somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভজহরি দ্য ম্যাজিশিয়ান- পর্ব-১ (ছোটগল্প)

০৪ ঠা জুলাই, ২০০৯ রাত ১১:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চাটুজ্যেদের রোয়াকে বসে আম খাবার যে এতো মজা সেটা আগে কখনো টের পাইনি। টের পাবার জো ছিলনা বলাটাই উচিত হবে। ক্যাবলাদের সন্দেশমুখী আম গাছের যে কয়টা আম সে ম্যানেজ করতে পারতো, তার সবই তো যেত টেনিদার ভোগে !
ছোট ছোট, রসে ভরা আমে কামড় বসাতে বসাতে, আমরা সে কথাই বলাবলি করছিলাম। আমরা মানে, আমি -প্যালারাম বাড়ুজ্যে, ক্যাবলা আর ঢাকাইয়া হাবুল সেন।
ভাবছো টেনিদা কই গেলো?!
আরে! সে নেই বলেই তো এই ভোগ সম্ভব হলো।
তোমরা যারা এখনকার ক্যামিক্যাল মাখানো আম খেয়ে পেটরোগা ভোগা হয়ে পড়ছো, তারা ভাবতেই পারবেনা কি অমৃতই না চাখছি আমরা বসে বসে।
আহা।
অথচ দুদিন আগেও এমনটা ঘটার সম্ভাবনা ছিলনা!

সেদিন পড়ন্ত বেলায়, ষন্ডা উড়িয়া দাড়োয়ানটায় চোখ এড়িয়ে ক্যাবলাটা সবে মাত্র কোঁচরে চারটে আধপাকা আম নিয়ে রকের আড্ডায় পৌঁছেছে। টেনিদার শকুন চোখ অনেক দূর থেকেই রাডার তাগ্‌ করে বসে ছিল। ক্যাবলা এসে কোঁচড় ছাড়ার আগেই হামলে পড়লো সে।
"মাত্র চারটে! ছ্যাঁ, ছ্যাঁ, ছ্যাঁ!! তোরা বামুনের ভোগটাও দিতে শিখলিনা এখনো। বলি নরকে যাবার রাস্তায় আর কে বাঁচাতে আসবে শুনি?"
রক্তচক্ষু টেনিদার ভাবখানা এমন, যেন ক্যাবলাকে হ্যাঁচকা টানে নরক থেকে এই মাত্র টেনে তুলে আনলো!
ক্যাবলার মুখখানা আমসির মতো হয়ে গেলো। নিশ্চই ভেবেছিলো জনপ্রতি একটা।
গাধা একটা!
টেনিদার সামনে দিয়ে কেউ কখনো কিছুতে ভাগ বসাতে পেরেছে?!
আমি অবশ্য টেনিদাকে তিনটি দিয়ে একটি সাঁটাতে পারলেই বর্তে যেতুম।
ক্যাবলা আর হাবুলের জুল জুল করে তাকিয়ে থাকা মুখ দেখে টেনিদাকে সে প্রস্তাব দেয়ার বিশেষ আগ্রহ পেলাম না। পকেটে দু দানা চিনেবাদাম ছিলো। সুযোগ বুঝে সেটাই মুখে চালান করে দিলেম। টেনিদা এখন ছোটখাটো ভোগের দিকে দৃষ্টি দিবে না।
বামুণ ভোজণে মনে হয় বাক্যালাপ নিষিদ্ধ!
টেনিদা চেটেপুটে সেঁটে প্রত্যেকটা আটি আবার দাঁত দিয়ে কেঁটে দেখলো ! পাছে কোন শাঁস বাদ পড়ে যায় যদি!
পাকা আমে গন্ধে কোত্থেকে যান একটা পাঁঠা এসে জুটেছিল; অনেকক্ষণ দাড়িয়ে থেকে সে যখন আঁটিটা চাটতে গেল; দিব্যি দিয়ে বলছি; বিশ্বাস করবে না, ছাগলটার চোখ কেমন যেন ছল ছল করে উঠলো!
ম্যাঁ, ম্যাঁ করতে করতে কেমন যেন অভিমান ভরেই দুদ্দাড় করে মিত্তির দের পুকুরের দিকে দৌড় দিল!
ও হরি! মনের দুঃখে জলে ঝাঁপ দিতে গেল নাকি অবলা প্রাণীটা?!
মনের ভেতর বেশ একটা ভাব এসে গেল।ইচ্ছে হলো 'অবলা প্রাণী নিপীড়ণ প্রতিরোধ সমিতি'তে যোগ দেই।
তবে ভাবটা বেশীক্ষণ রাখতে পারলাম না। আমার আনমনা চেহারা দেখে টেনিনা কানটা ধরে টান দিয়ে দিয়েছে-
"আরে মলো যা! এইটার দেখি আমের গন্ধেই পেট নেমে গেছে! সাধে কি বলি ছাইপাশ খাবার লোভ করতে যাসনে; শুঁকতে যাসনে।"
খুব রাগ হলো! পেট নামলে কি এখানে এতোক্ষণ বসে থাকতে পারতাম?!
বল্লেই হলো?! আর টেনিদা শোঁকার চান্সটাই বা কখন দিলো শুনি?!
মনে মনে একটা জিঘাংসার শপথ নিয়ে ফেল্লুম।
রোসো! এই কানটানা আর আম সাটানোর প্রতিশোধ না নিয়ে ছাড়ছি না বাপু। মৌসুমের আমের প্রথম ভোগটাই গেল তোমার পেটে! এত অবিচার ধর্মে সইবে না!
(চলবে)
ব্লগার মানুষের একটি পোস্টেডিলা গ্রান্ডি মেফিস্টোফিলিস ইয়াক ইয়াক এ গিয়ে মনে পড়লো 'নারায়ন গঙ্গোপাধ্যায়ে'র ' টেনিদার গল্পগুলি কি পরিমাণ প্রিয় ছিল ও আছে। স্মৃতিকাতরতায় লোভ সামলাতে না পেরে একটা গল্প লেখার অমার্জনীয় অপরাধ করেই ফেললাম। প্লট টা মাথায় আছে; উৎসাহ পেলে লিখে যাবো।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জুলাই, ২০০৯ রাত ১১:১৩
১৯টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×