somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উদাসীর চোখে নেড়া কালামের আত্নযৌবনী:১! হইলো দেখা উদার সাথে, আলাম ভাইরে বাশ মারে! বাশে নাই তেল, একটা আজব খেল!

২০ শে নভেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৪:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

*আমার এই গল্পখানা নিতান্ত কল্পনা প্রসূত, কারো চরিত্রের সাথে মিলিয়া গেলে ইহা একেবারেই কাকতালীয়!
_______________________________

একদা এক কুলীন ঘরে জন্ম নিল ক্ষীনকায় কৃষকায় এক বালকে! কিন্তু জন্ম সময়কালেই দেখা দিলো বিভ্রান্তি আর বিপত্তি, পিতামাতা গাত্রবর্ন পুত্রের এহেন কালা কাউয়া অবস্হা তাতেই আপত্তি!কেউ কেউ বলিলো উহা নাকি পাতিলের তলানীর ন্যায় কালা!তাতে কি,নিন্দুকের মুখে ছাই মারিয়া বাচিয়া আছে সেইটাই বেশী! এভাবেই শুরু হইলো এক অভাগার বেড়ে ওঠা।কিন্তু যতই দিন যায় বালকের চেহারা দেখি পাশের বাড়ীর কালাম চাচার সাথে মিলিয়া যায়!ইহা বেশী চোখে পড়িলো যখন বালকের তৃতীয় জন্মদিন শুরু হইলো।
ঘটনা হইলো: সকলে জন্মদিনে তাহার গাল টিপিবার বদলে চাটি মারিতো লাগিলো আর ওরকম সময় কোথা হইতে বিনা দাওয়াতে কালাম চাচা উপহার হস্তে অনুস্ঠানে হাজির হইলো। হাজির হইবার সাথে সাথেই বোকা সোকা হোদল কুতকুত বৎস্যটিকে কোলে তুলিয়া লইলো, মাগার "কি মিল চেহারার সাথে!" সবাই বেফাস একস্বরে বলিয়া উঠিলো! এহেন বক্তব্য শুনিয়া বৎসের মা মৎসের ন্যায় জায়গায় ফিট খাইলো, অনুস্ঠান হইলো পন্ড আর পুত্রের নাম ফাটিলো নেড়ী কালাম ওরফে আলাম, এ কি কান্ড!
যাই হোউক, কোনো এক সকালে আমাদের পরানপ্রিয় নেড়া কালাম ওরফে আলাম ভাইয়ের বিদ্যার সাগরে রাজকীয় ভ্রমন শুরু করিলো লুকাল এক মাদ্রাসাতে।উল্লেখ্য উহাকে মাদ্রাসা না বলিয়া বলা উচিত বান্দর পুলাপান শোধনাগার। কারন যখন বাড়ীর কোন যুধিস্ঠীর শত পিটাইলেও শোধরায় না, বরংচ ঘাড়ে বসিয়া চুল ছিড়িবার কার্যক্রম সমান চালাইয়া যাইবার জন্য বদ্ধপরিকর থাকে সেইসব অভিভাবকের জন্য ইহাই শেষ ঠিকানা! আমাদের আলাম ভাই ঈষত ভদ্র প্রকৃতির হইলেও তাহার বাবার সন্দেহসূচক অবজ্ঞা, আম্মাজানের চরম উদাসীনতা, আর পাশের বাড়ীর কালাম ভাইয়ের অতিরিক্ত স্নেহপ্রবনতা তাহাকে এহেন জায়গায় যাওয়ার প্রক্রিয়াটিকে আরও তরান্বিত করিলো! যাহা হউক, প্রথম দিনে ক্লাসে পদার্পন করিবা মাত্র দেখিলো তুলকালাম অবস্হা, যেমন কেউ কাহার লুঙ্গি টানিয়া খুলিয়া ফেলার ব্যাবস্হা, কাহারও কান টানিয়া দিনের বেলায় চান দেখানের প্রক্রিয়া! মনে হইলো স্বয়ং ইবলিশও ইহাদের কাছে ক্ষমা চাইবে। এই মাত্রাতিরিক্ত হল্লাহাটি হঠাতই চুপ চাপ হইলো যখনই জনৈক ভূড়িবাজ দাড়িওয়ালা টুপিয়াল হুজুরের খেজুরের মতো আগমন ঘটিলো।