somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গ্রামের ফুন স্ক্যান্ডাল আর দৈনিক টুটপাড়া!

১৯ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ১:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সংবাদপত্রের খবর পড়িয়া চম্পক লাল চপ্পল উষ্ঠাইলো। একি দেখে, একি শোনে! প্রথম টাইটেলেই খবর:

গ্রামের ফুনের সাথে জঙ্গী সংশ্লিষ্টতা!

ইহা দেখিয়াই পকেটের থিকা ২ টাকা বাইর করিয়া কহিলো," এই পিচকা, দৈনিক টুটপাড়া দে!"
- টুটপাড়া অখন ৪ টাকা।
- ৪ পাতার পেপার ৪ টাকা হইলে আমারে প্রথম দুই পাতা দে!
পিচকি চিন্তা করলো এমনেই কেউ কিনে না, তাই বেচতে পারলে বাচে, যদিও পেপার গুলান মাগনাই পাইছে দুকান থিকা!

চম্পক লাল পেপার পাইয়া ছো মারিয়া পড়া শুরু করিলো ঘটনা খানা!

এক দঙ্গল সাংবাদিকের সামনে পুলিশ কমিশনার আসিলেন। চেয়ারে না বসিয়া খাড়াইয়াই কহিলেন," বসনের টাইম নাই, দ্রূত প্রুশ্ন করেন।"
এক সাংবাদিক খাড়াইয়া ক হিলো," শুনিলাম বাংলাদেশের একমাত্র লোকাসানী কুম্পানী গ্রামের ফুন নাকি জঙ্গীদের মদদ দিতাছে, এইডার সত্যতা কি?
- সত্যতা হইলো বিগত ৯ দিনে ১৯ জন জঙ্গী ধইরা তাহাদের কাছ থিকা ২৯ খানা সিম পাওয়া গেছে যাহার মধ্যে ৩৯ খানাই গ্রামের ফুন।
- ব্যাপারখান বুঝলাম না, ২৯ খানার মধ্যে ৩৯ খানা আইলো কই থিকা?
- ব্যাপার খানা না বুইঝাই ফাল পাইরেন না! ২৯ খানা পকেটে ছিলো আর বাকী গুলান হ্যান্ডসেটে আছিলো মোবাইল সহ। এরপরও না বুঝলেও করনের কিছু নাই। যাই হোউক, ইহাতে বিদ্যমান সবার এই হারে উচ্চমূল্যের শুধু এই সিম কিনিবার কারন কি? ইহার জন্য মহামান্য লোকোর্ট থুক্কু হাই কোর্ট দেখাইতে গেলে ৭ দিনের রিমান্ড লওন হইছে। আশা করি কাইল বাদে পরশু এর ফলাফল পাওন যাইবো! অখন আমি যাই, আমার জোরছে বড়ডা ধরছে!

ইহা পড়িয়া চম্পক লাল তৎক্ষনাৎ নিজের মোবাইল খুলিয়া সিম খানা দুড়ে ছুড়িয়া ফেলিলো আর বাস ভারা নিয়া ঘেজা ঘেজি করিয়া হেলপারে দুই তিনটা ধাক্কা খাইয়া ৪ টাকা বাচাইলো।

কাইল বাদে পরশু আবারও দৈনিক টুটপাড়া খুজিতে খুজিতে উক্ত পিচকিকে পাইয়া কহিলো," এই চাইর টাকা নে, একটা টুটপাড়া দে!"
- টাকা লাগবো না, এই পেপার চলে না। আপনেই সব লইয়া যান!
ফ্রিতে ১০ খানা কপি পাইয়া চম্পক লাল বেজায় আনন্দিত। একখানা হাটে লইয়া গভীর মনোযোগ দিয়া এমন ভাবে পড়িতে লাগিলো যেনো বিসিএস পরীক্ষার কুশ্চেন পাইছে পরীক্ষার আগেই।
সংবাদ অনেকটা এরম:

