somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উদাসীর 'ৎ' ফিরা আসছে, সে তাতেই খুশী! এখন সবাই খাও ভূষি!

২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১১:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাপে ইদানীং একটা কর্মসূচী হাতে নিছে। বড়ই বেতাইলা কর্মসূচী। এই বছরের টার্গেটও বাইন্ধা দিছে। মাগার মুশকিল হইলো এখন এইটা নিয়া একটা ডাইলেমার সৃস্টি হইছে। বাপের এ বছরের লক্ষ্য হইলো আমাদের মূল আত্নীয় স্বজন হইতে শুরু কইরা ডালপালা, শাখা-প্রশাখা-উপশাখা-কান্ড-ডগা-মঘাটাইপ সকলের সাথে সুসম্পর্ক পূনর্গঠন আর পুনর্প্রতিস্ঠা করিতে হইবে। গত বছর প্রতিমাসে দেখা যাইতো গড়ে ২ টা বিয়ার ইনভাইটেশন আইতো, হিসাব কইরা দেখলাম টাইনা টুইনা বছর জুইড়া মাত্র ২খান বিয়ায় এ্যাটেন্ড করছি, তার মধ্যে একটা বিয়ায় বোরহানী নস্ট ছিলো দেইখা খাতিন্দার পার্টির লগে বাগড়া বাজাইছি, যদিও আমি বোরহানী খাইনা!বাগড়া বাজাইতে হয় তাও ফাও তালে একটা বাজাই!

তা বাপের এই অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের ব্যাকরনে এই সপ্তাহে মোট ৫ টা বিয়া, যার মধ্যে ৩ টা বিয়েতেই আমাকে এ্যাটেন্ড করতে হবে। বিয়া এ্যাটেন্ড করা ব্যাপার না, ব্যাপার হইলো যাইয়া ঐখানে খাড়াইয়া থাকন আর যারে দেখুম, চাই সে আত্নীয় হোউক কিংবা কম্যুনিটি সেন্টারের ওয়েটার কিংবা অন্য বাড়ীর কাজের বু্যা হোউক ভাব লইয়া খাড়াইলেই একটা সালাম দিতে হইবো আর কইতো হইবো আমি অমুকের সাওয়াল আমারে চিনছেন?বড়ই এ্যামবেরেসিং সিচুয়েশন!

বহুদিন ঢাকার লুকাল বাসে চড়া হয় না। ইদানিং একটু শখ কইরাই চলি বইলা মনে হয়। তবে উঠলে সে কলেজ লাইফের কথা মনে পইড়া যায়। কত আরামে উঠতাম, পুরা বডি থাকতো বাসের বাইরে, একটা হাত দরজার কোনো এক কোনা ধইরা আরেকটা ঠ্যাং বাসের কোনো এক চিপায় বাজাইয়া, আর পুরা বডি বাসের বাইরে রাইখা ঝুলা খাওয়া। এরকম ভাবে যাইতে মজাও আলাদা। বাস ভাড়া না দিয়া নাইমা যাওয়া, রাস্তায় যত সুন্দরী যায় তাগো এক নজর দেখা, হুট কইরা বইলা বসা,"আপা আপনের ওড়না চাক্কায় পেচায় গেছে!" অথবা" আপা আপনেরে হেভী সুইট লাগতাছে, মাগার দাতে কি লাইগা রইছে?" এখন আর এইসব করাও হয় না, ঝুলাও হয় না। তা সেইদিন লুকাল বাসে খাড়াইয়া যাইতেছি, এমুন সময় কন্টাক্টর আইসা ভাড়া চাইলো,"মামা ভাড়াটা?"
-আমি তোর মামু লাগি কোন রিসতায়?
-তালতো রিসতায়। অহন ভাড়া দেন নাইলে আন্কেল কমু!
-শ্বশুড়ের নাতী রাস্তা ভইরা তালতো খালতো বানাও নাকি?
-আরে না, আপনেগো মতো লোকের শ্বশুড়ের নাতী হইবার চাইনা দেইখাই এই রিসতা বানাই।
বুঝলাম আমার আগের পারফরমেন্স নাই। হুট কইরা ধরা খাইলাম!

