পরের ঘটনা প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে বলছি। পানিতে ডোবা ফুটপাত পার হতে গিয়ে কালভার্টের মরণ ফাদে পিছলে যায় রানার পা। পানিতে ডুবে যায় সম্পুর্ণ। প্রত্যক্ষদর্শী যারা ছিল তারা বললো, পানি থেকে উঠার চেষ্টা করার সময় কালভার্টের নীচে সম্ভবত মাথা ঠুকে যায়। তারপরেও হাত উঁচু করে রাখায় লোকজন ধরাধরি করে টেনে তুলে। উঠার পর চেয়ারে বসে ও বলছিলো আমি ভাল আছি- এর পর পরই একবার বমি করে নিস্তেজ হয়ে পরতে থাকে। ওখানকার কয়েকজন তরুন মিলে তাকে প্রথমে পাশের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যায়- ওরা চিকিৎসা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে- তারা রিকশা করে তাকে নিয়ে যেতে থাকে ইউ এস টি সি হসপিটালের দিকে( যেই ভার্সিটিতে ও শিক্ষক ছিল) সঙ্গে থাকা লোকজনের কথায় বুঝা যায় পথিমধ্যেই সে চলে যায় চিরতরে।
(সবার ছোট ছিল তাই খুব নিরাপদ গন্ডির ভেতরেই বড় হয়েছিল আমার ভাইটা। কখনো তাকে একলা ছাড়তে চাইতেন না বাবা-মা। বুয়েটের কম্পিউটার সাইন্স থেকে বের হয়ে ইউনিভার্সিটিতে লেকচারার হিসাবে ঢুকার পরও! মাঝে মাঝে একটু রাগ ও করতাম এটা নিয়ে। ভাইয়ার আহাজারী সারা জীবন যাবে না- কেন ওকে ঐদিন নিয়ে আসতে গেলোনা! বাবা মা এর কাছে কখনো এই প্রসঙ্গ তুলিনি ভয়ে, জানতে চাইনি ওকে হারিয়ে তোমরা কি ভাবছো, কেমন আছো! কখনো জানতে চাওয়া যায়না। ১০ই অক্টোবর রানার জন্মদিন- ওর ৩২ হবার কথা ছিল। ভেবেছিলাম লেখাটা সেদিন দিব। কিন্তু কালকে আবার আমি ফিরে যাচ্ছি অচিন যান্ত্রিক শহরে। ভাবলাম ওনাদের কাছে থাকা সময়েই লেখাটা দিয়ে দেই। আম্মা জানেন আমি রানার কিছু কিছু লেখা অনুবাদ করছি, নেট এ দিচ্ছি সেটাও জানেন, কিন্তু ব্লগ বা নেট ব্যাপারটা উনি ওভাবে অভ্যস্ত নন। আমিও দেখাইনি কোন লেখা। উনি মাঝে মাঝে রুমে আসেন- দেখেন আমি লিখছি বা টাইপ করছি- একটু বসে থেকে আবার চলে যান। হয়তো কখনো লেখাগুলি দেখবেন- হয়তো ভাইয়া দেখাবে। যদিও সেও ব্লগে আসেনা কখনো। তারপরেও আমি জানি- আমরা সবাই এক কষ্টের অনুভবেই বাস করছি)
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ১১:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