হাতে তাহার সুন্দরবন হইতে আমদানিকৃত বেতগাছের মগডাল ভাঙ্গিয়া পশুর নদীতে প্লাইউডকৃত অটবীর ডিজাইনে নির্মিত জোড়া বেতখানা শোভা পাইতেছে।তাহার এহেন বীরোচিত দিগ্বিজয়ী খলজি টাইপ রুপ দেখিয়া সবাই শান্ত হইলেও উক্ত শ্রেনীর বান্দরের শিরোমণি তখনও লুঙ্গি টানে ব্যাস্ত ছিলো।কি আছে জীবনে, এক জোড়া বেত আর এক খান কোলবালিশ! চলিল তাহার পশ্চাদ্দেশে মোঘল আমলের শৈল্পিক বেতানী। হুজুর তাহার কার্য সম্পন্ন করিয়া দাড়ি দুলাইতে দুলাইতে আরাম কেদারায় শরীর খানা স্হাপন করিয়া নাক ডাকা শুরু করিলেন, আর আমাদের আলাম ভাই অবাক নয়নে দেখিতে লাগিলেন কি হইতেছে কান্ড! পরে বিশ্বস্ত গোপনিক গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেলো যে উক্ত দুস্টগ্রহের নাম উদাসী কিজানি, তবে সবাই তাহাকে উদু, উজকুম্বা, উদা আরও কিকি বা বিবিধ নামে বুলায়! যাই হোউক ক্লাস পুরা ঠান্ডা, পারো বইসা আন্ডা, হুজুর নাচায় ভূড়িখানা!
যখন আলাম ভাই উক্ত মাদ্রাসায় ৩ টি বছর কুফলতার সহিত পার করিলো তখন হিসাবে বাহির হইলো তাহার নাকি কোনো বন্ধু নাই। কারন তাহার প্রথম বছর কাটে লুঙ্গি সামলাইতে, ২য় বছর কাটছে পায়জামার ফিতা সামলাইতে, আর এই বছর কাটিতেছে হুজুরের বেতের ডিরেকশন সামলাইতে! তবে এক্ষেত্রে উদা ব্যাতিক্রম। সে তাহার সাথে বন্ধু বেশী বিটলামী কম, কারন আলাম ভাই বিটলামি একটুও পছন্দ করেন না!
একদিন কি হইলো উদা গাছের তলে লুকাইয়া মাথা নীচা করিয়া কি জানি করিতেছে! আলাম ভাই উতসুক মনে আগাইয়া উকি মারিয়া কহিলো," কি করো?" উদা চমকাইয়া উঠিয়া উনাকে দেখিয়া নিজেকে সামলাইয়া ২৮ খানা পুকে খাওয়া দাতে হাসিয়া কহিলো," আরে কিছু না! আইস জব্বর একখান জিনিস পড়ি!" উদার হাত সেমিচটি: প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ১০০ খান জুক- মলাটে হাসে রগরগে দৃশ্য ঈড়ানী! আলাম ভাই দেখিয়া উতফুল্ল,"আমারে দিবা?"মলাট খানা ছিড়িয়া রাখিয়া কহিলো উদা,"ইহা বড় আকাম থুক্কি কামের পুস্তিকা, বাড়ীত নিয়াই নিজে পইড়া অন্যরে শুনাইবা, হগ্গলতে এক লগে হাসবা!"
