: আমি খাটে, খাট গরম করতাছি।
: খাট গরম মানে?
: মানে শুইয়া শুইয়া ভূড়ি নাচাইতাছি।
: কি অশ্লীল কথা বলো তুমি! আপনার বাসায় আসছি এখনি।
: (শুইনা আমার মাথা চড়ক গাছ) আসতাছো মানে? আমি আমার খাট গরম করতাছি না, আমার বন্ধুর বাসায়। আমারে পাইবা না বাসায় গেলে।
: আপনি না থাকলেও চলবে। আমি আপনার মার সাথে একটু কথা বলবো!
: কইবা? (ঢোক গিল্লা কইলাম) কি কইবা?
: একটা খবর দিতে চাই, একটা সুসংবাদ আছে। যাই হোক, আমি ফোন রাখছি!
আমার কপাল দিয়া ঘাম ছুটতে লাগলো, এদিকে আমার বোন আমার সামনে আইসা বললো," মিথ্যা কথা এইবার কারে বললা?"
: শোন আমি তোকে একটা কথা বলি। আমি এখন বাইর হইতাছি। সিমি (ছদ্মনাম) অখন আইবো। অবস্হা খারাপ দেখলে আমি আগামী দুইদিন আরেক জায়গা থিকা অফিস করুম, বিকালে আমার জামা কাপড় নিয়া মিরপুর ১ দিয়া যাইস!
: আমি আগেই কইছিলাম এইসব ছাড়ো, অখন বুঝো মজা!
বাসা থিকা দুরত বাইর হইয়া গেলাম ভুতুর বাসায়। আমার স্কুলের দুস্ত, নাম অবশ্য শরীফ, ইদানিং শোনা যায় আইএসপি বসাইবো মনে হয় ভিওআইপি কেস! যাই হোউক, বাসায় নক করতে ওর চান বদন।
আমারে দেইখাই," বাসায় কুনো এ্যডাল্ট নাই! যাউকগা, তয় তর লিগা একখান জিনিস আছে। তার আগে আমার একটা হেল্প দরকার!"
: আগে ঢুকতে দে, জান নিয়া টানাটানি!
: কারো খুচাই আসলি নাকি? তোর পিছে কেউ নাইতো?
: আরে ধুর, বাসায় সিমি আইতাছে, আম্মাজানের লগে কথা কইবো!
: তর তো কথা আর আমি যে কি সমস্যায় আছি সেইডা কইবো কেডা?
: কি হইছে তোর? পুলিশ কেস নাকি?
: পুলিশের চেয়েও ভয়াবহ। এইজন্যই তোরে খুজতাছি। শুন ঢাকা ভার্সিটির সেতু (ছদ্মনাম) গত কাইল মেসে আসছিলো। ঐযে দেখ ওর ব্যাগ!
: মানে তোর রাইতে এক লগে আছিলি?
: আরে না, তয় কালকা ও আমারে কোর্টে বিয়া করবো। আজকা বাসায় গেছে চেকবই আর টাকা পয়সা নিয়া আসতে।
: দুস্ত, আমার তো এক ঢিলে দুই পাখি। তুমি পরশু বিয়া কইরা হানিমুন চইলা যাও, আর আমি তুমার বাসায় সেই হানিমুন টাইম পাহারা!
: আরে ভাগ, সমস্যা এইখানে না। এদিকে জয়ী গতকাইলকা আমারে ফুন দিছে, আজকা আশুলিয়া যাইতে হইবো ওরে নিয়া।
: যাও সমস্যা, কি?
: সমস্যা এইখানেও না। সমস্যা হইলো জেরিন আমার বাসার ঠিকানা যাইনা গেছে। আমার ওয়ারিদের নম্বর ওর ভাইরে দিয়াই ট্রেস করাইছে।
: আমি আগেই কইছিলাম মামো, গ্রামের ফুন এর চেয়ে ভালা। ট্রেস করন এতো সহজ না।
: তোরা হইলি শুয়োর, টাকা খাবলা দিয়া খাইয়া ফেলাস। সমস্যা অখন যেইটা জেরিন যে কুনো সময় আইতে পারে।
: দুস্ত, তুমার আর কোনো সমস্যা আছে?
