somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উদাসী সাতার জানে না তবুও নৌকায় উঠতে চায়!

১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১১:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাঝি, একটু দাড়াবে তুমি, নিবে কি আমায় তোমার ছোট নায়? যেতে চাই ওপারে বাধবো সুখের ঘর। নিবে কি আমায় তোমার সাথে ঐ তো ওপারে!

মনের মাঝে লুপের মতো লাইন গুলো ঘুরছিলো। প্রথমে ভাবলাম একটা কবিতা লিখে ফেলি! হঠাত পিছন থেকে একটা কাক ডাক দিলো। কখনও কোথাও শুনেছিলাম এ শহরে নাকি কাকের চেয়ে কবির সংখ্যা বেশী। ধুত্তরী, সব কবিতা আমার!

বইমেলায় এসেছি একটু সময় কাটাতে বিচিত্র লোকারন্যে। মাঝে মাঝে মানুষ দেখতে খুব ইচ্ছে হয়- নানান রং এর মানুষ, নানান রং এর সুখ, হাসি, বিবর্ন কিছু অশ্রু অথবা শৌখিন কোনো বিষন্নতা! ইদানিং নিজেকে গীর্জার কনফেস রুমের মতো মনে হয়- যেই আসে আমার কাছে, তার দুঃখ গুলো শেয়ার করা চাই-ই চাই। তারা মনে করে আমি একটা পরশপাথর, আমার সাথে ঘষা দিলেই তাদের দুঃখ গুলো সোনা হয়ে যাবে! আজব, আমি কি সবার দুঃখ শোনার হবার নিয়েছি নাকি, আমার কি এ কাজের ঠিকাদারী আছে?

তবুও তোমার চোখে যখন বর্ষা ঝরে, আমার বুকে ডাকে তীব্র প্লাবন!

হঠাত কলিগ ফোন করে বসলো। আমি ফোন ধরতেই বললো," রাজীব ভাইয়ের বিয়ে, আপনি কোথায়?" আমার ঘোর কাটা থেমে গেলো। হায় একি হলো? আমি তো বেমালুম ভুলে গিয়েছিলাম, আজকে রাজীব ভাইয়ের বিয়ে! আজকে জাফর স্যারেরও আসার কথা!শিট ম্যান! হাও ক্রেজী আই এ্যাম!

মন মেজাজ খারাপ নিয়ে বসলাম বইমেলার কোনো এক বটগাছের নীচে শান বাধানো কংক্রিটে। খেয়াল করিনি আমার পাশে এক পন্ঞ্চাশোর্ধ বৃদ্ধ! হঠাত উল্কাপাতের ন্যায় বলে বসলো,"আচ্ছা এবারের বইমেলায় টিকিট সিস্টেম করা হয়েছে?"
-ঝাড়ি খাওনের পর উঠায় দিছে!
-আর আমিতো তাই বলি, একবার চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠানে আমি ফোন দিয়ে এই ব্যাপারে বেশ ঝাড়ী দিয়েছিলাম, সেই ঝাড়ী.....
আমি বুঝলাম it's a long night for me.
আমার মনের শান্তি উড়ে গেলো কিন্তু তার সঙ্গ খারাপ লাগলো না। কিছু কথা বললো ভালোই লাগলো, যেমন রাজাকার তিন ধরনের, ব্রিটিশ রাজাকার যেমন আমার বড় দাদারা ছিলেন, পাকিস্তানী রাজাকার যেমন জামাতী গং, আর এখন ভারতীয় রাজাকার যেটা তথাকথিত বুদ্ধিজীবিরা!
আমি এটা শুনে বলে বসলাম," আমার তো প্রথম দেখাতেই আপনারে বুদ্ধিজীবি মনে করছিলাম!" এটা বলেই হেসে দিলাম, সেও হেসে দিলো।
তারপর ভদ্রলোক তার পরিচয় দিলো। পরিচয়টা শুনার পর আমার মাথার উপর একটা ছোট মাত্রার টর্নোডো বয়ে গেলো। ভদ্রলোক বুয়েটের ৮৪ ব্যাচ সিভিলের। বর্তমানে এডিবির কনসাল্ট্যান্ট প্লাস নিজের একটা কনসাল্ট্যান্সি ফার্ম আছে। তার লেখা অসংখ্য আর্টিক্যল আছে, এখন সংবাদ পত্রে বুদ্ধিজীবিটাইপ লেখা দেন। ওগুলো কিছু সেন্সর করা হয় আবার কিছু ছাপানোও হয়। যেগুলো ছাপানো হয়েছে সেগুলোর ডেটও জানালেন। কিছুক্ষন পর আরেকজন লোক আসলো তারই বন্ধু মানুষ। উনার পরিচয় পেয়ে আরও ভড়কে গেলাম। সোজা বাংলায় উনি দেশের একজন বড় আমলা। উনাদের কার্ড চাইবার আগেই দিয়ে দিলো আর সাথে কিছু ফ্রী ছবক যেগুলো আমি কখনোই চাই না বা ওগুলোর চেয়ে দুইটা ঘুষি খেতে আমি বেশী পছন্দ করবো!

আমার দেয়ালে বিষাদের কালো ছায়া, আধারে নিঃশব্দে দম ফেলে স্বপ্নগুলো। সুখগুলো পরী হয়ে উড়ে যায় ছলনার হাত ধরে! নিঃস্বঙ্গতা, কেন কিছু বলনা?

এবার একটু একা সময় পেলাম। আসলেই এ শহরে একা সময় পাওয়া খুবই কস্টের। নিজের চেহারাটা যেনো নিজের কাছে বিষিয়ে গেছে। পৃথিবীতে যেনো কত সুখের ছড়াছড়ি, কিন্তু আমার জন্য একটা ফোট সুখ নেই। শুধু দুঃখ গুলো উড়ে আসে, কিছু নিজের জন্য, কিছু অন্য কারো! বহুদিন কুয়াশার পিছনের চাদটাকে দেখা হয় না। মনে হয় ও খুব নিঃস্বঙ্গ আমারি মতো!
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১১:০৮
১৯টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×