নানা মানুষের নানা মত, এই বিষয়ে আমার নানাজানের একটাই কথা আছিলো,
এতো কথা কস ক্যান, তোর কি পেট ব্যাথা করে না?
নানাজানের এই প্রশ্নের উত্তর আমার আম্মাজান আমারে পিটাইয়াও বাইর করতে পারেনি, তবে আমরা জাতিগত ভাবে কিছু অভ্যাস পাইছি। ধরতে পারেন বিল্টইন মাদারবোর্ড। সবকিছু বিল্ট ইন আর ফ্রি!
ধরা যাউক একজন লোক সাত সকালে দাড়িয়ে আছে রাস্তায়, সেক্ষেত্রে কিছু মতামত পাওয়া যেতে পারে>
১) আন্কেল কি এই বয়সে লাইন মারতআছে নাকি? মাল টা কেডা? ঐ শামছু, খবর ল ত!
২) বুঝলাম না, ছোলিম সাহেব সবসময় এখানেই কেন দাড়িয়ে থাকে? ইদানিং মানুষজনের অভ্যাস খুব খারাপ হয়ে গেছে, বাসায় না করে রাস্তায় দাড়িয়ে ডাইনে বায়ে মাথা ঘুরিয়ে প্রস্রাব করে, জানি না এই স্বাধীনতা এরা কিভাবে উপভোগ করে?
৩) দেখ দেখ, আন্কেলটা কি হ্যান্ড সাম! এই জানিস উনি নাকি এখনো বিয়েও করেনি, মনে হয় ইয়ের সমস্যা! - বলেই হাসি খিল খিল পার্টির!
তবে জাতিহিসেবে এই স্বভাবের কিছু সুফলও আছে> এই যেমন ধরেন সবার মধ্যেই শার্লক হোমস টাইপের ভাবসাব, কোনো কিছু দেখলেই অনুমান কইরা পুরা ঘটনা মিলায় দেয়া।
দ্বিতীয়তঃ, এইসব কথা থেকে বুঝা যায় এখানকার মানুষ কত ঘনিস্ট এবং কতটা কর্তব্যপরায়ন, নাইলে এই লোকটা কি করে কি করে না সবই এরা মোটামোটি জানে।
আপনি বাইরে দেশে আসলে দেখবেন কারোই খাইয়া লইয়া কাম নাই যে ঘটির খবর রাখে। সবাই এইখানে স্বার্থপর আর আমরা জাতি হিসাবে কত উদার!
এই সব নানামুখী গঠন মূলক আলোচনায় যখন ব্লগে করতে আসি তখনও দেখি কেউ কইছে , মামা এক্কেবারে খাটি কথা কইছেন, আরো কেউ আইসা বলবে> এমন ডাহা মিছা কথা কওন শিখলেন কেমনে? আপনি কি কোর্টের দুই নম্বর মুক্তার নাকি?
পরে দেখা যায় এমন যে এর মাঝখানে কেউ আগবাড়ায়া কিছু বলতে আসে তার ইজ্জতের বদনা নিয়া টানাটানি, যেনো তার ইজ্জত দিয়ে সবাই টয়লেট করবে! কেউ কেউ এই ভয়ে নিজের নামে আর বোলগায় না, কেউ কেউ দেখা যায় বড় বড় লোকের নামে বোলগায়, যাতে কুনো এক কুক্ষনে কোনো আলোচনায় ধরা খাইলে সব জানি ঐ ব্যাটার নামের উপর দইয়া যায়!
ভাবনাগুলো ইদানিং যখনই পেচ খায় তখনই কিছু পিকুলিয়ার চরিত্র সামনে আসে। বরফে এমনেই ঠর ঠর কইরা আমার দুই হাটু কোমড় ধইরা কাপে সেইসময় এমন কিছু চরিত্র আমাকে বড়ি সমস্যায় ফেলায়
> কি খবর ভাইগ্না, কই গেছিলা?
> পিছনে গেছিলাম, অখন সামনে যাই!
> তুমারে খালি দেখি গুজা হইয়া হাটতে, ব্যাপারটা কি? তুমার কি ঘাড় ব্যাকা?
> ঘাড় ব্যাকা হইলে এক দিকেই হয়, আমার মনে হয় ত্যাড়া, দেখেন এইটা ডাইনে বায়েও ব্যাকা হইয়া যায়!
> আর কইয়ো না, এইখানে ব্যাবসা পাতী খুবই খারাপ। তা তুমার বয়স তো মেলা হইলো, বিয়া শাদী করবা না? তুমার মা বাপে কি কয়?
> অখনো ফোন দেই নাই, আপনে যদি কন ফোন দিতে পারি!
> আরে ধুর ফোন দেওন লাগবে কেন? তুমার কোনো পছন্দ নাই? বলো কেমুন পছন্দ? ল্জা পাইয়ো না খাস দিলে বইলা ফেলো!
আমিও লজ্জা না পাইয়া পুরা বডির বর্ননা দিয়া যখন কইলাম, তখন দেখলাম তার মুখটা কালা হইয়া গেলো। কইলো, তুমার কাছে এতো ডিটেলস জিগাই নাই। তবে এই দেশে এতো এ্যডাল্ট দেখনের কি দরকার, হার্ট ব্রেকে গেলে এমনেই তো পাইবা! তবে তোমারে অন্যরকম মনে করছিলাম!
এই বইলা হাটা দিলো। আমি জানি উনি আবারও কোনোদিন দেখা হলে সেম টপিকসে কথা বলবেন, আমি এর আগেও বলছি মামা, এইটা আমার প্রিয় টপিকস না, তাও উনি বলবেন। আমার মনে হয় আমার বিয়ার চাইতে এর বিয়া হওন আরো বেশি দেরি!
অবশ্য উনার জন্য দুঃখ লাগে, ২৪ বছর ধরে এদেশে, বয়স ৪৪। দেশে পরিবারের ঋনের টাকা শোধ করতে করতে আর ছোট ভাই বোন গুলার বিয়া আর নিজের পায়ে দাড় করাতে করাতে, নিজের যৌবন কখন চলে গেছে সেটা আর খেয়াল করেননি। যখন উনার অফ ডে থাকে তখন সারা দিন মদ খেয়ে চারিদিক ঘুরে বেড়ান, আর আমার বদনসিব উনার অফডেতেই আমার বাজার সদাই করতে হয় এই পথে। উনার গায়ে পড়া স্বভাবটা আসলেই দেশের কথা মনে করিয়ে দেয়। হাজার হোক, আমরাইতো এই পৃথিবীর একমাত্র বাঙ্গালি জাতি, অনেকটা বিল্ট ইন মাদারবোর্ড জাতি!
ভালো কথা, ইদানিং মিলাও দেখি রক গায়! ভালাই তো!একটা ম্যানলি ভাব আছে!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


