বাসে বসে দেখছি একজন ছাতা মাথায় দিয়ে হাটছে ফটুপাথ বরাবর। আমি জ্যামে বসে ভাবলাম মেয়েটার কি হলো এইমেঘলা দিনে ছাতা খুলে? মনে হয় সে শুনতে পেরেছে আমার কথা! একটু থেমে মুখ বাড়িয়ে দেখলো মেঘলা আকাশ, মুচকি হাসিতে তাকালো ডানে বায়ে, বন্ধ হলো ছাতা। ছাতা ভ্যানিটি ব্যাগে ঢুকাতে ঢুকাতে মেয়েটির চোখ পড়লো আমার উপর। আমি একটু হাসলাম, মেয়েটি লজ্জায় লাল। মিস্টি একটি হাসি দিয়ে হাটা দিলো তার গন্তব্যে। ঘটনাটা ইস্ট ওয়েস্ট ইউনির সামনে।
অফিসে বসে কাজের ফাকে মোবাইলের স্ক্রীসেভারের দিকে তাকিয়ে থাকতে ভালোই লাগে। কি সুন্দর রং বেরং এর ঘুড়ি উড়ে বেড়ায় নীল আকাশে।এই সুন্দর স্ক্রীন সেভার সেভ করেছে আমার বোন যার এখন নিজের নোকিয়া ৫৮০০টা নস্ট। মাঝে মাঝে ওর কথা মনে হলে ভাবি ও বেচে আছে দূর কোনো দ্বীপে, দেখা হয় কালে ভদ্রে যদি না নাবিক নৌকা ভেড়ায়।
ওর সাথে দেখা হলে বলি," কেমন লাগে এই জীবন?" ও হাসে কথা বলে না। ও জানে আমি ওর হাসি দেখলেই বুঝতে পারি ওর মনের কথা। শুধু ওর না, ইদানিং সবার মনের কথাগুলো চোখের সামনে ভাসে। তাদের অভিব্যাক্তি, ভালো লাগা না লাগা, অথবা মনের মাঝে লুকিয়ে থাকা অশ্রূ গুলো।
একবার একটা ক্যাফেতে বসে আমি আর শুভ্র জুশের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। ঠান্ডা রঙ্গীন জুশ। পাশেই বসা এক কাপল। ছেলেটি মেয়েটির হাত ধরে, কিন্তু আমাদের হিসাব মিলছিলো না অন্য জায়গায়। মেয়েটির বয়স হবে হয়তো ৩৫ এর মতো আর ছেলেটি খুব বেশী হলে ২২ কি ২৩। শুভ্র হেসে বললো," রনি, আগে সুইডেনে যাইয়া নেই, দেইখো কি করি?"
ওর সুইডেন থেকে কাগজ এসে গেছে।স্পন্সরের টাকাটাও যোগাড় করে ফেলেছে। রাসেলকে ও ভালোই চিনতো। বললাম রাসেলের কথা, খুব ফ্রাস্টেটেড, কাজ কর্ম নেই। ও তাতেও খুশী, কারন ওর চোখ ভরা স্বপ্ন। ও এই গোলক ধাধা থেকে মুক্তি চায় না। ওর স্বপ্ন এখন সুদূর ইউরোপে।
আমি ভালোই আছি আমার নিত্য জীবন নিয়ে, একের পর এক বন্ধু বান্ধব, তবে আমার অপশন কমে যাচ্ছে। আস্তে আস্তে করে আমার সব চেনা মানুষ দেশ ছাড়ছে। শুভ্রই কি ভেবেছিলো আই এল টিএস ছাড়া এত ভালো একটা ইউনি আর সাবজেক্টে হবে আর যাবার জন্য এত অল্প পয়সায় মিটে যাবে। তবে এটা জানি যখন কস্টে ওর স্বপ্ন ভাংবে তখন আমাকে কিছুটা বকবে, নাও বকতে পারে।
তবে পরোপকারীর কাজটা আর করতে ভালো লাগে না।আমি বিরক্তিতে আছি, সবাই আসে সাহায্য চাইতে, যখন সমাধান হয়ে যায় তখন কৃতজ্ঞ দৃস্টি নিয়ে চলে যায়। কথা দিয়ে যায় যেকোনো সময়ে যেকোনো সাহায্য। আমি হাসি, কারন আমার সাহায্য এক আল্লাহ ছাড়া কেউ করতে পারবে না। একটা জিনিস ফ্রীতে লাভ হচ্ছে সেটা হলো সম্মান।
সম্মান ধুয়ে পানি খাওয়া যায় না, সম্মান দিয়ে পুরোনো ভুল শোধরানো যায় না। সম্মান এক লহমাতেই চলে যায় যদি না মুখোশটা খুলে পড়ে। সাইকোলজীতে অনেক টার্ম আছে এই মুখোশকে বিশেষায়িত করার।কিছু স্বতঃপ্রণোদিত, কিছু নিজের অজান্তে। নিজের অজান্তে ঘটা জিনিস গুলো নিজের জন্য খারাপ, স্বতঃপ্রনোদিত আচরন সবার জন্য খারাপ।
কিছু কিছু মানুষের এসব দেখার কোনো দরকার দেখি না, যেমন আমার বোন, শুভ্র, জিনি, রাসেল, তানিয়া আরো অনেকে। এরা এদের দুনিয়াতে খুশী থাকুক কিন্তু এ দেশে এই দায়িত্বটাই বা কে নিতে চায়?
দায়িত্ব বুঝি কিছু বেড়ে গেলো!
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মে, ২০০৯ দুপুর ২:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


