আমার প্রিয় পোস্ট

পড়ে থাকা সময়গুলো........।

১০ ই অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ১১:৫৩

শেয়ার করুন:                   Facebook

বছরগুলি গেছে; জমাট ধূলো- বইয়ের তাকে
দয়স্তোভস্কির পাশে-হিটলারের 'মাইন ক্যাম্ফ',
শেলফের মাঝখানটা বইয়ের ভারে আরেকটু নত-
মাঝে মাঝে একটু ঝাড়মোছ, একটু নাড়াচাড়া।

কালো ফ্রেমের চশমাটা খাপের ভেতর,
মানিব্যাগে এখনো শুকিয়ে যাওয়া কাঁদার দাগ!
কনফারেন্স থেকে পাওয়া নিত্য সঙ্গী ব্যাগটা-
সেভাবেই- সেদিনের ছাঁপ মাখা।

এলোমেলো খসড়া লেখার কাগজগুলি-
ঠাঁই পেয়েছে ড্রয়ারের আঁধারে;
সমাধানের তীব্র সুখানুভূতি আর-
স্পর্শ করে না ছেঁড়া পাতাগুলোকে।

কাঠের আলমারিটা তালাচাবি দেয়া-
মাঝে মাঝে- রোদে দেয়ার ছলে,
মা নেড়ে চেড়ে দেখেন কাপড় গুলো
রোদের তাপে শুকিয়ে আসে- চোখের জলের দাগও।

নিঃসঙ্গ রুমটাতে কম্পিত চরণে-
বাবা আসেন, হাতে সিগারেট-
মনে পড়ে- অভিমানে ছাড়তে চাওয়া-
'তুই ই নাহয় সিগারেট খা!'
আর ফেলা হয়নি রাংতা পেপারে মুড়ানো প্যাকেট।
বুকের ভেতর কষ্টের বাস্প আর ধোঁয়া-
মিশে একাকার- জ্বালা ধরায় চোখে।

অচিন শহর পেড়িয়ে আসে- দানব যান,
মধ্যরাতের নিঃস্তব্ধতা চিরে-যান্ত্রিক গর্জনে
মিলিয়ে যাওয়া লাল বাতির চোখ-
একলা সড়কে দাড়িয়ে
মনে করিয়ে দেয়-
মধ্য প্রহর পেরিয়েও বাতি জ্বলতো যেই রুমে
সেখানে এখন পাঁচ বছরের জমাট আধাঁর-

তবুও-
আমরা হেটে চলি আমাদের গন্তব্যে-
জানি, একদিন আমরাও আসছি
- ভাই আমার।।

উৎসর্গ: এনামুল আজিম রানা (১০ই অক্টোবর ১৯৭৬- ২৬শে জুন ২০০৩)

 

 

  • ৩৩ টি মন্তব্য
  • ২২৮ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৯ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ১০ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ১২:০২
comment by: নুশেরা বলেছেন: কী অসাধারণ স্মরণ...
মনটা কেমন করে উঠল, আজ রানার জন্মদিন...
ভাল থেক রানা...
১০ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ১২:৩৩

লেখক বলেছেন: মন্তব্যের জন্য অনেক কৃতজ্ঞতা। ধন্যবাদ

২. ১০ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ১২:১৬
comment by: সুরভিছায়া বলেছেন: আপনার লেখাগুলির মধ্যে এটা আমার কাছে সবচেয়ে ভাল লেখা মনে হোল। রানার জন্মদিনের উপহার ।আল্লাহ রানাকে শান্তি দিক। শুভেচ্ছা জানবেন।
১০ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ১২:৩১

লেখক বলেছেন: আপনিও ভাল থাকবেন সুরভিছায়া।

৩. ১০ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ১২:২১
comment by: কঁাকন বলেছেন: ভালো লাগলো
ভালো থাকুন
১০ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ১২:৩১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ কঁাকন

৪. ১০ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ১২:২৫
comment by: সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন: "তবুও-
আমরা হেটে চলি আমাদের গন্তব্যে-
জানি, একদিন আমরাও আসছি
- ভাই আমার।। "
কি অসাধারণ..........।
আমার একটা ছোট্ট ভাই ছিলো নাম সানী। যার তেমন কোন স্ম্বতি আমার তেমন মনে নেই। আমি ও অনেক ছোট ছিলাম ও যখন ৩ দিনের জ্বরে চলে যায়....
ও চলে যাওয়ার দিনটা ২৬ জুন........
শুধু ভাবি ও থাকলে আজ কত বড় হতো।
রানার জন্মদিন আজ.....
কি বলবো রানাকে ?ভালো থেকো।
ভালো থাকবেন পারভেজ।
জীবনের সব চেয়ে কঠিন দিক হলো এই সব চলে যাওয়াকে মেনে নেয়া।
১০ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ১২:৩০

