পুঁজিবাদী বিশ্ব মানুষের আবেগকে নিয়েও ব্যবসা করে। কিন্তু তা করতে হলে যে করেই হোক আবেগগুলোকে মারার কাজটা শেষ করে নিতে হবে আগেভাগে । পুঁজিবাদী সুক্ষ্ম ষড়যন্ত্রের ক্রমাগত ধাক্কায় নিজের অজান্তেই কোন এক সময় আপনার আবেগগুলোর নির্মম মৃত্যু ঘটে।
একসময়কার সেই হাসিমুখো মানুষ আপনি ধীরে ধীরে হয়ে পড়েন বিষন্ন , গম্ভীর। হঠাৎ আপনি লক্ষ্য করেন আপনার কান্নার ক্ষমতাও লোপ পেয়েছে। প্রচণ্ড যন্ত্রণাকাতর হয়েও আপনি আর কাঁদেন না। খুব কাছের অথবা প্রিয়জনের মৃত্যুতে আপনি থাকেন স্বাভাবিক। যে বাবাকে ছাড়া একদিনও আপনি থাকতে পারতেন না শৈশবে সেই আবেগের মৃত্যু ঘটে। আপনি অনুভব করেন বাবার প্রতি আপনার আর কোন আন্তরিক টান নেই। তার প্রতি হৃদয় থেকে আর কোন ভালবাসা জন্মে না। যে মায়ের নাড়ীর সাথে আবেগ জড়িয়ে আমরা জন্মেছিলাম , সেই মায়ের সাথে আর কোন আবেগ জড়িয়ে থাকতে চায় না , ধীরে ধীরে তারও মুমূর্ষাবস্থায় মৃত্যু ঘটে। তারপর ধরুন আপনার সেই বন্ধুটির কথা যার সাথে রয়েছে আপনার হাজারো সুখস্মৃতি , যে আপনার সুখদু:খে সঙ্গ দিতো ছায়ার মতন , যে নিজ স্বার্থ বিসর্জন দিয়েও আপনার পাশে থাকতো সব সময় , স্বার্থপর আর ব্যস্ত সময়ে সে বন্ধুটির কথা আপনার আর মনে থাকে না। সেই বন্ধুটি আপনার স্মৃতিপট থেকে প্রায় বিলীন হতে চলেছে।
তবে দু:শ্চিন্তার কারণ নেই । পুঁজিবাদ সে ব্যাপারেও আমাদের জন্য ব্যবস্থা করে রেখেছে ।
টাকা দিলে সে আপনাকে হাসাবে , তার তল্পিতে রয়েছে হাজারো কমেডি মুভি , প্রাপ্তবয়স্কদের কৌতুক , কমেডি গল্প আরো কতকি! টাকা খরচ করলে আপনাকে সে কাঁদতেও দিবে , দা পিয়ানিস্ট অথবা কোন ট্রেজেডি সিনেমা দেখে আপনার চোখ থেকে টপ টপ করে পানি পড়ে অথচ আপনার প্রিয়জন অথবা প্রতিদ্বন্দীদের কষ্টে ও বিপদে আপনার অন্তরাত্মা ও মন প্রাণ নেচে ওঠে।
বছরের একটা দিনকে সে বাবা দিবস বলবে। সেই দিবসে আপনার স্বার্থপর মন হঠাৎ বাবার জন্য ব্যকুল হয়ে ওঠে। আপনার জন্য আরো রয়েছে মা দিবস। এ দিবসগুলোতে সবাই যখন গিফ্ট কেনার প্রতিযোগিতা করে , তখন ঐসব কোম্পানিগুলো ফুঁলে কলাগাছ হয়। আবেগ কে কেন্দ্র করে আরো বড়লোক হয় পুঁজিবাদীরা।
আরেকটি দিবস রয়েছে সেটি হল বন্ধু দিবস।
আর আবেগকে পুঁজি করে পয়সা কামাতে হলে পুঁজিবাদের সবচেয়ে আগে দরকার আপনার আর আমার আবেগগুলোকে যন্ত্রণা দিয়ে তিলে তিলে মেরে ফেলা। তাই আমাদের আবেগগুলো আজ কৃত্রিম ও মৃত। সেগুলো জাগিয়ে তোলার জন্য দরকার হয় বিশেষ কৃত্রিম প্রেষণা। মানুষ হয়ে বেঁচে থাকতে হলে আমাদের অবশ্যই জানতে হবে , আমাদের আবেগুলোকে খুন করার পুঁজিবাদী ম্যাকানিজম।
আবেগগুলোয় আবারো জীবন ফিরিয়ে আনতে হলে পুঁজিবাদকে আমাদের অবশ্যই হত্যা করতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