: তুমি আইছো ভালো করছো, ১৫০০ টাকা ছাড়ো, আমি বাড়ী যামু। তুমি তো সবাইরে চেনো, একটু ম্যানেজ করো।
: আমি কি ম্যানেজ করুম, আমি অখন নিজেই বাড়ী ছাড়া। যাউকগা দুস্ত আমি বাড়ী যাই!
: তুমি এমনে বিপদের সময় ছাইড়া যাইতাছো? তুমি কিসের দুস্ত আমারে কওতো?
: চিন্তা কইরা লই!
এদিকে আমি বাসা থিকা বাইর হইয়া চরম হতাশা লইয়া বাইর হইলাম। কিছুক্ষন কিছুক্ষন এদিক ওদিক ঘুইরা বাসায় গেলাম। বোইনে দরজা খুললো, আমি নিজের বাসায় উকি দিয়া কইলাম," ও আইছিলো?"
: হ্যা আসছিলো। কথা বইলা চইলা গেছে।
: বাসা এতো ঠান্ডা কেন?
: ফ্যান বন্ধ কইরা দিবো?
: ভাগ, শয়তানী করিস না। কি কইলো?
: না কিছু না, একটা বিয়ার কার্ড ধরায় দিছে।
: কস কি? ও বিয়া করতাছে? এতো বড় খুশীর সংবাদ দিলো, আমি তো পাংখা! কই কার্ড খান আনতো, দেখি কুন পোলার লগে ওর বিয়া। সবকয়ডারই তো আমি চিনি,
: ব্যাপারটা কি কও তো? তুমার আসলে টার্গেট কি?
: যা ভাগ, প্যাক প্যাক না কইরা কার্ড আন।
কার্ড দেখলাম কমলা কালারের, মনে হইলো এইটা একটা নৌকা, কার্ডের সাথে আবার একটা পান্জ্ঞাবী। আমার হাতে দিয়া বললো," এই পান্জ্ঞাবীটা পইড়া কালকা হলুদে যাইতে কইছে।"
আমি দ্রূত কার্ড খুইলা যে দুইখান নাম দেখলাম দুইটাই অচেনা। সিমির ভালা নাম মাথায় আসতাছে না। যাই হোউক দিলাম ওরে ফুন," কংগ্রাচুলেশন, অবশেষে অনুষ্ঠান কইরাই ফেলাইলা।"
: আবার জিগস। শোনো কালকে উল্লাসে চলে আসবা। একটু প্রিপারেশন নিবা কারন রাতে আমাদের বাসার ছাদে ডিজে আসবে।
: ওয়াও, আচ্ছা ছেলেটা কি করে?
: ছেলেটা স্টেটস এ, ন্যানোটেকনোলজিতে পিএইচডি করছে। তুমার সাবজেক্টে ও বস। ইলিনয়েসে থাকুক!
: ফাটাফাটি, তা বিয়ার কয় দিন পর দাড়াইতাছো এ্যাম্বাসীতে?
: আমরা মানে কি বলছো? এটা তো আমার কাজিনের বিয়ে সৈলীর (এইটাও ছদ্মনাম)।
: কও কি? আমিতো ভাবছিলাম.....
: তুমি এইসব কি বলছো? তুমি এখন কোথায় আছো, এখনই দেখা করো, তোমার সাথে আমার কথা আছে!
: হ্যালো.....হ্যালো.... কি বললা? শোনা যাচ্ছে না....হ্যালো...হ্যালো...
দিলাম ফুন কাইটা। মনখান আমার ব্যাফক খারাপ! গাম আঠার মতো লাইগা রইছে এই বালা, দূরও হয় না!
এদিকে শম্পার(এইডাও ছদ্মনাম) লগে একটু পর বিকালে বাইর হইতে হইবো! দিনডাই কুফা!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