লেখক বলেছেন: এভাবেই আসলে আমরাও চলে যাবার জন্য প্রস্তুত হতে থাকি। সানীও ভাল আছে নিশ্চই। ভালো থাকুন সবকিছু নিয়ে।

৫. ১০ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ১:০৫
comment by: নম্রতা বলেছেন: ঘর ,আপনজন, ফেলে যাওয়া টুকিটাকি সবটাই দেখতে পেলাম, কিন্তু মানুষটাকে আবছা আলোয় ভালমত দেখতে পাইনি।থাক, কষ্টটা বাড়তো....আর লিখতে পারছিনা....
১০ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১০:৫৩

লেখক বলেছেন: ভাল থাকবেন।

৬. ১০ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ১:৩১
comment by: চিটি (হামিদা আখতার) বলেছেন: প্রথম থেকে পড়তে বেশ ভালো লাগছিলো, শেষে দিকে এসে থেমে গেলাম, নমটা বিষন্ন হয়ে গেলো..............প্রিয় মানুষগুলো কোথায় যায়??
প্রিয়তে রাখলাম..............আবারও পড়বো।

ভালো থাকুন।
১০ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১০:৫৫

লেখক বলেছেন: প্রিয় মানুষগুলি আমাদের স্মৃতিতেই বসবাস করেন। তাদের মূল্যবোধ আর স্বপ্ন গুলিকে বুঝতে পারাটাই- তাদেরকে সন্মান দেখানো। ধন্যবাদ

৭. ১০ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ১:৩২
comment by: চিটি (হামিদা আখতার) বলেছেন: নমট = মনটা, হবে
৮. ১০ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ২:১৪
comment by: ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন: জানি, একদিন আমরাও আসছি...

পায়ে পায়ে এগিয়ে যাচ্ছি মনে পড়লেই খারাপ লাগে।
১০ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১০:৫৭

লেখক বলেছেন: উহু , খারাপ লাগাবো কেনো? বরং যাত্রা পথটা যেন সফল ভাবে সম্পন্ন করতে পারি , সেটাই চাওয়া হওয়া উচিত। ভালো থেকো।

৯. ১০ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৩:১৯
comment by: অপ্‌সরা বলেছেন: মেধা মনন ও প্রগ্‌গার
সকল আলোকিত রশ্মির ওপারে
বুকের এক অন্ধকারাছন্ন কুঠুরীর কোনে
দেখেছি এক প্রগাঢ় আঁধার....
কস্ট, স্মৃতি ও ভালোবাসার প্রদীপ জালিয়ে
একলা সেথা হেটে চলেছো তুমি...

ধুলো পড়া বইএর তাক
অথবা কাঁদা লাগা সেদিনের সেই ম্যানিব্যাগ
তোমাকে নিশব্দে কাঁদায়,
পাথর প্রতীম মুখে অনড় অটল ভাবলেশহীন তুমি,
বুকের ভেতর ব্যাথার সেই স্রোতস্রিনী জলপ্রপাত
দূরভুবনে ছুয়ে যায়- শুধু একজনকেই
সে তোমার অতি প্রিয় অনূজ---

চলার পথে-
কস্টগুলো ভাগাভাগি করে নাও
এই আমাদেরি সাথে-----
শেষগন্তব্যে পৌছুবো যেদিন
কস্টের ফুলগুলি
ভালোবাসার মালাহয়ে যাক।
প্রিয়তম অনুজের জন্য
আমাদের ক্ষুদ্র উপ হার!!!
১০ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১০:৫৯

লেখক বলেছেন: এই ভেবেই তো ব্লগের সবাইকে জানানো। ব্লগে এসেছিলাম বলেই এই কথাগুলি ভেতর থেকে বের হয়ে আসলো। সবাই এতো সন্মান দিলো এই অনুভুতিগুলিকে। তোমার কাছে ঋনী থেকে গেলাম।

