somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্লগ ভার্সেস বাংলাদেশ!

১৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৫:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নানা মানুষের নানা মত, এই বিষয়ে আমার নানাজানের একটাই কথা আছিলো,
এতো কথা কস ক্যান, তোর কি পেট ব্যাথা করে না?

নানাজানের এই প্রশ্নের উত্তর আমার আম্মাজান আমারে পিটাইয়াও বাইর করতে পারেনি, তবে আমরা জাতিগত ভাবে কিছু অভ্যাস পাইছি। ধরতে পারেন বিল্টইন মাদারবোর্ড। সবকিছু বিল্ট ইন আর ফ্রি!

ধরা যাউক একজন লোক সাত সকালে দাড়িয়ে আছে রাস্তায়, সেক্ষেত্রে কিছু মতামত পাওয়া যেতে পারে>

১) আন্কেল কি এই বয়সে লাইন মারতআছে নাকি? মাল টা কেডা? ঐ শামছু, খবর ল ত!
২) বুঝলাম না, ছোলিম সাহেব সবসময় এখানেই কেন দাড়িয়ে থাকে? ইদানিং মানুষজনের অভ্যাস খুব খারাপ হয়ে গেছে, বাসায় না করে রাস্তায় দাড়িয়ে ডাইনে বায়ে মাথা ঘুরিয়ে প্রস্রাব করে, জানি না এই স্বাধীনতা এরা কিভাবে উপভোগ করে?
৩) দেখ দেখ, আন্কেলটা কি হ্যান্ড সাম! এই জানিস উনি নাকি এখনো বিয়েও করেনি, মনে হয় ইয়ের সমস্যা! - বলেই হাসি খিল খিল পার্টির!

তবে জাতিহিসেবে এই স্বভাবের কিছু সুফলও আছে> এই যেমন ধরেন সবার মধ্যেই শার্লক হোমস টাইপের ভাবসাব, কোনো কিছু দেখলেই অনুমান কইরা পুরা ঘটনা মিলায় দেয়া।
দ্বিতীয়তঃ, এইসব কথা থেকে বুঝা যায় এখানকার মানুষ কত ঘনিস্ট এবং কতটা কর্তব্যপরায়ন, নাইলে এই লোকটা কি করে কি করে না সবই এরা মোটামোটি জানে।
আপনি বাইরে দেশে আসলে দেখবেন কারোই খাইয়া লইয়া কাম নাই যে ঘটির খবর রাখে। সবাই এইখানে স্বার্থপর আর আমরা জাতি হিসাবে কত উদার!

এই সব নানামুখী গঠন মূলক আলোচনায় যখন ব্লগে করতে আসি তখনও দেখি কেউ কইছে , মামা এক্কেবারে খাটি কথা কইছেন, আরো কেউ আইসা বলবে> এমন ডাহা মিছা কথা কওন শিখলেন কেমনে? আপনি কি কোর্টের দুই নম্বর মুক্তার নাকি?

পরে দেখা যায় এমন যে এর মাঝখানে কেউ আগবাড়ায়া কিছু বলতে আসে তার ইজ্জতের বদনা নিয়া টানাটানি, যেনো তার ইজ্জত দিয়ে সবাই টয়লেট করবে! কেউ কেউ এই ভয়ে নিজের নামে আর বোলগায় না, কেউ কেউ দেখা যায় বড় বড় লোকের নামে বোলগায়, যাতে কুনো এক কুক্ষনে কোনো আলোচনায় ধরা খাইলে সব জানি ঐ ব্যাটার নামের উপর দইয়া যায়!

ভাবনাগুলো ইদানিং যখনই পেচ খায় তখনই কিছু পিকুলিয়ার চরিত্র সামনে আসে। বরফে এমনেই ঠর ঠর কইরা আমার দুই হাটু কোমড় ধইরা কাপে সেইসময় এমন কিছু চরিত্র আমাকে বড়ি সমস্যায় ফেলায়
> কি খবর ভাইগ্না, কই গেছিলা?
> পিছনে গেছিলাম, অখন সামনে যাই!
> তুমারে খালি দেখি গুজা হইয়া হাটতে, ব্যাপারটা কি? তুমার কি ঘাড় ব্যাকা?
> ঘাড় ব্যাকা হইলে এক দিকেই হয়, আমার মনে হয় ত্যাড়া, দেখেন এইটা ডাইনে বায়েও ব্যাকা হইয়া যায়!
> আর কইয়ো না, এইখানে ব্যাবসা পাতী খুবই খারাপ। তা তুমার বয়স তো মেলা হইলো, বিয়া শাদী করবা না? তুমার মা বাপে কি কয়?
> অখনো ফোন দেই নাই, আপনে যদি কন ফোন দিতে পারি!
> আরে ধুর ফোন দেওন লাগবে কেন? তুমার কোনো পছন্দ নাই? বলো কেমুন পছন্দ? ল্জা পাইয়ো না খাস দিলে বইলা ফেলো!

আমিও লজ্জা না পাইয়া পুরা বডির বর্ননা দিয়া যখন কইলাম, তখন দেখলাম তার মুখটা কালা হইয়া গেলো। কইলো, তুমার কাছে এতো ডিটেলস জিগাই নাই। তবে এই দেশে এতো এ্যডাল্ট দেখনের কি দরকার, হার্ট ব্রেকে গেলে এমনেই তো পাইবা! তবে তোমারে অন্যরকম মনে করছিলাম!

এই বইলা হাটা দিলো। আমি জানি উনি আবারও কোনোদিন দেখা হলে সেম টপিকসে কথা বলবেন, আমি এর আগেও বলছি মামা, এইটা আমার প্রিয় টপিকস না, তাও উনি বলবেন। আমার মনে হয় আমার বিয়ার চাইতে এর বিয়া হওন আরো বেশি দেরি!

অবশ্য উনার জন্য দুঃখ লাগে, ২৪ বছর ধরে এদেশে, বয়স ৪৪। দেশে পরিবারের ঋনের টাকা শোধ করতে করতে আর ছোট ভাই বোন গুলার বিয়া আর নিজের পায়ে দাড় করাতে করাতে, নিজের যৌবন কখন চলে গেছে সেটা আর খেয়াল করেননি। যখন উনার অফ ডে থাকে তখন সারা দিন মদ খেয়ে চারিদিক ঘুরে বেড়ান, আর আমার বদনসিব উনার অফডেতেই আমার বাজার সদাই করতে হয় এই পথে। উনার গায়ে পড়া স্বভাবটা আসলেই দেশের কথা মনে করিয়ে দেয়। হাজার হোক, আমরাইতো এই পৃথিবীর একমাত্র বাঙ্গালি জাতি, অনেকটা বিল্ট ইন মাদারবোর্ড জাতি!B-)

ভালো কথা, ইদানিং মিলাও দেখি রক গায়! ভালাই তো!একটা ম্যানলি ভাব আছে!
১২টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×