মাঝি, একটু দাড়াবে তুমি, নিবে কি আমায় তোমার ছোট নায়? যেতে চাই ওপারে বাধবো সুখের ঘর। নিবে কি আমায় তোমার সাথে ঐ তো ওপারে!
মনের মাঝে লুপের মতো লাইন গুলো ঘুরছিলো। প্রথমে ভাবলাম একটা কবিতা লিখে ফেলি! হঠাত পিছন থেকে একটা কাক ডাক দিলো। কখনও কোথাও শুনেছিলাম এ শহরে নাকি কাকের চেয়ে কবির সংখ্যা বেশী। ধুত্তরী, সব কবিতা আমার!
বইমেলায় এসেছি একটু সময় কাটাতে বিচিত্র লোকারন্যে। মাঝে মাঝে মানুষ দেখতে খুব ইচ্ছে হয়- নানান রং এর মানুষ, নানান রং এর সুখ, হাসি, বিবর্ন কিছু অশ্রু অথবা শৌখিন কোনো বিষন্নতা! ইদানিং নিজেকে গীর্জার কনফেস রুমের মতো মনে হয়- যেই আসে আমার কাছে, তার দুঃখ গুলো শেয়ার করা চাই-ই চাই। তারা মনে করে আমি একটা পরশপাথর, আমার সাথে ঘষা দিলেই তাদের দুঃখ গুলো সোনা হয়ে যাবে! আজব, আমি কি সবার দুঃখ শোনার হবার নিয়েছি নাকি, আমার কি এ কাজের ঠিকাদারী আছে?
তবুও তোমার চোখে যখন বর্ষা ঝরে, আমার বুকে ডাকে তীব্র প্লাবন!
হঠাত কলিগ ফোন করে বসলো। আমি ফোন ধরতেই বললো," রাজীব ভাইয়ের বিয়ে, আপনি কোথায়?" আমার ঘোর কাটা থেমে গেলো। হায় একি হলো? আমি তো বেমালুম ভুলে গিয়েছিলাম, আজকে রাজীব ভাইয়ের বিয়ে! আজকে জাফর স্যারেরও আসার কথা!শিট ম্যান! হাও ক্রেজী আই এ্যাম!
মন মেজাজ খারাপ নিয়ে বসলাম বইমেলার কোনো এক বটগাছের নীচে শান বাধানো কংক্রিটে। খেয়াল করিনি আমার পাশে এক পন্ঞ্চাশোর্ধ বৃদ্ধ! হঠাত উল্কাপাতের ন্যায় বলে বসলো,"আচ্ছা এবারের বইমেলায় টিকিট সিস্টেম করা হয়েছে?"
-ঝাড়ি খাওনের পর উঠায় দিছে!
-আর আমিতো তাই বলি, একবার চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠানে আমি ফোন দিয়ে এই ব্যাপারে বেশ ঝাড়ী দিয়েছিলাম, সেই ঝাড়ী.....
আমি বুঝলাম it's a long night for me.
আমার মনের শান্তি উড়ে গেলো কিন্তু তার সঙ্গ খারাপ লাগলো না। কিছু কথা বললো ভালোই লাগলো, যেমন রাজাকার তিন ধরনের, ব্রিটিশ রাজাকার যেমন আমার বড় দাদারা ছিলেন, পাকিস্তানী রাজাকার যেমন জামাতী গং, আর এখন ভারতীয় রাজাকার যেটা তথাকথিত বুদ্ধিজীবিরা!
আমি এটা শুনে বলে বসলাম," আমার তো প্রথম দেখাতেই আপনারে বুদ্ধিজীবি মনে করছিলাম!" এটা বলেই হেসে দিলাম, সেও হেসে দিলো।
তারপর ভদ্রলোক তার পরিচয় দিলো। পরিচয়টা শুনার পর আমার মাথার উপর একটা ছোট মাত্রার টর্নোডো বয়ে গেলো। ভদ্রলোক বুয়েটের ৮৪ ব্যাচ সিভিলের। বর্তমানে এডিবির কনসাল্ট্যান্ট প্লাস নিজের একটা কনসাল্ট্যান্সি ফার্ম আছে। তার লেখা অসংখ্য আর্টিক্যল আছে, এখন সংবাদ পত্রে বুদ্ধিজীবিটাইপ লেখা দেন। ওগুলো কিছু সেন্সর করা হয় আবার কিছু ছাপানোও হয়। যেগুলো ছাপানো হয়েছে সেগুলোর ডেটও জানালেন। কিছুক্ষন পর আরেকজন লোক আসলো তারই বন্ধু মানুষ। উনার পরিচয় পেয়ে আরও ভড়কে গেলাম। সোজা বাংলায় উনি দেশের একজন বড় আমলা। উনাদের কার্ড চাইবার আগেই দিয়ে দিলো আর সাথে কিছু ফ্রী ছবক যেগুলো আমি কখনোই চাই না বা ওগুলোর চেয়ে দুইটা ঘুষি খেতে আমি বেশী পছন্দ করবো!
আমার দেয়ালে বিষাদের কালো ছায়া, আধারে নিঃশব্দে দম ফেলে স্বপ্নগুলো। সুখগুলো পরী হয়ে উড়ে যায় ছলনার হাত ধরে! নিঃস্বঙ্গতা, কেন কিছু বলনা?
এবার একটু একা সময় পেলাম। আসলেই এ শহরে একা সময় পাওয়া খুবই কস্টের। নিজের চেহারাটা যেনো নিজের কাছে বিষিয়ে গেছে। পৃথিবীতে যেনো কত সুখের ছড়াছড়ি, কিন্তু আমার জন্য একটা ফোট সুখ নেই। শুধু দুঃখ গুলো উড়ে আসে, কিছু নিজের জন্য, কিছু অন্য কারো! বহুদিন কুয়াশার পিছনের চাদটাকে দেখা হয় না। মনে হয় ও খুব নিঃস্বঙ্গ আমারি মতো!
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১১:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



