মার্কিন সৈন্যদের ইরাক থেকে প্রত্যাহার করে নেয়ার পর সামনে কঠিন দিন আসছে বলে ইরাকিদের সতর্ক করে দিলেন বারাক হোসেন ওবামা। তবে সে সময় ইরাকিরা প্রশ্ন করার সুযোগ পায় নি সেই কঠিন সময়টা কে তাদের দিয়ে গেল !
যাকে একসময় পৃথিবীর শহর বলা হত সেই বাগদাদকে কয়েকমাসের মধ্যেই ধ্বংসস্তুপের ভূতুড়ে নগরীতে পরিণত করা হয় । বাগদাদ থেকে বাস'রা , বাস'রা থেকে কুফা , কুফা থেকে মাসুল , মাসুল থেকে .... এক এক করে পুরো ইরাক ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়ে সালফার আর মরা লাশের গন্ধ। যুদ্ধে সব মিলিয়ে মার্কিন সৈন্য নিহত হয়েছে ৫ হাজার এর মত , পঙ্গুত্ত বরণ করেছে ১ লক্ষ সৈন্য । উপরন্তু অনেক মার্কিন সৈন্য আত্মহত্যা করে যুদ্ধচলাকালে। সম্ভবত অন্যায় যুদ্ধ উপলব্ধি করার অনুশোচনা থেকে তারা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।
সেই তুলনায় ইরাকিদের প্রাণহানীর পরিমাণ ভয়াবহ মাত্রার। বেসরকারি হিসেবে(একটি মার্কিনী সংস্থার মতে ) ৭ লাখের কাছাকাছি।
হৃদয় ভারাক্রান্ত হয় , চোখ হয় অশ্রুসিক্ত একটি মিথ্যা যুদ্ধে ৭ লক্ষ গণহত্যার ধ্বংসলীলায় । যে কারণে যুদ্ধ করা হয়েছিল তার সত্যতা প্রমাণ হয়নি আজো। "ব্যাপক বিধ্বংসী মরণাস্ত্র" না পেয়েই আ্যমেরিকানরা গতকাল ইরাককে ৭ লক্ষ মানুষের কবর বানিয়ে তাদের দেশে ফেরা আরম্ভ করেছে।
ইরাক যুদ্ধ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কতটা ক্ষতির কারণ হয়েছে তা মার্কিনিরা আগে বুঝলে ভুলেও এ পথে পা বাড়াতো না। এ যুদ্ধে মার্কিনিদের শুধু পরাজয় ঘটেনি , মধ্যপ্রাচ্যে আল-কায়েদার শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে ভয়াবহভাবে। যার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছিল আমেরিকা তাকে ঘায়েল করতে পারা যায়নি বরং ইউরোপ ও এশিয়ায় তার মিত্র রাষ্ট্রগুলোও আজ তার শত্রু । মার্কিনিদের ইতিহাসে এত নির্মম পরাজয় এর আগে ঘটেছে বলে মনে হয় না।
লক্ষণ যা দেখা যাচ্ছে তাতে মনে হয় মার্কিনিরা এভাবে আস্তে আস্তে লেজ গুটিয়ে নেবে দখলকৃত দেশগুলো থেকে। তারপর সাধারণত যা ঘটার তাই ঘটবে। ভয়বহতার শিকার হবে তার ফেলে আসা বন্ধু সরকারগুলো। এ যুদ্ধে মার্কিনীদের পরাজয় সুষ্পষ্ট। তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও অবর্ণনীয়। প্রায় লাখের মত পঙ্গু মার্কিন সৈন্যরা আজ আমেরিকায় অসহায় ও মানবেতর জীবনযাপন করছে। অর্থনৈতিক মন্দার ধাক্কা সামলাতে ব্যস্ত মার্কিন সরকার তাদের মাসিক ভাতা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। এখানেই শেষ নয়। যারা অক্ষত অবস্থায় ইরাক থেকে নিজ দেশে ফিরে এসেছে তাদের অনেকেই স্থায়ীভাবে মানসিক ভারসাম্যহীনতা হারিয়েছে । যেসব সৈন্যরা মৃত্যুবরণ করেছে অথবা পঙ্গু হয়েছে তাদের পরিবার পরিজনদের ঘৃণা ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছে মার্কিন পররাষ্ট্রনিতীর উপর। শম্বুক গতিতে আমেরিকান সৈন্যদের মনোবল ও আগ্রহ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ভবিষ্যতে কোন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার । সম্ভবত এই কারণে আমরা দেখি, আমেরিকা সম্প্রতি মানুষবিহীন রিমোট কন্ট্রোল চালিত ড্রোন বিমান ও যুদ্ধযান ব্যবহার করছে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে।
ইরাক যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক মন্দাঃ
আজ বিশ্বে যে অর্থনৈতিক মন্দা তার পেছনের মূল কারণ ইরাক যুদ্ধ। আমেরিকা তার মাশুল দিচ্ছে , আরো দিবে তাতে সন্দেহ নেই। উদাহরণ স্বরূপ উল্লেখ করা যায়, ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত আমেরিকায় কর্মহীন হয় ৬ লাখের বেশি শ্রমিক/কর্মচারী/কর্মকর্তা।
বর্তমানে আমেরিকায় বেকারের সংখ্যা ১১ লক্ষের মতন । ইরাক যুদ্ধে আমেরিকার গচ্চা গেছে $ 683,218,911,27 ডলার ছয়হাজার-আটশো-বত্রিশ কোটি ডলার !!!!!!!! বিশ্বের বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ করে তারা এ যুদ্ধের ব্যয়ভার বহন করে , পরিণতিতে বিশ্ব আজ ভয়াবহ মন্দার কবলে। এই মন্দার সুযোগ নিয়ে চায়না , রাশিয়া , উত্তর কোরিয়া ও অন্যান্য কমিউনিস্ট ব্লক আমেরিকার সাথে নতুন এক স্নায়ুযুদ্ধ আরম্ভ করেছে বলা যায়। বিশ্বে , আমেরিকা এখন বন্ধুহীন এক দানব। অন্যায়, অসম ও অবৈধ যুদ্ধের খেসারত আমেরিকাকে দিতে হল এভাবেই। সম্ভবত তার অপমৃত্যুর শেষ কারণ টি ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধ।
আমেরিকার পরিচালিত ইরাক যুদ্ধের নৃশংসতা যে ঘৃণা ও শত্রুতার অশুভ জাল সৃষ্টি করেছে তা মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে অনেক দূর গড়াবে বলে ধারণা অনেক বিশেষজ্ঞদের। সন্ত্রাসের বিরোধী যুদ্ধে আমেরিকা নিরস্ত্র ইরাকের কাছে এভাবেই পরাজিত হল ! এ পরাজয়ের কারণ হিসেবে অনেকে মনে করেন , আমেরিকা তার নিজের সাথেই যুদ্ধ করেছে ,কারণ সন্ত্রাসী সে নিজেই।
তবে কি ইরাক যুদ্ধের আগে সাদ্দাম হোসেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী সত্যে পরিণত হতে যাচ্ছে?
" ইরাক যুদ্ধ হবে আমেরিকার কফিনে গেড়ে দেওয়া সর্বশেষ পেরেক"
তথ্য সূত্র : antiwar.com/casualties/
whitman.edu/content/news/flagmemorial
wsws.org/articles/2003/sep2003/jobs-s06.shtml
http://costofwar.com
cbsnews.com/stories/2004/01/29/eveningnews/main596755.shtml
bdnews24.com/bangla/details.php?cid=1&id=52988&hb=top
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ৮:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


