somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দেশের ক্রমবর্ধমান খুন, সংঘর্ষ, রক্তক্ষয়ী বিবাগুলো কি এড়ানো যেত?

০৬ ই জুলাই, ২০১০ দুপুর ২:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেশের সার্বিক পরিস্থিতি অবনতির দিকে। চতুর্দিক থেকে খবর আসছে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের। আজ সামুতে ব্লগার অর্ফিয়াস একটি হৃদয়স্পর্শী কবিতা লিখেছেন।

"মা অপেক্ষায়, ছেলে বড় পাশ দিয়ে ফিরবে।
বাবার চোখে স্বপ্ন, কষ্টের দিন বুঝি ফুরোলো বলে।
ছোটবোনটির আশা, ঢাকা ভাইয়ার বাসায় থেকে চালাবে পড়াশোনা।

আর সে? সে বেওয়ারিশভাবে শুয়ে আছে কি অবহেলায়, কি নির্মমতায়।"


এমন একটি কবিতার জন্য অর্ফিয়াসকে ধন্যবাদ জানাই। দেশকে এই সংঘাত সংঘর্ষের দিকে ঠেলে দেবার জন্য কেউ দায়ি করছেন সরকারী দলকে আবার কেউ দায়ি করছেন বিরোধী জোটকে। কিন্তু এই রক্তক্ষয়ী ঘটনাগুলো কি শুধু রাজনৈতিক বিবাদের ফলশ্রুতি? দেশের আপামর জনতা তাই ভাবছেন। তাদেরকে এটাই ভাবাতে বাধ্য করা হচ্ছে। কিন্তু সত্যি কথা হচ্ছে এ শুধু রাজনৈতিক বিবাদের ফল নয়। এর পেছনে আরো বড় বড় কারণ রয়েছে যা সরকারি ও বিরোধী জোট উভয়-ই এড়িয়ে যাচ্ছে। কারণ পুঁজিবাদী গণতান্ত্রিক সমাজের বাস্তবতা হল এখানে সরকারি ও বিরোধী দলের একটা কমন উদ্দেশ্য থাকে তা হল "এলিট"দের স্বার্থ রক্ষা করা। সংঘাত, সংঘর্ষ, রাজনীতি, কূটনীতি যাই করা হয়, এই এলিট স্বার্থ রক্ষা করার জন্যই।

দেশে জ্যামিতিক হারে বেড়ে চলেছে ধনী আর দরিদ্রের বৈষম্য। তা সুবিধাবঞ্চিত জনতার মধ্যে ছড়িয়ে দিচ্ছে এক অবচেতন ক্রোধ। ধনী দরিদ্রের এই বৈষম্যের যাতাকলে একবার যে পিষ্ট হয়েছেন সেই বুঝবে এর যাতনা কত নির্মম। খাদ্য, চিকিৎসা, বাসস্থান, শিক্ষা এই মৌলিক অধিকারগুলো সবগুলো একচেটিয়াভাবে ভোগ করছে এলিটরা অর্থাৎ শাইলক নাকের পুঁজিপতিরা। একদিকে চরম বিলাসিতার পরাকাষ্ঠা আর অন্যদিকে মর্মান্তিক দারিদ্রতা দেশটিকে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। প্রান্তিক বৈষম্যের ভয়াবহ শিকার দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ। ক্রমবর্ধমান সংঘাতগুলো সেই বৈষম্যের-ই একটি বিক্ষুব্ধ রূপ। কেউ যদি বলে এসব সরকারি বনাম বিরোধী দলের সংঘাত তাহলে তা হবে একটি মারাত্মক ভুল। অবশ্য এই ভুল চিন্তার নারকোটিকস দিয়ে আমাদেরকে মূল সমস্যা উপলব্ধি থেকে ফিরিয়ে রাখতে চায় দালাল এলিটরা। উঠতি পুঁজিবাদী ও ধনতান্ত্রিক সমাজে এই সংঘাত কখনো এড়ানো সম্ভব না, ক্ষমতার মসনদে যেই থাকুক না কেন। যখন কায়েমি এলিটদের ছেলেপুলেরা ইউরোপ আমেরিকার শীততাপ নিয়ন্ত্রিত শ্রেণীকক্ষে নিশ্চিন্তে পড়াশুনা করছে তখন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্ররা রক্তক্ষয়ী সংঘাতে নিজের প্রাণ-সম্পদ অকাতরে বিলিয়ে দিচ্ছে। এলিট পুঁজিপতিদের এই ভোগ বিলাস নিশ্চিত করার জন্য আমাদের মূল্যবান জীবনগুলো কিভাবে জলাঞ্জলি দিচ্ছি!

যাদের জন্য এই রক্ত আর সংঘাত তাদের কাছে ঘটনাগুলো সিনেমার স্ক্রিনশটের মতন-ই গুরুত্বপূর্ণ বিনোদন । বিশ্ববিদ্যালয় অথবা কলেজের হোস্টেলে একটি সিট অথবা চাকরীর লোভ দেখিয়ে যাদের হাতে দা, রামদা, কুড়াল, চাপাতি ,গ্রেনেড তুলে দেয়া হচ্ছে আমরা শুধু তাদেরই দেখি আর নিজেদের ভাগ করে ফেলে বিরোধী আর সরকারী জোটে। ধনি দরিদ্রের বৈষম্যের শিকার দিশেহারা মানুষগুলোর উপর সমস্ত দোষ চাপিয়ে দেই। নিজেরা শতধা বিভক্ত হই। আমাদের বুঝতে হবে আমাদের বিভক্তির পর্দার আড়ালে অন্যতম শয়তানটি হল এই বৈষম্য। যতদিন এই দানবকে ভালমত চিনতে না পারবো ততদিন পর্যন্ত এই সংঘাতের গ্রাফলাইন উপরের দিকেই উঠতে থাকবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুলাই, ২০১০ দুপুর ২:২৬
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×