![]()
বিষয়টি পত্রিকায় চোখে পড়েছিল। প্রতিক্রিয়ার কথা পরে বলছি। ব্লগে স্টিকি পোস্ট দেখে একটু অবাক হলেও- প্লাস মাইনাসের বহর দেখে আতংক বোধ করছিলাম!! বেশ কিছু মন্তব্য পড়ে মনে হলো- পেশায় স্হপতি হলেও ভাস্কর্য আমাদের পাঠ্য ও কাজেরও একটা অংশ জুড়ে আছে। তাই নিজের ভাবনা গ্রন্থিত করার জন্যই এই পোস্টটি দিলাম।
ভাস্কর্য মুলঃত দুই প্রধান শাখার- রিয়ালিস্টিক বা মূর্ত (মূর্ত ভাস্কর্যের একটা শাখা হচ্ছে প্রাণীর শরীর নিয়ে কাজ করা- এছাড়াও অনেক শাখা আছে- যেটা এই আলোচনায় গূরুত্বপূর্ণ নয়) এবং অ্যাবস্ট্রাক্ট বা বিমূর্ত।
![]()
একজন শিল্পী বা বোদ্ধার চোখে পবিত্র 'কাবা ঘরে'র র বিশুদ্ধ জ্যামিতিক ঘনক যেমন একটি অনুপম বিমূর্ত ভাস্কর্যের প্রতীক । তেমনি কারো কাছে হয়তো রিও ডি জেনিরোর 'দ্য ক্রাইস্ট' এ ও একটি অনুপম মূর্ত ভাস্কর্যের প্রতীক। আবার আমাদের জাতীয় স্মৃতি সৌধ কিংবা শহীদ মিনার - দুই ই বিমূর্ত ভাস্কর্য্ ( শহীদ মিনারের মাঝখানের বড়- বাঁকাটিকে ধরা হয় দেশমাতৃরূপ ও তার পাশের গুলি দেশমাতার সংগ্রামী সন্তানরা - কিন্তূ অন্য ব্যাখ্যাও থাকতে পারে)
কিন্তু ধর্মীয় দৃস্টি কোন থেকে (মুসলিম হিসাবে) আমরা পবিত্র কাবাকে অন্য কোন মূর্ত বা বিমূর্ত ভাস্কর্যের সাথে তুলনা করি না। ইসলামে 'শিরক' নিষিদ্ধ। আল্লাহর কোনরূপ ছবি না প্রতিরূপ সৃস্টি 'শিরক' এর পর্যায়ে পরে। এই কারণে হযরত মুহম্মদ (সঃ) এর কোন ছবি বা প্রতিরূপ আমাদের ধর্মে সমর্থন জোগ্য নয়। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে মূর্ত ভাস্কর্য মানেই কি তাহলে শিরক? এদের কে দেখলেই কি মনে হবে যে আমরা খোদার প্রতিরূপ তৈরী করতে চাইছি? কিংবা, আল্লাহের সাথে পাল্লাপাল্লি করে সৃষ্টি কর্তার সাথে বেয়াদবি করছি?!!
সূতরাং এখানে বিতর্কের অবকাশ থেকেই যায়- ইসলাম কি আসলেই বিমূর্ত ভাস্কর্যকে 'শিরক' পর্যায়ে গন্য করে কিনা?!
আমার ব্যাক্তিগত মতে ইসলাম ধর্ম এতো অন্ধ বা গোঁয়ার নয়! এখানে নিয়তের কথা বলা আছে, কার্য কারণের পেছনে উদ্দেশ্যের কথা বলা আছে, সেটা খতিয়ে দেখা উচিৎ।
আমি মূর্ত ভাস্কর্যের খুব একটা সমজদার নই- কারণ এতে ভাস্করের দক্ষতা, নিপুণতা বা সৌন্দর্যবোধ যতটা প্রকাশ পায় , শিল্পভাবনা বা সৃস্টিশীলতা সেভাবে প্রকাশিত নাও হতে পারে। তাই লালনের মূর্তি স্থাপনের চাইতে লালনের ভাবনার বিমূর্ত প্রকাশকেই আমি স্বাগত জানাবো। আমি আমার আরেকটি দূর্বলতা স্বীকার করতে চাই। আমি আমাদের দেশের সিংহভাগ মুসলমানই এখনো ভাস্কর্যকে ( বিশেষত - মূর্ত) গ্রহনযোগ্য হিসাবে মেনে নেয়ার মতো উদারতা দেখাতে পারেননা। হয়তো খুব সহসা পারবেনও না। তাই এটাও বুঝি হাজি সাহেবরা যখন সারাজীবনের সঞ্চয় খরচ করে হজ্জ্বের জন্য বের হবেন তাদের মনমানসিকতা যেন আমাদের উদারতায় আহত না হয়। মুক্তমনা দেখেই আমাদের উদার হতে হবে বেশী। সেজন্য লালনের মুর্তি স্থাপন না করার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই- দুইটি পরামর্শের সাথে।
১। পাবলিক প্লেস নিয়ে যারা এই ধরণের সিদ্ধান্ত নিবেন তারা যেন আরো অনেক সচেতন ভাবে চিন্তা ভাবনা করেন। দেশের সবার কথাই মাথায় রাখতে হবে।
২। যারা সরকারের উপর ধর্মের দোহাই দিয়ে বল প্রয়োগের ধৃস্টতা দেখাই ঐ সব মোল্লা ও তাদের চ্যালাদের ( যারা দড়ি বেঁধে ভাস্কর্য্য সরানোর চেষ্টা করেছিল) পাছার কাপড় তুলে চাবকানো উচিৎ!!! প্রতিবাদের অনেক উপায় ছিল। ওরা যেমন দেশের নাগরিক - মুক্ত ভাবনার মানুষরাও এই দেশের নাগরিক। নিয়মতান্ত্রিক প্রতিবাদের বাইরে স্বেচ্ছাচার মেনে নেয়া যায় না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

