠানে কাউকে বোরকা পড়া বাধ্য করা যাবে না। এবং মেয়েদের যাবতীয় খেলাধূলা থেকে বিরত রাখা যাবে না। এর ফলে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ রায় কার অধিকার আদায় ও কার স্বার্থ রক্ষায় প্রদান করা হয়েছে?

শুধু তাই নয় যখন শিক্ষাঙ্গনে ইভটিজিং, নারী ধর্ষণ ও শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রীর শালীনতাহানী অহরহ ঘটছে ঠিক তখনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বোরকা পড়া বাধ্যতামূলক করা যাবে না মর্মে শিক্ষা মন্ত্রনালয় থেকে জারি করা হয় এক পরিপত্র। জনমনে এ ব্যাপারেও প্রশ্নের উদ্ধেগ হয়েছে কার স্বার্থে এবং কেন শিক্ষামন্ত্রনালয় এ ধরনের পরিপত্র জারি করল? মহামান্য হাইকোর্ট ও শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের এ রায়ে নারী জাতির অধিকার রক্ষা পাবে না ক্ষুন্ন হবে? এটাই এখন সুস্থ ও বিবেকবান মানুষের মনের প্রশ্ন? জ্ঞানী গুনীদের ধারণা এ আদেশের ফলে জনজীবনে অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, ধর্ষণ, ইভটিজিং এর বন্যা প্রবাহিত হবে।

বিজ্ঞজনদের অভিমত কোর্ট ও শিক্ষামন্ত্রনালয়ের এ আদেশে অবাদ্য নারীদের পারিবারিক ও সামাজিক রীতি ভঙ্গ করে বেপরোয়া হতে সহযোগীতা করবে। বাবা, মা, গুরুজনদের অবাধ্য হবে যৌবনের উন্মাদনায় মাতাল মেয়েরা পশ্চিমা কালচারে ভেসে যাবে। ফলে সৃষ্টি হবে সামাজিক অবক্ষয়। যা রোধ করা কারো পক্ষে তখন সম্ভব হবে না। হিজাব বা পর্দা ইসলামের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আল্লাহ পর্দার বিধানকে বাধ্যতামূলক করে দিয়েছেন। যে বিধান পরিবর্তনের ক্ষমতা কারো নেই। ইসলামে পর্দা প্রথা চালু হওয়ার পশ্চাতে বিশেষ পেক্ষাপট ছিল। প্রাক ইসলামী যুগে মেয়েরা পর্দা করত না। পুরুষদের কাছ থেকে তারা না পেত মর্যাদা না পেত নিরাপত্তা। সেখানে সম্ভ্রম বজায় রেখে চলাফেরা করা বেশ দুঃসাধ্য ছিল। মদ, জুয়া, ব্যভিচার, বলাৎকার, নারী নির্যাতন সমগ্র সমাজ ব্যবস্থাকে অত্যন্ত নোংরা ও কদর্য করে তুলে ছিল।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ ) মেয়েদের অধিকার ও মর্যাদা বৃদ্ধি ও সুরক্ষাকল্পে সম্পত্তির অধিকার, শিক্ষার অধিকার, অর্থনৈতিক অধিকার, মোহরানা, বিবাহ সম্মতির অধিকার, প্রয়োজনে বিবাহবন্ধন নাকচ করার অধিকার, পুনঃ বিবাহের অধিকার, বলাৎকার সহ সর্বপ্রকার অত্যাচারের বিরুদ্ধে আইনী ক্ষমতাসহ বহুবিধ অধিকার ও মর্যাদা প্রদান করেন।

এক সময় তাঁর মনে হয়েছিল সমাজের নারী নিগ্রহের নুন্যতম প্রধান কারণ মেয়েদের যত্রতত্র গমন এবং বেপর্দায় চলাচল। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) অনুভব করলেন মেয়েদের অশ্লীল, সাজসজ্জা এবং চলাফেরাই সমাজের অধিকাংশ ফেৎনাফাসাদের জন্য দায়ী। ফলে তিনি মেয়েদের সাজসজ্জা এবং চলাফেরার উপর কিছু বিধিবিধান চালু করলেন।

এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, যে নারী আল্লাহ ও আখিরাতের উপর ঈমান রাখে তার জন্য এর বেশী খুলে রাখা জায়েয নয়। এই বলে তিনি তার হাতের কবজীর মধ্যস্থলে হাত রাখলেন। (ইবনে জারীর)