১০. ১০ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৩:৫৮
comment by: কালপুরুষ বলেছেন: চমৎকার ভাবনা, চমৎকার লেখনী। খুব ভাল লাগলো।
১০ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১১:০০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ দাদা।

১১. ১০ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৪:০৪
comment by: ফারহান দাউদ বলেছেন: আপনার ভাইয়ের আত্মা শান্তি পাক।
১০ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১১:০১

লেখক বলেছেন: ভালো থেকো ফারহান। কেনো জানি বুয়েটের সবার ভেতরে ওর ছাঁয়া খুঁজে পাই।

১২. ১১ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ২:২৩
comment by: আহমেদ হেলাল ছোটন বলেছেন: লেখার মত কোনো শব্দ খুঁজে পাচ্ছিনা।

১১ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১১:৫০

লেখক বলেছেন: কৃতজ্ঞতা।

১৩. ১১ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ২:১৪
comment by: নাজনীন খলিল বলেছেন: এক অসম্ভব কষ্টের অনুভুতি ছুঁয়ে গেল।বলার মত কোন ভাষা নেই..............................

ভাল থাকুন। অনেক শুভকামনা।
১১ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১১:৫০

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

১৪. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১:১০
comment by: আতিকুল হক বলেছেন: জীবনটাতো সুন্দর আমাদের প্রিয় মানুষগুলো আর এত মায়ার বাধঁণ আছে বলেই। যে চরম সত্য তাদের দুরে নিয়ে যায়, তাই আবার আশা জোগায়। একদিন আবার কাছে পাব।

আপনার ভাইটি ভালো থাকুক। ভালো থাকুক তার স্বজনেরা। এই দোয়া করি।

আপনার সাথে পরিচিত হতে পারলে ভালো লাগবে। আমিও চট্টগ্রাম কলেজ + বুয়েটে ছিলাম। অবশ্য অনেক জুনিয়র - আপনার ছোট ভাইটির চেয়েও ছোট।
১২ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ২:৩৩

লেখক বলেছেন: বুয়েটের সবাইকেই আমার খুব আপন মানুষ মনে হয়। তুমিও ভাল থেকো।

১৫. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৫:৫৪
comment by: উধাও ভাবুক বলেছেন:
তখন আমি ক্লাস নাইন এ পড়ি। বাবার চাকুরীর সুবাদে ঘুরে বেড়িয়েছি বাংলার অনে এলাকা। তেমনি এক এলাকায় দেখেছিলাম একটি পরিচ্ছন্ন গোরস্থান। ঢোকার পথে বিশাল এক সাইন বোর্ডে লেখা রয়েছেঃ

" দাড়াও হে পথিক ক্ষনিকের জন্য, দেখ জীবনের পরিনতি।"
সেদিন কেমন যেন একটা উদাসী ভাবনা জুড়ে বসেছিল। তারপর থেকে মানুষের মৃত্যুর খবর শুনলেই ঐ সাইনবোর্ডটা আমার চোখে ভাসে।

আপনার লেখাটা পরেও তেমনি উদাস ভাবটা ছেয়ে গেল পারভেজ ভাই।

কেমন আছেন ?
ভাল থাকুন সর্বদা সেই কামনাই করি।
১২ ই অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০৪

লেখক বলেছেন: ভাল আছি ভাইয়া। একসময় গোরস্থানে গেলে গা ছম ছম করতো। এখন যে কোন টাতে গেলে -অনায়সে অনেকটা সময় কাটাতে পারি। খুব প্রশান্তি লাগে। মনে হয় যেন এক পর্ব শেষ করে একদল যাত্রী অন্য পথে চলছে, আমরাওআমাদের পথে গন্তব্যে যাচ্ছি। শুভেচ্ছা থাকলো।

১৬. ১৩ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:৪৪
comment by: সুখী মানুষ বলেছেন: জানি, একদিন আমরাও আসছি........ আমিও! +
১৩ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১০:৪৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

১৭. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৫:৫৭
comment by: নিহন বলেছেন: জাক্কাচ হইছে ।
২২ শে অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৫:৪২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

 

 


লেখালেখির অনেক ইচ্ছে হয়! হয়তো পড়তে ভালো লাগতো বলেই! তাই এই সব টুকটাক কথা নিয়ে শব্দ নিয়ে নাড়াচাড়া! ব্লগে...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ২৪০১৩