তিন সুন্দরী সরকারি কর্মকর্তার এখন বড়ই সুসময়। একজনের মন্ত্রীর, দ্বিতীয় জনের সচিবের, অপর জনের প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে সখ্য। সরকারি টাকায় কেউ কেউ ঘুরছেন দেশে দেশে। এসব দেখে সরকারি কর্মকর্তারা ঈর্ষার আগুনে পুড়লেও মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না। তাই বলে টেবিলে টেবিলে, কক্ষে কক্ষে ফিসফাস কিন্তু থেমে নেই। ডালপালা মেলে তা ছড়িয়ে পড়েছে সবখানে।
'স', 'জ' ও 'আ' আদ্যাক্ষরযুক্ত তিন নারী কর্মকর্তার দুজন চাকরি করেন পৃথক মন্ত্রণালয়ে। অন্যজন মন্ত্রণালয়ের বাইরে একটি করপোরেশনে। তাদের নিয়ে আছে নানা কাহিনী, যার পুরোটাই সত্য। কিন্তু মুখ খুলে কেউ তা প্রকাশ করতে পারছেন না অজানা আতঙ্কে। কারণ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কল্যাণে তিনজনই প্রবল ক্ষমতাধর। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে তাদের এসব কীর্তির কথা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, 'স' আদ্যাক্ষরযুক্ত নারী মূলত বাংলাদেশ বেতারের একজন কর্মকর্তা। বেতার ক্যাডারেই তার চাকরি হয়। বেতার ক্যাডারে চাকরি হলেও এই সুন্দরী সেদিকে পা ফেলেননি। ডেপুটেশনে তিনি পিআইডিতে বহাল তবিয়তে আছেন। তথ্য ক্যাডারের কর্মকর্তা না হয়েও বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমল থেকেই জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা পদে পিআইডিতে কর্মরত। সরকারি টাকায় অর্থহীন সফর করেছেন সখার ইচ্ছায়। ঘুরেছেন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশ। সর্বশেষ মন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে তার দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু মন্ত্রী বাহাদুর রুট পরিবর্তন করে ফ্রান্সে গেলেও তাকে হতে হয় সফরসঙ্গী। ফ্রান্সের অনুষ্ঠানে ললনা যাবেন মন্ত্রীর উষ্ণ সানি্নধ্য নিয়ে আর সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় বসে থাকবে, তা কি হয়! তাই সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ওই অনুষ্ঠানে যোগদানের চিঠি ইস্যু করে, যখন মন্ত্রীর পাশে বসে আটলান্টিক মহাসাগরের ওপর দিয়ে ফ্রান্সের উদ্দেশে উড়াল দেন সুন্দরী। প্যারিস হয়ে দেশে ফিরতে সরকারি কোষাগার থেকে তাকে দেওয়া হয় পাঁচ লাখ টাকার বেশি। এর আগে কখনোই কোনো জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তার ভ্রমণভাতা বাবদ এত টাকা বরাদ্দ দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওই নারী কর্মকর্তার নামে এত টাকা বরাদ্দ দেওয়ার কারণে পিআইডিতে কর্মরত অন্য জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তাদের বঞ্চনার ক্ষোভ জমাট বেঁধে আছে। শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স নয়, ওই নারী কর্মকর্তা সম্প্রতি ইংল্যান্ড, চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশ ঘুরেছেন সরকারি টাকায়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের কর্তাব্যক্তিদের পছন্দের তালিকায় থাকার কারণে নিয়মবহির্ভূত ভ্রমণ-সুবিধা ভোগ করে আসছেন তিনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা জানান, ওই নারী কর্মকর্তার এ সফর দেশ-জাতির কোনো উপকারে আসেনি। রাষ্ট্রের স্বার্থ সংরক্ষণের কোনো ঘটনাও ঘটেনি। বরং রাষ্ট্রের অর্থ জলে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র সফরের আগে তথ্য মন্ত্রণালয়ের এক বড়কর্তার সঙ্গে চীন সফরে যান 'স' আদ্যাক্ষরযুক্ত এই জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা। অথচ ওই সফরে যাওয়ার কথা ছিল একই মন্ত্রণালয়ের অন্য এক কর্মকর্তার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই কর্মকর্তাকে বাদ দেওয়া হয়। 'জ' আদ্যাক্ষরযুক্ত নারী কর্মকর্তা অর্থ মন্ত্রণালয়ে কর্মরত। জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব পদমর্যাদার ওই নারী কর্মকর্তা এক কথায় অপরূপা। আগে ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে। সেখানে কর্মরত থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে নানা সুবিধা আদায়ের অভিযোগ ওঠে। মন্ত্রণালয়ের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে খুশি করে তিনি এসব সুবিধা আদায় করতেন বলে সমালোচনা ছিল। সে সময় তার নামে মন্ত্রণালয়জুড়ে নানা কেলেঙ্কারি ডালপালা ছড়ায়। কেলেঙ্কারির কথা ছড়িয়ে পড়ার পর মাসাধিককাল আগে তাকে বদলি করা হয় অর্থ মন্ত্রণালয়ে।
তৃতীয় নারী কর্মকর্তা হচ্ছেন 'আ' আদ্যাক্ষরযুক্ত। তার কর্মস্থল ঢাকা সিটি করপোরেশন। তিনি বস্তি উন্নয়ন বিভাগের গবেষণা কর্মকর্তা। সেইসঙ্গে করপোরেশনের এক বড়কর্তার পিএস হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন এই সুন্দরী। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই নারী কর্মকর্তা বড়কর্তাদের মন জয় করে ইতোমধ্যে একাধিক দেশ সফর করেছেন। শুধু তা-ই নয়, তিনি সিটি করপোরেশনে বর্জ্য-ব্যবস্থাপনা শাখায় সহ-প্রধানের পদও বাগিয়ে নিয়েছেন উপরস্থদের খুশি করে। নিয়ম ভেঙে তাকে পদায়ন করা হয়। এ নিয়ে বর্জ্য-ব্যবস্থাপনা শাখায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষোভের শেষ নেই। ইতোমধ্যে তাকে ওই পদ থেকে সরিয়ে নিতে একই শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৮ জুন লিখিত আবেদন জানিয়েছেন মেয়র বরাবর। মেয়র ওই কর্মকর্তার নিয়োগ স্থগিত রাখতে সংশ্লিষ্টদের মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই নারী কর্মকর্তা যেসব বিষয়ে বিভিন্ন দেশ সফর করেছেন, সেসব বিষয় তার নয়। কিন্তু সিটি করপোরেশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পছন্দের কারণেই নিজ বিষয় না হওয়া সত্ত্বেও তিনি বিদেশ সফরের সুযোগ পান। তার নামে আছে নানা কেলেঙ্কারি সিটি করপোরেশনে। ইতোমধ্যে তিনি জাপান, মালয়েশিয়া, কোরিয়াসহ পাঁচটি দেশ সফর করেছেন। এর মধ্যে ২০১০ সালের মার্চ থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত তিনি জাপানে বর্জ্য-ব্যবস্থাপনা বিষয়ে একটি প্রশিক্ষণে ছিলেন। কিন্তু এ বিষয়ে তার পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না। কারণ তিনি বর্জ্য-ব্যবস্থাপনা শাখায় কখনো ছিলেন না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