আল্লাহ তায়ালা নবী (সাঃ) কে নির্দেশ দিলেন, হে নবী (সাঃ) আপনি আপনার পতীগণকে ও কন্যাগনকে এবং মুনিমদের স্ত্রীগনকে বলুন, তারা যেন তাদর চাদরের কিয়দাংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদের উত্যক্ত করা হবে না। ( আহযাব: ৫৯)

আল্লাহ তায়ালা মুসলিম নারীদের লক্ষ্য করে অন্যত্র বলেন: হে রাসূল (সাঃ) ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণত প্রকাশমান তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষ দেশে ফেলে রাখে। তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, পুত্র, স্বশুর, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাদী, যৌন কামনামুক্ত পুরুষ ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ তাদের ব্যতীত কারো কাছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। তারা যেন তাদের গোপন লাজ লজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারনা না করে। (নুর:৩১) এ আয়াত দু’টিতে স্পষ্ট আদেশ করে বলা হয়েছে যে, তোমরা তোমাদের সৌন্দর্যকে আবৃত করে রাখ। আর এটাইতো পর্দার মূল কথা। রাসূল (সাঃ) মুসলিম রমনীদের পর্দার নির্দেশনা দিয়ে বলেন, ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইশরাদ করেন, মেয়েগণ হল পর্দা। যখন তারা ঘর থেকে বের হয় তখন শয়তান তাদের পিছনে অংশ নেয়। ( তিরমিজী শরীফ)

এ হাদীসে অত্যন্ত সুন্দর ভাষা প্রয়োগ ও সুস্পষ্ট ভাবেই মেয়েদের পর্দায় থাকতে বলা হচ্ছে এবং তাদের ঘর থেকে বের হওয়াকে ফেতনার কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কেননা শয়তান সব সময় পিছনে প্ররোচনা দিয়েই চলেছে। হালকা বস্ত্র না পরা যদ্দারা দেহের গোপন অঙ্গগুলি প্রকাশ পায়।

হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন যে , তার বোন আসমা (রাঃ) হুযুর (সাঃ) এর খেদমতে উপস্থিত হল এ সময় তার শরীরে পরিধেয় একটি পাতলা কাপড় ছিল। তখন হুজুর (সাঃ) তার দিক হতে মুখ ফিরাইয়া নিলেন এবং বললেন, হে আসমা । যখন মেয়েরা প্রাপ্ত বয়স্কা হয় তখন হাত ও মুখ ছাড়া অন্য কোন অঙ্গই যেন প্রকাশ না পায়। নারী পুরুষের নির্জনাবাস সম্পর্কে রাসূল (সাঃ) এর হাদীসটি উল্লেখ যোগ্য।

হযরত উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী করীম (সাঃ) বলেছেন, যখনই কোন পুরুষ কোন নারীর নিকট নির্জনে বসে তখনই তৃতীয় ব্যক্তি হিসাবে শয়তান তার নিকট উপস্থিত থাকে। (তিরমিজি)

হযরত আকাবা ইবনে আমের (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ফরমাইয়াছেন, তোমরা মেয়েদের নিকট আসা যাওয়ার সম্পর্ক হতে বেঁচে থাক। জনৈক সাহাবী আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) দেবর সম্পর্কে আপনি কি বলেন? রাসূল (সাঃ) বললেন, দেবর হল মৃত্যু। (বুখারী ও মুসলিম) এ হাদীসে অপ্রয়োজনে মেয়েদের কাছে যাওয়া আসা সম্পূর্ণ নিষেধ করা হয়েছে। স্বাভাবিক চাহিদা ও যুক্তিই এ কথা বলে যে, প্রচলিত পর্দাই মেয়েদের নিকট আসা যাওয়ার পথ বন্ধের সর্বোত্তম পথ। নারী পুরুষের অবাধ মেলা-মেশা রুখতে রাসূল (সাঃ) এর পর্দার বিধানের কঠোরতা উল্লেখ না করলেই নয়।