যেই কথা সেই কাজ, যেহেতু উনি উদার ভক্ত, তাহার উপদেশ মানিবে সত্য! আর ফলাফল স্বরূপ রাত্রিবেলা পাড়া প্রতিবেশী শুনিতে পাইলো নেড়ী ভাইয়ের চিতকার: হাসির না উহা কান্নার! তাহার কথিত পিতা ঈড়ান থিকা আমদানিকৃত পিড়ান পরিয়া ফ্রী প্রাপ্ত লাঠি খানা তাহারে পিঠে ভাঙ্গিবার কার্যে লিপ্ত হইলো। কি ছিলো তাহার বাড়ির শব্দে এলাকাবাসী জানিলো। তাহার দুইদিন পর ক্লাসে গিয়া জানিতে পারিলো উদা নাকি অলৌকিক ভাবে দৈবিক টিসি প্রাপ্ত হইয়াছে কোনো এক অজানা ব্যাকারনে। ইহা শুনিয়া আলাম ভাই মনঃক্ষুন্ন হইয়া গেলো, কারন উদা বান্দর হইলেও বন্ধু খারাপ না।
যখন নেড়া কালাম ভাই ৫ম শ্রেনীতে কোনো মতে কুতানী দিয়া উঠিলো, একদা রাস্তা দিয়া হাটিয়া যাইবার সময় দেখিতে পাইলো এলাকার প্রজাপতি খ্যাত শত পিচকি হ্রদয়ের ধুকধুকানি জুগনি রিক্সা দিয়া যাইতেছে আর পাশে বসিয়া আছে কোনো বেগানা এক পুঙটা পোলা। হাতে ছিলো আইসক্রিম আর মুখে ছিলো দুস্ট হাসি। রাগে ক্রোধে তাহার মাথা রিরি করিতে লাগিলো। নাকে পড়ন্ত হিঙ্গুল লইয়াই রওনা দিলো জুগনির বাসার উদ্দেশ্যে চাচাজানের সাথে বাতচিতের জন্য। চাচাজান মানে জুগনির বাপ নিপাট ভদ্রলোক, তাহাকে দেখিয়া উতফুল্ল হইয়া বলিয়া উঠিলো," আরে এতো দেখি কামালের ছেলে? কেমুন আছো?" দরজার ঐ পাশ থেকে আন্টি উরফে জুনাকে মা বলিয়া উঠিলো," আরে কি বলো! ওতো মোখলেস ভাইএর ছেলে!" আন্কেল জিভে কামড় দিয়া শুধরাইলো, আর নেড়ী আলাম ভাইএর মেজাজও আম গাছে চড়ইলো যাহা কোটা দিয়া খুচাইলেও আর নামিবে না বরংচ মগডালে যাইয়া ফুলিতে থাকিবেক! সালামের ধারে কাছে না গিয়া বলিলো," আপনার কন্যাকে আজ দেখিলাম এক পুংটা পুলার সাথে রিক্সায় চড়িয়া আইসক্রিম চাটিতেছে বেপর্দা হইয়া। ইহার একটা বিচার করেন, না হইলে ইসলাম আজ বিপন্ন।" এমন সময় জুগনির নাটকীয় এন্ট্রি ঘটিলো উক্ত পুংটা টাইপ পুলার সহিত আর তাহাদের দেখিয়াই নেড়ী কালাম ভাই বলিয়া উঠিলো,"এই তো তাহারা!" আন্কেল বলিয়া উঠিলো গম্ভীর স্বরে," ঐ পুংটা ওর চাচতো ভাই!" একথা শুনার পর নেড়া ভাইএর থটফুল টিউব লাইট দেড় ব্যাটারীর বাতীর লাহান ফিউজ খাইয়া গেলো আর আমগাছ থিকা তাহার মেজাজ কোটা ছাড়াই মাটিতে চিতপটাং হইয়া পড়িলো। যাই হোক কিছু পূর্ব পশ্চিম শুনিয়া নেড়া আলাম ভাই বাসায় ফিরিলো অবনত মস্তকে!

বাকী পর্ব চলিবে সময় মতো!
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১০:৫৬
৩৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×