আসলে প্রাকটিস মানুষের জীবনের ভয়ন্কর অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রাকটিস না করলে মানুষের সকল কার্যক্ষমতায় বিশেষ ঘাটতী দেখা যায়।আমি ছোটকালে আলী কাকাকে দেখতাম হঠাত তার মাথা গরম হইয়া যাইতো। কথা নাই বার্তা নাই এলাকার ঝোপঝাড়ে গিয়া কচু গাছ কাটতো দাও দিয়া সমানে। কাটনের একটা ভাব ছিলো, এক কোপ নাড়ানী দিতো কচু গাছের মাথায় এক সাথে এক ডজন দেড় ডজন কচুগাছের মাথা গায়েব। কি নৃশংস! আমি জিজ্ঞেস করলাম,"এত চেতেন কেন?কচু গাছ গুলানের যৌবন আছে না? এগুলান বুড়া হইলে মারেন, এখন মারতাছেন কেন?"
আচায্য সে আমার কথার উত্তরও দিলো না। সমানে তার দাও চালাইয়া যাইতাছে। আমি তার বিরুদ্ধে আমাগো ব্লগের ফারজানা মাহবুবার মতো জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রম হাতে নিলাম আমাদের ঝিমাইনা এলাকায় যার নাম: "কচু গাছ বাচাও!" মাগার আমার কর্মসূচি পয়লাতেই ধরা। আমার আব্বাজান আমারে কয়,"আরে সামনে কোরবানীর ঈদ, আর ও হইলো কসাই, মাঝে মাঝে গরু কম কাটে দেইখা হাতের নিশানা ঠিক রাখতে ও সেই প্রাকটিস করে!"
আমি তখন মহাশূন্য থিকা ফাল দিয়া পড়লাম। আমি এখন কি নিয়া প্রতিবাদ করুম বুঝতাছি না, গরু নিয়া না কচু নিয়া? একটা কিছু নিয়াতো প্রতিবাদ করতে হইবো, হঠাত কইরা তখন নিজেরে বেকার মনে হইতো!

সেইদিন বইমেলায় গেছিলাম, যেইটা একটা পোস্ট আমি অলরেডী ফাইদা ফেলাইছি। তয় কিছু অনু গল্প এখনও অপ্রাকাশিত। যেমুন সেই দিন এক স্টলে খাড়াইয়া কিছু বই দেখতছিলাম। হঠাত গেব্রিয়াল গার্সিয়া মার্কেজের একটা অনুবাদ পেলাম, গল্পের নামটা ছিলো অনেকটা এরকম "আমার বেশ্যারা "। জানি না এটা কেমন লিখেছে তবে ওনার নিঃস্বঙ্গতার ১০০ বছর পড়ে আমি ওনার ভক্তই ছিলাম। আমি পাশে দাড়ানো হলুদ শাড়ী পড়া মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করলাম, "রেট কত?"
-কি? (একটু উচ্চস্বরে)
-এই বইটার রেট কত?কিনবার চাই, কমিশন দিবেন নাকি পুরা দাম রাখবেন?
-কি বলতে চান এসব? আমি কি স্টলের লোক নাকি?
-কন কি তাইলে আপনি স্টলের ভিতর কেন?

তার উত্তর ছিলো বাইরে ভীড় দেখে সে এখানে বসতে এসেছে। আশ্চর্য দুনিয়ায় কে কোথায় থাকে তার পজিশনটার দিকে খেয়াল করেনা। ইদানিং আমারও বুঝতে সমস্যা হয় কে কি হয় কেমন হয়?

হয়তো কোনো একদিন বৌকে নিয়ে শাড়ি কিনতে যাবো মার্কেটে আর বাসায় নিয়ে আসবো অন্য কোনো মহিলাকে। মাথাটার চিকিৎসার টাইম হইছে। তবে ব্লগে আমার একখান জিনিস ফিরা পাইছি আবার সেইটা হইলো আমাগো পরানের 'ৎ'। কতদিন এর ব্লগে দেখি নাই।

আমার পরানের খন্ডেক ৎ যুগ যুগ বাইচা থাকো আমাদের দিলের চিপায়!
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১১:১২
৯টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×