ছুটোকালে শুনলাম বাংলাদেশ নাকি গ্যাসে ভাসতেছে। ক্লাস নাইনে নতুন সায়েন্সে উইঠা ১৩ নম্বর পাতায় নিউটনের তিন নম্বর ল না বুইঝা কাকারে ন গদে প্রশ্ন করলাম,"কি কন কাকা? আমি তো জানি নদীতে নাকি মানুষ ভাসে, মাগার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় বায়ুদূষন কইরা তো কারো ভাসতে দেখি নাই? সবাই তো খালি চোখ টিপি মারে!"
আর যায় কই, কাকায় দিলো আম্মাজানরে ডাক, আম্মাজান হাতে লইলো লাঠি!
তবুও ভাবনা আমার থাইমা থাকে নাই, জলে ভাসা নদীর মতোন আমি ভাবিয়া চলি, মাঝে মাঝে আমি খাড়াই থাকি মাগার রিক্সা আলা আমার বাজারের ব্যাগ নিয়া চইলা যায়, মাগার আমি খাড়াইয়াই থাকি!
গতকাল রাতে একটা ঘটনার কথা মনে পড়লো। এইসব ঘটনা সবসময় মনে পড়ে না, হঠাৎ কুনো ঘটনা চোখের সামনে ঘটলে তাইলেই ঐসব পুরান বিশেষ ঘটনা মনে পড়ে!
আগে কই কি ঘটছিলো যা দেইখা আমার ঐ ঘটনার কথা মনে পড়লো!
দিন ভইরা মামলাখাইয়া কামলাখাটার মতো গতরখাটাইয়া সদলবলে রাইতের বেলা বাড়ি ফিরিতেছিলাম। লগেরটা বিড়িতে আগুন ধরাইতে ধরাইতে পিছন দিয়া সশব্দে তিনবার বায়ূ নির্গমন করলো। চারিদিকে প্রাকৃতিক বায়ু প্রবাহ সত্বেও ঘটনার সম্ভাব্য তীব্রতার কারনে নাক চাপা দিলাম আর মুখ দিয়া কইলাম,"ভাইজান, সিগারেট বন্ধ করেন, গ্যাস যেমনে ছড়াইলেন, চারিদিকে আগুন ধইরা যাইতে পারে!"
বিড়িতে আরেকখান সুখটান দিয়া কয়,"ব্যাপারটা বুঝলাম না, প্রথমটারে গন্ধে বুঝ পাইলাম যে সকালে উইঠা আমি গতকালকের পরোটাটা চানাচুর দিয়া খাইতে গিয়া কেন টক টক লাগছিলো, এরকম লেয়ার বিশিষ্ট বায়ু নির্গমনের দ্বিতীয়টায়....."
আমি এক হাত দিয়া নাক চাপা আরেক হাতে ময়লা জামাকাপড় লন্ড্রিতে দাওয়াত খাওয়ানোর জন্য ধইরা রাখছিলাম। অতি দুঃসময়ে আমি আমার তিন নম্বর হাতের অভাব বোধ করিলাম আর কানের প্রতি বিশেষ মায়া উদ্ভব হইলো আর কি!
যাই হোউক এই ঘটনা দেইখা মনে পইড়া গেলো ভার্সিটি লাইফের কথা। আমাগো ব্যাচের অনেক বড় নেতা আছিলো ঝিমানী সাইফু (পুরা নাম লিখলাম না, কারন দেশে না বিদেশে ও নাকি বড় ম্যানেজার হইছে) একখান জরুরী টপিক নিয়া আলোচনা করতাছিলো। আলোচনায় অনেক পুচকী পাচকী যোগ দিছিলো। হঠাৎ আমাগো মধ্যে থিকা সম্ভাবনাময় নেতা মুরগী মিলন হঠাৎ সশব্দে ফিচকী হাসি দিলো। আমরা তখন একটা গুরুতর আলোচনায় জরূরী পয়েন্টে আছিলাম। জরূরী বিষয়টা আছিলো," রুমে খাওন আনাইলে নষ্ট হইয়া যায়, কি করা যায়?" আর আমরা এই বিষয়ের যেই পয়েন্টে আটকাই ছিলাম সেইটা হইলো,"লেডিস হলের সাথে আমাদের সুসম্পর্ক স্হাপন করা যাতে কইরা চোথার বিনিময়ে খাদ্য পাইতে পারি!"
এমুন সময় মুরগী মিলন ক্ষনে ক্ষনে ফিচকি হাসি শুইনা টেবিল চাপকে কইলাম,"কিরে ব্যাটা? ডিম পাড়লে বাইরে যাইয়া পাড়, এমুন ফিচকাস ক্যা?"
মিলন মুামা মুখ থিকা হাত সরাইয়া কয়," না মামা, ঘটনা তেমন কিছু না, (সাইফুর দিকে ইশারা কইরা), বস, পিছনের জানালাটা খোলা, আটকাই দাও!"
ঝিমানী সাইফু হঠাৎ ঝিমানী ছাইরা ওর দিকে খুব মনোযোগ দিলো আর আমরা ঘরের কুন জানালা খোলা থুক্কু ঘরেতো কুনো জানালাই নাই!
কিন্তু মুরগী হঠাৎ ওর চোখের ইশারা উপর নীচ করতে হঠাৎ সাইফ সোজা হইয়া বইসা প্যান্টের জীপার খান লাগাইয়া বললো,"ওহো, ঐ জানালাটা বন্ধ করো তো ক্যান্টিনের দরজার পাশের জানালাটা একটু খোলা!"
ভাব দেইখা মনে হইলো আমরা ওর জীপার খোলা কেউ দেখি নাই, খালি মুরগী দেখছে আর ঝিমানী ছাইড়া সে জীপার লাগাইছে!
হালার কাহিনী!
তখন আমি হাইসা সবাইরে কইলাম,"আরে মামা, এই জানালা দেইখা আমার একখান কাহিনী মনে পড়লো, তহন আমি ছুটো আছিলাম। হঠাৎ আমারে এক দুস্ত কইলো, অয় নাকি ওর বাপরে বিয়া খাইছে, হেভী মজা পাইছে। আমি কইলাম তোর বাপের যখন বিয়া হইছিলো তখন তুমার বয়স কত আছিলো? সে অনেক হিসাব কইরা কইলো, মনে হয় ২, ৩! আমি কইলাম কস কি?তুই কি তোর বাপ মায়ের বিয়ার আগেই পয়দা হইছোস, ইজ্জত মারছে! আমার ঐ দুস্তের এই ইজ্জত মারা বুঝতে নিজের বিয়া পর্য্ন্ত ওয়েট করতে হইছে, বিয়ার দিন আমারে ফুন কইরা কি কয় জানস?"
চারিদিক চাইয়া দেখি কেউ হাসতাছে না। আমি দুই তিনটা ঢোক গিল্লা কইলাম,"দুস্ত, একটা গল্প বানাইতে চাইছিলাম, মাগার মনে হয় ফ্লপ খাইছে! যাই হোউক আলোচনা শুরু করো!"
আমার এই কথা শুইনা সবাই হাসতে হাসতে শেষ।
এই হাসির কথা লেখতে গিয়া মনে পড়লো আমার বুড়া কালের একটা কাহিনী যখন আমি ইউএসএতে এক নোয়াখাইল্লা খুজতে গেছিলাম। ঘটনা হইলো..... না থাক গল্প আপাতত কিছু মনে পড়তাছে না। গল্প আর কতো বানামু? গল্প বানাইতেও তো কাহিনী লাগে, নাকি?
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুলাই, ২০১৬ ভোর ৪:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