হযরত উম্মে সালমা (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, (তিনি এবং মায়মুনা (রাঃ) উভয়েই নবী পতী ) হুজুর (সাঃ) এর দরবারে উপস্থিত হলেন। এমন সময়ে আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম (রাঃ) (যিনি অন্ধ সাহাবী) উপস্থিত হলেন এবং ভিতর কক্ষে প্রবেশ করতে লাগলেন। তখন হুজুর (সাঃ) আমাদের বললেন, তোমরা উভয়েই পর্দা করে নাও। আমি তখন বললাম, হে আল্লহর রাসূল (সাঃ) তিনি তো অন্ধ, আমাদের তো দেখছেন না। হুজুর (সাঃ) তদুত্তরে বললেন, তোমরাও কি অন্ধ হয়ে গেলে? যে তোমরাও দেখবেনা। (আহমাদ) লক্ষণীয় যে, যেখানে অপবিত্রতার বিন্দুমাত্র আশংকাও নেই। তাছাড়া একদিকে উম্মত মাতা নবী পতœীগণ অন্যদিগকে একজন আদর্শবান অন্ধ সাহাবী। এতদসত্ত্বেও রাসূলে করীম (সাঃ) পর্দার প্রতি অধিক সতর্কতা দিতে গিয়ে নিজ পতীগণকে পর্দার আদেশ দিলেন।

সুতরাং যেখানে এমন পবিত্র পরিবেশ নেই, যেখানে ফেতনা আর সমস্যাই বিদ্যমান সে সকল ক্ষেত্রে পর্দার এতটুকু গুরুত্বতা কেন থাকবেনা? মেয়েদের পর্দা প্রসঙ্গে জিলবাব বড় চাদর বা ওড়না ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। এটি অবশ্যই অস্বচ্ছ হতে হবে। পরবর্তী সময়ে জিলবাবকে বোরকায় রুপান্তরিত করা হয়। যেহেতু বোরকাও মেয়েদের মস্তক, গ্রীবা ও বক্ষদেশ ঢেকে রাখে। এটি ব্যবহার করতে সর্বসম্মত স্কীকৃতি পাওয়া গেছে। বরং চাদর বা ওড়না ব্যবহারের সময় হাত দিয়ে তা বারংবার চেপে রাখতে হয় বোরকা এ ধরনের অসুবিধা করে না। বোরকা পড়ে স্বচ্ছন্দে কাজকর্ম করা যায়। তাই বিশ্বের সমস্ত মুসলিম দেশেই বোরকার ব্যাপক প্রচলন দেখা যায়।

নারীর সতীত্ব, নারীর নারীত্ব ও নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে এবং বিবস্ত্র, বেহায়া, অভদ্র, অশালীন, অসম্মান ও সভ্রমহীন, অসহায় নির্যাতিতা, অবহেলিতা, লাঞ্চিতা, বঞ্চিতা অনাগ্রহিতা, জীবন্ত সমাধী, ক্রয় বিক্রয়, ভোগের সামগ্রী সর্বোপরি ইভটিজিং ও ধর্ষণ থেকে নারীকে পরিত্রাণ দিতে চাইলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাঃ ) এর পর্দার বিধান বোরকাকে কার্যকর করতে হবে।

হাইকোর্ট ও শিক্ষামন্ত্রনালয়ে বোরকার বিরুদ্ধে যে পরিপত্র জারি করা হয়েছে তা বতিল করে সমাজের সর্বোস্থরে যাতে বোরকার ব্যাপক প্রচলন ঘটে তার ব্যবস্থা করতে হবে। অশ্লীল, চরিত্র বিধ্বংসী চলচিত্র ও পর্ণ্যে সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করতে হবে। নারী পুরুষের অবাধ মেলা-মেশা রুখতে হবে। সহশিক্ষার পরিবর্তে নারী পুরুষের পৃথক শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।

এজন্য দরকার সমাজের সুশীল সমাজ, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, চলচ্চিত্রকার সর্বোপরি রাষ্ট্রের কর্ণধার সরকারের সুচিন্তিত মনোভাব। আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পর্দার বিধান অনুযায়ী সকল শ্রেণীর মানুষ যদি প্রাণপণ প্রচেষ্টা চালায় তবে অবশ্যই ইভটিজিং ও ধর্ষণ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
১০টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:২৫



ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে। এই স্থানটি খুবই নিরিবিলি। দেশের আইন-শৃঙ্খলার অবস্থা খুবই খারাপ। এমন ফাকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×