somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দৈনিক রোজনামচা আজকা কয় তারিখ? মনে হয় অখনো ৮।

০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ ভোর ৪:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ডিস্কোতে আমি কিছুদিন আগে গেছিলাম। মনখান হেভী বেচেন আছিলো। বেচেন না, আসলে খারাপ আছিলো। মাঝে মধ্যে মাথায় জট লাগে, কুনো কাম করে না। তখন মনে হয় কেন যে পয়দা হইলাম!

হেইদিন একজন কইলো এলকোহল ফ্রী ড্রিংক, আমি অবুঝে মতোন টানা ৪ গ্লাস খাইলাম। কেডায় জানতো ঐডায় কড়া জীন মিশানো! কি করছি জানি না, তয় পুলাপান ভিডিও করছে। তাতে যা উঠছে, মনে হইলো আমি হ্যাংওভার মুভী দেখতাছি!আর খামু না নিয়ত করছি!

গতকাইল দুপুর বেলা ভার্সিটির পুলাপান আইলো ছয় সাতটা। কইলো শহর দেখবো! আমি তাজ্জুব বইনা গেলাম। আব্বে, এইডারে শহর কেডা কয়, এইডা গ্রামের নীচে যদি কিছু থাকে হেইডা!

যাই হোউক, সন্ধ্যার সময় এমুন হইয়া গেলো পুরা এলাকা যেনো এই দেশী সরকার বিনা নোটিশে কার্ফু মারছে। সবাই মন খারাপ কইরা ঘরে গেলো তার পিটাইতে। হঠাৎ দেখি লগের একজন পুরা জ্যাক ডেনিয়েলস লইয়া আইছে!আমি আর ধারে কাছে ঘেষলাম না। খালি দেখলাম কি করে!

২৯ খেললো, পুরা জ্যাক ডেনিয়েলস পাল্লা দিয়া খাইলো। নাচতে নাচতে গেলো ডিস্কোতে। আমারে টানাটানি করলো দুই তিনটা টালু। আমি হাসি দিয়া কইলাম,"যামু না গো খালু!" আমি ঘুমাই গেলাম। মাগার ঘুমের মধ্যে দেখলাম মাঝরাইতে গান গাইতে ঘরে ঢুকলো। একজনের উপর আরেকজন শুইলো যদিও সবার লিগা বেড বিভিন্ন রুমে করা আছে। কিছুক্ষন পর নেপালী রুমমেট উইঠা পরনের কোয়ার্টার খুইলা হিস্যু শুরু করলো নিজের বিছানার উপর। ঘুমের ঘোরে এই সীন দেইখা মনে হইলো একাত্তরের বিভীষিকাময় রাইতের চেয়ে এই রাইত কম কিছু না!

সকাল ৬ টায় উইঠা গেলাম ভার্সিটি। ভার্সিটি এই শহর থিকা ১৫০ কিলো দূর! যে গাড়িতে কইরা গেলাম সেইটা আমার ক্লাশমেটরাই কিনিয়াছে। স্বদেশী নকল লাইসেন্স এইখানে আসল বলিয়া তাহারা গাড়ি কিনিয়াছে। একেতো নকল লাইসেন্স তার উপর রাতের বেলা হ্যাংওভার হইয়া ৩ ঘন্টার ঘুম তার উপর কুয়াশা ঘেরা হাইওয়ে, নাজানি কপালে কি আছে ভাবিয়া গাড়িতে উঠিতেই দেখি ল্যাপ তোষকে ভরা! আমি মুখ ফইসকা বইলা ফেলাইলাম,"এই লেপটার কালার দেখি আমারটার মতই। এতো লেপ তোষক কেন?"
গাড়িতে উইঠা টের পাইলাম। গাড়িতে হীটার আছে মাগার চালাইলে শীত করে। আর ঋতুর হাওয়া দেইখা ভালাই টের পাওন যাইতাছে -৩০ এর শীত আইতে আছে! যাই হোউক, ড্রাইভার হিসাবে যে সীটে বইছে তার সাহায্য কারী হিসাবে পাশে বইছে গাড়ী যে কিনছে। সে গাড়ীর অন্যান্য বাটন যেমুন মিউজিক, জিপিএস সম্পর্কিত কারিগরী স হায়তা করিতেছে। আমি কিছুক্ষন পর পর জিগাই,"ভাইজান, দরকার হইলে আশে পাশে যদি কুনো মুদীর দুকান দেখেন, তাইলে একটু জিগায় লইতে পারেন আমরা কি সঠিক পথে আছি না উল্টা পথে আছি!"

সমস্যা হইলো স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলাতে মুদীর দুকানের ব্যাবসার কনসেপ্ট এখনো কেউ দিবার পারে নাই। যদি এই জাতী জানতো, তাইলে এই ব্যবসাটা বাতাসের আগে ছড়ায় পড়তো! এদিকে হীটার চলনের পরও আমরা শীতে কাপিতেছিলাম, কি ভয়াবহ ঠান্ডা, আশে পাশে কুনো মুদীর দুকানও দেখা যায় না! মাঝে মাঝে হঠাৎ কুয়াশার আগমন দেখিয়া এক পন্ডিৎ বলিয়া বসিলো,"এখানে উচ্চতা ধরিতে গেলে পাহাড়ের উপর, তাই কুয়াশা!"
তখনই একজন বলিয়া বসিলো,"তাইলে যেইখানে কুয়াশা নাই, সেইটা কি সাগরের তলে দিয়া গেছে?"

যাই হোউক, ভার্সিটি এলাকায় আসিয়া পরানটা ভরিয়া যতদ্রূত গেলো আবার তত দ্রূত শুকাইয়া গেলো। এই সবুজ আর ১ মাস পর থাকবো না। যেদিকে তাকামু সেদিকে সাদা। আশেপাশের পাহাড়ের সাথে দুয়েকটা নতুন পাহাড় গজাইবো সেইগুলা হইলো বরফের পাহাড়!
ঠান্ডায় মনে হইবো গলায় দড়ী দেই মাগার দড়িও দেখা যাইবো বরফে জইমা লোহার রডের মতো শক্ত হইয়া গেছে! কি নসিব আমার!

কিছু ঘুরা ঘুরি আর ল্যাবে একটু উকিঝুকি মারিয়া প্রফেসরের সাথে না দেখা করিয়া ট্রেনে কইরা আবারও বাসায় চইলা আসলাম। বাসায় আইসা দেখি আমার লেপ নাই!

মনে মনে আফসোস করিলাম, যেই লেপের কালার নিজের বলিয়া মনে করিয়া ছিলাম সে লেপখানা আসলে আমারই আছিলো! এদিকে রুমে হিসুর গন্ধে মৌ মৌ করিবার কারনে নেপালী ব্যাটাকে পাটালী দিয়া ছ্যাচা দিয়া কইলাম,"ব্যাটা, টয়লেটের কাম ঘরে নেক্সট টাইম করলে, ঘর মুছামু না, ঘর চাটাইয়া সাফ করামু!"

কার কথা কানে যায়..........ব্যাটা হাসে........হাসবো না কেন নেপালী কি আর বাংলা বুঝে!

মেজাজ আরো গরম হইলো এই সামারে আমাগো ভার্সিটির পুরা এলাকাটা কত সুন্দর দেখায় সেইটা নতুন আইফোনে তুইলা রাখতে গেলাম! বাসায় আইসা দেখি সব ভিডিও উইঠা বইসা আছে! বুঝতাছি না কার উপর মেজাজ বিলা করুম, সামার না স্টিভ জবস?
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুন, ২০১৬ রাত ১০:৩৯
১২টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×