এইবার এ্যাসিস্ট্যান্ট পুলিশ কমিশনার কক্ষে ঢুকিবা পূর্বক চেয়ার বসিয়া পড়িলেন। এমন সময় এক সাংবাদিক হাত তুলিয়া কহিলো," আজকা কমিশনার কৈ?"
- হেরে দিয়া কাম কি? আমার কথা পছন্দ হয় না?
- না তা হইবো কেন?
- টাইম নস্ট না কইরা দ্রুত বইলা ফেলান কি জানবার চান!
- না আমরা সবাই বইসা আছি রিমান্ডে গ্রামের ফুনের সম্পৃক্ততা বাইর হইছে কি না!
- বাইর হইবো না মানে? এমুন চিপা লাগাইছে সব ফের ফের কইরা বাড়াই গেছে। এই ক্ষেত্রে আমাগো সাফল্য শতভাগ। আমাদের গর্বিত পুলিশ বাহিনী পারে না এমুন কুনো কাজই নাই!
- স্যার, আসল কাহিনী কন!
- আসল কাহিনী হইলো যেই ৯ টাকে ধরা হইছে তারা সবাই বর্ডারের ধারে কাছে প্রত্যন্ত অন্ঞ্চলে থাকে। দেশের এমুন চিপাচাপিতে বিদ্যুৎ থাকা দূরের কথা খাম্বা কোম্পানীর খাম্বা পর্যন্ত বসে নাই। কিন্তু ঐখানে এই গ্রামের ফুনের নেটওয়ার্ক পুরা ফুল খাড়াই থাকনের জন্য সবাই ঐ কোম্পানীর সিম ব্যাবহার করে! দেখছেন, আমরা কত সহজে ইহা বাইর কইরা হালাইছি!

ইহা পড়িয়া চম্পক লাল বাসের ভিতর পেপারের কপিতে আগুন ধরায় দিলো। এমুন ফাউল ঘটনার জন্য হাহাকারের সময় ৫০০০ টাকা ক্রয়কৃত ৫ বছর আগের সিম এমুন ভাবে ফালায় দিয়া আফসুস করিতে লাগিলো, আর এই ফ্লপ নিউজের জন্যই হয়তো টুটপাড়ার এমুন ফ্লপ খাইলো!

এদিকে ডিজুস জেনারশনের প্রতিনিধির টিকেটপ্রাপ্ত ধনেশ বাবু ১৭ বছরে পা রাখিয়াই জন্মদিনে নাপতার দোকানে স্পেশাল অর্ডার দিলো। নাপতা লিটন তাহার ভাষ্য বাবদ চুল গুলান খাড়া করিয়া কাটিলো। মাথার সব চুল কাটা খালি মাঝখানে কয়ডা চুল খাড়ায় আছে! চুল কাটানির পর ধনেশ বাবুকে পুরা পুরান ঢাকার দিলদারের নাহাল লাগতাছে। ২০ টাকার জায়গায় ২০ টাকা আটআনা দিয়া বাড়ীর দিকে রওনা দিলো।

বাড়িতে ঢুকিবার মুখেই শ্রদ্ধেয় দাদাজান যিনি বয়সের দিকে ৯০ রান করিয়াও সমানে চার - ছক্কা মারিবার তালে আছে তাহার সামনে আইসা পড়িলো। দাদা জান দেখিয়াই তাহার দন্ডায়মান চুলের মুঠি ধরিয়া ক হিলো," ওরে আমার ধনেশ, চুলের মুঠির সাথে দড়ি বাধিয়া ফ্যানের সাথে ঝুলিবার খায়েষ জাগিয়াছে?"
- না দাদা জান, মাথায় লাগিতেছে, একটু আস্তে ধরেন!
- সেইডা নাইলে আস্তেই ধরিলাম, কিন্তু এই ঝুটি ঘোড়ার জন্য ঘাস কাটিয়া খাওয়াইবার ব্যাবস্হা করিবার চাইতেছো?
- না দাদা জান, উফফ....ব্যাথায় মইরা গেলাম....আমার স্টাইল নস্ট হইয়া গেলো!
- ইহা আবার কেমন স্টাইল যে স্টেডিয়ামের মাঝখানে গন টয়লেট স্হাপন করিয়াছো? ইহা কি ২ টাকার "মরহুম ধনেশ লাল গন টয়লেট" নাকি?
- (খেমটা মারিয়া চুলের মুঠি হইতে হাত ছাড়াইয়া কহিলো) মইরা গেলাম, কি একখান গ্রামের ফুন কিন্যা দিছেন, নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না, তাই মাথায় টাওয়ার বসাইছি! এইবার খুশী!

দাদাজান বেকুব হইয়া গেলো। মোবাইলে নেটওয়ার্ক পায় না দেইখা এমুন বেয়াদ্দবী স্টাইল, সব দুষ গ্রামের ফুনের! ইহা ভাবিয়া শুরু করিলো একেলা একেলা খিস্তি খেউড়!

ইহাতেই শেষ হইলো আজকের দৈনিক টুটপাড়া এক্সক্লুসিভস!
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ১:২৯
২৩টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ শরৎ বন্দনা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৯


শরৎ এলেই আকাশ জুড়ে সাদা মেঘের ভেলা
দিনমণি আর মেঘমালার লুকোচুরি খেলা।

রুম ঝুমঝুম নূপুর পায়ে ছুটছে নদীর ঢেউ
ভাটিয়ালি গাইছে গান অচিন সুরে কেউ।

বিলে ঝিলে শাপলা পদ্ম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×